• ই-পেপার

মেসির বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কি গুজব ছড়ানো হচ্ছে

রোনালদো-এমবাপ্পেরা কেন পরছেন গোলাপি বুট? বিশ্বকাপে নতুন ট্রেন্ডের রহস্য কী

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদো-এমবাপ্পেরা কেন পরছেন গোলাপি বুট? বিশ্বকাপে নতুন ট্রেন্ডের রহস্য কী
সংগৃহীত ছবি

২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দর্শকদের নজর কাড়ছে আরেকটি বিষয়—অনেক তারকা ফুটবলারের পায়ে দেখা যাচ্ছে উজ্জ্বল গোলাপি বুট। পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়দের এই রঙের বুট পরতে দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল ফ্যাশনের বিষয় নয়; এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত বিপণন ও দৃশ্যমানতা বাড়ানোর কৌশল। বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি মৌসুমে উজ্জ্বল রঙের বুট বাজারে এনেছে, যার মধ্যে গোলাপি রঙ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ফুটবল বুট তৈরির কাজ সাধারণত বাজারে আসার প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। এ সময় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ট্রেন্ড বিশ্লেষক সংস্থার সঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতে জনপ্রিয় হতে পারে এমন রঙ ও ডিজাইন নির্বাচন করে। ট্রেন্ড পূর্বাভাসকারী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউজিএসএন (WGSN) ২০২৪ সালেই ২০২৬ সালের অন্যতম ট্রেন্ডি রঙ হিসেবে ‘ইলেকট্রিক ফুশিয়া’ বা উজ্জ্বল গোলাপি রঙের পূর্বাভাস দিয়েছিল।

নাইকির গ্লোবাল ফুটবল ফুটওয়্যার বিভাগের কর্মকর্তা ওডিঙ্গা নিমাকোর মতে, সবুজ ঘাসের মাঠে গোলাপি রঙ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়। ফলে দর্শক, টেলিভিশন ক্যামেরা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে খেলোয়াড়দের উপস্থিতি আরো স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

আরো একটি কারণ হলো, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের কোনো দলেরই প্রধান জার্সির রঙ গোলাপি নয়। ফলে খেলোয়াড়দের বুট সহজেই আলাদা করে চোখে পড়ে এবং মাঠে তাদের উপস্থিতি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

বিপণন বিশেষজ্ঞদের মতে, তারকা ফুটবলারদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ভক্তদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। রোনালদো, এমবাপ্পে কিংবা অন্য তারকাদের পায়ে গোলাপি বুট দেখে অনেক সমর্থকও একই ধরনের বুট কিনতে আগ্রহী হন। এ কারণেই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে ব্র্যান্ডগুলো নিজেদের নতুন পণ্যের প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো

ক্রীড়া ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো
ছবি : রয়টার্স

স্বাগতিকদের সমর্থনে গর্জে ওঠা গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। শুক্রবার গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটে নেয় মেক্সিকানরা।

পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও পার্থক্য গড়ে দেয় দ্বিতীয়ার্ধের একটি ভুল। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সুং-গিউয়ের মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন লুইস রোমো। জুলিয়ান কিনোনেসের ক্রস থেকে রাউল হিমেনেজের হেডার আকাশে উঠে গেলে বলটি ধরতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন কিম। তার হাত ফসকে সামনে পড়ে যাওয়া বল জালে জড়িয়ে দেন রোমো।

গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে না পারলেও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখায় মেক্সিকো। দক্ষিণ কোরিয়া বলের দখল বাড়িয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেক্সিকান রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক রেঞ্জেল তাদের হতাশ করেন।

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে। একটি ক্রস থেকে চো গে-সুংয়ের হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রেঞ্জেল। ফিরতি বলেও চোকে গোল করতে দেননি তিনি। যোগ করা সময়েও কর্নার থেকে সুযোগ পেয়েছিল কোরিয়ানরা, কিন্তু হান-বিওম লির হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শেষ আশা নিভে যায় তাদের।

প্রথমার্ধে দুই দলই খুব বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। মেক্সিকো শুরুতে চাপ সৃষ্টি করলেও দক্ষিণ কোরিয়া ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি কমিয়ে আনে। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে মাত্র একটি শটই লক্ষ্যে ছিল।

এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে নকআউট নিশ্চিত করা প্রথম দল হয়ে গেল মেক্সিকো। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে চেকিয়াকে হারানো দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে এখন কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে চেকিয়ার, আর দক্ষিণ কোরিয়া লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করতে সেই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই সন হিউং-মিনদের।

বিশ্বকাপে ছেলের খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন ভোজিনহার মা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে ছেলের খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিলেন ভোজিনহার মা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের মঞ্চে ছেলের স্বপ্নপূরণের সাক্ষী হতে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওনা হয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা আনা কান্দিদা এভোরা। বুধবার দেশটির সাও ভিসেন্তে দ্বীপের সেসারিয়া এভোরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

যাত্রার আগে নাতি মারভিন জুনিয়র ও নাতনি লাইস সোফিয়াকে নিয়ে বিমানবন্দরে আবেগঘন মুহূর্তে ছবি তোলেন আনা কান্দিদা। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

চলমান বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশেষ করে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ সব সেভ করে দলকে মূল্যবান ড্র এনে দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচের আগে অনেকেই একপেশে লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে মাঠে যেন অদম্য এক প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান ভোজিনহা। তার দুর্দান্ত গোলরক্ষণের সামনে বারবার ব্যর্থ হয় স্পেনের তারকা আক্রমণভাগ।

‘জয়টা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে’—রোনালদোর পাশে দাঁড়ালেন বোন

ক্রীড়া ডেস্ক
‘জয়টা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে’—রোনালদোর পাশে দাঁড়ালেন বোন
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের প্রথম ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর যখন সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, তখন তার ঢাল হয়ে সামনে এসেছেন পরিবারের সদস্যরা। পর্তুগালের ১-১ গোলের ড্রয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদোর পক্ষে কথা বলেছেন তার দুই বোন এলমা ও কাতিয়া আভেইরো।

এই ম্যাচে রোনালদো ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন তিনি, যা বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলে তার সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ গোলশূন্য থাকার রেকর্ডও দীর্ঘ হয়েছে।

এমন পারফরম্যান্সের পর সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকার সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। তবে বোন এলমা আভেইরো মনে করেন, পর্তুগাল জয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ইনস্টাগ্রামে রোনালদোর একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘শুরুটা কঠিন হতে পারে, কিন্তু শেষটা ভালো হবে। মাঠে যারা থাকে, তারাই জানে চাপটা কতটা। বাইরে থেকে কথা বলা সহজ। আর এভাবে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হলে সেটাও মেনে নেওয়া সহজ নয়।’

অন্যদিকে কাতিয়া আভেইরোও ভাইয়ের পক্ষে অবস্থান নেন। তবে তিনি দায় চাপিয়েছেন পুরো দলের পারফরম্যান্সের ওপর। তার মতে, ম্যাচের একপর্যায়ে পর্তুগাল নিজেদের ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল।

কাতিয়া লেখেন, ‘হঠাৎ করেই যেন সবাই একে অপরকে পাস দেওয়া, বল পুনরুদ্ধার করা কিংবা পাল্টা আক্রমণ গড়া ভুলে গেল। খেলা শুধু মাঝমাঠ আর রক্ষণভাগেই সীমাবদ্ধ ছিল। অদ্ভুত এক বিশ্বকাপ। তবে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।’

তবে রোনালদোর পক্ষে পরিবারের এই অবস্থানের বিপরীতে কঠোর সমালোচনা করেছেন ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি। তার মতে, গোল করার অতিরিক্ত চেষ্টায় রোনালদো দলের আক্রমণভাগের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করেছেন।

অঁরি বলেন, ‘দলের গোল দরকার, তোমার ব্যক্তিগত গোল নয়। গোল করার তাড়নায় সে ব্রুনো ফার্নান্দেজের পথেই চলে যাচ্ছিল, ফলে প্রতিপক্ষের জন্য রক্ষণ সামলানো সহজ হয়ে গেছে।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার পর এখন পর্তুগালের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। ২৩ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জয় পেতে মরিয়া থাকবে রবার্তো মার্তিনেজের দল। আর সেই ম্যাচেই হয়তো সমালোচনার জবাব দিতে চাইবেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো।