• ই-পেপার

বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকায় স্বস্তির খবর

দেশে ফিরলেন ৪১২৩২ হাজি

অনলাইন ডেস্ক
দেশে ফিরলেন ৪১২৩২ হাজি

হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ৯৭টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৪১ হাজার ২৩২ জন হাজি। দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৮ জন। চিকিৎসাধীন ১৩ জন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্প ডেস্ক প্রকাশিত দৈনিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা ৪১ হাজার ২৩২ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৭ হাজার ৯০৪ জন রয়েছেন। আর ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৫ হাজার ৭২২ জন, সৌদি এয়ারলাইনস ১৬ হাজার ১০৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজি পরিবহন করেছে।

আরো পড়ুন
তেলের মজুদ তিন মাসে উন্নীতসহ ১২ দফা সুপারিশ

তেলের মজুদ তিন মাসে উন্নীতসহ ১২ দফা সুপারিশ

 

এখন পর্যন্ত মোট ৯৭টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৮টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৪০টি এবং ফ্লাইনাস ১৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী। মারা যাওয়াদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১২ ও জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।

এ ছাড়া, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ৪০১ জন হাজি চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৩ জন হাজি।

আরো পড়ুন
ডিএমকে নেই, তৃণমূল ক্ষমতাহীন—গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট

ডিএমকে নেই, তৃণমূল ক্ষমতাহীন—গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট

 

এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে।

অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

তেলের মজুদ তিন মাসে উন্নীতসহ ১২ দফা সুপারিশ

অনলাইন প্রতিবেদক
তেলের মজুদ তিন মাসে উন্নীতসহ ১২ দফা সুপারিশ

জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ সংকট প্রতিরোধে ১২ দফা সুপারিশ করেছে এ সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি। জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ কমপক্ষে তিন মাসে উন্নীত করা, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল মনিটরিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে কমিটি।

রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণভাবে প্যানিক বায়িং, অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।’

কমিটি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্প এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

এ ছাড়া রুফটপ সোলার স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিদ্যুৎ বিতরণে সিস্টেম লস কমাতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কমিটি তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ুশক্তিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্য আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করা যায় কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা পরিচালনা করা প্রয়োজন।’

একই সঙ্গে জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সংকটকালীন সময়ে অযৌক্তিক মজুদ বা প্যানিক বায়িং কমানো যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি, অবকাঠামো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো স্থিতিশীল, বহুমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা সময়ের দাবি।’

বিশেষ কমিটি মনে করে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়া ১০টি সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিরোধী দল বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে সমীক্ষা পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মতে, চাহিদার অতিরঞ্জিত পূর্বাভাস এড়িয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, অপরিশোধিত তেল অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা এবং এসপিএম ও ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

বিরোধী দলের সুপারিশে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক সম্প্রসারণ, পার্বত্য অঞ্চলে মাইক্রো-হাইড্রোর সম্ভাব্যতা যাচাই, নদীপ্রবাহভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা অনুসন্ধান এবং জ্বালানি সংকটকালে সরকারি যানবাহনের ব্যবহার কমানোর কথাও বলা হয়েছে।

পাশাপাশি হাইড্রোজেন ফুয়েল প্রযুক্তি, বায়োগ্যাস এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলের মতে, কোনো একক জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বহুমুখীকরণ করা জরুরি।

বাজেট বাড়ে, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ে না

অনলাইন ডেস্ক
বাজেট বাড়ে, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ে না

প্রতি বছর জাতীয় বাজেট ঘোষণার সময় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী যে কথাটি প্রায়ই বলেন সেটি হলো- ‘এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট।’ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটও তার ব্যতিক্রম নয়। গত এক দশকে বাজেটের আকার প্রায় ২.৬৮ গুণ বেড়েছে কিন্তু প্রশ্ন হলো এই বৃদ্ধি কি রাষ্ট্রের প্রকৃত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিফলন?

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজেটের অঙ্ক বড় হওয়া আর রাষ্ট্রের সেবা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এক বিষয় নয়। এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করব কেন বাংলাদেশের বাজেট বাড়লেও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়ছে না এবং এই ব্যবধান দূর করতে কী প্রয়োজন।

বাজেট বাড়ছে, কিন্তু প্রবৃদ্ধি কমছে : ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায়। প্রায় ২.৬৮ গুণ বৃদ্ধি। কিন্তু একই সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.১১ শতাংশ থেকে নেমে এসে এখন ৩.৯৭ থেকে ৪.৮০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে।

বাজেটের আকার বাড়লেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়েনি, বরং কমেছে। এটি প্রমাণ করে যে শুধু বাজেটের আকার বৃদ্ধি টেকসই উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং বাজেটের মান, কার্যকারিতা এবং বাস্তবায়নের গুণগত মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কিন্তু মানব উন্নয়নে প্রভাব সীমিত : এক দশকে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩৮২ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২০ ডলারে। এটি আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক হলেও, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় এর প্রতিফলন যথেষ্ট নয়। ভোলার শিশু তাকরিমের ঘটনা প্রমাণ করে, স্বাস্থ্যসেবার মান এখনো উদ্বেগজনক নিম্ন স্তরে রয়েছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি শুধু একটি গড় পরিসংখ্যান; এটি আয় বৈষম্য বা সেবার প্রাপ্যতার সঠিক চিত্র দেয় না। আয় বাড়লেও সরকারি সেবার মান ও বিস্তৃতি না বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনমান তেমন উন্নত হয় না।

