সেন্টমার্টিন ছোট্ট একটি দ্বীপ, আর সেই দ্বীপেই যেন ৪ হাজার কুকুরের রাজত্ব। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র আট বর্গকিলোমিটারের এই প্রবাল দ্বীপে প্রায় চার হাজার কুকুরের বসবাস। পর্যটন মৌসুমে হোটেল-রেস্তোরাঁর উচ্ছিষ্ট খাবারে তাদের দিন চললেও মৌসুম শেষে পর্যটক চলে গেলে দেখা দেয় তীব্র খাদ্যসংকট। অতীতে এই সংকটে আড়াই হাজারের বেশি কুকুর মারা যাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে নিয়মিত খাবার পেয়ে টিকে আছে হাজারো ক্ষুধার্ত কুকুর।
স্থানীয়রা জানান, পর্যটন মৌসুমে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে ফেলে দেওয়া খাবারই ভবঘুরে কুকুরগুলোর প্রধান খাদ্য। কিন্তু মৌসুম শেষ হলে খাবারের সেই উৎস বন্ধ হয়ে যায়। তখন অনেক কুকুর দিনের পর দিন না খেয়ে থাকে। খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসায় মানুষের সঙ্গে তাদের সংঘাতও বাড়ে।
তাদের ভাষ্য, অতীতে খাদ্যসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। সে সময় আড়াই হাজারের বেশি কুকুর মারা যায়। এমনকি বেঁচে থাকার জন্য কিছু কুকুর মৃত কুকুরের দেহ খেয়েছে বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা। ক্ষুধার্ত কুকুরের কারণে শিশুদের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। জেলেরা মাছ ধরতে গেলে কুকুরের উপদ্রবে পড়তেন, এমনকি সৈকতে চলাচলও অনেক সময় কঠিন হয়ে উঠেছিল।
জানা গেছে, ২০২২ সালে প্রশাসন ৩৬টি কুকুর দ্বীপের বাইরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে পরিবেশবাদীদের আপত্তির মুখে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর থেকে কুকুরের সংখ্যা আরো বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
আরো পড়ুন
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ভিনিসিয়ুসের
এ অবস্থায় ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সংগঠন ফাইন্ডিং হোপ। সংগঠনটির অর্থায়নে বর্তমানে স্থানীয় চারজন স্বেচ্ছাসেবক প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পরপর প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার কুকুরকে খাবার দিচ্ছেন।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, প্রতিবার প্রায় সাড়ে পাঁচ বস্তা চাল, ডিম, সবজি, তেল ও মসলা দিয়ে বড় পাতিলে খিচুড়ি রান্না করা হয়। এরপর দ্বীপের বিভিন্ন নির্ধারিত স্থানে সেই খাবার বিতরণ করা হয়, যাতে যত বেশি সম্ভব কুকুর খাবার পায়।
তারা আরো জানান, নিয়মিত খাবার সরবরাহ শুরু হওয়ার পর কুকুরের আক্রমণের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তাদের ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু খাদ্যসংকটে থাকা প্রাণীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা নয়, একই সঙ্গে মানুষ ও কুকুরের মধ্যে সংঘাতও কমিয়ে আনা।