• ই-পেপার

কালীগঞ্জে ইয়াবাসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার

বাউফলে ৪০ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ বন্ধ করল জনতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
বাউফলে ৪০ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ বন্ধ করল জনতা
ছবি: কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও দরপত্র অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ না করার অভিযোগে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা। কাজ বন্ধ করার আধাঘন্টা ব্যবধানে প্রভাব খাটিয়ে ওই কাজ চালু করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের গালমন্দ ও হুমকি দেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে  উপজেলার কালাইয়া বন্দরের সুন্দরী  সিনেমা হলের সামনের সড়কের নির্মাণ কাজে এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের  অভিযোগ, কালাইয়া বন্দরের ল্যাংড়া মুন্সীর পুল থেকে  পূর্ব দিকে সুন্দরী সিনেমা হলের সামনের সড়কের ৯৮ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করেন পটুয়াখালী সড়ক বিভাগ।  আজ বৃহস্পতিবার  সকাল থেকে  সড়কের সিসি ঢালাই কাজ শুরু করেন ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকেরা।  সড়কের সিসি ঢালাই কাজে নিম্নমানের লবণাক্ত  সিলেকশন বালু, ঢালাই ৩ ইঞ্চির কম ও সড়কের প্রস্থ ১৮ ফুটের কম সহ  নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম করেন।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী কাজের মান তদারকির দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন এবং জনসম্মুখে নির্মাণ কাজের দরপত্র  মেনে কাজ করার অনুরোধ করেন। দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিষয়টি এড়িয়ে যায়।  এতে ক্ষুব্ধ হয়ে  নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজ বন্ধের আধা ঘন্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ  প্রভাব খাটিয়ে কাজ শুরু করতে শ্রমিকদের নির্দেশ দেন ফাহাদ। পরে শ্রমিকরা সেই নির্মাণ মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়েই কাজ শুরু করেন। 

জানা গেছে , ৯৮ মিটার দৈর্ঘ্যে ও ১৮ ফুট প্রস্থের আরসিসি সড়ক নির্মাণে ব্যয়  ধরা হয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নির্মাণ কাজটির দায়িত্ব পান মেসার্স কহিনুর এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। 

উত্তম নামে একজন সাব ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। অনিয়মের কারণে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দিলে বিষয়টি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদকে জানানো হয়। ফাহাদ আধাঘন্টা ব্যবধানে ঘটনাস্থলে এসে ক্ষমতার প্রভাব ঘাটিয়ে  পুনরায় কাজ চালু করার নির্দেশ দেন। পরে শ্রমিকেরা কাজ শুরু করেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ পঞ্চায়েত বলেন, সড়ক নির্মাণ কাজে সিলেকশন বালু বা সিলেট চান বালুর পরিবর্তে ময়লাযুক্ত চট্টগ্রামের লবণাক্ত বালু ব্যবহার করে। ৩ ইঞ্চি পুরুত্বের  সিসি ঢালাই দেয়ার কথা থাকলে দেড় ইঞ্চি পুরুত্বের ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীকে বিষয়টি দেখার জন্য বললে, তিনি না দেখার ভান করেন। পরে এলাকাবাসি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ এসে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন, শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন।'

স্থানীয় মো. মনজু বলেন, ‘দরপত্র অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে না। ঠিকাদার মনগড়াভাবে কাজ করছেন। নির্মাণ কাজের শিডিউল দেখতে চাইলেও তিনি দেননি। কাজে দুর্নীতি অনিয়ম করার জন্যই শিডিউল হাইড রেখে মনগড়া ভাবে কাজ করা হচ্ছে। কাজে বাধা দিলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রভাব ঘাটিয়ে ঠিকাদার অনিয়মের মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।’

এদিকে,  নির্মাণ কাজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী এম এ হান্নান ও এইচএম বাবলুর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের  অশ্লীন ভাষায় গালাগাল করে এবং হুমকি দেন। 

এ বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, ‘কাজ বন্ধ কিংবা চালু করা কোনো ঘটনার সঙ্গেই আমি জড়িত না। সাংবাদিকদের গালাগাল কিংবা হুমকীর অভিযোগও সত্য না।’

নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ সহাকরী প্রকৌশলী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্মাণ কাজের শিডিউল আমার কার্যালয়ে রয়েছে।’ আর অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।’ 

আর ঠিকাদারের পক্ষে নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা উত্তম বলেন, ‘তিনি শুধু শ্রমিক দিয়ে কাজ করান। মালামল সরবরাহ করেন ঠিকাদার।’

এ বিষয়ে মুঠোফোনে  কহিনুর এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রাশেদুল ইসলাম  বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার সাথে সরাসরি কথা বলবো।’

পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল  বলেন, ‘সড়কের নকশা অনুযায়ী নির্মাণ কাজ হবে। তা কাউকে দেখাতে তো সমস্যা হওয়ার কথা না। লুকোচুরি করে কাজ করার সুযোগ নাই। এ বিষয়টি আমি দেখবো। ’

