• ই-পেপার

হবিগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০

‘স্যার আপনাকে আব্বু ডাকলাম, কয়টা নাম্বার দেন’ উত্তরপত্রে ছাত্রীর আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
‘স্যার আপনাকে আব্বু ডাকলাম, কয়টা নাম্বার দেন’ উত্তরপত্রে ছাত্রীর আবেদন
সংগৃহীত ছবি

পাসের আশায় পরীক্ষার খাতায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে নম্বর চেয়ে আবেদন লিখেছে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। উত্তরপত্রে লেখা সেই আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা-এর একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নিজের ফেসবুক আইডিতে শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রের ছবি প্রকাশ করলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভাইরাল হওয়া উত্তরপত্রে দেখা যায়, প্রশ্নের উত্তর লেখার পরিবর্তে খাতায় সে লিখেছে, ‘স্যার, সত্যি কথা বলতে আজকে শিখবো; কালকে শিখবো এরকম করে সময় চলে গেছে। কিছু শেখা হয়নি। তাই পরীক্ষার খাতায় কিছু লিখতে পারলাম না। বলছিলাম কী স্যার, আপনাকে আব্বু ডাকলাম। দয়া করে আমাকে কয়টা নাম্বার দিন। আব্বু, আব্বু, আব্বু ... আব্বু, আমাকে কয়টা নাম্বার দিন।’

উত্তরপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই শিক্ষার্থীর ভাষাগত ও শিক্ষাগত দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ এটিকে কোনো একক শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন।

উত্তরপত্রটি প্রকাশ করা শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার বর্তমান বাস্তবতার একটি চিত্র তুলে ধরতেই উত্তরপত্রটি শেয়ার করেছি। কাউকে হেয় বা বিব্রত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’

তিনি আরো জানান, শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি দূর করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

হাতিয়া উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আ. ন. ম. হাসান জানান, একটি উত্তরপত্র দেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তবে এমন ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উত্তরপত্রের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। তবে শিক্ষার্থীদের মৌলিক পড়া-লেখা ও ভাষাগত দক্ষতার ঘাটতি থাকলে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

বন্যার পানিতে যান চলাচল বন্ধ, সাজেকে ৫ শতাধিক পর্যটক আটকা

রাঙামাটি সংবাদদাতা
বন্যার পানিতে যান চলাচল বন্ধ, সাজেকে ৫ শতাধিক পর্যটক আটকা
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাঙামাটির সাজেকে পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে বন্যার পানির কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যেসব পর্যটক মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সাজেকে অবস্থান করে বুধবার (৮ জুলাই) ফেরার কথা ছিল তারা আটকা পড়েছেন। 

কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, মঙ্গলবার যারা সাজেকে এসেছিলেন, আজ সকালে তাদের খাগড়াছড়ি ফেরত যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে বন্যার পানির কারণে আপাতত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে পর্যটকরা বের হতে পারছে না। বিকালে পানি কমে গেলে তখন তাদেরকে নিরাপদে পৌঁছিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু বর্তমান আবহাওয়াজনিত কারণে প্রশাসন থেকে সাজেকে পর্যটন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাই আজ সকাল থেকে কোনো পর্যটকের গাড়ি খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও পর্যটকরা সাজেক ভ্রমণ করতে পারবে।’

কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৫৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৫৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এর অধিনায়ক, লে. কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মঈনপুর ও খাদলা বিওপি এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সালদানদী, শশীদল, শংকুচাইল ও খাড়েরা বিওপির টহলদল অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরো জানান, এ সময় বাসমতি চাউল, রেডবুল এনার্জি ড্রিংকস, ফুসকা, গরু, চকলেট, চিংড়ি মাছের রেনু, অলিভ অয়েল, শাড়ি, গাঁজা, মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

হবিগঞ্জের দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২
ছবি: কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে এক বাসচালক নিহত হয়েছেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজন যাত্রী মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল উপজেলার ডুবাঐ বাজার এলাকায় আকিজ ভেঞ্চার কম্পানির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ইউনিক বাসচালক কিশোরগঞ্জের দড়ি চরিয়াকোনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে তাজুল ইসলাম রুবেল (৫১) এবং ইউনিক বাসের যাত্রী সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাদ্দাম হোসেনের ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবাঐ বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী লাকি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। অপরদিকে লাকি পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকে। পরে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও বাহুবল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ইউনিক পরিবহনের বাসচালকের মরদেহ উদ্ধার করেন এক দুর্ঘটনাকবলিত লাকি পরিবহনের বাস সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইউনিক পরিবহন ও লাকি পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজন মারা গেছেন।’