• ই-পেপার

লাকসাম

সংসদে বসে সরাসরি বাজেট অধিবেশন দেখবেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

কুষ্টিয়ায় অস্ত্র-গুলিসহ আটক যুবক

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় অস্ত্র-গুলিসহ আটক যুবক
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুষ্টিয়ায় একটি রিভলভার ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ ফরিদ হোসেন নামে এক যুবককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের কাবিল মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আটক হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের নদীরকুল মাঠপাড়া এলাকার মৃত বুড়ো মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে কাবিল মোড় এলাকায় তার চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে একটি রিভলভার ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

স্থানীয়দের দাবি, ফরিদ কথিত শিপন বাহিনী’র একজন সক্রিয় সদস্য। তার কাছে আরো অস্ত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তারা। এ বিষয়ে তদন্ত করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘একটি রিভলভার ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ একজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আটক ব্যক্তিকে পিটুনির কারণে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শরীয়তপুরে চাঁদাবাজি-লুটপাটের মামলায় ছেলেসহ বিএনপি নেতা কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক
শরীয়তপুরে চাঁদাবাজি-লুটপাটের মামলায় ছেলেসহ বিএনপি নেতা কারাগারে

শরীয়তপুরের জাজিরায় চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবরের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তারের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

আদালত ও মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা ছোবহান মাদবরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবর। চাঁদা না দেওয়ায় গত বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে কাজীরহাট এলাকার ছোবহান মাদবরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট, নগদ অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। এসময় দোকানঘর দখল করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। পরে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করা হলে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরে গত এপ্রিল থেকে তারা হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবর। আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

মামলার বাদী সোবহান মাদবর বলেন, আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল বিএনপি নেতা সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর লুটপাট চালিয়ে তারা দখলে নেয়। আমি ন্যায্য বিচারের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি মহামান্য আদালতের কাছে আশা রাখি যাতে আমি ন্যায় বিচার পাই।


বাদী পক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া বলেন, ‘আমার মক্কেলের কাছে চাঁদাদাবি করেছিলো বিবাদীপক্ষ। পরে আমার মক্কেল আদালতের দ্বারস্থ হলে মঙ্গলবার বিচারক দুজনের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। আমি আশা রাখি আদালতে আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার বলেন, ‘কেউ যদি কোনো রকম অনৈতিক কাজে জড়িত হয়ে থাকেন তাহলে তদন্ত পূর্বক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে শিশুসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এসময় অভিযুক্ত যুবককে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জেরে তিনজনকে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত এবং নিহতরা কেউ লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা নন। মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। 

বিস্তারিত আসছে...

জুলাই শহীদ বোরহানের মরদেহ উত্তোলনে পরিবারের আপত্তি

ফেনী প্রতিনিধি
জুলাই শহীদ বোরহানের মরদেহ উত্তোলনে পরিবারের আপত্তি
সংগৃহীত ছবি

ফেনীর সোনাগাজীতে জুলাই শহীদ আবদুল গণি বোরহানের মরদেহ উত্তোলনে পরিবারের সদস্যদের আপত্তিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করতে গিয়ে খালি হাতে ফিরলেন পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে ঢাকা রমনা থানার এসআই মো. হানিফের নেতৃত্বে পুলিশ দল ও ফেনী জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোনাগাজী সহকারী কমিশনার (ভূমি) বোরহানের লাশ উত্তোলন করতে কবরস্থানে যান। সেখানে তার ভাই আমানত উল্যাহ মরদেহ উত্তোলনে আপত্তি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেন। 

আমানত উল্যাহ জানান, দুই বছর পূর্বে বোরহানের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার দেহাবশেষ উত্তোলন করলে ধর্মীয়, সামাজিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক অনুভূতিতে আঘাত আসবে। তাই তিনি ফেনী জেলা প্রশাসকের নিকটও মরদেহ উত্তোলন না করতে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘আদালতের আদেশে ফেনী জেলা প্রশাসকের মনোনীত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কবর থেকে বোরহানের মরদেহ তুলতে যাই। সেখানে তার পরিবারের সদস্যরা আপত্তি জানালে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়ে মরদেহ উত্তোলন না করে ফিরে আসি।’

নিহত বোরহানের বড় ভাই আমানত উল্যাহ জানান, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ঢাকা বাংলামোটর শাখার আইটি কর্মকর্তা ছিলেন বোরহান। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ২৪ সালের ৪ আগস্ট অফিসের কাজ শেষ করে বাংলামোটর জামে মসজিদের সামনে বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বোরহান।

তিনি আরো জানান, উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ  ৫ আগস্ট সোমবার রাতে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা না করলেও রমনা থানা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মৃত্যুর ১১ মাস পূর্বে তিনি সোনাগাজী কামিল মাদরাসার ফাজিল শ্রেণির ছাত্রী ও চরচান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বড়ধলী গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা আক্তারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বোরহান।

সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ছাড়াইতকান্দি গ্রামের মৃত মাস্টার আহসান উল্যাহর ছেলে আবদুল গণি বোরহান। ছোটবেলা থেকে মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেন তিনি।