• ই-পেপার

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা মাউশির

বাংলাদেশি শ্রমিকের সুখবর দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশি শ্রমিকের সুখবর দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ বিষয়গুলো বিশেষ করে ৮ হাজার শ্রমিকের কর্মে যোগদানের বিষয়টি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আশ্বাস দিয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রম সহযোগিতা বিষয়ে নিরাপদ, নিয়মিত ও স্বচ্ছ অভিবাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত এবং বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু, দক্ষ কর্মী প্রেরণ, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ বিষয়গুলো বিশেষ করে ৮ হাজার শ্রমিকের কর্মে যোগদানের বিষয়টি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়াও, মালেশিয়ায় অবস্থান করা এবং নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও নিয়োগ ব্যয় হ্রাসের বিষয়ে উভয় পক্ষের ঐকমত্য হয়েছে।

‘শ্রম সহযোগিতা বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের মাধ্যমে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক মূল্যায়ন এবং বর্তমান প্রয়োজনের আলোকে নতুন বা হালনাগাদ সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে’, যোগ করা হয় বিবৃতিতে।

এতে বলা হয়, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ে দুটি নোট বিনিময় হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক দ্রুত পুনরায় শুরু করার বিষয়ে উভয় পক্ষের ঐকমত্য হয়েছে। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা দ্রুত শুরু এবং ২০২৭ সালের মধ্যে একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক, সমন্বিত ও ভবিষ্যৎমুখী চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
 
‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিকে স্বাগত জানানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ, পারস্পরিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে’, যোগ করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার সক্রিয় ভূমিকার আশ্বাস, আসিয়ান কাঠামোর আওতায় বিষয়টি এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি সাধনে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণে মালয়েশিয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আসিয়ান সেক্টরাল ডায়লগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত এবং আসিয়ান কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও জোরদারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
 
এতে আরও বলা হয়, জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বন্দর ও লজিস্টিকসসহ অগ্রাধিকার খাতে মালয়েশীয় বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

বেতন কাঠামোর গেজেট প্রস্তুত, কাটাছেঁড়া হচ্ছে ভাতা

অনলাইন ডেস্ক
বেতন কাঠামোর গেজেট প্রস্তুত, কাটাছেঁড়া হচ্ছে ভাতা
সংগৃহীত ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নবম জাতীয় পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে এবং খসড়া গেজেটও প্রস্তুত রয়েছে। যে কোনো সময় আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।

জানা গেছে, সরকারি চাকরীজীবীদের বেতন বৃদ্ধির হার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত না হলেও সরকার পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের আগে তিনটি বিকল্প নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে যে কোনো একটি প্রস্তাবকে চূড়ান্ত করে ৩০ জুনের আগেই জারি করা হবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বিষয়ক সরকারি গেজেট। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করার কাজ করছে। 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং বাস্তবায়ন কৌশলসহ সার্বিক খুটিনাটি দিক বিষদ বিবেচনার জন্য সরকার গঠিত সচিব কমিটির সভায় যে তিনটি প্রস্তাব করা হয়েছে এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাব সব গ্রেডের জন্য মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা রয়েছে। দ্বিতীয় বিকল্পে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধির বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। তবে ব্যয় কমাতে কর্মচারীদের ভাতায় কাটাছেঁড়া করতে যাচ্ছে সরকার। এদিকে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ভাতা পুনর্মূল্যায়ন, সীমিতকরণে জোর দেওয়া হয়েছে। বাতিলও হতে পারে ছোট ছোট কিছু ভাতা।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারের ওপর বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি হবে। এজন্য বাড়িভাড়া ভাতার হার পুনর্বিবেচনা এবং চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক ও যাতায়াত ভাতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। সামাজিক বাস্তবতা ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন পে-স্কেলের আওতায় লিভ প্রিপারেটরি টু রিটায়ারমেন্ট (এলপিআর) ভোগরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে তারা নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

উন্নয়ন চাইলে বড় বাজেট মেনে নিতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
উন্নয়ন চাইলে বড় বাজেট মেনে নিতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সবাই এলাকায় উন্নয়ন চান, কিন্তু বলেন বাজেট অনেক বেশি হয়ে গেছে। যদি উন্নয়ন চান, বাজেট বরাদ্দ তো বেশি হতেই হবে। বাসায় আপনি যদি ডাল-ভাতের বাজেট করেন, আর খেতে চান বিরিয়ানি, সেটা তো চলবে না। উন্নয়ন চাইলে বড় বাজেটও মেনে নিতে হবে।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রস্তাবিত বাজেটকে সময়োপযোগী, মানবিক ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে পরিকল্পিতভাবে অর্থনীতি, শিক্ষা ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার এই বাজেট প্রণয়ন করেছে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতাল, সড়ক ও উন্নয়ন প্রকল্পের দাবি জানাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়, বর্তমান সরকারের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করেন, এই সরকারই এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড নিয়ে সমালোচনার কথা উল্লেখ করে ইয়াসের খান বলেন, যারা একসময় এসব উদ্যোগকে ‘ভুয়া’ বলেছিলেন, তারাই এখন এই সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তার মতে, মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা পাওয়া ৪০ লাখ পরিবার শুধু উপকৃতই হবে না, এই অর্থ গ্রামীণ বাজারে ব্যয় হওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি বলেন, জিয়া পরিবার বিভিন্ন সংকটে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতার পথে এগিয়েছিল, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আবারও মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে।

নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ৪৭ কোটি টাকায় কেনার পর তা বেসরকারি খাতে বিক্রি করে ইতোমধ্যে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ফলে প্রায় বিনা মূল্যেই দেশের মানুষ বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন। তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রচারস্বত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া শিশু ও তরুণদের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে তথ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী চীনা ব্যবসায়ীদের ১৮ মাসের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন : বিডা চেয়ারম্যান

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী চীনা ব্যবসায়ীদের ১৮ মাসের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন : বিডা চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ছবি : সংগৃহীত

চীনের ব্যবসায়ীদের ১৮ মাসের মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে প্রথম শিল্প-কারখানা চালুর চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণও করেছেন।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

আশিক চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলায় চীনের বিশেষায়িত ইকোনমিক পার্ক এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে বিশেষায়িত ইকোনমিক জোন তৈরির চুক্তি হয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশকে জ্বালানি সহায়তায় চীন কাজ করবে বলেও জানান বিডা চেয়ারম্যান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

তিনি জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং অন্য দেশের সরকারপ্রধানকে বসিয়ে রেখে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং জানিয়েছেন, চায়না বাংলাদেশের উন্নয়নে স্থায়ী বন্ধু হতে চায়। এ ছাড়া ব্রিকস এবং সাংহাই কনভেনশনে বাংলাদেশের নতুন সদস্য হওয়াকে চীন সমর্থন করবে।