• ই-পেপার

বগুড়ায় পৃথক স্থান থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ ও নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মৌলভীবাজারে বজ্রপাতে একই গ্রামের ৩ জেলের মৃত্যু

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে বজ্রপাতে একই গ্রামের ৩ জেলের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় বজ্রপাতে একই গ্রামের ৩ জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের এই তিন বাসিন্দা হাওরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতের শিকার হন।

নিহতরা হলেন, উপজেলার কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা হামিদ মিয়া (৪৫), সাবির আলী (৪০) এবং কাবিল মিয়া (৫০)। তার মধ্য কাবিল মিয়া  নিখোঁজ রয়েছেন।

নিহত কাবিল ও হামিদ আপন দুই ভাই। তারা রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের জহির মিয়ার ছেলে। নিহত সাব্বির মিয়া একই এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে কামালপুর গ্রাম থেকে একটি নৌকা নিয়ে ওই তিন জেলে হাকালুকি হাওরে মাছ ধরতে যান। দুপুর ১২টার দিকে আকাশ কালো করে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সময় তারা মারা যান।  

একই গ্রামের ৩ জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নিহত সাবিরের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘ তারা প্রতিদিনের মতো হাকালুকি হাওরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। মাছ ধরা শেষে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাতের শিকার হন। 

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন জানান, ‘হাকালুকি হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন এখনো নিখোঁজ ছিলেন। তার মরদেহ সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়েছে।’

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, ‘হাওরে বজ্রপাতে ৩ জন মারা গেছে। তিনজন জেলেরই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’

জেলা যুবদলের কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে রামগতিতে আনন্দ মিছিল

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
জেলা যুবদলের কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে রামগতিতে আনন্দ মিছিল
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবগঠিত লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে রামগতি উপজেলা যুবদল। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলা সদর আলেকজান্ডার বাজারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মিছিলটি আলেকজান্ডার বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে পুরো এলাকা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শিবলী নোমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব শাহ মো. শিব্বির, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল করিম মাস্টার, যুবদল নেতা জমির আলী মাস্টার, আলম হাওলাদারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন আব্দুল আলীম হুমায়ুনকে সভাপতি এবং সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় যুবদল।

নবগঠিত কমিটিতে রামগতি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শিবলী নোমান ও রামগতি পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল করিম মাস্টারকে সহ-সভাপতি, শাহ মো. শিব্বিরকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মাহবুবুর রহমান কবিরকে সহ-সাধারণ সম্পাদক, জমির আলী মাস্টারকে সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং আলম হাওলাদার ও মির্জা নোমানকে সদস্য করা হয়েছে।

নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।

নবীনগরে রিফাত হত্যা

‘মনেক ডাকাত’ ও তার দুই সন্তানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
‘মনেক ডাকাত’ ও তার দুই সন্তানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিহত রিফাত। সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল দাসপাড়ায় যুবক রিফাত (২৮) হত্যার ঘটনায় কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মনেক ডাকাত’ ও তার দুই সন্তানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিহত রিফাতের বোন মুক্তা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মনেক ডাকাত, তার দুই ছেলে সুমন ও নোমানসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ওবায়দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিহতের বোনের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ তদন্ত করছে’।

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর করিমপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে রিফাতের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী নৌ পুলিশ। পরদিন বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে নিজ গ্রাম থোল্লাকান্দিতে তাকে দাফন করা হয়। নিহত রিফাতের স্ত্রী ও তিন মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত রবিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল দাসপাড়ায় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় প্রতিপক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে কনিকা দাস (৪০) নামের এক নারী আহত হন। একই ঘটনায় রিফাত নিখোঁজ হন। পরে তার মরদেহ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই এ হামলা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পটিয়ার চাঞ্চল্যকর ২ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শিশু জায়হানকে হত্যা, প্রশ্ন করাতেই প্রাণ গেছে পঙ্কজের

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শিশু জায়হানকে হত্যা, প্রশ্ন করাতেই প্রাণ গেছে পঙ্কজের
চট্টগ্রামের পটিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অপহরণের পর খুন হওয়া শিশু জায়হান।

একটি ঘটনায় নিখোঁজ ৫ বছরের শিশু। পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে রেখে যাওয়া রহস্যময় চিঠি। অন্য ঘটনায় গভীর রাতে সড়কের পাশে কথাকাটাকাটি থেকে রক্তাক্ত হামলা, প্রাণ হারান এক যুবক। দুই ঘটনায়ই আতঙ্ক, ক্ষোভ ও নানা গুঞ্জনে উত্তাল ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ার জনপদ।

কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, হাতের লেখার মিল খুঁজে বের করা, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে সংশ্লিষ্ট আসামিদের।

