• ই-পেপার

সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে দৃঢ় অবস্থানে কোস্ট গার্ড : ডিজি

পটিয়ার চাঞ্চল্যকর ২ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শিশু জায়হানকে হত্যা, প্রশ্ন করাতেই প্রাণ গেছে পঙ্কজের

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শিশু জায়হানকে হত্যা, প্রশ্ন করাতেই প্রাণ গেছে পঙ্কজের
চট্টগ্রামের পটিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অপহরণের পর খুন হওয়া শিশু জায়হান।

একটি ঘটনায় নিখোঁজ ৫ বছরের শিশু। পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে রেখে যাওয়া রহস্যময় চিঠি। অন্য ঘটনায় গভীর রাতে সড়কের পাশে কথাকাটাকাটি থেকে রক্তাক্ত হামলা, প্রাণ হারান এক যুবক। দুই ঘটনায়ই আতঙ্ক, ক্ষোভ ও নানা গুঞ্জনে উত্তাল ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ার জনপদ।

কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, হাতের লেখার মিল খুঁজে বের করা, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে সংশ্লিষ্ট আসামিদের।

জেলা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পটিয়ার সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ২ মামলার তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য। একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ যেমন পাওয়া গেছে, তেমনি পঙ্কজ শীল হত্যার ঘটনায়ও পালিয়ে থাকা মূল আসামিকে দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংঘটিত দুটি আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। একদিকে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পাঁচ বছরের শিশু জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, অন্যদিকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্রের হামলায় নিহত পঙ্কজ শীল হত্যা মামলার মূল আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার দুটি ঘটনাই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছিল।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে উভয় মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট ৫ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পটিয়ার সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত দুই মামলার তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য। একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ যেমন পাওয়া গেছে, তেমনি পঙ্কজ শীল হত্যার ঘটনায়ও পালিয়ে থাকা মূল আসামিকে দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নিখোঁজ থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ ; জমি বিরোধের বলি শিশু জায়হান :

গত ১৬ জুন মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ শাহজাহানের ৫ বছর বয়সী ছেলে মো. জায়হান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। পরিবার পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামে পুলিশ। শিশুটিকে উদ্ধারে পটিয়া থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, পরিচিতজন থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সব জায়গায় চলে ব্যাপক অনুসন্ধান। তদন্তের একপর্যায়ে শিশুটির বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় মুক্তিপণ ও প্রাণনাশের হুমকি সম্বলিত একটি চিরকুট। প্রথমদিকে ঘটনাটি অপহরণ বলে মনে হলেও চিরকুটের হাতের লেখা তদন্তে নতুন মোড় এনে দেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চিরকুটের লেখার সঙ্গে প্রতিবেশী ও স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত নার্স সাদিয়া সুলতানা নিহার হাতের লেখার মিল পাওয়া যায়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তদন্তে আরো জানা যায়, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা থেকেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাকে অপহরণ নাটক হিসেবে উপস্থাপন করতে মুক্তিপণের চিঠি রেখে দেওয়া হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সাইফুদ্দীন (৩৯), শাহানুর আক্তার (৩৫) ও সুলতানা আকতার নিহা (১৮)। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহান ও ওয়াসিফা নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ১৭ জুন (মঙ্গলবার) গভীর রাতে বাড়ির পেছনের নর্দমার আবর্জনার মধ্যে লুকিয়ে রাখা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

চক্রশালার রক্তাক্ত রাত; প্রশ্ন করতেই প্রাণ গেল পঙ্কজের :

অন্যদিকে গত ৯ জুন পটিয়ার চক্রশালা এলাকায় ঘটে আরেকটি নৃশংস ঘটনা। স্থানীয়রা রাস্তার পাশে সন্দেহজনকভাবে অবস্থানরত এক নারী ও এক পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র বের করে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি হামলায় গুরুতর আহত হন পঙ্কজ শীল ও তিলক চক্রবর্তী। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পঙ্কজ শীলকে মৃত ঘোষণা করেন। তিলক চক্রবর্তী এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনার পরপরই মাঠে নামে পটিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, প্রযুক্তিগত তথ্য ও মোবাইল ট্র্যাকিং বিশ্লেষণ করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সে তদন্তের ধারাবাহিকতায় টেকনাফ থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি আব্দুল রহমানকে (২৩)। পরে চন্দনাইশ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ঘটনার সময় উপস্থিত বোরকা পরিহিত নারী ফাতেমা বেগম নেহাকে (১৯)। তাদের পরিহিত পোশাকও জব্দ করা হয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

