রাতে ছোট বাচ্চা অতিরিক্ত কান্না করা এটি অনেক পিতা-মাতার জন্য চিন্তার বিষয়। সাধারণভাবে প্রতিটি শিশুই রাতে কাঁদে। তাই এতে বেশি দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। যদি বাচ্চা অতিরিক্ত কান্না করে এবং তাতে কোনো অসুস্থতার আশঙ্কা হয়, তাহলে প্রথমত, কোনো ভালো চিকিৎসককে দেখিয়ে চিকিৎসা করানো উচিত।
তবে এই কান্না দেহগত বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ দুটি কারণেই হতে পারে। সম্ভবনাময় কিছু কারণ যেমন, ক্ষুধা বা বুকের দুধ না পাওয়া, পেটব্যথা / গ্যাস / কোষ্ঠকাঠিন্য, গরম বা ঠান্ডা লাগা, পিপাসা লাগা, ডায়াপার ভেজা থাকা, দাত উঠার ব্যথা, অস্বস্তি লাগা-এই সব দেহগত কারণের দিকে সর্বপ্রথম খেয়াল রাখতে হবে। এরপর যদি কোনো দৃশ্যমান কারণ না পাওয়া যায়, তাহলে অদৃশ্যগত দিক বিবেচনা করা যেতে পারে। যেমন, জ্বিন ও শয়তানী কুপ্রভাব। কেননা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন রাতের আধার নেমে আসবে অথবা বলেছেন, যখন সন্ধ্যা হয়ে যাবে তখন তোমরা তোমাদের শিশুদের (ঘরে) আটকিয়ে রাখবে। কেননা এ সময় শয়তানেরা ছড়িয়ে পড়ে। আর যখন রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়ে যাবে তখন তাদের ছেড়ে দিতে পার। তোমরা ঘরের দরজা বন্ধ করবে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করবে। কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩০৪)
এ হাদিস থেকে বুঝা যায়, সন্ধ্যার সময় থেকে কিছু সময় পর্যন্ত জ্বিনেরা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা ছোট বাচ্চাদের বেশি ক্ষতি করতে পারে। এজন্য সন্ধার সময় আজানের পরপর কিছু সময়ের জন্য দরজা বন্ধ করে রাখা এবং শিশুদের বাইরে বের হতে না দেয়া। অপর এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এমন কোন নবজাতক নেই যাকে শয়তান খোঁচা না দেয়। যাকে শয়তান খোঁচায় সে চিৎকার করতে শুরু করে। শুধু মরিয়ম তনয় এবং তাঁর মাতা ছাড়া। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৬৬)
এক্ষেত্রে করণীয় কিছু আমল:
১. সন্ধ্যার আগে দরজা-জানালা বন্ধ করা।
২. সন্ধ্যার সময় (মাগরিব) শিশুকে বাইরে না নেওয়া।
৩. রাতে ঘুমানোর সময় কিছু দোয়া ও আমল করা:
ক. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা, প্রতিদিন রাতে-বিশেষ করে শিশুকে ঘুম পাড়ানোর আগে পড়ে বাচ্চার গায়ে ফুঁ দেয়া।
খ. রাসুল (সা.) নিজের নাতি হাসান ও হুসাইনকে এই দুআটি পড়ে ফুঁ দিতেন,
أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ
উচ্চারণ : উয়িজু বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন, ওয়ামিন কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।
অর্থ : ‘আমি তোমাদের দু’জনকে আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি-প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং সকল অনিষ্টকারী বদনজর থেকে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৭১)
গ. সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে বাচ্চাকে ফুঁ দেয়া।
ঘ. রাতে ঘুমানোর আগে (সম্ভব হলে) পুরো ঘরে সুরা বাকারার রেকর্ড চালিয়ে রাখা।
ঙ. বাচ্চার নাম রাখার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা: ভালো ও অর্থপূর্ণ ইসলামি নাম রাখা জরুরী। কেননা নামের প্রভাব শিশুর মানসিকতা ও আত্মগঠনে খুবই প্রভাবক। বিশেষ করে ঘুমানোর পূর্বে নিজের রুমকে বন্ধ করে নেয়া। আয়াতুল কুরসি ও তার পরের দুই আয়াত পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে সজোরে তিনটি তালি দিন। ইনশাআল্লাহ বাচ্চাসহ সবাই রবের জিম্মায় নিরাপদ থাকবেন।




