• ই-পেপার

হিলি সীমান্তে ৫ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

মাটি অস্বাভাবিক গরম—কারণ নিয়ে রহস্য, পানি ঢালছে ফায়ার সার্ভিস

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
মাটি অস্বাভাবিক গরম—কারণ নিয়ে রহস্য, পানি ঢালছে ফায়ার সার্ভিস

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মাটি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথ সংলগ্ন প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে মাটির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রহস্যজনক এ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তারা মাটির নিচে গর্ত করে পানি ঢেলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে বারবার পানি ঢালার পরও তাপমাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে প্রথমে ওই স্থানে মাটি গরম থাকার বিষয়টি নজরে আসে। পরে ধীরে ধীরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো দুর্ঘটনা বা ঝুঁকির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

8

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করেছি। রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যুৎসংক্রান্ত কোনো ত্রুটির প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ লিকেজ বা লাইনের কোনো সমস্যার আলামত পাওয়া যায়নি। তবু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।’

গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এ বি এম বাসার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল মাটির নিচে কোনো কারণে তাপ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পানি প্রয়োগের পরও তাপমাত্রা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মাটির গভীর অংশ থেকেও তাপ অনুভূত হচ্ছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রয়োজন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান বলেন, ঘটনার উৎস শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিষয়টির কারণ অনুসন্ধান করা হবে।

রংপুর মেডিক্যালে রোগীর স্বজনদের জিম্মি করে ভাড়া বাণিজ্য, আটক ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুর মেডিক্যালে রোগীর স্বজনদের জিম্মি করে ভাড়া বাণিজ্য, আটক ৭
সংগৃহীত ছবি

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে কেন্দ্র করে রোগী ও তাদের স্বজনদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া আদায় এবং নির্দিষ্ট সার্ভিস ব্যবহার করতে বাধ্য করার অভিযোগে একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে হাসপাতালের প্রধান ফটক ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নগরীর উত্তর ফতেহপুর এলাকার ওমেদ আলী (২৬), ধাপ কেল্লাবন্দ এলাকার রানা মিয়া (৩৪), কাউনিয়া উপজেলার রাজু মিয়া (৪০), বখতিয়ারপুর এলাকার বিপ্লব মিয়া (২৪), কদমতলা এলাকার ফরহাদ হোসেন (৪২), চিকলী ভাটা এলাকার আরাফাত হোসেন আপলে (২২) এবং কেল্লাবন্দ এলাকার মারুফ হোসেন (২৬)।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। রোগী বা তাদের স্বজনরা অন্য কোনো অ্যাম্বুল্যান্স নিতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই হাসপাতালে প্রতিদিন হাজারো রোগী আসেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যেত।

অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবি পুলিশ জানায়, হাসপাতাল এলাকায় দালালি, চাঁদাবাজি ও ভাড়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তি জানান, ‘চিকিৎসা সেবার মতো মানবিক খাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রোগীর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কেউ যাতে ব্যবসা বা অনিয়ম করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালি, চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং জনভোগান্তি সৃষ্টিকারী যে কোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে কেউ পার পাবে না।’ 

মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ড্রেজার জব্দের পাশাপাশি ৩ জনের কারাদণ্ড

ছবি : কালের কণ্ঠ
মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ড্রেজার জব্দের পাশাপাশি ৩ জনের কারাদণ্ড
ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় তিনটি ড্রেজার মেশিন জব্দ এবং তিনজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) সকালে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার মধ্য চারভাঙা গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেন সরকারের ছেলে আশরাফুল আলম সরকার (৩৮), চর সাহেবগঞ্জ বাজার এলাকার দাদান মিয়া মোল্লার ছেলে কুদ্দুস আলী (৩২) এবং আলী হোসেনের ছেলে আক্কাস ফকির (৪৫)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত আশরাফুল আলম সরকারকে তিন মাস এবং কুদ্দুস আলী ও আক্কাস ফকিরকে এক মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউএনও অমিত রায় ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় তিনটি ড্রেজার মেশিন ও তিনজনকে আটক করা হয়।

জব্দ করা ড্রেজার মেশিনগুলো নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও গ্রাম পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে নদী তীরবর্তী চরে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এতে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাতের আঁধারে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ইউএনও অমিত রায় বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

পানিতে ডুবে পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পানিতে ডুবে পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুকুরের পানিতে ডুবে সাইরা মনি নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের শৈলকূপা গ্রামের পরানপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইরা মনি (৫) স্থানীয় আবুল বশর মেম্বার বাড়ির আব্দুল হালিমের কন্যা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলছিল শিশু সাইরা মনি। খেলার একপর্যায়ে সে অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে সাইরা মনির মরদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন স্বজনরা।

নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি সদস্য) মো. নাসির উদ্দিন জানান, শিশুটি সবার অগোচরে পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। পরে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।