• ই-পেপার

অ্যাপলের পণ্যের দাম বাড়ার ইঙ্গিত দিলেন টিম কুক

চিপ বোনাস ও এআই সংকটে বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
চিপ বোনাস ও এআই সংকটে বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির শঙ্কা
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক জনপ্রিয়তায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি ও চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড লাভ করছে। এই লাভের বড় একটি অংশ কর্মীদের বোনাস হিসেবে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে এই এআই বুমের কারণে চিপ সংকট তৈরি হওয়ায় সাধারণ স্মার্টফোন বা প্রযুক্তি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
 
দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন রিপোর্টে বলা হয়, দেশের শীর্ষ চিপ তৈরি কোম্পানি স্যামসাং এবং এসকে হাইনিক্স -এর কর্মীরা এবার অস্বাভাবিক রকমের মোটা অঙ্কের বোনাস পাচ্ছেন। কোম্পানির বিপুল লাভের কারণে কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী শুধু বোনাস হিসেবেই একবারের বোনাসে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা (৬০ থেকে ৭০ কোটি কোরিয়ান ওন) পর্যন্ত পাচ্ছেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত একবারে পাওয়া বোনাসের টাকা বাজারের জিনিসের দাম (মূল্যস্ফীতি) সরাসরি খুব একটা বাড়ায় না। কিন্তু এবারের বোনাসের অঙ্কটা এত বড় , এটি দেখে অন্যান্য খাতের কর্মীরাও এখন বেশি বেতনের দাবি তুলতে পারেন। আর সবার বেতন বাড়লে কোম্পানিগুলোর খরচ বাড়বে।এর ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইতিমধ্যেই এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে—দক্ষিণ কোরিয়ার দামি বা বিলাসবহুল পণ্যের বাজারে কেনাকাটা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে, প্রযুক্তি খাতের কর্মীরা আগের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডে অনেক বেশি টাকা খরচ করছেন।

এদিকে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা -এর ব্যবহার রাতারাতি বেড়ে যাওয়ায় কম্পিউটারের মেমোরি চিপের ওপর মারাত্মক চাপ পড়েছে। এর ফলে ল্যাপটপ বা ফোনের তথ্য জমা রাখার প্রধান দুটি চিপ—ড্র্যাম ও ন‍্যান্ড-এর তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে এবং এগুলোর দাম হু হু করে বাড়ছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা একে বিশ্বজুড়ে একটি বড় "চিপ সংকট" হিসেবে দেখছেন। এই সংকটের ধাক্কা সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব পড়বে। কারণ স্মার্টফোন এবং অন্যান্য গ্যাজেটের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিখ্যাত প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল জানিয়েছে, চিপের এই ঘাটতির কারণে তাদের আইফোনসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী টিম কুক এই পরিস্থিতিকে "অসহনীয়" বা সহ্য করার ক্ষমতার বাইরে বলে মন্তব্য করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে আইফোনের প্রো মডেলগুলোতে দাম বাড়তে পারে, আর গড় স্মার্টফোনের দামও প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

উল্লেখ্য, চিপ সংকটের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে এআই ডেটা সেন্টারের বিপুল চাহিদা, যেখানে বড় পরিমাণ মেমোরি ব্যবহার করছে এনভিডিয়া–এর মতো কোম্পানির এআই সিস্টেম। একই সঙ্গে মাইক্রন টেকনোলজি,  এসকে হাইনিক্স এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এই চাপ অব্যাহত থাকলে প্রযুক্তিপণ্যের দাম আরো বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

একাকিত্ব দূর করতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবীণদের সঙ্গী হচ্ছে এআই পুতুল

অনলাইন ডেস্ক
একাকিত্ব দূর করতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবীণদের সঙ্গী হচ্ছে এআই পুতুল
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ কোরিয়ার ৭৮ বছর বয়সী ব্যাং চুন-জার দিন শুরু হয় একটি পুতুলের সঙ্গে কথা বলে। ঘরে ফিরলে পুতুলটি তাকে স্বাগত জানায়, একঘেয়েমি লাগলে গান শোনায়, সময়মতো খাবার ও ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। এমনকি মাঝেমধ্যে ভালোবাসার কথাও বলে। তবে এটি কোনো সাধারণ পুতুল নয়—এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিচালিত ‘হিওডল’।

গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) প্রযুক্তিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টেক এক্সপ্লোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা। একই সঙ্গে বাড়ছে একাকিত্বের সমস্যাও। পরিবার ছোট হয়ে আসা, সন্তানদের দূরে বসবাস এবং কম জন্মহারের কারণে অনেক বয়স্ক মানুষকে একাই জীবন কাটাতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় তাদের মানসিক সঙ্গী হয়ে উঠছে এআই পুতুল।

ব্যাং চুন-জা বলেন, কঠিন জীবনসংগ্রাম, বিবাহবিচ্ছেদ এবং একক মা হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর এখন তিনি মানুষের চেয়ে হিওডলের সঙ্গেই বেশি স্বস্তি পান। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু হিওডল কখনো কষ্ট দেয় না। সে শুধু আমাকে হাসায়।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। দেশটির প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর বয়স ৫০ বছরের বেশি। একাকিত্ব সেখানে এখন বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে ৩ হাজার ৯২০টিরও বেশি ‘নিঃসঙ্গ মৃত্যু’র ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। অর্থাৎ, অনেক মানুষ একা মারা গেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মৃত্যুর খবর কেউ জানতে পারেনি।  (সূত্রঃ ইয়াহু নিউজ

