• ই-পেপার

প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত তিন

বার্ড ফ্লুতে অ্যান্টার্কটিক দ্বীপপুঞ্জে ৭৫ শতাংশ সিলশাবকের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
বার্ড ফ্লুতে অ্যান্টার্কটিক দ্বীপপুঞ্জে ৭৫ শতাংশ সিলশাবকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

অ্যান্টার্কটিকার হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জে মারাত্মক ‘এইচ৫এন১’ বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবে হাজার হাজার সাউদার্ন এলিফ্যান্ট সীল শাবকের মৃত্যু হয়েছে। এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, গত আগস্ট থেকে হার্ড দ্বীপের ১৭ হাজার ৩৬৪টি সিলশাবকের মধ্যে আনুমানিক ১৩ হাজার ৩৫৯টিই মারা গেছে, যা মোট সংখ্যার ৭৫ শতাংশেরও বেশি। অস্ট্রেলিয়ার অধীনস্থ এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় মৃত্যুর হার ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ড্রোন জরিপ ও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ। এই প্রত্যন্ত অঞ্চলটি ১০ লাখেরও বেশি সামুদ্রিক পাখি ও সিলের প্রজননক্ষেত্র বা আবাসস্থল। প্রধান গবেষক ও বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী ড. জুলি ম্যাকইনেস বলেন, অস্ট্রেলিয়ার কোনো বহিঃস্থ (মূল ভূখণ্ডের বাইরের) অঞ্চলে এটাই প্রথম বার্ড ফ্লু শনাক্তের ঘটনা। এটি নির্দেশ করে যে, ভাইরাসটি উপ-অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল জুড়ে ক্রমাগত পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার দূরের একটি ফরাসি দ্বীপপুঞ্জ থেকে পরিযায়ী পাখিদের মাধ্যমে গত বছরের আগস্টে এই দ্বীপগুলিতে বার্ড ফ্লুর ‘এইচ৫এন১’ স্ট্রেইনটি ছড়িয়ে পড়েছিল। গবেষকরা জানান, জরিপ করার সময়ও প্রতিনিয়ত শাবক মারা যাচ্ছিল, তাই মৃত্যুর আসল সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। বিজ্ঞানীরা দ্বীপের ৯টি প্রজাতির প্রাণীর নমুনা পরীক্ষা করে ৬টি প্রজাতির দেহে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছেন। এর মধ্যে হাতি সিল ছাড়াও কিং পেঙ্গুইন, জেন্টু পেঙ্গুইন, অ্যান্টার্কটিক ফার সিল ও সাউথ জর্জ ডাইভিং পেট্রেল পাখি রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বার্ড ফ্লুর মূল শিকার হয়েছে সিলশাবকগুলো। পেঙ্গুইনদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক কম হলেও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় পূর্ণবয়স্ক কিং পেঙ্গুইন মারা গেছে। তবে অ্যালবাট্রস পাখিদের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যু দেখা যায়নি।

সিলের এই মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি আমাদের সতর্ক করছে। ভাইরাসটি যাতে কোনোভাবেই অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আমাদের এখনই বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিতে হবে। বর্তমানে ‘অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টার্কটিক প্রগ্রাম’ ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনার নেতৃত্বে ভ্যান্স, পেছাল সুইজারল্যান্ড সফর

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনার নেতৃত্বে ভ্যান্স, পেছাল সুইজারল্যান্ড সফর
ছবি : রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান এবং নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে নিজের পরিকল্পিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তার সমালোচনার মুখে চুক্তিটির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে চলমান সমঝোতা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। দেশটি ঘোষণা করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই বলেছে, সাম্প্রতিক চুক্তিটি যুদ্ধের সব ফ্রন্টে কার্যকর হওয়ার কথা। একই দিনে গাজা সিটির রেমাল এলাকায় ইসরায়েলের একটি ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ফলে নতুন সমঝোতা এবং আলোচনা শুরু হলেও মাঠ পর্যায়ে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।


 

অস্ট্রেলিয়ায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ব্রিটিশ অভিনেত্রী গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ব্রিটিশ অভিনেত্রী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ঘানা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৩০০ কেজিরও বেশি মেথামফেটামিন (এক ধরনের মারাত্মক মাদক) পাচারের চেষ্টার অভিযোগে এমা হুসেন (৩৪) নামের এক ব্রিটিশ অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিডনির একটি আদালতে তাকে হাজির করা হয়। বিপুল পরিমাণ এই মাদক আমদানির অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

এমা হুসেন ব্রিটিশ টিভি সিরিজ ইস্টএন্ডার্সের স্পিন-অফ ‘ই২০’ এবং বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা জেসন স্ট্যাথামের ২০১৩ সালের অ্যাকশন সিনেমা ‘হামিংবার্ড’-এ অভিনয় করেছিলেন।