 ছবি: জেলা পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বর্ননা করছেন এসপি মো. মাসুদ আলম।
 জেলা পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন এসপি মো. মাসুদ আলম

পুলিশের তদন্তে প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ :

দুই মামলার তদন্তেই আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার সমন্বয় দেখা গেছে। হাতের লেখার বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, আলামত সংগ্রহ এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে স্বল্প সময়েই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়ায় সংঘটিত এ দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও দ্রুত রহস্য উদঘাটনের ফলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘পটিয়ার দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের সদস্যরা অত্যন্ত পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আমরা দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিষ্পাপ শিশু জায়হান হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। একটি নিষ্পাপ শিশুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। অন্যদিকে পঙ্কজ শীল হত্যাকাণ্ডেও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

স্বস্তি ফিরলেও রয়ে গেছে প্রশ্ন : 

দুটি মামলার রহস্য উদঘাটন হলেও স্থানীয়দের মনে এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে কিছু প্রশ্ন। একটি শিশুকে কেন্দ্র করে কীভাবে এমন নির্মম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলো। আবার প্রকাশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা কীভাবে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় পালিয়ে বেড়ালো।

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট পটিয়ার সাম্প্রতিক দুই আলোচিত হত্যাকাণ্ডে দ্রুত তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ আবারও প্রমাণ করেছে, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও সমন্বিত অভিযানে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব। ৫ বছর বয়সী একটি নিষ্পাপ শিশু, একটি পরিবার, একটি হত্যাকাণ্ড, রাতের আঁধারে আরেকটি রক্তাক্ত হামলা দুই ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল পটিয়া। দ্রুত তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। তবে এসব ঘটনার নেপথ্যের সামাজিক ও পারিবারিক কারণগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে পুরো জনপদ।

বাংলাদেশিদের ফুটবলপ্রীতির প্রশংসায় আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশিদের ফুটবলপ্রীতির প্রশংসায় আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আর্জেন্টিনার ডেপুটি হেড অব মিশন প্যাট্রিসিও উরুয়েনিয়া প্যালাসিও, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ আমেরিকা অনুবিভাগের পরিচালক কাজী আনারকলী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্রসঙ্গ টেনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার মানুষ মূলত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেই সবচেয়ে বেশি চিনি। তবে আমরা বাংলাদেশের অন্যান্য গুণী লেখকদের সম্পর্কেও বিশদভাবে জানতে অত্যন্ত আগ্রহী।
 
তিনি বাংলাদেশের সমসাময়িক অন্যান্য লেখকদের কালজয়ী সাহিত্যকর্ম স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করার জন্য অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে তিনি আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ‘বুয়েনস আইরেস আন্তর্জাতিক বইমেলা’য় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক সাধক বাউল সম্রাট লালন শাহের গানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং লালন গীতি স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করে বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আর্জেন্টিনা ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরুতেই যে অনন্য সমর্থন দিয়েছিল এবং ১৯৭২ সালে অন্যতম প্রথম দেশ হিসেবে যে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করেছিল, তা বাংলাদেশের জনগণ চিরকাল কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। 

বর্তমান নতুন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সম্পর্ককে আরো বহুমুখী করতে বদ্ধপরিকর। দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক চুক্তি নেই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে ‘সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি’র খসড়া পাঠানো হয়েছে, তা দ্রুত চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমাদের বাউল ও লোক ঐতিহ্যের সাথে আর্জেন্টিনার ট্যাঙ্গো ও চ্যামামে নৃত্যের মেলবন্ধন ঘটবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির অন্যান্য অনুষঙ্গ বিনিময়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আমাদের আরও বিস্তৃত করতে হবে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বন্ধনকে এক অনন্য ও স্থায়ী রূপ দিতে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশের নামে একটি সড়ক নামকরণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। একই সাথে, দুই দেশের জলবায়ু ও আবহাওয়ার চমৎকার সামঞ্জস্যের বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশের কিছু ঐতিহ্যবাহী দেশীয় উদ্ভিদ আর্জেন্টিনায় রোপণ ও স্থানান্তরের পরিবেশবান্ধব প্রস্তাবও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।

