• ই-পেপার

আর্জেন্টিনার জয় দিনের আলোয় ডাকাতির মতো : মরিনহো

‘এই মেসি একেবারেই ভিন্ন’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘এই মেসি একেবারেই ভিন্ন’
ছবি : আর্জেন্টিনার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মহাতারকা লিওনেল মেসি এক অতিমানবীয় ফুটবল খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচে ৭৬ মিনিট পর্যন্ত ২ গোলে পিছিয়ে থেকে মিসরকে ৩-২ গোলে হারায় আলবেসিলেস্তরা। জয়ে এক অ্যাসিস্ট ও এক গোল করেন ম্যাচসেরা ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ম্যাচ শেষে মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ আরেক আর্জেন্টাইন তরুণ প্রতিভাবনা স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ।

 

জয়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আলভারেজ বলেন, ‘এই মেসি একেবারেই ভিন্ন। বিশ্বকাপে তিনি যা করছেন তা ব্যাখ্যা করার শব্দ আমার কাছে নেই।’

সে একজন দৈত্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু তাকে সাহায্য করছি, সঙ্গ দিচ্ছি; তার পাশে থেকে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি।’

কানসাস সিটিতে আগামী রবিবার (১২ জুলাই) কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মধ্যেই পক্ষপাতমূলক আচরণের মাধ্যমে একের পর এক বির্তকের জন্ম দিচ্ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া বা আর্জেন্টিনা গোল খেলে ইনফান্তিনোর মন খারাপ করার ব্যাপার তো আছেই, সঙ্গে যোগ হয়ে আরেকটি বড় ধরনের বিতর্ক। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে ঘিরে এবার সরাসরি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একাধিক আইনপ্রণেতা। 

ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ম্যাচে খেলার কথা ছিল না বালোগানের। কিন্তু হঠাৎ করে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ফিফা। 

অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা ভোল্টার্স ও নিলস ফুগলসাং এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, বিশ্বকাপ চলাকালীন এর নিয়ম পরিবর্তন করা ফুটবলের ন্যায্যতার পরিপন্থী এবং এটি বিচার ব্যবস্থার বিকৃতি। রাজনৈতিক চাপে ফিফা সিদ্ধান্ত বদল করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন আইনপ্রণেতা এই তদন্তের দাবিতে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা ইউরোপীয় দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশনগুলোকেও আহ্বান জানিয়েছেন যেন ফিফার এথিকস কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে।

যদিও ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছিল সম্পূর্ণভাবে তাদের শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত।

বালোগানের শাস্তি বাতিল করে অবশ্য লাভ হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। 

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় বিশ্বকাপ প্রদর্শনীর আয়োজক নিহত

ক্রীড়া ডেস্ক
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় বিশ্বকাপ প্রদর্শনীর আয়োজক নিহত
ছবি : ওয়ানপাথ নেটওয়ার্ক

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিশ্বকাপের খেলা দেখার আয়োজক মোহামেদ আল-ওয়াহিদি এবং দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আর্জেন্টিনা-মিসরের মধ্যকার নকআউট পর্বের ম্যাচ শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। শিফা হাসপাতালের পরিচালক ড. মোহামেদ আবু সেলমিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি চলন্ত গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী এই হামলা চালায়। হামলার সময় রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মোহামেদ আল-ওয়াহিদি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তিনি গাজায় অবস্থিত ‘ইজিপশিয়ান কমিটি’র জনসংযোগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এবং বড় পর্দায় বিশ্বকাপের ম্যাচ প্রদর্শনের আয়োজকও। খবর এনডিটি টিভি

ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনীর আয়োজক আল-ওয়াহিদি তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। মূলত একজন হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্য এই হামলা চালানো হয়ে ছিল।  

হামলায় আল-ওয়াহিদির পাশাপাশি  ১০ বছর বয়সী শিশু হামজা আল-দেরি এবং তার ৮ বছর বয়সী ছোট ভাই ফারি আল-দেরি নিহত হয়। এছাড়া আক্রান্ত গাড়িটির চালক আহমেদ দাগমুশ (৩৩) নামের এক ট্যাক্সি চালকও মারা যান।

আবু সেলমিয়া জানিয়েছেন, দাগমুশ একজন ট্যাক্সি চালক এবং তিনি কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়নি।

