• ই-পেপার

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর আগে গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি গঠিত হয়। ওই সভায় তৎকালীন মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ সভাপতি এবং শামীমা পারভীন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আজ সেই কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হলো।

নবগঠিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ১০ জন সহসভাপতি, ৭ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১ জন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৬ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন।

এ ছাড়া কমিটিতে অর্থ, দপ্তর, আইন, আন্তঃসার্ভিস সমন্বয়, প্রচার, প্রকাশনা, স্বাস্থ্য, গবেষণা ও উন্নয়ন, তথ্য ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, মহিলা বিষয়ক, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং আপ্যায়ন সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সহসম্পাদকের পদ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এই কার্যনির্বাহী কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৯৭ জনকে।

‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
সংগৃহীত ছবি

জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি লাভকারী অমুক্তিযোদ্ধা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণকারী ভুয়া সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। 

বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে এনসিপিদলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেসব অমুক্তিযোদ্ধা ও তাদের ওয়ারিশরা জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে। শুধু কোটার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত নয়, যেসব অমুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সুবিধাভোগীরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।’

আখতার হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি পত্রিকায় প্রকাশিত ৭৯ হাজার অমুক্তিযোদ্ধার তথ্যও চূড়ান্ত বা নির্ভুল নয়; প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই ধরনের বিতর্কের জেরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও তৎকালীন সরকার মামলা করেছিল।’

আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমাদের সরকার মুক্তিযুদ্ধের সরকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

সংসদে ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়ার কথা বললেন রেহানা আক্তার রানু

অনলাইন ডেস্ক
সংসদে ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়ার কথা বললেন রেহানা আক্তার রানু
সংগৃহীত ছবি

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ব্যাংক ‘লুটেরা এবং ব্যাংকখেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সব সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার’ দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বক্তব্য পরিষ্কার, যারা গ্রাহকের টাকা লুট করেছে, ওই সমস্ত ব্যাংক ডাকাত-ব্যাংক লুটেরাদের কোনো ক্ষমা নেই। কোনো ক্ষমা হতে পারে না। তারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক ফিরিয়ে এনে তাদের ‘ডিম থেরাপি’ দিয়ে এই টাকা আদায় করতে হবে।”  

বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

নোটিশে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘দেশের কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং মালিকপক্ষের অর্থপাচারের কারণে আজ লাখ লাখ আমানতকারী তাদের টাকা তুলতে পারছে না, এই টাকা বিলাসিতার জন্য নয়। এটা একজন বাবার মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন, একজন মায়ের চিকিৎসার শেষ ভরসা, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের টিউশন ফি, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন বাঁচানোর মূলধন, কষ্টে অর্জিত টাকা কারো পেনশনের সঞ্চয়, কারো সারা জীবনের কষ্টার্জিত আয় বিশ্বাস করে ব্যাংকে রেখেছিল, ব্যাংক মানুষের আস্থার জায়গা, ব্যাংক থেকে টাকা লুট হলে মানুষ কোথায় যাবে। মানুষ যদি ব্যাংকে টাকা না রাখে বিনিয়োগ কমে যাবে, অর্থের প্রবাহ থেমে যাবে, দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়বে।”  

নোটিশে তিনি আরো বলেন, ‘একজন মানুষের টাকা ব্যাংকে আছে টাকা তুলতে পারছে না বলে সে চিকিৎসা করতে পারছে না। টাকার অভাবে সময়মতো চিকিৎসা না করাতে পেরে অনেকে মৃত্যুবরণ করছেন। লুটেরা মালিকপক্ষ বিদেশে পালিয়ে আরামে জীবনযাপন করছে। এই মানুষগুলো বর্তমান সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের কান্না, তাদের আর্তনাদ এই রাষ্ট্রের কাছে তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। এ সমস্ত লুটেরা এবং ব্যাংকখেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সব সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ 

নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে, একটি নির্বাচিত সরকার এই ব্যাপারে নীরব থাকতে পারে না। সরকার দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আর্থিক খাত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি সুসংগঠিত বহুমাত্রিক রেজুলেশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কাঠামোর আইনি ভিত্তি হিসেবে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬’ বর্ণিত হয়েছে। এর আওতায় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক তথা এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ-পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, সোশাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি ও ইউনিয়ন ব্যাংক কেন্দ্র একীভূত করে সম্মিলিত ‘ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এটা রেজুলেশন কৌশলের অধীনে গৃহীত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। এই একীভূতকরণের ফলে পাঁচটি ব্যাংকের সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ নতুন ব্যাংকে সংরক্ষিত হয়েছে। এর পাশাপাশি আমানত সুরক্ষা তহবিলের বিধানের আওতায় নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত আমানতকারীর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা হতে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। রেজুলেশনের আওতায় ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজুলেশন স্কিম মোতাবেক আমানতের অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত পাচ্ছে।”  

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফাইন্যান্স কম্পানিগুলোর আমানতকারীরা ইতিপূর্বে আমানত সুরক্ষা আইনের আওতাভুক্ত ছিল না। বর্তমানে সরকার তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সকল পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রাহকদের আমানত প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পাঁচটি ব্যাংকের বিনিয়োগ অনিয়মসমূহে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেন্সিক অডিট চলমান রয়েছে। যার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা হবে। 

বিরোধীদলীয় উপনেতাকে সভাপতি করে সংসদের সরকারি হিসাব কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধীদলীয় উপনেতাকে সভাপতি করে সংসদের সরকারি হিসাব কমিটি গঠন

বিরোধীদলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে সভাপতি করে জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলতি সংসদে এই প্রথম কোনো কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হলো।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ নেতার পক্ষে কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। পরে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে কমিটি গৃহীত হয়।

প্রস্তাবটি উত্থাপনের সময় চিফ হুইপ জানান, সংবিধান ও সংসদের বিধিবিধান অনুসরণ করেই এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারি হিসাব কমিটির সদস্যরা হলেন মোহাম্মদ আমান উল্লাহ আমান (ঢাকা-২), এ বি এম আশরাফউদ্দিন নিজান (লক্ষ্মীপুর-৪), এ কে এম ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫), মোহাম্মদ হাফিজ ইব্রাহিম (ভোলা-২), এ এম মাহবুব উদ্দিন (নোয়াখালী-১), মোহাম্মদ জালালউদ্দিন (চাঁদপুর-২), ডক্টর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান (ময়মনসিংহ-৭), এস কে আজিজুল বারি হেলাল (খুলনা-৪), মো. মনজুরুল ইসলাম (দিনাজপুর-১), মোহাম্মদ ফজলে হুদা (নওগাঁ-৩), মোহাম্মদ জাকির হোসেন (ময়মনসিংহ-৫), সৈয়দ জয়নুল আবেদিন (ঢাকা-৪), মোহাম্মদ রুহুল আমিন (চুয়াডাঙ্গা-২) এবং মোহাম্মদ আনারুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম-১)।

উল্লেখ্য, সরকারি হিসাব কমিটি মূলত সরকারি বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা তদারকির দায়িত্ব পালন করবে বলে কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ রয়েছে।