দুই দেশের জনগণের সংযোগ আরও জোরদার করার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, চলমান ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা থেকে চারজন অত্যন্ত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ব্লগারকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। এই ব্লগার দল বাংলাদেশে অবস্থান করে এখানকার আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কোটি ভক্তদের উন্মাদনা, ভালোবাসা ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ ভ্লগ তৈরি করবেন, যা আর্জেন্টিনায় ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে।

বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে গতিশীল করতে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি জাঁকজমকপূর্ণ যৌথ ‘সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ আয়োজনের প্রস্তাব পেশ করেন।

আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহকে সাধুবাদ জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে এবং প্রস্তাবিত চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়নে দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেন।
 

শ্রীমঙ্গলে দেওয়া হবে জাতীয় চা পুরস্কার

অনলাইন ডেস্ক
শ্রীমঙ্গলে দেওয়া হবে জাতীয় চা পুরস্কার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জাতীয় চা দিবস ২০২৬ উদযাপন ও জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। ‘চা শিল্পের উন্নতি, সবুজ হোক অর্থনীতি’ প্রতিপাদ্যে আগামী শনিবার (২০ জুন) এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

শ্রীমঙ্গল অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।

ওইদিন বেলা ১১টায় বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। উদ্বোধনী পর্বের পর চা শিল্পবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন এবং আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ২১ মে জাতীয় চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত থাকলেও চলতি বছর দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদযাপন ২০ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ ছাড়া চা শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ও চা শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচনাসভায় অংশ নেবেন।

আলোচনাসভা শেষে দেশের চা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আটটি ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি চলতি বছর প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সনদ তুলে দেবেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় চা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে একটি চা প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মোট ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সমতল ভূমিতেও চা চাষের সম্প্রসারণ ঘটেছে। দেশের চা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে এবার ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। 

মামুনুল হককে ঘিরে সংসদে বিতর্ক, বক্তব্য এক্সপাঞ্জের নির্দেশ স্পিকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
মামুনুল হককে ঘিরে সংসদে বিতর্ক, বক্তব্য এক্সপাঞ্জের নির্দেশ স্পিকারের

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে জাতীয় সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক তাঁর বক্তব্যে মামুনুল হকের অতীতের একটি ঘটনা উল্লেখ করলে সরকারি ও বিরোধী দলের আপত্তির মুখে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আবু আশফাক বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনার সমালোচনা করেন এবং পরে মামুনুল হককে নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেওয়া হলেও অতীতে আলোচিত কিছু ঘটনার ব্যাখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি মামুনুল হককে ঘিরে ২০২১ সালের বহুল আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করে বলেন, সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় আনা সমীচীন নয়। বিশেষ করে এমন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ বা মন্তব্য করা ঠিক নয়, যার সংসদে উপস্থিত থেকে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সাধারণত যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব বিষয়ে আলোচনা না করাই ভালো।

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেন, মামুনুল হক সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। যেহেতু তিনি সংসদে উপস্থিত নেই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও নেই, তাই বিষয়টি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তির বিষয়ে ভুল তথ্য সংসদের রেকর্ডে থাকা উচিত নয়। তাই বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।

এরপর সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও অসংসদীয় ও অপ্রাসঙ্গিক অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সবার বক্তব্য শোনার পর স্পিকার বলেন, মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে আলোচিত বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে রাখার প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিজীবনের বিতর্কিত বিষয় এখানে আলোচিত হোক, তা আমি চাই না। এ ধরনের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা সংসদের মূল কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং তা জনস্বার্থেও প্রয়োজনীয় নয়।

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আর না বাড়ানোর জন্য ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন এবং এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরো বলেন, ইসলামী শরিয়াহর আলোচনায় অতীতে যে বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক ছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই বর্তমানে গ্রহণযোগ্য নয় এবং নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে অবস্থানকালে মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে একটি ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই ঘটনার প্রসঙ্গই বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপিত হলে তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত স্পিকারের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।