উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষায় নির্মাণ করা দ্বৈত সারির বাঁশের স্পারের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সেতু রক্ষা বাঁধ এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নদীর ভেতর নির্মিত এই স্পার স্থায়ী হবে না বলে শুরু থেকেই আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা সে আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেননি।
গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর পশ্চিম পাশে এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বাঁশের দ্বৈত সারির স্পার নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা ছিল, বর্ষার সময় তিস্তার পানির চাপ কমিয়ে এটি সেতু রক্ষা বাঁধকে সুরক্ষা দেবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোন্নাফ মিয়া বলেন, স্পার নির্মাণের সময় আমরা বলেছিলাম, নদীর মধ্যে এভাবে নির্মাণ করা হলে এটি টিকবে না। পানি আসলেই ভেঙে যাবে। কিন্তু তখন আমাদের কথা শোনা হয়নি। এখন সামান্য পানির চাপেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মোন্নাফ মিয়া অভিযোগ করেন, এ ধরনের কাজ হলে তা মানুষের আস্থার জায়গা নষ্ট করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্পার নির্মাণের পর থেকেই এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বর্ষা শুরু হওয়ার পর তাদের সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, আমাদের বলার ভাষা নেই। তিন বছর ধরে এই বাঁধ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় অস্থায়ী নয়, স্থায়ী পরিকল্পনা প্রয়োজন।
উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান বলেন, আমরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। বাঁশের স্পারটি ঢাকার প্রকৌশলীদের নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছিল। বিষয়টি তাদেরও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির রিভার ট্রেনিং ইঞ্জিনিয়ার কনসালটেন্ট ড. প্রকৌশলী লুৎফর রহমান বলেন, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধ এলাকায় নির্মিত দ্বৈত সারির বাঁশের স্পারটি ছিল পরীক্ষামূলক ও স্বল্প ব্যয়ের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। নদীতে পানিপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কচুরিপানা এসে স্পারে জমা হয়ে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করায় কিছু অংশ ভেঙে গেছে।
২০১৮ সালে উদ্বোধন হওয়া দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রংপুর ও লালমনিরহাট অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই সেতু বাঁধ রক্ষায় নির্মিত স্পার মাত্র চার মাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন।




