• ই-পেপার

মাভাবিপ্রবিতে ‘এআই ইন টেক্সটাইল অ্যান্ড ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি’ সেমিনার

২ দিন ধরে নিখোঁজ পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী রুহুল

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি
২ দিন ধরে নিখোঁজ পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী রুহুল
রুহুল আমিন

গত দুই দিন ধরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রুহুল আমিন মোস্তফা (২৪) নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে তার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিন কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন) ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গত ১১ জুন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এর পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং বর্তমানে কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।

নিখোঁজ রুহুল আমিনের উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং গায়ের রং ফরসা। নিখোঁজের সময় তার পরনে সাদা গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরিহিত ছিল। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কারণে তিনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন।

রুহুল আমিনের বাবা মো. রহিম ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং মানসিকভাবেও কিছুটা ভেঙে পড়েছিল। গত ১১ জুন সকাল থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু কোনো সন্ধান মেলেনি। একজন বাবা হিসেবে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি আমার ছেলের খোঁজ পেয়ে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে আমাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি।’

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার পরপরই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

এদিকে রুহুল আমিনের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করা হচ্ছে।

রুহুল আমিনের সহপাঠীরা জানান, গত ১০ জুন রুহুল আমিনের অনার্স শেষ বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেন। তবে পরীক্ষা শুরুর প্রায় ১০ মিনিট পর হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা ও অস্বস্তি অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। এর পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে পরিবার জানিয়েছে।

ঢাবি আইবিএতে এসিবিএ সনদ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাবি আইবিএতে এসিবিএ সনদ বিতরণ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) পরিচালিত অ্যাডভান্সড সার্টিফিকেট ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসিবিএ) কর্মসূচির ব্যাচ-২১-এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এসিবিএর মডারেটর ড. মো. মহিউদ্দিন এবং ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এমডিপি) সমন্বয়কারী অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম সনদপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পেশাগত জীবনে সফল হতে নেতৃত্বগুণ, সততা ও ধারাবাহিক আত্মোন্নয়নের বিকল্প নেই। তিনি অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহ অংশগ্রহণকারীদের নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দক্ষ ব্যবসায়িক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে মানসম্মত নির্বাহী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় আইবিএর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আইবিএর শিক্ষকমণ্ডলী, বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সনদপ্রাপ্তরা উপস্থিত ছিলেন। সনদ গ্রহণকে ঘিরে পুরো অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। পরে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন নোবিপ্রবির মুরাদ

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন নোবিপ্রবির মুরাদ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইদুল আকবার মুরাদ।

কঠোর পরিশ্রম, ল্যাবরেটরির প্রতি একাগ্রতা আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে একাডেমিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের প্রতিবন্ধকতা যে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, তার অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থী সাইদুল আকবার মুরাদ। স্নাতক পর্যায়ে তুলনামূলক কম সিজিপিএ (CGPA) থাকা সত্ত্বেও সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে তিনি যোগ দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায়। সম্প্রতি দেশটির এমপোরিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি (Emporia State University)-তে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।

সাইদুল আকবার মুরাদ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১১তম ব্যাচ এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ICE) বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নোবিপ্রবিতে শিক্ষা জীবন শেষে মুরাদ পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানকার বিখ্যাত ‘ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া পাহাং’ (University Malaysia Pahang) থেকে ২০২৩ সালে সফলতার সঙ্গে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। একই বছর উচ্চশিক্ষার চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন মিসিসিপি’ (University of Southern Mississippi)-তে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন তিনি।

পিএইচডি চলাকালীন নিজের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে ল্যাবের কঠোর পরিশ্রমকে দেখছেন মুরাদ। তিনি জানান, বাইরের কোনো জরুরি কাজ না থাকলে দিনের সিংহভাগ সময়ই তিনি কাটাতেন গবেষণাগারে। তাঁর এই একাগ্রতার ফলও মেলে দ্রুত। অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কয়েকটি উচ্চমানের আন্তর্জাতিক আর্টিকেল প্রকাশিত হয় তাঁর। মুরাদের এমন কৃতিত্বে অভিভূত হয়ে তাঁর প্রফেসর তাঁকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন, যা পরবর্তীতে তাঁর ক্যারিয়ার গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পিএইচডি চলাকালীন দুটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হন সাইদুল আকবার মুরাদ। একটি, হল অব ফেম (Hall of Fame) : যুক্তরাষ্ট্রে এই স্বীকৃতিকে অত্যন্ত সম্মানজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যটি, গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড (Graduate Research Award): যা প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শেষে মাত্র ২ জনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়, যার মধ্যে একজন ছিলেন মুরাদ।

পিএইচডি সম্পন্ন করার পর মুরাদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকতার প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে একটি ছিল ফ্লোরিডার ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা’ (University of South Florida) এবং অন্যটি কানসাসের ‘এমপোরিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি’।

সার্বিক দিক বিবেচনা করে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়ে ‘এমপোরিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি’র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদের অফারটি গ্রহণ করেন।

সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে সাইদুল আকবার মুরাদ বলেন, ‘একটা সময় অনার্সের কম সিজিপিএ নিয়ে খুব চিন্তায় থাকতাম, আদৌ কোনোদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারব কি না। কিন্তু আমি কখনো আশা ছাড়িনি। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করেছি এবং বাকিটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহ তাঁর অশেষ মেহেরবানিতে আমার জন্য একটি উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ অত্যন্ত খুশি।’

তার এ সাফল্যে তার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নোবিপ্রবির সবাই গর্বিত ও আনন্দিত।

ঢাকা বোর্ডে এইচএসসির চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ, একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বোর্ডে এইচএসসির চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ, একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি
ফাইল ছবি

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। সেই সঙ্গে পরীক্ষা সংক্রান্ত একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডটি। সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনাবলিসহ চূড়ান্ত কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৩১৭টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ৩০৯টি এবং বিদেশে ৮টি কেন্দ্র থাকছে। বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র তালিকার পাশাপাশি কেন্দ্র কোড ও কেন্দ্রের আওতাধীন কলেজের নামসহ কোড এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিবরণও দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত কলেজের অধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অথবা কোনো সিনিয়র অধ্যাপক দায়িত্ব পালন করবেন। সেই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কলেজ থেকে কেন্দ্র ফি নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ঢাকা বোর্ড থেকে অলিখিত উত্তরপত্রসহ গোপনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিনের পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ওএমআরের প্রথম অংশ ডাকযোগে বোর্ডের কম্পিউটার কেন্দ্রে এবং উত্তরপত্রগুলো নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর পাঠাতে হবে বলেও এতে উল্লেখ রয়েছে।

ঢাকা বোর্ডে এইচএসসির চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা ও নির্দেশনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন