• ই-পেপার

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি : বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখতে চাই

পটিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় নারী নিহত, আহত ১

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় নারী নিহত, আহত ১
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের পটিয়ায় রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় নুর নাহার (৫৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো এক নারী।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে পটিয়া পৌর সদরের বাহুলী শ্রীমাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নুর নাহার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ালক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাজুয়ারঘোনা এলাকার মো. মালেকের স্ত্রী। আহত রাশেদা বেগম (৬৫) একই গ্রামের সমিউদ্দিনের স্ত্রী।

পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নুর নাহার ও রাশেদা বেগম বাহুলী এলাকার একটি কৃষিজমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছিলেন। দুপুরে খাবার খেতে যাওয়ার সময় রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নুর নাহারের মৃত্যু হয়। অপরদিকে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রাশেদা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা এস এম রেজা রিপন বলেন, ট্রেনের বিকট শব্দ ও মানুষের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একজন নারী মারা গেছেন এবং আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করা হয়।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মুনতাহিনা জানান, আহত রাশেদা বেগমের মাথার বাম পাশে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং রক্ত জমাট বেঁধেছে। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।’

রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক অসীম চন্দ্র ধর বলেন, ‘রেললাইন পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সবদিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাহুলী শ্রীমাই ব্রিজ এলাকায় নিরাপদ রেলপারাপারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে মানুষ রেললাইন অতিক্রম করে। এ কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ভবিষ্যতে প্রাণহানি এড়াতে সেখানে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নারায়ণগঞ্জে আ. লীগের ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১২

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে আ. লীগের ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১২
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৩০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৮০-৯০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহ আলম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩) এর ৬/১০/১১/১২ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক ইউটার্ন এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা গোপনে জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং দেশের অখণ্ডতা, সংহতি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি উসকানিমূলক পোস্টার জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামলার অন্যান্য আসামিরা পালিয়ে যান।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. সোহাগ (১৯), আনিস সরকার (১৮), মো. সাব্বির হোসেন (২০), মো. আবির হোসেন (২৭), তন্ময় (১৮), ওয়ালিদ (১৮), মাহফুজ আলম (১৮), আবিদ (১৮), ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন (১৮), তাওহিদ ইসলাম (১৮), মো. রিয়াদ (১৮) ও মো. সোহেল (১৯)।

মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ড, দনিয়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাসরিফ আল নোমান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শিব্বির, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজু এবং থানা তাঁতি লীগের সভাপতি লিটন ওরফে গুজা লিটনসহ আরো অনেকে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান চলমান থাকবে।

শাহ আমানত সেতু

উল্টো পথে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য

বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
উল্টো পথে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য
ছবি : কালের কণ্ঠ

সেতুতে এমনিতেই দুর্ঘটনার শঙ্কা বেশি। তার ওপর উল্টো পথে অটোরিকশার দাপট। ট্রাফিক আইন অমান্য করে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার শাহ আমানত সেতুতে উল্টো পথে অবাধে চলছে এসব যান। এতে দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকা থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত বিপরীতমুখী লেনে চলছে ইজি বাইকসহ হালকা যান। এ নিয়ে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের অভিযোগ, উল্টো পথে চলাচলকারী অটোরিকশা প্রায়ই মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। অনেক সময় অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও ইতোমধ্যে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাদের।

নগরীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের অভাবে চালকদের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে।

নিয়মিত মোটরসাইকেলে যাতায়াতকারী সৌরভ দাস বলেন, শাহ আমানত সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কে উল্টো পথে যান চলাচল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে সেখানে। কিছুদিন আগে সেতুতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা ও তার ছেলে। আমরা চাই না এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর ঘটুক। তাই আইন অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, শাহ আমানত সেতু এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত অভিযান, সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি বাড়াতে হবে। আইন অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে উল্টো পথে যান চলাচল অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ আবু সাঈদ বাকার বলেন, শাহ আমানত সেতুতে উল্টো পথে যান চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন রয়েছে। তবে অনেক চালক ফাঁকি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করেন। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও অন্যান্য আইনি  ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে ছোট ভাইকে হারিয়ে বোনের আহাজারি

আমার বাবাকে সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে হবে

ফরিদপুর প্রতিনিধি
আমার বাবাকে সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে হবে
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামে নিহত কলেজছাত্র সুমন শেখের বড় বোন সরজনার আহাজারি। ছবি : কালের কণ্ঠ।

