• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

শহীদ মিনারে ‘লাল সূর্যে’ অমর হয়ে থাকবেন মুস্তাফা মনোয়ার

অনলাইন ডেস্ক
শহীদ মিনারে ‘লাল সূর্যে’ অমর হয়ে থাকবেন মুস্তাফা মনোয়ার
ছবি: কালের কণ্ঠ গ্রাফিক্স

শহীদ মিনারের পেছনে উদীয়মান সূর্যের যে লাল বৃত্ত দেখা যায় সেটি প্রথমদিকে ছিল না। স্বাধীনতার পর সেটি স্থাপন করা হয়। অনন্য এ কাজটি করেছেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী, নির্মাতা ও পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার।

একটি টিভি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ভেঙে ফেলা শহীদ মিনার নতুন করে গড়া হল। এর পরের বছর আমি বলিয়ে যে আমি একা সাজাবো। অনেকে বলল, হাসপাতালের প্রাচীরটা উঁচু করে দিতে হবে। ওই দিকে হাসপাতালে নার্স-রোগীর স্বজনদের দেখা যায়। আমি বললাম- আমি একটা জিনিস করবো কোনো দিকে চোখ যাবে না। গোল্ডেন সেকশন দিয়ে আমি সাইজটা বের করলাম যাতে সূর্যটা কতো বড় হবে।’

মুস্তাফা মনোয়ার বলেন, ‘সূর্যটা বানানো হল। হুলুস্থুল দেখা গেল। লাইট দেওয়ায় পর সেটি আরও ভালো দেখা গেলো। পরে সারা বাংলাদেশে এটি ছড়িয়ে পড়ল। বাচ্চারা যে শহীদ মিনার বানাল তারা লালটা দেবেই। মানুষের মনে লাল সূর্যটা জায়গা করে নিল।’

তখনকার কর্মকর্তারা লাল বৃত্তটিকে স্থায়ীভাবে রাখতে বলেন। কিন্তু তিনি ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘বসন্তকালে নতুন ফুল ফোটে। সৌরভ ছড়িয়ে একসময় সেই ফুল ঝরে যায়। বছর শেষে আবার সজীবতা নিয়ে আসে নতুন ফুল। সে কারণে ফেব্রুয়ারি এলে আমরা শহীদ মিনারে লাল বৃত্তটি লাগাব। এটা বিবর্ণ হয়ে গেলে আবার নতুন বছরে নতুন লাল বৃত্ত লাগাব।’ 

তার এ প্রস্তাবও পরবর্তীতে গ্রহণ করা হয়। সে থেকে প্রতি বছর ২০ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে নতুন লাল বৃত্ত যুক্ত করা হয়। শহীদ মিনারের ‘লাল সূর্যে’ অমর হয়ে থাকবেন মুস্তাফা মনোয়ার।

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা এ শিল্পী আজ না ফেরার দেশে চলে গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন।

মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

চিকিৎসার পর ফের কারাগারে দীপু মনি

অনলাইন ডেস্ক
চিকিৎসার পর ফের কারাগারে দীপু মনি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আবারও কারাগারে নেওয়া হয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক। সোমবার সকালে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। এরপর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে নেওয়া হয়। পরে মেডিসিন বিভাগে দীপু মনির প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে দীপু মনিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ফজলুল হক জানান, কারাগারে দীপু মনির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

খাদ্যপণ্য, সার ও পাট খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-পাকিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক
খাদ্যপণ্য, সার ও পাট খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-পাকিস্তান
বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব পাকিস্তানের চেয়ারম্যান আসিম আজিমের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, খাদ্যপণ্য সরবরাহ এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কৃষিপণ্য, সার, ভোজ্য তেল, ডাল, ছোলা, চিনি, ইউরিয়া ও পাটসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সোমবার (২৯ জুন) শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ট্রেডিং করপোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি) চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যাবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, শিল্পায়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

টিসিপি চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, ডাল, ছোলা, সার ও ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের উচ্চমানের পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যপণ্য বাণিজ্য সহজতর করতে বাংলাদেশের টিসিবি এবং পাকিস্তানের টিসিপির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই এ চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে জানানো হয়, যেসব পণ্য সরাসরি রপ্তানি করা সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। তবে এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতিমালা ও আইনগত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–পাকিস্তান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম দ্রুত সক্রিয় করা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং কৃষি ও শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন গতি পাবে এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত হবে। 

অর্থনীতিকে তিন ধাপে সাজাতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অর্থনীতিকে তিন ধাপে সাজাতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী

পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন এই তিন ধাপে দেশের অর্থনীতিকে সরকার সাজাতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘এই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য ও কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও জনগণের মধ্যে আমরা আশার সঞ্চার করতে পেরেছি। যদিও আমরা সংসদে যতটা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছি, এর চেয়ে বেশি অতীত নিয়ে কথা বলেছি। তবে জনগণ চায় ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।’

সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) ১৮তম কার্যদিবসে নিজের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের বাজেট হবে সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে এবারের বাজেট।’

তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেটে ৬১ পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহারের পর পণ্যের দাম স্বাভাবিক আছে। দেশের নানামুখী সংকটকে অস্বীকারও করতে চাই না, আবার অজুহাতও বানাতে চাই না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জনগণের কারণেই আমরা সংসদে এসে দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারছি। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বিপুল বিদেশি ঋণের বোঝা চাপিয়েছে বিগত সরকার। এ বোঝা জনগণকে অনেক বছর টানতে হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এবারের বাজেট বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এর মাধ্যমে অর্থনীতির একটি ভিত গড়ে তুলতে চাই। বাজেটের লক্ষ্য ন্যায়ভিত্তিক মানবিক অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার বোঝা লাঘব করার বাজেট। অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এ বাজেটের মূল লক্ষ্য।’