রাষ্ট্রীয় ব্যয়-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম : আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ১২.৩ শতাংশ। অথচ ভারতে এই হার ২৮.৩৮ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৯.৪৭ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১৯.৩২ শতাংশ এবং ভুটানে ২৭.১৩ শতাংশ। একটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো সরকারি ব্যয়-জিডিপি অনুপাত। বাংলাদেশে এই হার এত কম হওয়ার অর্থ হলো- স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের হস্তক্ষেপের পরিসর তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত। ফলে রাষ্ট্র দুর্বল থেকে যাচ্ছে।

রাজস্ব সংকট সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু : বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যয় কম হওয়ার প্রধান কারণ আয় কম। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ৯.৬ শতাংশ, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেমে এসেছে ৬.৭-৭.১ শতাংশে। অন্যদিকে করদাতার সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। দেশে ১ কোটি ৪৫ লাখ টিআইএনধারী থাকলেও নিয়মিত রিটার্ন জমা দেন মাত্র ৪৫ লাখ। ১০ কোটির বেশি কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে করদাতা মাত্র ৩৫-৪০ লাখ। কর-জিডিপি অনুপাত কমে যাওয়া একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা। এর অর্থ হলো অর্থনীতি বড় হলেও কর আদায়ের সক্ষমতা কমছে। করজাল সংকীর্ণ, কর ফাঁকি বেশি এবং এনবিআর দুর্বল। সিপিডির ড. ফাহমিদা খাতুনের ভাষায়, ‘কেবল প্রবৃদ্ধি দিয়ে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি সম্ভব নয়; প্রয়োজন কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থা।’

অর্থ আছে, ব্যয় করার সক্ষমতা নেই : বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা হলো বরাদ্দকৃত অর্থ সময়মতো ব্যয় করতে না পারা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির মোট বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা, যার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। অব্যয়িত থেকে যায় প্রায় ৭২ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ৪১.৪১ শতাংশ। এটি শুধু প্রশাসনিক অদক্ষতা নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতার এক চরম সীমাবদ্ধতার পরিচয়। অর্থ অব্যবহৃত থাকলে উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়ে। পাশাপাশি, পদ্মা সেতু ও মাতারবাড়ি বন্দরের মতো বড় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো এবং বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যবহারে ধীরগতি রাষ্ট্রের অর্থ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা তুলে ধরে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ : স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ২.৩৬ শতাংশ, যেখানে ভারত ৩.৩৪ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ৩.৬৮ শতাংশ, ভুটান ৪.৪২ শতাংশ এবং নেপাল ৬.১৬ শতাংশ ব্যয় করে। শিক্ষা খাতেও জিডিপির মাত্র ১.৫-২ শতাংশ ব্যয় করা হয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ না থাকলে একটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভোলার শিশু তাকরিমের মৃত্যুর ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ব্যর্থতা নয়; এটি দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত বিনিয়োগের ফল। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, করজাল সম্প্রসারণ, এনবিআরের আধুনিকায়ন ও সংস্কার এবং কর ফাঁকি ও কর অব্যাহতি কমানো জরুরি। প্রকল্প গ্রহণে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। প্রশাসনিক সক্ষমতা উন্নয়ন, সময়মতো অর্থ ছাড় ও ব্যয় নিশ্চিতকরণ। স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো, মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির শতাংশ হিসেবে ব্যয় অন্তত ৫-৬ শতাংশে উন্নীত করা। বৈদেশিক ঋণের সুষ্ঠু ব্যবহার, ঋণের অর্থ গ্রহণের আগে প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা যাচাই করা এবং অব্যবহৃত অর্থের সুদ পরিশোধের বোঝা কমানো।

গত এক দশকে বাংলাদেশের বাজেটের আকার প্রায় তিন গুণ হয়েছে। কিন্তু রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা, উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়নে অদক্ষতা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং সরকারি সেবার মান বিবেচনায় রাষ্ট্রের সক্ষমতা     সেই হারে বাড়েনি।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, উন্নয়নের প্রকৃত মাপকাঠি বাজেটের অঙ্ক নয়; বরং সেই অর্থ কোথা থেকে আসছে, কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় হচ্ছে এবং তার সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা পৌঁছাচ্ছে। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত ‘বাজেট কত বড়?’ নয়, বরং ‘রাষ্ট্র কতটা সক্ষম?’ এই প্রশ্নের উত্তরই আগামী দিনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ নির্ধারণ করবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, সতর্কবার্তা

ঢাকাসহ দেশের ১১টি জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। 

সোমবার (৮ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।  

বার্তায় বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।