• ই-পেপার

হাটহাজারীতে খেলনা রিভলভার, দেশি অস্ত্রসহ ৪ কিশোর গ্রেপ্তার

যমুনায় নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
যমুনায় নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যমুনা নদীতে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর মঈন নামের নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের গরিলাবাড়ি এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করে।

নিহত মঈন (১৫) মাগুরার কাশিনাথপুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে। সে টাঙ্গাইল সৃষ্টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে ৮ জন বন্ধু যমুনা নদীর তীরে ঘুরতে যায় তারা। এ সময় তারা ফুটবল নিয়ে যমুনা নদীতে নামে। পরে নদীর বুকে স্রোতে তলিয়ে যায় মঈন। টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল শুক্রবার সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধার অভিযান চালালেও তার সন্ধান পাননি। সন্ধ্যা ৭টায় ওই দিনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। পরে শনিবার নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদলের উদ্ধার অভিযানে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে যমুনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। 

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মোস্তফা কামাল জানান, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫ দিকে যমুনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।

যমুনা নদীর পূর্ব পাড় নৌ পুলিশ (ওসি)  কালাম খান জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবলে জেলা প্রশাসনকে হারাল জেলা ক্রীড়া সংস্থা

জামালপুর প্রতিনিধি
মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবলে জেলা প্রশাসনকে হারাল জেলা ক্রীড়া সংস্থা
ছবি : কালের কণ্ঠ

মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচে জামালপুর জেলা প্রশাসনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৫টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম স্টেডিয়ামে এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে তোলে খেলা। প্রথমার্ধে ছন্দময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে জেলা ক্রীড়া সংস্থা দুটি গোল করে এগিয়ে যায়। বিরতির পর জেলা প্রশাসনের খেলোয়াড়রা ব্যবধান কমাতে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

খেলায় উপস্থিত ছিলেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এস এম রেদোয়ান ফুয়াদ, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।

জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা অংশ নেন। অন্যদিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে মাঠে খেলেন বিসিবি পরিচালক এস এম রেদোয়ান ফুয়াদসহ সংস্থাটির সদস্যরা।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

বিসিবি পরিচালক এস এম রেদোয়ান ফুয়াদ বলেন, ‘মাদক আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তাই খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।’ তিনি স্টেডিয়ামের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন।

জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, ‘মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে সারা বছর এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও এমন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে, যাতে খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা যায়।’

কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি গঠন

সভাপতি নাজমুল হাসান, সেক্রেটারি ডা. আকিব

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি গঠন
বাঁ থেকে সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত ও সেক্রেটারি ডা.কাজী আকিব আবদুল্লাহ।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরীর ২০২৬ সেশনের বাকি সময়ের জন্য সভাপতি নির্বাচন ও সেক্রেটারি মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর একটি মিলনায়তনে এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। 

এতে সদস্যদের প্রত্যক্ষ সর্বাধিক ভোট পেয়ে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লা মহনগরীর সেক্রেটারি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত এবং সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অফিস সম্পাদক ডা. কাজী আকিব আব্দুল্লাহ। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ নবগঠিত কমিটির নাম ঘোষণা করেন।

এর আগে অবশিষ্ট সময়ের জন্য শাখা সভাপতি নির্বাচন উপলক্ষে সদস্য সমাবেশে কেন্দ্রীয় সভাপতির স্বাক্ষরিত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।

প্রধান অতিথি সিবগাতুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির মেধাবীদের সংগঠন। এই সংগঠন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনের সংবিধান অনুযায়ী কমিটি গঠন করে আসছে। আজকে কুমিল্লা মহানগীর সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে সর্বাধিক ভোট পেয়ে নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত কুমিল্লা মহানগরীর বাকি সময়ের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে ডা. কাজী আকিব আব্দুল্লাহ সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‍ ‘আমি মনে করি নতুন এই নেতৃত্ব আগামী দিনে কুমিল্লা মহানগরীতে ছাত্রশিবিরকে আরো শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলবে।’ পরে নবনির্বাচিত সভাপতি ও সেক্রেটারীকে সভাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। সদস্য সমাবেশ পরিচলনা করেন কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক আবদুল মোহাইমেন।
 

পাগলা মসজিদে ৬ মাসে মিলল প্রায় ১৬ কো‌টি টাকা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
পাগলা মসজিদে ৬ মাসে মিলল প্রায় ১৬ কো‌টি টাকা
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া টাকা গণনা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে আবারও দেখা গেল দানের টাকার স্তূপ। ৬ ছয় মাস পর আজ শনিবার সকাল ৭টায় খোলা হয় মসজিদের ১৩টি দানবাক্স। বাক্স খুলতেই চোখে পড়ে টাকার স্তূপ। বিপুল পরিমাণ দানের টাকা ভরতে ৪৩টি বস্তা প্রয়োজন হয়। টাকা গণনার কাজ চলে মসজিদের দোতলায়। টানা ১৪ ঘণ্টা গণনা করে রাত ৯টার দি‌কে শেষ হয় গণনা কার্যক্রম। এবার মসজিদের ইতিহাসে রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

ছয় মাস পর দানবাক্স খোলায় সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেছিলেন, এবার দানের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে। অবশেষে তাদের ধারণাই সত্যি হলো। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর খোলা হয়েছিল মসজিদের দানবাক্স। তখন পাওয়া যায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এর আগে গত বছরের ৩০ আগস্ট দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে পাওয়া গেছে সোনা ও রুপার অলংকার ও বৈদেশিক মুদ্রাও।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানিয়েছেন, ব্যাংকে মসজিদের হিসাবে ১১৪ কোটি টাকা জমা আছে। আজ যে টাকা পাওয়া গেছে সেগুলো ওই ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। তিনি বলেন, ‘মসজিদের জন্য একটি বহু দৃষ্টিনন্দন ইসলামী কমপ্লেক্স স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে ওই স্থাপনার জন্য প্রায় ৫৪ শতক জায়গা কেনা হয়েছে।’ 

শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরীফুল হক এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গণনার কাজ তদারকি করছেন।

টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছে ৫ শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানার সাড়ে তিন শ শিক্ষার্থী, মসজিদের কর্মকর্তা-কর্মচারী সদস্য এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চলে গণনার কাজ। নিরাপত্তায় ছিল পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান জানিয়েছেন, গণনা প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই মসজিদের টাকা গণনার কাজ শেষ হয়েছে। পুলিশ শুধু দানের টাকা গণনার দিন নয়, সারা বছরই এই মসজিদের নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত থাকেন।  

লোকজনের বিশ্বাস, পাগলা মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূরণ হয়। অনেকে সুস্থতা ও মনের শান্তির জন্যও দান করেন এই মসজিদে। শুধু মুসলমান নয়, সব ধর্মের লোকজনই এখানে দান করে থাকেন। অনেকে নগদ টাকার পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ আরো নানা জিনিসপত্র দান করে থাকেন। 

মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংকে জমা রাখা মসজিদের তহবিলের অর্থ থেকে যে লভ্যাংশ পাওয়া যায়, তা থেকে ক্যান্সার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র লোকদের সহায়তা করা হয়। পাগলা মসজিদের আর্থিক সহযোগিতায় চলে একটি মাদরাসাও। তহবিলে বর্তমানে শতকোটিরও বেশি টাকা রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে এখানে তৈরি হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের বহুতল ইসলামী কমপ্লেক্স। আর ভবিষ্যতে পাগলা মসজিদের সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মকাণ্ড আরো বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।