• ই-পেপার

শেরপুরে গলায় বাদাম আটকে শিশুর মৃত্যু

গাজীপুর

সন্তানদের জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
সন্তানদের জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরে দুই সন্তানকে জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কাইয়ুম মীর (৪৬) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী (৩৪) বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত কাইয়ুম মীর সদর উপজেলার ধলিপাড়া গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেন মীর বাদলের ছেলে। তিনি ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ২৪ জুন রাতে ১৩ বছরের মেয়ে এবং ৪ মাসের শিশু পুত্রকে নিয়ে ঘরে শুয়েছিলেন তিনি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্ত কাইয়ুম নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে দাবি করেন, রাজনৈতিক মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে এসেছে। তিনি পালিয়ে এসেছেন। ওই রাতে তার ঘরে আশ্রয় চান। স্বামী প্রবাসে থাকায় রাজি হননি তিনি। অনেক অনুনয়-বিনয় করার পর মানবিক কারণে তাকে ঘরে আশ্রয় দেন ভুক্তভোগী। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত তাকে কু-প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে ঘরে থাকা একটি ধারালো বটি ভুক্তভোগীর ৪ মাস বয়সী শিশুপুত্রের গলায় ধরে তাকে হত্যা এবং ১৩ বছর বয়সী মেয়ের ক্ষতি করার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে সন্তানদের প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন কৃষক লীগের ওই নেতা।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কাইয়ুম মীরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহারে পথচারীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ মহিলা দল নেত্রীর

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
দোহারে পথচারীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ মহিলা দল নেত্রীর
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার দোহার উপজেলায় তীব্র গরমে পথচারী, যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে উপজেলার লোটাখোলা করম আলীর মোড়ে ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতি শামীমা রাহিম শীলার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এ সময় পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের হাতে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যালাইন তুলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শামীমা রাহিম শীলা বলেন, ‘তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

কর্মসূচিতে স্বর্ণ মোল্লা, বিথি আক্তার, ঈশিতা, ফারজানা, মিতু আক্তার, শিউলি, সুলতানা, খাদিজা আক্তারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারত থেকে পার্বতীপুরে পৌঁছাল আরো ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
ভারত থেকে পার্বতীপুরে পৌঁছাল আরো ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল
ছবি : কালের কণ্ঠ

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আরো ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে। সোমবার (২৯ জুন) চালানটি ডিপোর রিসিভিং টার্মিনালে গ্রহণ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমন মৌসুমে সেচের চাহিদা বিবেচনায় এ চালান উত্তরাঞ্চলে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। পাইপলাইন চালুর ফলে জ্বালানি পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমেছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরো নিরাপদ ও কার্যকর হয়েছে।

বিপিসি সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরে ভারত থেকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ চালানসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৭৯ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।

পার্বতীপুর ডিপো থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কম্পানির মাধ্যমে ট্যাংক-লরিযোগে রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে সেচ কার্যক্রম, কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রংপুর বিভাগীয় ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল সরবরাহের ফলে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে। এতে পরিবহন ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি ট্যাংকলরি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে।

দিনাজপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল বলেন, কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলে সময়মতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে কৃষকরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরো গতিশীল হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কৃষি, পরিবহন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পটিয়ার শিশু জায়ান হত্যা : আদালতে প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ার শিশু জায়ান হত্যা : আদালতে প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
শিশু জায়ান। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়ার আলোচিত পাঁচ বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ জায়ান আবরার অপহরণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহা (১৯) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. শাখাওয়াত হোসেন তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পটিয়া থানা পুলিশ জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, অপহরণের নাটক সাজানো এবং মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৬ জুন দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়ান। পরে পরিবারের শয়নকক্ষ থেকে হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেখানে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ এবং পরিবারের একটি মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে ঘটনাটি অপহরণ হিসেবে মনে হলেও তদন্তে হত্যার বিষয়টি সামনে আসে।

পুলিশের ভাষ্য, চিরকুটের হাতের লেখা, প্রযুক্তিগত তথ্য, স্থানীয় সূত্র এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু জায়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার নামে বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন এবং স্থানীয়দের অনুসন্ধান কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন, যাতে তাদের প্রতি সন্দেহ সৃষ্টি না হয়।

নিহতের এক স্বজন বলেন, ‘যারা আমাদের সঙ্গে থেকে জায়ানকে খুঁজছিল, তারাই তাকে হত্যা করেছে—এটা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

নিহতের মামা জিসান বলেন, ‘জায়ান ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র আশা-ভরসা। টাকার লোভে একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা ট্রাইব্যুনালে বিচার এবং হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুততম সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।

এর আগে গত বুধবার চট্টগ্রামের আদালতে প্রধান আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহা, তার বাবা মো. সাইফুদ্দিন এবং মা শাহনুর আক্তারকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত নিহার তিন দিনের এবং তার বাবা-মায়ের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।