• ই-পেপার

চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষার্থীকে শাসন করায় প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর অভিভাবকের

খুলনায় বস্তার মধ্যে রক্তাক্ত নারীর লাশ, তদন্তে পুলিশ

খুলনা অফিস
খুলনায় বস্তার মধ্যে রক্তাক্ত নারীর লাশ, তদন্তে পুলিশ
প্রতীকী ছবি

খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় এক অজ্ঞাত নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে ওই ভবনের সামনে একটি বড় প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। বস্তার এক পাশ দিয়ে তাজা রক্ত বের হতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে কাছে গিয়ে বস্তার ভেতরে মানুষের মরদেহ রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়ে তারা খুলনা থানায় খবর দেন।

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে সিআইডির বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আলামত সংগ্রহের পর পরিচয় জানা যেতে পারে। পরে লাশটির ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলেও ওসি জানান।

শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নির্ঘুম তীরবর্তী মানুষ

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নির্ঘুম তীরবর্তী মানুষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

টানা ৪ দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। চলমান বৃষ্টি না থামলে পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে শঙ্খ নদীর তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার জনসাধারণ নির্ঘুম পাহারায় রয়েছেন ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায়। অনেক পরিবার নিজেদের সহায়-সম্বল, আসবাব সরাতে ব্যস্ত রয়েছে সারাক্ষণ।

অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর সংলগ্ন যে সব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এর মধ্যে রয়েছে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী রায় জোয়ারা, বার্মা কলোনি, চাগাচর, বরমা, বৈলতলী, সেনার চর এলাকা। আরো রয়েছে সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড়, বাজালিয়া, কালিয়াইশ, নলুয়া, আমিলাইশ, ধর্মপুর, চরতি ও খাগরিয়া ইউনিয়ন এলাকার শত শত পরিবার।

চন্দনাইশ উপজেলার চাগাচর এলাকার মামুনুর রশীদ জানান, গত ২-৩ বছর লাগাতার বৃষ্টি না থাকার কারণে শঙ্খ নদীর ঢল তেমন না থাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়নি। এতে আমরা স্বস্তিতে ছিলাম। চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির এবং কালো মেঘের ঘনীভূতের কারণে পাহাড়েও প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। শঙ্খ নদীর পানি বেড়ে তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে। তাই আমাদের এলাকার শঙ্খ নদীর পাড়ে অবস্থিত মানুষদের সারারাত জেগে থাকতে হচ্ছে।

দোহাজারী রায় জোয়ারা এলাকার বৃদ্ধ জাফর আহমেদ জানান, গত ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যায় আমাদের রায় জোয়ারা এলাকার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। তাই অনেক পরিবার চলতি ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় নিজ নিজ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন ইতোমধ্যে।

সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন জানান, সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়ন এলাকার শঙ্খ নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। শঙ্খে নদীর তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। ইতোমধ্যে সব ধরনের সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। রাস্তায় উপর পানির ঢলে অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী পড়েছে। চন্দনাইশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে নিম্নাঞ্চলের জনসাধারণকে স্থানীয় হাইস্কুলে ও ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নেওয়ার জন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

চন্দনাইশের ইউএনও আব্দুর রহমান জানান, শঙ্খ নদীর পানি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ও নদীর তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি ছেড়ে নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সাতকানিয়ার ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গ্রাম পুলিশদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সব এলাকায় মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

রাউজানে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

জাহেদুল আলম, রাউজান
রাউজানে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
রাউজানে জিয়াবাজার এলাকায় অতিবৃষ্টিতে ভেঙে পড়া কাপ্তাই সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ।

রাউজানে টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ডাবুয়ায় এক শিশু বৃষ্টির জলাবদ্ধতার পানিতে পড়ে মারা গেছেন। বসতঘর, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও খাট পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। আজ বুধবারও প্রবল বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ডাবুয়া খালের প্রবল স্রোতে একটি সেতু ধসে পড়ে। এতে সড়কের একপাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অপর পাশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি খালটির ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও ব্লক বসানো হলেও প্রবল স্রোতের কাছে সেগুলো টেকেনি। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল প্রশস্ত করার পর পানির প্রবাহ ও স্রোতের বেগ বেড়ে যাওয়ায় সেতুটি ধসে পড়ে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের মদুনাঘাট ব্রিজের পূর্ব পাশে জিয়া বাজার সংলগ্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন করে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে রাউজান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর নির্দেশনা ও উদ্যোগে সওজের প্রকৌশলীরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি সংস্কার কাজ শুরু করেন।

এদিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন আটকা পড়েছে। হলদিয়া ভিলেজ সড়কের গর্জনীয়া রাবার বাগান ব্রিজ থেকে হলদিয়া আমতলী টিলা পর্যন্ত সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলমান থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে দেখা গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড, চিকদাইর, ডাবুয়া, কদলপুর, পাহাড়তলী ও উরকিরচর ইউনিয়ন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় খাল ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। বেড়ে গেছে হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানিও। চৌমুহনী কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং কৃষকদের বীজতলা নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলার উরকিরচর, বাগোয়ান, হলদিয়া, ডাবুয়া, নোয়াপাড়া, নোয়াজিষপুর, পূর্বগুজরা, পশ্চিম গুজরা, বিনাজুরি, চিকদাইর এবং পৌরসভার আরো বেশকিছু এলাকার রাস্তা, ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। এতে মানুষের দুভোর্গের যেন শেষ নেই।

৯ নম্বর পাহাড়তলী ইউনিয়নের খাঁনপাড়া ও দাশপাড়ায় প্রবল স্রোতের কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে রাতেই উপজেলা প্রশাসন সেখানে পৌঁছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রাহাতুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রায় ১০০টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল জানান, সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী নিদেশনায় ভাঙনকবলিত ও পানিবন্দি এলাকায় খাদ্যসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবেন।

সংসদ সদস্যের পক্ষে রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানিবন্দি ও দুস্থ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন তরুণ সমাজসেবক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ হাসান বাহাদুর। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে মানুষের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা দূর্জয় দাশ সূর্য বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ দাশপাড়াসহ আশপাশের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জান্নাত নামে এক গৃহবধূ বলেন, গত সোমবার থেকে ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। চুলায় আগুন জ্বলেনি। শুকনো খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। টয়লেটও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।’

রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বাহাদুর নামের একজন বলেন, ‘ডাবুয়া খাল ভেঙে তাঁর এলাকার অর্ধশতাধিক বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবারের চুলা জ্বলছে না।' অপরদিকে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, বিভিন্ন এলাকার সড়ক ডুবে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকেরা।’

রাউজান উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফিরোজ আহমদ বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি ভাঙনকবলিত সড়ক ও সেতু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ চলছে।’

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রাহাতুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকদাইর খাল ভাঙার স্থানেও দ্রুত বাঁধ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা অংশে ৫ ঘণ্টাব্যাপী যানজট, যাত্রীদের দুর্ভোগ

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা অংশে ৫ ঘণ্টাব্যাপী যানজট, যাত্রীদের দুর্ভোগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মাহসড়কে চান্দিনা অংশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী লেনে ওই যানজট প্রায় ৫ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এতে ঢাকাগামী যাত্রীসহ দূরদূরান্তের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নূরীতলা এলাকায় যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে পুকুরে পড়ে যায় একটি লং ভেহিকল (লরি)। এতে সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ ২ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় আরো এক যাত্রী।

ওই দুর্ঘটনার পর থেকে যানজট সৃষ্টি হতে থাকে। দুর্ঘটনা কবলিত লং ভেহিকল (লরি) টি উদ্ধার করতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ফলে ঢাকামুখী লেনটি বন্ধ থাকে। এই ১ ঘণ্টার মধ্যে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় মহাসড়কে বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

যানজটে আটকাপড়া সততা পরিবহনের যাত্রী শরীফুল ইসলাম জানান, তিনি চান্দিনা বাস স্টেশন থেকে রাত ৮টায় মাধাইয়া স্টেশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। হাড়িখোলা পর্যন্ত ১ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে তাকে বহনকারী গাড়িটির ১ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িগুলো নিয়ম ভেঙে মহাসড়কের একটি লাইল দিয়ে চলাচল করার কারণে ওই যানজট হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে রাত ৯টায় সরেজমিনে চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুল এলাকা পর্যন্ত যানজট দেখা গেছে। তবে রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যানবাহন ধীর গতিতে ঢাকা অভিমুখে চলতে শুরু করে।

এ ব্যাপারে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির শিকদার জানান, দুর্ঘটনাকবলিত লং ভেহিকল (লরি) উদ্ধার করতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এ সময় ঢাকামুখী লেন বন্ধ থাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এখন গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।