দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ কাহারোল উপজেলা শাখা।
সোমবার (৮ জুন) বসুন্ধরা শুভসংঘ কাহারোল উপজেলা শাখার উদ্যোগে নয়াবাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কাহারোল উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মাহফুজ ইসলাম, সহ-সভাপতি সঞ্জয় রায়, সাধারণ সম্পাদক রিপন রায়, প্রচার সম্পাদক রিফাত ইসলাম এবং কার্যকরী সদস্য মনিরুজ্জামান, সোহাগ ইসলাম, রাব্বি ইসলাম, অমি হোসেন, আহাদ আলী, অলক রায়সহ অন্যান্য সদস্যরা।
নয়াবাদ মসজিদের সহকারী ইমাম ও মুয়াজ্জিন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আজ বসুন্ধরা শুভসংঘ কাহারোল উপজেলা শাখার সদস্যরা আমাদের মসজিদের আশপাশের এলাকা অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছে। তাদের এ উদ্যোগ দেখে আমি খুবই আনন্দিত। তারা যেন ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে, সে জন্য আমরা দোয়া করি।’
আরো পড়ুন
জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু
বসুন্ধরা শুভসংঘ কাহারোল উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মাহফুজ ইসলাম বলেন, ‘দিনাজপুরের কাহারোলে অবস্থিত নয়াবাদ মসজিদ শুধু আমাদের এলাকার নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের একটি অনন্য ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ১৭৯৩ সালে নির্মিত এই স্থাপত্য আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী। বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। আজকের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানও সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর ঘরের পবিত্রতা ও সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক এই ঐতিহাসিক মসজিদ দেখতে আসেন। মসজিদ প্রাঙ্গণ অপরিচ্ছন্ন থাকলে তা এলাকার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করে। তাই আমরা বন্ধুদের নিয়ে আজকের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছি, যাতে দর্শনার্থীরা একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পবিত্র পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ কাহারোল উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক রিফাত ইসলাম বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আজ পরিষ্কার করে দিলেও এর সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখার দায়িত্ব সবার। আমি স্থানীয় বাসিন্দা এবং দর্শনার্থীদের অনুরোধ করব, আপনারা ময়লা-আবর্জনা, চিপসের প্যাকেট কিংবা প্লাস্টিকের বোতল যেখানে-সেখানে ফেলবেন না। আসুন, সবাই মিলে আমাদের এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করি এবং এর সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখি।’
স্থানীয় বাসিন্দারাও বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, ‘এ ধরনের কার্যক্রম শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, বরং তরুণদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা, স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের চেতনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
উল্লেখ্য, ১৭৯৩ সালে নির্মিত নয়াবাদ মসজিদ দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মসজিদটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পরিদর্শন করতে আসেন।