পুলিশ জানায়, ঘানা থেকে সিডনি বন্দরে আসা দুইটি শিপিং কনটেইনার এক্স-রে করার পর এই মাদকচক্রের সন্ধান মেলে। কনটেইনারগুলোতে সাধারণ কাঠকয়লার ব্যাগ থাকার কথা থাকলেও তার ভেতরে লুকানো ছিল ৩২০ কেজি মেথামফেটামিন। জব্দ করা এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৯৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ২০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। সীমান্ত কর্তৃপক্ষ কনটেইনারে মাদকের অস্তিত্ব টের পাওয়ার পর এপ্রিল মাসে তদন্ত শুরু করে। তবে অপরাধীদের ধরতে পুলিশ চালানের ভেতর থেকে মাদকগুলো আগেই সরিয়ে ফেলে এবং কনটেইনারটি সিডনির একটি গুদামে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। পুলিশের অভিযোগ, অভিনেত্রী এমা হুসেন নিজেই ওই গুদামে গিয়ে লোকবল দিয়ে কনটেইনারটি খোলার পুরো বিষয়টি তদারকি করেন। এরপর তারা কয়েকটি ব্যাগ গাড়িতে লোড করে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখান থেকেই পুলিশ এমা হুসেনকে গ্রেপ্তার করে এবং তার ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও একটি নোটবুক জব্দ করে। এর আগে আদালতের এক আদেশে তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছিল। আগামী আগস্ট মাসে তাকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে।

এই আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেইড থেকে আরো এক নারী (৩০) এবং এক পুরুষকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সিডনিতে মাদক লুকিয়ে রাখার জন্য ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে স্টোরেজ ইউনিট বা গুদাম ভাড়া করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তারা জানান, অপরাধী চক্রগুলো মাদক লুকানোর জন্য কাঠকয়লার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহার করলেও দক্ষ কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

জি-৭ সম্মেলনে মেলোনির ঠোঁটে চুম্বনের চেষ্টা জেলেনস্কির, ভিডিও ভাইরাল

অনলাইন ডেস্ক
জি-৭ সম্মেলনে মেলোনির ঠোঁটে চুম্বনের চেষ্টা জেলেনস্কির, ভিডিও ভাইরাল
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে কখনো ছড়ায় তুমুল উত্তেজনা, কখনো আবার তৈরি হয় অনভিপ্রেত কিছু মুহূর্ত। ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে এবার তেমনই এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। পাশ্চাত্যরীতি মেনে গালে গাল ঠেকিয়ে অভিবাদন জানাতে গিয়ে পরিস্থিতি প্রায় গড়াতে চলেছিল ঠোঁটে চুম্বনের দিকে! 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে এই ঘটনার একটি ভিডিও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সম্মেলনের ফাঁকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের সঙ্গে আলাপ করছিলেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। ঠিক ওই সময় সেখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। আচমকা দেখা হওয়ায় একে অপরকে সৌজন্যমূলক অভিবাদন জানাতে এগিয়ে যান দুই রাষ্ট্রপ্রধান।

কিন্তু মেলোনি কাছাকাছি আসতেই তাকে চুম্বন করতে যান জেলেনস্কি। গতিপ্রকৃতি দেখে মুহূর্তের জন্য ভড়কে গেলেও দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেন মেলোনি। কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে পাশ্চাত্য কায়দায় গালে গাল ঠেকিয়ে সৌজন্য বিনিময় সারেন তিনি। এরপর দ্রুতই যে যার পথে এগিয়ে যান। তবে এই কয়েক সেকেন্ডের ‘মিসটাইমিং’ বিশ্বমঞ্চে বেশ খানিকটা অস্বস্তি তৈরি করে।

 

তবে শুধুই অস্বস্তি নয়, জি-৭ সম্মেলনের মঞ্চে আরো একবার দেখা মিলল বহুল আলোচিত ‘মেলোডি’ (মেলোনি ও মোদি) রসায়নের। গ্রুপ ছবি তোলার জন্য বিশ্বনেতারা যখন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াচ্ছিলেন, তখন মঞ্চের সব আলো কেড়ে নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বাগতিক ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।

অন্য একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, রাষ্ট্রনেতাদের ভিড় ঠেলে মোদির দিকে এগিয়ে যান মেলোনি এবং হেসেই করমর্দন করেন। এরপর দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ হালকা মেজাজে কথাবার্তা চলতে থাকে, যা দেখে মেলোনিকে বেশ হাসিখুশি মনে হচ্ছিল।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দাবি, কুশল বিনিময়ের সময় মোদি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে ফের দেখা হয়ে খুব আনন্দিত।’ জবাবে মোদির দিকে তাকিয়ে চওড়া হাসিতে মেলোনি রসিকতা করে বলেন, ‘হ্যাঁ! আমরাই তো এখন ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি।’