• ই-পেপার

ডাক্তারদের জন্য ওষুধ কম্পানির উপঢৌকন গ্রহণ কি জায়েজ?

জাদুবিদ্যার ইতিহাস, বাস্তবতা ও একজন মুমিনের করণীয়

মুফতি ওমর বিন নাছির
জাদুবিদ্যার ইতিহাস, বাস্তবতা ও একজন মুমিনের করণীয়
সংগৃহীত ছবি

মানবসভ্যতার ইতিহাস যত পুরোনো, জাদুবিদ্যা বা কালো জাদুর ইতিহাসও প্রায় ততটাই প্রাচীন। যুগে যুগে মানুষ অলৌকিক শক্তির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। কেউ জাদুবিদ্যার মাধ্যমে মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে, আবার কেউ এ ধরনের রহস্যময় শক্তির ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে। প্রাচীন মিসর, বাবেল, ভারত, গ্রিস কিংবা রোম—প্রায় সব সভ্যতার ইতিহাসেই জাদুবিদ্যার নানা চর্চার উল্লেখ পাওয়া যায়।
ইসলাম এ বিষয়ে একদিকে যেমন বাস্তবতাকে অস্বীকার করেনি, অন্যদিকে জাদুবিদ্যাকে কখনোই গ্রহণযোগ্য বা বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং ইসলাম জাদুবিদ্যার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে মুসলমানদের সতর্ক করেছে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল, দোয়া, জিকির ও কোরআনের মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভের শিক্ষা দিয়েছে।

বনি ইসরাইলের জামানায় জাদুবিদ্যা
জাদুবিদ্যার সম্পর্কে কোরআনে সবচেয়ে বিস্তারিত যে ঘটনার উল্লেখ এসেছে, তা হলো বনি ইসরাইলের একাংশের বিপথগামিতার ঘটনা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা সেই বিষয়ের অনুসরণ করল, যা সুলাইমানের রাজত্বকালে শয়তানরা পাঠ করত। সুলাইমান কুফরি করেননি; বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত...।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১০২)

এই আয়াত থেকে জানা যায়, বনি ইসরাইলের একদল মানুষ আল্লাহর নাজিলকৃত হিদায়াত পরিত্যাগ করে শয়তানদের প্রচারিত জাদুবিদ্যা ও বিভ্রান্তির পথ অনুসরণ করেছিল। তারা মনে করেছিল, জাদুবিদ্যার মাধ্যমে অসাধারণ ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। অথচ এ পথ ছিল ঈমানের জন্য ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক। একই আয়াতে বাবেল নগরীতে প্রেরিত দুই ফেরেশতা হারুত ও মারুতের কথাও এসেছে। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে মানুষকে পরীক্ষা করেছিলেন। তারা কাউকে কিছু শেখানোর আগে স্পষ্টভাবে সতর্ক করতেন, ‘আমরা তো শুধুমাত্র পরীক্ষা স্বরুপ; অতএব তুমি কুফরি কোরো না।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত : ১০২)
কিন্তু সতর্কবার্তা সত্ত্বেও বহু মানুষ জাদুবিদ্যার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং শয়তানের প্ররোচনায় বিভ্রান্তির পথে পা বাড়ায়। 

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর অপচেষ্টা
জাদুবিদ্যার অন্যতম ভয়ংকর ব্যবহার সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা এমন বিষয় শিখত, যার মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা যায়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১০২)
কিন্তু একই আয়াতে আল্লাহ তাআলা একটি গুরুত্বপূর্ণ আকিদাগত সত্যও ঘোষণা করেছেন, ‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা এর দ্বারা কারও কোনো ক্ষতি করতে পারে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১০২)

অতএব একজন মুসলমানের উচিত, এই বিশ্বাস করা যে, জাদুর কোনো শক্তি নেই। কেননা আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া পৃথিবীতে কোনো কিছুই কার্যকর হতে পারে না।

সুলাইমান (আ.)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার
ইতিহাসে কিছু লোক দাবি করেছিল যে, হজরত সুলাইমান (আ.) তাঁর রাজত্ব জাদুবিদ্যার মাধ্যমে পরিচালনা করতেন। কোরআন এ অপবাদ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘সুলাইমান কুফরি করেননি; বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১০২)

এ আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে, নবীদের মুজিজা কখনোই জাদুবিদ্যা নয়। মুজিজা আল্লাহপ্রদত্ত সত্যের নিদর্শন, আর জাদু শয়তানি বিভ্রান্তি।

