• ই-পেপার

উত্তর কোরিয়ায় শি চিনপিং, বৈঠকে বসছেন কিমের সঙ্গে

এশিয়ার শীর্ষ ধনীর খেতাব ফিরে পেলেন গৌতম আদানি

অনলাইন ডেস্ক
এশিয়ার শীর্ষ ধনীর খেতাব ফিরে পেলেন গৌতম আদানি
সংগৃহীত ছবি

ভারতের প্রখ্যাত শিল্পপতি ও আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির খেতাব ফিরে পেয়েছেন। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ার্স তালিকার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই। আদানি গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় তার মোট সম্পদের পরিমাণে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে।

ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৫ জুন) আদানি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ায় একদিনেই গৌতম আদানির সম্পদ প্রায় ২৫০ কোটি (২.৫ বিলিয়ন) ডলার বৃদ্ধি পায়। এর ফলে তার মোট সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯২০ কোটি (৮৯.২ বিলিয়ন) ডলারে। এর মাধ্যমে তিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি (৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলার) এবং সফটব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মাসায়োশি সনকে (৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলার) পেছনে ফেলে এশিয়ার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেন।

আদানি গ্রুপের বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার কারণেই আদানির এই সম্পদ বৃদ্ধি। ফোর্বস জানিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছে আদানি পাওয়ার, আদানি পোর্টস, আদানি এন্টারপ্রাইজেস, আদানি গ্রিন এনার্জি ও আদানি এনার্জি সলিউশনস। এর মধ্যে আদানি গ্রিন এনার্জির শেয়ারের দাম ৬.৯ শতাংশ এবং আদানি এনার্জি সলিউশনসের শেয়ারের দাম ৩.৮ শতাংশ বেড়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত আদানি গ্রুপের প্রধান ছয়টি কোম্পানির সম্মিলিত বাজার মূল্য ছিল প্রায় ১৯ হাজার ১০০ কোটি (১৯১ বিলিয়ন) ডলার।

আদানির এই শীর্ষস্থানে ফিরে আসা গ্রুপটির জন্য একটি বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানো বা প্রত্যাবর্তন। মার্কিন বিচার বিভাগ আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতির অভিযোগ খারিজ করে দেওয়ার পর থেকেই মূলত ভাগ্য ফেরে এই ধনকুবেরের। অভিযোগ খারিজের পর গত এক মাসেই তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলার বেড়েছে। অবশ্য শুরু থেকেই গৌতম আদানি এবং তার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। 

তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত
ছবি : সংগৃহীত।

ইসরায়েলের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রাজধানী তেহরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব আগত ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী সব ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তেহরান অঞ্চলের দুটি প্রধান বিমানবন্দরের একটি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের এপ্রিলে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির আকাশপথ ও বিমান চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। 

ফক্স নিউজের খবরে বলা হয়, ট্রাম্প ইরানকেও বার্তা দিয়েছন, ‘এবার যথেষ্ট হয়েছে।’ ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে।

এর আঘে রবিবার ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর পরই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি দেয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রধান উদ্বেগ হলো ইসরায়েলের পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনাকে ভেস্তে দিতে পারে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, আর নতুন সামরিক উত্তেজনা সেই প্রচেষ্টাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে গেছে।

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেনার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেনার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : রয়টার্স

ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ সরাসরি মরিশাসের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা এমন একটি প্রস্তাব তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে পাশ কাটিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য আলাদা চুক্তি করা হতে পারে। ‘ডিয়েগো গার্সিয়া’ হলো মধ্য ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ-নিয়ন্ত্রিত প্রবাল দ্বীপ। এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

জানা গেছে, এই পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসের বিবেচনায় থাকা কয়েকটি বিকল্পের একটি। এসব বিকল্প নিয়ে একটি নীতিপত্রও প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রস্তাবগুলোর লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করলে তার বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বের করা। 

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মরিশাস দাবি করে আসছে, দ্বীপপুঞ্জটি তাদের ভূখণ্ডের অংশ। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহু বছর ধরে বিরোধ চলছে। অন্যদিকে ডিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ওয়াশিংটনের কৌশলগত উপস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই মনে করেন যে, যুক্তরাজ্যের উচিত নয় ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করা। এই দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত ডিয়েগো গার্সিয়া অ্যাটলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত।

এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ভারত মহাসাগরে ডিয়েগো গার্সিয়ার কৌশলগত অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য সামরিক স্থাপনায় পরিণত করেছে। তিনি আরো বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বীপটির কার্যকারিতা বজায় রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, দ্বীপটির আঞ্চলিক নিরাপত্তা কেন্দ্র হিসেবে কার্যকারিতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, চলতি বছরের এপ্রিলে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করে যুক্তরাজ্য সরকার।

চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ডিয়েগো গার্সিয়া বিমান ও সামরিক ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে দ্বীপপুঞ্জটির মালিকানা নিয়ে মরিশাস ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাগোস দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত চুক্তিটিকে ‘বড় ভুল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। 

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, সরকার এমন একটি পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল, যেখানে ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটির ওপর ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে ছিল। তাই যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।

মুখপাত্র আরো বলেন, ডিয়েগো গার্সিয়া প্রায় ৬০ বছর ধরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এটি দুই দেশের জন্যই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সামরিক সম্পদ।
 

ফিলিপাইন জুড়ে ভূমিকম্পের তাণ্ডবলীলা, নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইন জুড়ে ভূমিকম্পের তাণ্ডবলীলা, নিহত ৩
ছবি : রয়টার্স

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ৭.৮ মাত্রার এক ভূমিকম্প। সোমবারের (৮ জুন) এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। 

ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানসহ এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, শক্তিশালী এই কম্পনের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রাথমিক হিসেবে অন্তত ৩৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরো কেউ আটকে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে উদ্ধারকারী দল।

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলক্যানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর থেকে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা (জিএমটি ০৩:০০) পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ১৩৮টি আফটারশক বা অনুকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এই আফটারশকগুলোর মাত্রা ছিল ১.৩ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬.৭ পর্যন্ত, যা উদ্ধারকাজকে ব্যাহত করছে। ফিলিপাইন প্রশাসন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। 

সূত্র : বিবিসি