রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার বরুণাছড়ি এলাকায় সংঘটিত গৃহবধূ হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রাঙামাটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, কোতয়ালী থানার ওসি মো. জসীম উদ্দিন, বরকল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
গ্রেপ্তাররা হলো— সোহাগ (১৭) ও ওমর আলী (১৯)। তারা উভয়েই বরনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে একজন নিহত আয়েশা বেগমের আপন ভাতিজা, অন্যজন দুঃসম্পর্কের নাতি। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের পর লুট হওয়া নগদ ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২১ জুন বিকেলে বরকল থানাধীন ১ নম্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বরনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকায় নিজ বসতঘরে নিহত হন গৃহবধূ আয়েশা বেগম (৪৯)। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ইট ও একটি হাতুড়ি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আশরাফ আলী বাদী হয়ে বরকল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পর রাঙামাটি জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে বরকল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৪ জুন সকালে মামলার সংশ্লিষ্ট দুই আসামিকে তাদের নিজ নিজবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আরো জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগের বাড়ির হাঁস-মুরগির ঘরের পাশে মাটির নিচে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১ লাখ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ওমর আলীর বাড়ির দক্ষিণ পাশের কলাবাগানের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে আরো ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার অর্থের মোট পরিমাণ ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, যা হত্যাকাণ্ডের সময় লুট করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ‘ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’