তার আধা ঘণ্টা আগে একই রাস্তায়অোরেকটি হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ফিলিস্তিনিদের একটি বিশাল অংশ প্রতিবেশী দেশ মিসরে বসবাস করছেন। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবেও ভূমিকা পালন করেছে দেশটি। 

ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় মিশর ফুটবল দলের ভক্ত-সমর্থকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অন্যতম বড় কারণ দলটির কোচ হোসাম হাসান, যিনি বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে ফুটবল মাঠ—সবখানেই ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরছেন। 

এদিকে গেল শুক্রবার রাউন্ড অব ৩২ এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের ঐতিহাসিক জয়টি ফারাও ও ফিলিস্তিনি উভয় জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন  কোচ হোসাম হাসান। সেই সাথে মাঠে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে ধরেন তিনি।

ব্রাজিলের বিদায়ে উচ্ছ্বসিত জার্মানির তারকা

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিলের বিদায়ে উচ্ছ্বসিত জার্মানির তারকা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এমন বিদায়ে মর্মাহত সেলেসাও সমর্থকরা। তবে  ব্রাজিলের বিদায়ের পর কড়া ভাষায় নেইমারের সমালোচনা করলেন জার্মানির সাবেক অধিনায়ক লোথার ম্যাথাউস। তাঁর দাবি, ব্রাজিলের বিদায়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং মাঠে নেইমারের অতিরিক্ত অঙ্গভঙ্গি এবং অভিযোগ করার অভ্যাস আর সহ্য করতে পারছেন না তিনি। 

নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোল করেন নেইমার। তবে হারের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার।

জার্মান সংবাদমাধ্য ‌‘স্কাই জার্মানি’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাথাউস বলেন, ‘ব্রাজিলের বিদায়ে আমি খুশি। নেইমারের এই অবিরাম অভিযোগ এবং অঙ্গভঙ্গি আমি আর সহ্য করতে পারি না।’

ম্যাচে নরওয়ের গোলকিপার অরিয়ান নিল্যান্ডের সঙ্গে নেইমারের বাগবিতণ্ডার ঘটনাও তুলে ধরেন ম্যাথাউস। পেনাল্টি থেকে গোল করার পর নিল্যান্ড কিছুটা সময় নষ্ট করে। বল নিজের কাছে রেখে দেন। সঙ্গে সঙ্গে নেইমারের হাতে বল তুলে দেননি। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। 
এই প্রসঙ্গে ম্যাথাউস বলেন, ‘পেনাল্টি দ্রুত নেওয়ার বদলে নেইমার শট নেওয়ার আগে এবং পরে গোলকিপারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিল। তার এই আচরণই প্রমাণ করে, দলের সাফল্যের চেয়ে নিজের অহংকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।’

নেইমারকে নিয়ে ম্যাথাউসের সমালোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও তিনি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে ‘ডাইভার’ এবং ‘অভিনেতা’ বলে আখ্যা দিয়ে ম্যাথাউস বলেছিলেন, ‌‌‘নেইমার অসাধারণ একজন ফুটবলার। বিশ্বের সেরা পাঁচজনের একজন। কিন্তু অভিনয় করার কী দরকার? এতে মানুষের সহানুভূতি পাওয়া যায় না। দিয়েগো মারাদোনা অভিনয় করতেন না, লিওনেল মেসিও করেন না। আমাদের নেইমারের মতো খেলোয়াড় দরকার। কিন্তু অভিনেতা নয়।’

এদিকে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নরওয়েকে নিজের ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ম্যাথাউস। ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়ে সেই ধারণাকেই আরো শক্তিশালী করেছে বলে মনে করেন তিনি। 

ম্যাথাউস বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নরওয়েকে আমি ডার্ক হর্স বলেছিলাম। বাছাইপর্বে ওরা ইতালিকে দুবার হারিয়েছে। এবার ব্রাজিলকে বিদায় করেছে। মার্টিন ওডেগার্ড, বুন্দেসলিগার প্রতিভাবান আন্তোনিও নুসা এবং গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের মতো অসাধারণ খেলোয়াড় দলে রয়েছে।’

 এদিকে নরওয়ের বিপেক্ষে ইংল্যান্ড সহজ উত্তরাতে পারবেন না বলে যোগ করেন ১৯৯০ সালে জার্মান বিশ্বকাপ দলের এই সদস্য।