• ই-পেপার

প্রবাসীদের জরুরি নির্দেশনা দিল কাতার, না মানলে শাস্তি

শ্রীলঙ্কায় সার্ক প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের সভা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
শ্রীলঙ্কায় সার্ক প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের সভা শুরু
সংগৃহীত ছবি

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)ভুক্ত দেশগুলোর প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের (সিভিও) দশম ফোরাম সভা।

দুই দিনব্যাপী এ সভার যৌথ আয়োজক সার্ক সচিবালয়ের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ, শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগ (ডিএপিএইচ), বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।

সভায় বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ-জীবিকার উন্নয়নে ভেটেরিনারি সেবার আঞ্চলিক সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করাই এ সভার মূল উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী অধিবেশনে শ্রীলঙ্কার কৃষি, প্রাণিসম্পদ, ভূমি ও সেচ মন্ত্রণালয়ের সচিব ডি পি বিক্রমাসিংহে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, প্রাণিস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সার্ক মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার তাঁর বক্তব্যে শ্রীলঙ্কা সরকারকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এ গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সভার আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা ও খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) অব্যাহত সহযোগিতারও প্রশংসা করেন

প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সার্কের বিভিন্ন উদ্যোগে কারিগরি, লজিস্টিক ও আর্থিক সহায়তা আরো বাড়ানোর আহ্বান জানান।

শ্রীলঙ্কার কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস. পিয়াসিরি দেশের প্রাণিস্বাস্থ্য খাতে সাম্প্রতিক অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক। তিনি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা, সার্ক সচিবালয়, WOAH ও FAO–এর প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান।

এ সময় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এর আঞ্চলিক প্রতিনিধি ড. তোমোকো ইশিবাশি সভার আয়োজনের জন্য সার্ক সচিবালয়, সার্ক কৃষি কেন্দ্র এবং শ্রীলঙ্কা সরকারকে অভিনন্দন জানান। 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি ড. স্কট নিউম্যান তাঁর বক্তব্যে সার্ক সিভিও ফোরামকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রাণিস্বাস্থ্য উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি প্রাণিস্বাস্থ্য খাতে এটিকে সার্কের অন্যতম সফল উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ তাঁর বক্তব্যে শ্রীলঙ্কাকে সভার আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সদস্য দেশগুলোর প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের স্বাগত জানান।  এ সময়  তিনি সার্ক কৃষি কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি কেন্দ্রটির অঙ্গীকারের বিষয় তুলে ধরেন।

 অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ড. এস. কুরুগালা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্যারিসের ভিভাটেক ২০২৬ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর প্রযুক্তি কাঠামো ভাঙার আহ্বান

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
প্যারিসের ভিভাটেক ২০২৬ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর প্রযুক্তি কাঠামো ভাঙার আহ্বান

বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ প্রদর্শনী ভিভাটেক ২০২৬-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইউরোপের অতি-নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলার আহ্বান জোরালোভাবে উঠে এসেছে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৭ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চালু থাকা এ সম্মেলনে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব অর্জনকে এখন সময়ের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।

ফ্রান্সের প্যারি এক্সপো পোর্ত দ্য ভার্সাইয়ে আয়োজিত চার দিনের এ আয়োজনে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের আসরে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার দর্শনার্থী, ১৪ হাজার স্টার্টআপ, চার হাজারের বেশি প্রদর্শক এবং ১৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

সম্মেলনের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে উন্নত এআই মডেল, ডেটা সেন্টার ও চিপ প্রযুক্তিতে ইউরোপের যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মতে এআই এখন কেবল প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্র নয় বরং অর্থনৈতিক শক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার কৌশলগত উপাদান। ফলে ইউরোপের জন্য নিজস্ব প্রযুক্তি অবকাঠামো, ডেটা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং এআই সক্ষমতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

এ প্রেক্ষাপটে ফরাসি স্টার্টআপ মিস্ত্রাল এআই আলোচনায় উঠে এসেছে। ওপেন সোর্স ভিত্তিক বৃহৎ ভাষা মডেল উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের সম্ভাব্য এআই সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতা অর্জনে সমন্বিত ইউরোপীয় কৌশলই হবে মূল চালিকাশক্তি।

এদিকে ভিভাটেকের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত জি-৭ (জি-সেভেন) শীর্ষ বৈঠকেও এআই প্রযুক্তি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পায়। সেখানে প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরো স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করার ওপর জোর দেন বিশ্বনেতারা।

ইউরোপীয় কমিশন এরই মধ্যে বৃহৎ পরিসরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে এআই গিগাফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর লক্ষ্য বিদেশিনির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপকে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, ভিভাটেক–২০২৬ এখন কেবল প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মঞ্চ নয় বরং এটি ইউরোপের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অবস্থান নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে উত্তাল পূর্ব লন্ডন, আ. লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য থেকে
হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে উত্তাল পূর্ব লন্ডন, আ. লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে কেন্দ্র করে পূর্ব লন্ডনে আওয়ামী লীগ ও এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দিনের বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ব্রিটিশ পুলিশ। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা আফছার খান সাদেকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে এলেম পার্ক স্টেশনের সামনে অবস্থিত রমফুডের সামনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের নেতৃত্বে হাসনাত আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে বিকেলে অনুষ্ঠানের বাইরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ভেতরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি হাতে একটি ডিম তুলে নিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের যেসব দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে রয়েছেন, তাদের উদ্দেশেই এই ডিম উৎসর্গ করলাম।’

তার এ মন্তব্যে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে শুরু থেকেই কঠোর নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানে ছিল ব্রিটিশ পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

পূর্ব লন্ডনের এ ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

পারামাট্টা নদীতে বাবা-কন্যার মৃত্যু : পিতাকে ঘিরে হত্যা-আত্মহত্যার সন্দেহ

শিপন আহমদ (সিডনি), অস্ট্রেলিয়া
পারামাট্টা নদীতে বাবা-কন্যার মৃত্যু : পিতাকে ঘিরে হত্যা-আত্মহত্যার সন্দেহ
প্রতীকী ছবি

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পারামাট্টা নদীতে বাবা ও সাত বছর বয়সী কন্যার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্ত ও উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে পুলিশ।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ জুন স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে সিডনির কনকর্ড এলাকার হেন অ্যান্ড চিকেন বে সংলগ্ন পারামাট্টা নদীতে এক ব্যক্তিকে ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ, মেরিন ইউনিট ও জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পরে জানা যায়, তার সঙ্গে থাকা সাত বছর বয়সী কন্যা নিখোঁজ রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে ডুবুরি দল, মেরিন ইউনিট ও আকাশপথে অনুসন্ধান চালানো হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, পরিবারটি সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের ওয়েস্টমিড এলাকার বাসিন্দা ছিল। ঘটনার দিন বাবা ও মেয়ে একটি ভাড়াকৃত নৌকায় নদীতে বের হয়েছিলেন। শিশুটি পরিবারের একমাত্র সন্তান বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নৌকায় থাকা লাইফ জ্যাকেটগুলো ব্যবহার করা হয়নি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে করোনারের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ ডিজিটাল তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।

এদিকে হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় সিডনিজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। নিহতদের পরিবার, বিশেষ করে শিশুটির মাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।