বগুড়ায় পৃথক স্থান থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ ও নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ায় পৃথক স্থান থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ ও নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত ঘরের থেকে মাজার ভক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) বৃদ্ধ ও স্বামীর ঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে পৃথক স্থান থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন উপজেলার রামনারায়ণপুর গ্রামের দুলাল শেখের স্ত্রী রাহেলা বেগম (৫৫) এবং শেরপুর উপজেলার রণবীরবালা গ্রামের আমিনুল ইসলাম আরমান (৬৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনারায়নপুর গ্রামের নিহত রাহেলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সুস্থ্য করার জন্য অনেক চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্ত রেহানা বেগম সুস্থ্ হয়ে ওঠেননি। এ অবস্থায় রোগযন্ত্রনা সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে রেহানা বেগম স্বামীর ঘরের ভেতর তীরের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ সময় পরিবারের লোকজন কাজের উদ্দ্যেশে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

অপরদিকে, শেরপুর উপজেলার রণবীর বালা গ্রামের আমিনুল ইসলাম আরমান দীর্ঘদিন ধরে মাজার ভক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন পাগল। মাঝে মধ্যেই সে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাড়িতে ফিরে আনেন। তবে বেশীর ভাগ সময় সে মাজার ভক্তদের বাড়িতে অবস্থান করতেন। তারই ধারবাহিকতায় ১২ জুন বিকেল ৩টার দিকে আমিনুল ইসলাম আরমান নিজ বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার ১০টার দিকে ধুনট উপজেলার চিকাশি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘরের ভেতর আমিনুল ইসলাম আরমানের মৃতদেহ দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাভারে ফুতপাত দখলমুক্ত করলো উপজেলা প্রশাসন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে ফুতপাত দখলমুক্ত করলো উপজেলা প্রশাসন
ছবি: কালের কণ্ঠ

জনগনের চাহিদার ভিত্তিতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদসহ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাভারে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহামামদ সালাউদ্দিন বাবুর নির্দেশে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয়পাশে হকার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার মডেল মসজিদের সামনে থেকে শুরু করে সাভার মাশরুম সেন্টার এবং সাভার নিউমার্কেট থেকে পাকিজা পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ডের উভয় পাশে হকার উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।

এসময় মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে বসানো অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ভাসমান কাঠের চৌকিসহ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারি মালামাল পৌরসভার গাড়িতে ভরে নিয়ে যায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। তবে অভিযানের খবর পেয়ে হকাররা আগে থেকেই তাদের মালামাল নিজ দায়িত্বে সড়িয়ে নেন।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাধারণ জনতা, সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে সাভার মডেল মসজিদ থেকে সাভার নিউ মার্কেট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাভার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। রাস্তা এবং ফুটপাতে যারা অবৈধ দখলদার আছে এবং যেসব হকাররা ফুটপাত দখল করে রেখেছে জনগনের ভোগান্তি লাঘবে তাদেরকে আমরা সরিয়ে দিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাভারের সর্বস্তরের জনগনের চাহিদা ছিলো তারা নিরাপদে ফুটপাত দিয়ে হাটবে। কিন্তু এই অবৈধ দখলদার এবং হকারদের কারনে সাভারের লোকজন নিরাপদে এবং সুন্দরভাবে ফুটপাত দিয়ে হাটতে পারতনা। তাই জনগনের চাহিদার পূরনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’

উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর ব্যক্তিগত সহকারী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা জানেন নির্বাচনের সময় আমাদের ঢাকা-১৯ এর সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ভাই জনগনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই হকার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছিলেন। পরবর্তীতে দেখা গেলো ঈদের আগে হকাররা ঈদ উপলক্ষ্যে কয়েকদিন ফুটপাতের বসার জন্য দাবি করে। কিন্তু ঈদ চলে যাওয়ার পরও অনেকদিন হয়ে গেছে তারা এখনও নিজ থেকে সড়ে যাচ্ছেনা। তাদের কারনে জনগনের হাটাচলায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাই জনগনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য বাবু ভাইয়ের নির্দেশনায় প্রশাসনের সহযোগীতায় আজকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি। ভবিষ্যতেও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবো।’

অভিযানের সময় থানা পুলিশ, জেলা পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

নওগাঁয় সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব ও হেনস্তার অভিযোগ

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁয় সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব ও হেনস্তার অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দেওয়া, হেনস্তা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মান্দা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে পরে আবারও একই ধরনের আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১০ জুন নবম শ্রেণির ক্লাসে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সামনে তার পথরোধ করে হেনস্তা করা হয়। পরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, গত বুধবার (১৭ জুন) বিদ্যালয়ের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে জুতাপেটা করার চেষ্টা করেন। অন্য শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর তিনি মান্দা থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ করার পর থেকে মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকাবাসী সমবেত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি তাতে সাড়া না দেওয়ায় ভুক্তভোগী শিক্ষক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।’

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ‘বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’