জেলা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পটিয়ার সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ২ মামলার তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য। একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ যেমন পাওয়া গেছে, তেমনি পঙ্কজ শীল হত্যার ঘটনায়ও পালিয়ে থাকা মূল আসামিকে দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংঘটিত দুটি আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। একদিকে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পাঁচ বছরের শিশু জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, অন্যদিকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্রের হামলায় নিহত পঙ্কজ শীল হত্যা মামলার মূল আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার দুটি ঘটনাই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছিল।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে উভয় মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট ৫ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পটিয়ার সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত দুই মামলার তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য। একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ যেমন পাওয়া গেছে, তেমনি পঙ্কজ শীল হত্যার ঘটনায়ও পালিয়ে থাকা মূল আসামিকে দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নিখোঁজ থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ ; জমি বিরোধের বলি শিশু জায়হান :

গত ১৬ জুন মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ শাহজাহানের ৫ বছর বয়সী ছেলে মো. জায়হান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। পরিবার পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামে পুলিশ। শিশুটিকে উদ্ধারে পটিয়া থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, পরিচিতজন থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সব জায়গায় চলে ব্যাপক অনুসন্ধান। তদন্তের একপর্যায়ে শিশুটির বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় মুক্তিপণ ও প্রাণনাশের হুমকি সম্বলিত একটি চিরকুট। প্রথমদিকে ঘটনাটি অপহরণ বলে মনে হলেও চিরকুটের হাতের লেখা তদন্তে নতুন মোড় এনে দেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চিরকুটের লেখার সঙ্গে প্রতিবেশী ও স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত নার্স সাদিয়া সুলতানা নিহার হাতের লেখার মিল পাওয়া যায়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তদন্তে আরো জানা যায়, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা থেকেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাকে অপহরণ নাটক হিসেবে উপস্থাপন করতে মুক্তিপণের চিঠি রেখে দেওয়া হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সাইফুদ্দীন (৩৯), শাহানুর আক্তার (৩৫) ও সুলতানা আকতার নিহা (১৮)। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহান ও ওয়াসিফা নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ১৭ জুন (মঙ্গলবার) গভীর রাতে বাড়ির পেছনের নর্দমার আবর্জনার মধ্যে লুকিয়ে রাখা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

চক্রশালার রক্তাক্ত রাত; প্রশ্ন করতেই প্রাণ গেল পঙ্কজের :

অন্যদিকে গত ৯ জুন পটিয়ার চক্রশালা এলাকায় ঘটে আরেকটি নৃশংস ঘটনা। স্থানীয়রা রাস্তার পাশে সন্দেহজনকভাবে অবস্থানরত এক নারী ও এক পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র বের করে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি হামলায় গুরুতর আহত হন পঙ্কজ শীল ও তিলক চক্রবর্তী। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পঙ্কজ শীলকে মৃত ঘোষণা করেন। তিলক চক্রবর্তী এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনার পরপরই মাঠে নামে পটিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, প্রযুক্তিগত তথ্য ও মোবাইল ট্র্যাকিং বিশ্লেষণ করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সে তদন্তের ধারাবাহিকতায় টেকনাফ থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি আব্দুল রহমানকে (২৩)। পরে চন্দনাইশ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ঘটনার সময় উপস্থিত বোরকা পরিহিত নারী ফাতেমা বেগম নেহাকে (১৯)। তাদের পরিহিত পোশাকও জব্দ করা হয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

 ছবি: জেলা পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বর্ননা করছেন এসপি মো. মাসুদ আলম।
 জেলা পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন এসপি মো. মাসুদ আলম

পুলিশের তদন্তে প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ :

দুই মামলার তদন্তেই আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার সমন্বয় দেখা গেছে। হাতের লেখার বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, আলামত সংগ্রহ এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে স্বল্প সময়েই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়ায় সংঘটিত এ দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও দ্রুত রহস্য উদঘাটনের ফলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘পটিয়ার দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের সদস্যরা অত্যন্ত পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আমরা দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিষ্পাপ শিশু জায়হান হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। একটি নিষ্পাপ শিশুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। অন্যদিকে পঙ্কজ শীল হত্যাকাণ্ডেও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

স্বস্তি ফিরলেও রয়ে গেছে প্রশ্ন : 

দুটি মামলার রহস্য উদঘাটন হলেও স্থানীয়দের মনে এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে কিছু প্রশ্ন। একটি শিশুকে কেন্দ্র করে কীভাবে এমন নির্মম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলো। আবার প্রকাশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা কীভাবে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় পালিয়ে বেড়ালো।

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট পটিয়ার সাম্প্রতিক দুই আলোচিত হত্যাকাণ্ডে দ্রুত তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ আবারও প্রমাণ করেছে, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও সমন্বিত অভিযানে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব। ৫ বছর বয়সী একটি নিষ্পাপ শিশু, একটি পরিবার, একটি হত্যাকাণ্ড, রাতের আঁধারে আরেকটি রক্তাক্ত হামলা দুই ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল পটিয়া। দ্রুত তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। তবে এসব ঘটনার নেপথ্যের সামাজিক ও পারিবারিক কারণগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে পুরো জনপদ।