ফেরাউনের জাদুকরদের পরাজয়
জাদুবিদ্যার আরেকটি ঐতিহাসিক ঘটনা হলো ফেরাউনের জাদুকরদের কাহিনি। আল্লাহ বলেন, ‘তারা মানুষের চোখে ধাঁধা লাগিয়ে দিল এবং তাদের ভীতসন্ত্রস্ত করল; তারা এক বিরাট জাদু প্রদর্শন করল।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১১৬)
অতঃপর আল্লাহ মুসা (আ.)-কে মুজিজা দান করেন। তাঁর লাঠি আল্লাহর আদেশে বাস্তব সাপে পরিণত হয়ে জাদুকরদের সব ভেলকি গ্রাস করে নেয়। সত্য প্রত্যক্ষ করার পর জাদুকররা সঙ্গে সঙ্গে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে ঘোষণা করলেন, ‘আমরা হারুন ও মুসার রবের প্রতি ঈমান আনলাম।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৭০)

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর জাদুর ঘটনা
সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, লাবিদ ইবনুল আসাম নামক এক ইহুদি ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর জাদু করেছিল। এ ঘটনা সহিহ বুখারি (হাদিস: ৫৭৬৫)-এ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ জাদু তাঁর নবুয়ত বা ওহির ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং কিছু সময় তিনি শারীরিকভাবে এর প্রভাব অনুভব করেছিলেন। পরে আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

জাদুকরদের সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কঠোর সতর্কতা
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গণকের কাছে গেল এবং তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর যা নাজিল হয়েছে, তা অস্বীকার করল।’ (মুসনাদ আহমদ: ৯৫৩২; সুনানে আবু দাউদ: ৩৯০৪)
আরেক হাদিসে তিনি বলেন, ‘ধ্বংসাত্মক সাতটি মহাপাপ থেকে বেঁচে থাকো।’ সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, সেগুলো কী? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা এবং জাদুবিদ্যা করা...।’(সহিহ বুখারি, ২৭৬৬)

আধুনিক যুগে কালো জাদুর নামে প্রতারণা
আজকের যুগেও সমাজে কালো জাদুর নামে ভয়াবহ প্রতারণা চলছে। প্রেম ফেরানো, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ঠিক করা, ব্যবসায় উন্নতি, শত্রু ধ্বংস, চাকরি নিশ্চিত করা কিংবা সন্তান লাভের আশ্বাস দিয়ে অসংখ্য ভণ্ড কবিরাজ, তান্ত্রিক ও গণক মানুষের ঈমান, অর্থ ও মানসিক শান্তি নিয়ে খেলছে। ইসলাম এসব প্রতারণা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একজন মুসলমান কখনো ভাগ্যবক্তা, গণক কিংবা জাদুকরের শরণাপন্ন হবে না। বরং কোরআন-সুন্নাহসম্মত চিকিৎসা, দোয়া, বৈধ রুকইয়াহ এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতাই হবে তার একমাত্র আশ্রয়।

জাদু থেকে বাঁচতে মুমিনের করণীয়

১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা,
২. সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন জিকির পাঠ করা,
৩. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা,
৪. সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস নিয়মিত তিলাওয়াত করে শরীরে ফঁ দেওয়া,
৫. কোরআনের দোয়া ও সহিহ সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ অনুসরণ করা,
৬. ভণ্ড কবিরাজ, তান্ত্রিক, জাদুকর ও গণকদের থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা উচিত।

শেষকথা, আজকের যুগে কালো জাদুর ভয় দেখিয়ে মানুষকে প্রতারণা করা, কুসংস্কার ছড়ানো কিংবা মানুষের দুর্বল বিশ্বাসকে পুঁজি করে অর্থ উপার্জন করা একটি বড় সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব হলো আকিদা বিশুদ্ধ রাখা, কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা অনুসরণ করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ওপর অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার বিশ্বাস না রাখা।

মনে রাখতে হবে, প্রকৃত শক্তি কোনো তাবিজ, তন্ত্র বা কালো জাদুর মধ্যে নয়; প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে আল্লাহর প্রতি অটল ঈমান, আন্তরিক ইবাদত, নিয়মিত জিকির, কোরআনের তিলাওয়াত এবং দৃঢ় তাওয়াক্কুলের মধ্যে। একজন মুমিনের সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রয় একমাত্র মহান আল্লাহ। তিনি চাইলে সব অনিষ্ট দূর করতে পারেন, আর তিনি ছাড়া কেউ কোনো উপকার বা অপকারের স্বাধীন ক্ষমতা রাখে না।