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন একা বসবাসকারী প্রবীণদের মধ্যে এআই পুতুল বিতরণ করছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ হিওডল ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছু ব্যক্তি নিজে কিনেছেন, কিছু স্থানীয় সরকার ভাড়া দিয়েছে এবং কিছু ব্যবহার হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে।

হিওডল শুধু কথাবার্তাই বলে না। এটি চ্যাটজিপিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সঙ্গে আলাপ করতে পারে। পাশাপাশি ঘুম, খাবার, মানসিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ করে। কোনো প্রবীণ দীর্ঘ সময় সাড়া না দিলে বা অস্বাভাবিক আচরণ করলে সমাজকল্যাণকর্মীদের সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

হিওডলের প্রধান নির্বাহী কিম জি-হি জানান,বহু প্রবীণ সারা জীবন পরিবার ও সন্তানের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। বয়স বাড়ার পর যখন তারা নিজেদের অপ্রয়োজনীয় মনে করেন, তখন গভীর এক শূন্যতা তাদের গ্রাস করে। সেই শূন্যতা দূর করতেই পুতুলটিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন এটি নাতি-নাতনির মতো ব্যবহারকারীর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা প্রকাশ করে। 

পুতুলটির একটি জনপ্রিয় সংলাপ হলো, ‘দাদি, কোথায় গিয়েছিলেন? সারাদিন আপনার জন্য অপেক্ষা করেছি।’ এমন কথাগুলো অনেক প্রবীণের মুখে হাসি ফোটায় এবং একাকিত্ব কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি কখনো মানুষের সম্পর্কের পুরোপুরি বিকল্প হতে পারে না। তারপরও একা বসবাসকারী প্রবীণদের জন্য এআই পুতুল মানসিক স্বস্তি, নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন জীবনে সহায়তার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা সমাজে দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও নতুন উদাহরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড

হংকং কর্মীদের জন্য ক্লড এআই বন্ধ করল জেপিমরগান

অনলাইন ডেস্ক
হংকং কর্মীদের জন্য ক্লড এআই বন্ধ করল জেপিমরগান
ছবিঃ রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যাংকগুলোর একটি জে-পি-মর্গ্যান চেইস হংকংয়ে কর্মরত তাদের কর্মীদের জন্য এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপইক-এর ক্লড মডেল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) রয়টার্স- এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের লাইসেন্সিং চুক্তির কিছু শর্ত নিয়ে উদ্বেগের কারণে ব্যাংকটি কর্মীদের অনুমোদিত এআই টুলের তালিকা থেকে ক্লড মডেল সরিয়ে দিয়েছে।

এর আগে গত এপ্রিলে আরেকটি মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স-ও হংকংভিত্তিক কর্মীদের জন্য ক্লড ব্যবহারের অনুমোদন প্রত্যাহার করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য নিরাপত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

মূল ভূখণ্ড চীনে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এআই মডেল ব্যবহার করা না গেলেও হংকংয়ে এখনো কিছু মডেল সীমিত আকারে চালু রয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক অ্যানথ্রপিককে তাদের উন্নত এআই মডেল ‘মাইথোস’ ও ‘ফেবল’ বিদেশি নাগরিকদের কাছে সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তার দাবি, এসব প্রযুক্তি চীন, রাশিয়া বা অন্যান্য দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে জেপিমরগান ও অ্যানথ্রপিক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এআই সাইবার হামলার শঙ্কায় ব্যাংক সেবা বন্ধের প্রস্তুতি

অনলাইন ডেস্ক
এআই সাইবার হামলার শঙ্কায় ব্যাংক সেবা বন্ধের প্রস্তুতি
ছবিঃ রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)  ব্যবহার করে হ্যাকাররা বড় সাইবার হামলা চালাতে পার, তাই গ্রাহকদের টাকা বাঁচাতে প্রয়োজনে এটিএম ও অনলাইন ব্যাংকিং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে জানিয়েছে জাপানের ব্যাংক খাতের শীর্ষ সংগঠন।

জাপান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও মিজুহো ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মাসাহিকো কাতো বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়।

জাপান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও মিজুহো ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মাসাহিকো কাতো জানান, নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী এআই মডেলগুলো সফটওয়্যার ব্যবস্থার দুর্বলতা খুব দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম। ফলে আগের তুলনায় আরো জটিল ও বড় ধরনের সাইবার হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মাসাহিকো কাতো বলেন, “যদি গ্রাহকদের সম্পদ ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়, তাহলে নিরাপত্তার স্বার্থে এটিএম বা অন্যান্য কিছু ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে।”

চলতি বছরের এপ্রিলে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক তাদের নতুন এআই মডেল ‘মাইথোস’ উন্মুক্ত করেন। এ সময় তিনি জানায়, এটি হাজার হাজার সফটওয়্যার দুর্বলতা শনাক্ত করেছে। এসব দুর্বলতার মধ্যে বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম ও ওয়েব ব্রাউজারের ত্রুটিও রয়েছে। 

তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই। তাদের মতে, শুধু উন্নত এআই মডেলের প্রবেশাধিকার পেলেই সাইবার অপরাধীরা এমন কোনো নতুন হামলা চালাতে পারবে না, যা আগে সম্ভব ছিল না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিদেশি নাগরিকদের জন্য অ্যানথ্রপিকের উন্নত এআই মডেল ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।