• ই-পেপার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হজযাত্রীর হারানো লাগেজ নিয়ে মারামারি, আহত ১৫

মাদারীপুর

রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৬

মাদারীপুর প্রতিনিধি
রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৬
সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এসব রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। 

রোগীদের অভিযোগ, শহরের আরএফসি রেস্টুরেন্টের অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

অসুস্থ রোগীরা হলেন– মাদারীপুর শহরের ১ নম্বর শকুনি এলাকার হাফসা আক্তার (১৮), জান্নাত (১২), ফাতেমা বেগম (১৪), জেসমনি আক্তার (৩৫), পুরানবাজার এলাকার কুতুবউদ্দিন (৪৫), রোকসানা বেগম (৪০), নাবিল মাহামুদ (১১), পাঁচখোলা এলাকার রাবিক হোসেন (২২), তালতলা এলাকার ইব্রাহীম (১৮), ঘটমাঝি এলাকার তানিয়া (২৩), শরীফবাড়ি এলাকার লুবনা আক্তার (২৫), পূর্ব রাস্তি এলাকার আমির হাওলাদার (৯), চর কালিকাপুর এলাকার শাওন ঘরামী (১৮) ও শরীয়তপুরের মাতালমার ব্রিজ এলাকার সাইফ হোসেন (১৫)। এ ছাড়াও শহরের কুলপদ্বী এলাকার সুমাইয়া আক্তার (১৭) ও মিম আক্তারকে (১৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরানবাজার এলাকার অবস্থিত আরএফসি রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে শুক্রবার বিকেল থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন ক্রেতা। পরে রাত ৯টা থেকে পৌর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসতে থাকেন। শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন রোগী। 

তাদের অভিযোগ, আরএফসি রেস্টুরেন্টের অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

অসুস্থ শিশু আমির হাওলাদারের মা কবিতা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে আরএফসি থেকে নান রুটি ও গ্রিল খেয়েছে। তারপর থেকেই খুব অসুস্থ। ১০ বার বমি করেছে। অনেকবার টয়লেটে গেছে। ছেলেটার অবস্থা ভালো না। ডাক্তার চিকিৎসা দিচ্ছে। বলছে, সুস্থ হতে সময় লাগবে।’

তালতলা এলাকার রকিবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চারজনই গতকাল আরএফসিতে খাবার খেয়েছিল। চারজন ডায়রিয়াতে আক্রান্ত। তারপর থেকে বমি আর পাতলা পায়খানা। সবাইকে রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আদালত ও অধিদপ্তরের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে আরএফসি রেস্টুরেন্টের মালিক রাহাত ব্যাপারী বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজে হাসপাতালে ছুটে গেছি। তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নেব। আমার রেস্টুরেন্টের খাবারে কোন ত্রুটি ছিল কিনা জানি না। তবে আমরা এরপর থেকে আরো সতর্ক হয়ে ক্রেতাদের খাবার পরিবেশন করব।

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার বলেন, ‘ফুড পয়জনিং নিয়ে হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে যারা ভর্তি হয়েছে, তারা বেশির ভাগই রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর মাদারীপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অসুস্থ রোগীরা এখনো আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারা অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তারপরেও বিষয়টি আমরা নজরদারি করব। এ বিষয়ে আমরা ওই রেস্টুরেন্ট পরিদর্শনে যাব। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ট্রাক্টরের ধাক্কায় শ্রী শিবা রাণী (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে পৌর শহরের কুয়েতি মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিবা রাণী উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের গোবিলাল রায়ের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সকালে কোচিং ক্লাস শেষে বাইসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে কুয়েতি মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক্টর শিবা রাণীর সাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে ট্রাক্টরসহ চালককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

পরে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালক ও ট্রাক্টরটি হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতক ট্রাক্টর ও এর চালককে আটক করে থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সোমেশ্বরী-মহারশিতে পানি বেড়েছে, ঝিনাইগাতী বাজার প্লাবিত

শেরপুর প্রতিনিধি
সোমেশ্বরী-মহারশিতে পানি বেড়েছে, ঝিনাইগাতী বাজার প্লাবিত
ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে শেরপুরের ঝিনাইগাতী সদর বাজার প্লাবিত হয়েছে। শনিবার তোলা। ছবি: সংগৃহীত

ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের সীমান্ত এলাকার নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। মহারশি নদীর তীর উপচে পড়া পানিতে জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর বাজার প্লাবিত হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমেশ্বরী নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় তা ঢুকে পড়েছে ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের আয়নাপুর বাজারে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। 

ঢলের তোড়ে নালিতাবাড়ীতে চেল্লাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শেরপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় জেলার নালিতাবাড়ীতে ৩৫ মিলিমিটার, সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও পয়েন্টে সর্বোচ্চ ১৮০ মিলিমিটার এবং শেরপুর সদরে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় চেল্লাখালি নদী নালিতাবাড়ীর বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার দুই মিটার ওপর দিয়ে ২৩ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। 

একই সময় ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদীতে পানি ২১ দশমিক ৫০ মিটার এবং শ্রীবরদীতে সোমেশ্বরী নদীতে ২৩ দশমিক ৬৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।

শেরপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোসা. জিয়াসমীন খাতুন রুনা বলেন, ‘উজান থেকে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীগুলোতে পানি বেড়েছে। আমরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। নতৃন করে বৃষ্টিপাত না হলে ঢলের পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে আশা করছি।’

ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হলেন সেই শিবির নেতা

অনলাইন ডেস্ক
ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হলেন সেই শিবির নেতা

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসামে উদ্ধার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ দাবি করছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধান আসামি। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন।

অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পরে আজ তাকে বহিষ্কার করা হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জেরে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।