‘আমার তিন বছরের ছোট ভাইটা আমার চোখের সামনে না থাকলেও আমি বেঁচে আছি। অথচ আজ আমার বাবাকে নিজের সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে হবে। এর চেয়ে কষ্টের দৃশ্য আর কী হতে পারে! আমার ভাইয়ের ডিগ্রি পরীক্ষা দেওয়া আর হলো না। বাবা একজন কৃষক, কিন্তু কত কষ্ট করে আমাদের লেখাপড়া করিয়েছেন। আমার ছোট ভাইটার সব স্বপ্ন শেষ করে দিল ওরা।’ কান্নায় বারবার ভেঙে পড়ছিলেন সুমন শেখের (২৪) ছোট বোন সরজনা (২৭)। কথা বলতে বলতে কখনো মাটিতে বসে পড়ছেন, কখনো স্বজনদের জড়িয়ে ধরে বিলাপ করছেন। তাঁর আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

আজ শনিবার দুপুর থেকে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। উঠানজুড়ে স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের ভিড়। কেউ পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ নীরবে চোখ মুছছেন। বাড়িজুড়ে শুধু আহাজারি আর কান্নার শব্দ।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে ধারালো অস্ত্রের হামলায় নিহত হন কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন শেখ। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের মা শেফালী বেগম বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে বিলাপ করতে করতে বলছেন, ‘আমার সুমনকে ফিরিয়ে দাও। আমার ছোট ছেলেটাকে আমি আর একবার দেখতে চাই।’ স্বজনরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করলেও তাঁর কান্না থামানো যাচ্ছিল না।

অন্যদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন সত্তরোর্ধ্ব বাবা শেখ আলাউদ্দিন (৭২)। বয়সের ভার ও অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি কোনো কথাই ঠিকমতো বলতে পারছিলেন না।

শুধু একবার ছেলের নাম ধরে ডাকছেন, আবার নির্বাক হয়ে বসে থাকছেন। স্বজনরা তাঁকে ধরে রাখলেও তিনি বারবার বলছিলেন, “আমার সুমন কোথায়?”

এলাকাবাসী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ আলাউদ্দিন একজন সাধারণ কৃষক। অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হতে দেননি। কঠোর পরিশ্রম করে দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে মানুষ করার চেষ্টা করেছেন। সুমন ছিল দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট। পরিবারের সবার আদরের সন্তান ছিল সে। বড় ভাই-বোনদের মতো সেও উচ্চশিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখত। সামনে তার ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ছিল। ইতিমধ্যে পরীক্ষার ফরমও পূরণ করেছিল। কিন্তু পরীক্ষার হলের বদলে আজ তাকে যেতে হচ্ছে চিরনিদ্রার ঠিকানায়।

বড় বোন সরজনা বলেন, ‘আমার ভাই কারো ক্ষতি করেনি। ও শুধু পড়াশোনা করত। আমাদের বাবা কৃষক হলেও আমাদের শিক্ষিত করার জন্য জীবনের সব কষ্ট সহ্য করেছেন। ভাইটাও বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ওর সেই স্বপ্ন শেষ করে দেওয়া হলো। আমি শুধু আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।’

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সুমন ছিল ভদ্র, শান্ত স্বভাবের ও সবার সঙ্গে মিশুক। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারকেও সময় দিত। তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না গ্রামের মানুষও।

এদিকে নিহতের লাশ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ গ্রাম বড়ভাগে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরে স্থানীয় বড়ভাগ ঈদগাহ ময়দানে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। শেষবারের মতো সুমনকে দেখতে সকাল থেকেই গ্রামের মানুষ তাঁর বাড়িতে ভিড় করছেন।

একদিকে উঠানে পড়ে আছে সুমনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, অন্যদিকে ঘরের ভেতরে বুক চাপড়ে কাঁদছেন মা। বৃদ্ধ বাবা নির্বাক, ভাই-বোনেরা শোকে স্তব্ধ। যে ঘরে কয়েকদিন আগেও ডিগ্রি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে পড়ালেখা চলছিল, সেই ঘরেই আজ শুধুই কান্নার শব্দ। এক কৃষক পরিবারের বহু বছরের স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে গেল।