ইসলামী অর্থব্যবস্থায় রাজস্বনীতি

ড. ইকবাল কবীর মোহন
ইসলামী অর্থব্যবস্থায় রাজস্বনীতি
সংগৃহীত ছবি

ইসলামী রাজস্বনীতির কতগুলো মৌলিক উদ্দেশ্য আছে। এক. জনগণের মৌলিক প্রয়োজনসমূহ তথা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা প্রদান করা। দুই. সম্পদ জমিয়ে না রেখে তা ন্যায়পূর্ণ বণ্টনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিন. অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগ সম্প্রসারিত করা। চার. বেকারত্ব ও দারিদ্র্য হ্রাস করা। পাঁচ. আয় ও সম্পদের বণ্টন সুনিশ্চিত করা। (সূত্র : ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, ইসলামী অর্থনীতির রূপরেখা : তত্ত্ব ও প্রয়োগ)

ইসলামী রাজস্বব্যবস্থার উৎস
ইসলামী রাজস্বের উৎসগুলো কোরআন, হাদিস ও খোলাফায়ে রাশেদার নীতিমালার আলোকে নির্ধারিত হয়েছে। এ আয়ের উৎসসমূহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ইসলামী রাজস্বব্যবস্থাকে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা— ভূমি রাজস্ব, খুমুস জাকাত, সাদাকা ও জিজিয়া

মালিকানা বা উত্তরাধিকারহীন ধন-সম্পদ
১. ভূমি রাজস্ব :
রাষ্ট্রের সব ভূমি ব্যবহার করার নিমিত্তে জনগণের কাছ থেকে যে কর আদায় করা হয়, তাকে ভূমি রাজস্ব বলে। দেশের জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে এটিকে আবার দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা—ক. ওশর ও খ. খারাজ। এই দুুটিই ভূমি রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ক. ওশর : আরবি ‘আশারাতুন’ শব্দ থেকে ওশর শব্দটি এসেছে। এর শাব্দিক অর্থ এক-দশমাংশ। যে জমির মালিক মুসলমান অথবা যে জমি মুসলমানই সর্বপ্রথম চাষের উপযোগী করে তুলেছে, সে জমি ওশরি জমি হিসেবে অভিহিত।

ওশর সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা যা উপার্জন করো এবং যা আমরা তোমাদের জন্য জমিতে উৎপন্ন করি, সেখান থেকে উত্কৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো। আর সেখান থেকে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প কোরো না, যা তোমরা নিজেরা গ্রহণ করো না চোখ বন্ধ করা ছাড়া। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাবমুক্ত ও চির প্রশংসিত।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৭)

ওশর প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বৃষ্টি ও প্রবাহিত পানি দ্বারা সিক্ত ভূমিতে উৎপাদিত ফসল বা সেচ ব্যতীত উর্বরতার ফলে উৎপন্ন ফসলের ওপর (এক- দশমাংশ) ওশর ওয়াজিব হয়। আর সেচ দ্বারা উৎপাদিত ফসলের ওপর অর্থ (বিশ ভাগের এক ভাগ) ওশর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪৮৩)

খ. খারাজ : সাধারণত ভূমির ওপর ধার্যকৃত করকে খারাজ বলে। তবে ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের মালিকানা বা ভোগকৃত জমি থেকে যে রাজস্ব আদায় করা হয়, তাকে খারাজ বলা হয়। জমির জরিপ ও গুণাগুণ নির্ণয় করে ইসলামী রাষ্ট্র খারাজের পরিমাণ নির্ধারণ করে থাকে। খোলাফায়ে রাশেদার শাসনামলে দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা) সর্বপ্রথম ইরাক, সিরিয়া ও মিসরের বিস্তৃত উর্বর জমির ওপর জরিপ পরিচালনা করেছিলেন। এ জন্য ভূমি রাজস্ব বিষয়ে পারদর্শী হজরত উসমান বিন হানিফ (রা) জরিপের কাজ পরিচালনা করেন। খারাজ রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সম্পদ। তাই এটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জমির গুণাগুণ, উর্বরতা, সেচ ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো অবহেলার কারণে ভূমির মালিকের প্রতি অবিচার বা জুলুম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এ অবিচার হলো কঠিন গুনাহের কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি জালিমদের (যারা জুলুম ও অবিচার করে) জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছি।’ (সুরা : কাহফ : ২৯)

