• ই-পেপার

ছানি অপারেশনের অভাবে অন্ধত্বে ভুগছে ১০ লাখ মানুষ, নেওয়া হচ্ছে পরিকল্পনা

হাম সন্দেহে ৩ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হাম সন্দেহে ৩ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে ১ হাজার ১০৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯৪৭ এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক লাখ ছয় হাজার ৫৬৫ জন।  

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫৯ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৭৯১ জন।

টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে ৬৪ রোগী

বাগেরহাট প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে ৬৪ রোগী
ছবি: কালের কণ্ঠ

টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় নতুন করে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন এবং মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৪৭ জন, কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন, শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এবং মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলার সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। আক্রান্তদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী মনিরা বেগম বলেন, কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবে ওষুধ খেলেও পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করান। তখন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন।

আরেক রোগীর স্বজন মো. অয়ন বলেন, হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি বলেন, জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কচুয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। প্রতিটি রোগীকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৯৭ জন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে জেলা হাসপাতালে ৪৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুল আলম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও বিশ্রাম বা ঘুমের সময় মশারি ব্যবহার করা উচিত। কারও জ্বর হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরো ২৭১ জন

অনলাইন ডেস্ক
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরো ২৭১ জন
সংগৃহীত ছবি

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রবিবার (৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চারজন, সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৩ জন রয়েছেন।

এই সময়ে ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬ হাজার ৪০৪ জন।

চলতি বছরের এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৭১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। এই বছর ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০২৫ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় মোট ৫৭৫ জনের।

হামের উপসর্গে আরো ৭ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১০৩১

অনলাইন ডেস্ক
হামের উপসর্গে আরো ৭ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১০৩১
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১ জন। রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৪৫টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৩৮টি শিশু মারা গেছে।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১০৬টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯২৫। এই সময়ে ৮৭৮টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯০৪টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার ৬১৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৬৩২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮৮ হাজার ৮৪৪ রোগী, যাদের মধ্যে ৮৫ হাজার ১২২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।