অবিচার বা জুলুম সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজের ওপর জুলুম হারাম করে দিয়েছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করেছি। অতএব, তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম কোরো না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৭৭) 

২. খুমুস : আরবি শব্দ ‘খুমুস’, অর্থ এক-পঞ্চমাংশ। ইসলামী শরিয়তে এটি একটি বাধ্যতামূলক বিধান হিসেবে আর্থিক ব্যবস্থার অংশ। এটি এমন একটি কর, যা নির্দিষ্ট কিছু সম্পদের ওপর প্রযোজ্য। ইসলামী আইন মতে, সাধারণত যুদ্ধলব্ধ সম্পদের (গনিমতের মাল) এক-পঞ্চমাংশ খুমুস হিসেবে গণ্য করা হয়। যা ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুলমাল তহবিলে জমা করতে হয়। গনিমত সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহর নির্দেশনা হচ্ছে, ‘আর তোমরা জেনে নাও যে যুদ্ধে তোমরা যেসব বস্তু গনিমত হিসেবে লাভ করেছ, তার এক-পঞ্চমাংশ হলো আল্লাহ, তাঁর রাসুল, তাঁর নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরের জন্য। যদি তোমরা ঈমান এনে থাকো আল্লাহর ওপর এবং যা কিছু (বণ্টননীতি) আমরা নাজিল করেছি আমাদের বান্দার ওপর সত্য-মিথ্যার ফায়সালার দিন এবং দুই দলের জমা হওয়ার দিন (অর্থাৎ বদরের যুদ্ধের দিন)। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।’ (সুরা : আনফাল : ৪১)।

এ ছাড়া খনিজ সম্পদ, সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত সম্পদ ও গুপ্তধনের ওপরও খুমুস প্রযোজ্য। এসব অর্থের প্রতিটি থেকে এক-পঞ্চমাংশ ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুলমালে জমা করার বিধানকে খুমুস বলা হয়।

৩. জাকাত ও সাদাকা : ইসলামে জাকাতের বিধানকে ফরজ করা হয়েছে। জাকাত কোনো কর বা ট্যাক্স নয়, বরং এটি আর্থিক ইবাদত। এটি সম্পদের পবিত্রকারী। জাকাত ইসলামী অর্থব্যবস্থার হূিপণ্ড হিসেবে বিবেচিত। এটি ইসলামী রাষ্ট্রের অর্থব্যবস্থায় মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। ইসলামী সমাজে আয় ও সম্পদের বণ্টনব্যবস্থায় বিরাজমান বৈষম্য দূর করে জাকাত।

জাকাত রাষ্ট্রের দরিদ্র, অভাবগ্রস্ত এবং অবহেলিত বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত একটি সুরক্ষাবলয়। তাই পবিত্র কোরআনের প্রায় ৩০টি আয়াতে জাকাতের কথা বলা হয়েছে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী নির্ধারিত নিসাব পরিমাণ মাল বা সম্পদের ওপর নির্দিষ্ট অংশ নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করার নাম জাকাত। জাকাত সমাজের দারিদ্র্য বিমোচনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। আল্লাহ তাআলা জাকাত বণ্টনের খাত ও নীতি ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘জাকাত (সাদাকাসমূহ) আট শ্রেণির লোকের জন্য। ফকির, অভাবগ্রস্ত, জাকাত আদায়কারী কর্মচারী, ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তি, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬০)

৪. জিজিয়া : জিজিয়া অর্থ হচ্ছে মাথাপিছু ধার্যকৃত কর। এটি ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকের ওপর ধার্যকৃত নিরাপত্তা কর। ইসলামী রাষ্ট্রে যুদ্ধ করতে সক্ষম অমুসলিম নাগরিকদের কাছ থেকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিবছর যে অর্থ আদায় করা হয়, তাকে জিজিয়া বলা হয়। জিজিয়া সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যুদ্ধ করো আহলে কিতাবদের মধ্যকার সেসব লোকের বিরুদ্ধে, যারা আল্লাহ ও বিচার দিবসের ওপর বিশ্বাস রাখে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা হারাম করেছেন তা হারাম করে না ও সত্য দ্বিন (ইসলাম) কবুল করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা বিনীত হয়ে করজোড়ে জিজিয়া প্রদান করে।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ২৯)

৪. মালিকানাবিহীন সম্পদ : দুনিয়ার সম্পদের মালিক এক আল্লাহ। মানুষ দুনিয়াতে তাঁর খলিফা হিসেবে সাময়িকভাবে তাঁর সে সম্পদ ভোগ করে। সমাজে অনেক সময় দেখা যায় অনেক সম্পদ এমন আছে তার কোনো মালিক বা উত্তরাধিকার নেই। এসব মালিকানাবিহীন সম্পদের মালিক হবে ইসলামী রাষ্ট্র। এসব সম্পদ রাষ্ট্র দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করবে।

ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থনীতি পরিচালনায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যে নীতি ও বিধান দিয়েছেন তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে দেশের মানুষ যেমন সুখ-সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন লাভ করবে, তেমনি একটি বৈষম্যহীন সমাজ লাভ করবে, যেখানে জুলুম, অবিচার ও নীতিহীনতার লেশমাত্র থাকবে না।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৫ ‍জুলাই ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৫ ‍জুলাই ২০২৬

আজ রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, ১৯ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৭ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪২ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫২ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

সন্তানের আকিকা না দিলে ক্ষতি হয়? কী বলে ইসলাম?

অনলাইন ডেস্ক
সন্তানের আকিকা না দিলে ক্ষতি হয়? কী বলে ইসলাম?
সংগৃহীত ছবি

মা-বাবার জন্য মহান রবের দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার সন্তান। এ জন্য শিশুর জন্মের পর আকিকা করতে হয়। সেই সঙ্গে পশু জবাই করে আল্লাহ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করতে হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ধন-সম্পদ আর সন্তানাদি পার্থিব জীবনের শোভা-সৌন্দর্য’ (সুরা কাহাফ, আয়াত : ৪৬)।

অন্যদিকে হাদিসে সন্তান জন্মের পর আকিকা করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। সালমান ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, সন্তানের সঙ্গে আকিকা সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (অর্থাৎ আকিকার পশু জবেহ) কর এবং তার (সন্তান) অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৭৬)

আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সপ্তম দিনে তার নাম রাখতে, মাথা মুণ্ডন করতে এবং আকিকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ২৮৩২)

এ ক্ষেত্রে ছেলে সন্তান হলে দু’টি ও মেয়ে সন্তান হলে একটি পশু কুরবানি দিতে হয়। ইসলামিক স্কলার মিজানুর রহমান আজহারীর মতে, আকিকা সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন- ছেলে হলে দু’টি ছাগল দিয়ে আকিকা করো। আর যদি মেয়ে হয় তাহলে একটি ছাগল দিয়ে আকিকা করো। আর আকিকার ক্ষেত্রে সুন্নত হলো- সন্তান ভূমিষ্ঠের ৭ দিন পর আকিকা করা। সপ্তম দিনে সন্তানের মাথার চুল ফেলে দিতে হয় এবং তার একটি সুন্দর নাম রাখতে হয়।

তবে অনেকেই বলে থাকেন আকিকার পশু শুধু নর হতে হবে। কিন্তু হাদিসে নির্দিষ্টভাবে এমন নির্দেশনা আসেনি। উম্মু কুরয রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি (নবীজি সা.) বলেন, ছেলের জন্য দুটো ছাগল আর মেয়ের জন্য একটি ছাগল আকিকা দিতে হবে। আকিকার পশু নর হোক বা মাদী হোক তোমাদের কোনো ক্ষতি (গুনাহ) হবে না। (সুনাত আত তিরমিজি, হাদিস: ১৫২২)

কিন্তু আকিকার ক্ষেত্রে অনেকেই প্রায় সময় বলে থাকেন, কেউ যদি সন্তানের আকিকা না দেন তাহলে সন্তানের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে সন্তানের ওপর বিপদ-আপদ লেগেই থাকে। আসলেই কী ইসলামে এমন কিছু আছে?

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ছেলে-মেয়েদের আকিকা করা অনেকটা লাইফ ইনস্যুরেন্সের মতো। সেই জায়গা থেকে সন্তানের নিরাপত্তার জন্য এটা করা উচিত। কিন্তু আকিকা না দিলে সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এমন কোনো কথা হাদিসে আসেনি। তবে নিরাপত্তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাধ্য অনুযায়ী আকিকা করা উচিত।