• ই-পেপার

বিশ্বখ্যাত ইসলামী অর্থনীতিবিদ ড. উমর চাপড়ার ইন্তেকাল

ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা কি জায়েজ?

মুফতি ওমর বিন নাছির
ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে যেমন ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি সুস্থ দেহ গঠনের জন্য বৈধ খেলাধুলা ও শরীরচর্চারও অনুমোদন রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও দৌড় প্রতিযোগিতা, তীরন্দাজি ও ঘোড়দৌড়ের মতো বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলনকে উৎসাহিত করেছেন। তবে ইসলামে প্রতিটি কাজের জন্য উপযুক্ত স্থান ও পরিবেশ নির্ধারিত রয়েছে। কোনো স্থানের ধর্মীয় মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টিও শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তাই অনেক সময় কোনো কাজ নিজে বৈধ হলেও বিশেষ কোনো স্থানে তা করা অনুচিত বা নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে। ঈদগাহ মাঠে খেলাধুলার বিষয়টিও এ ধরনের একটি আলোচ্য বিষয়।

ইসলামে পবিত্র স্থানসমূহের মর্যাদা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান করে, নিশ্চয়ই তা অন্তরের তাকওয়ার পরিচায়ক।’ (সুরা : হাজ, আয়াত : ৩২)

ঈদগাহ এমন একটি স্থান, যেখানে মুসলমানরা বছরে দুইবার বৃহৎ জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তাই এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিদর্শন (শাআইরে ইসলাম)-এর অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে এর মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষা করা মুসলমানদের কর্তব্য। ফিকহের কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়াকফকৃত ঈদগাহ সম্পূর্ণরূপে মসজিদ না হলেও কিছু বিধানের ক্ষেত্রে মসজিদের হুকুম প্রযোজ্য হয়। হানাফি ফকিহগণ লিখেছেন যে, ‘ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মত হলো, ইমামের অনুসরণে ঈদের নামাজ আদায় বৈধ হওয়ার দিক থেকে ঈদগাহকে মসজিদের হুকুম দেওয়া হবে। তবে এর নির্মাতা মূলত একে মসজিদ হিসেবে নির্মাণ করেননি। তাই এটিকে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ না বললেও এর মর্যাদা নষ্ট হয় না।’ (রাদ্দুল মুহতার, ২/৪৩০, আল-বাহরুর রায়েক, ২/৬৫, আন-নাহরুল ফায়েক, ১/২৮৮)

এ কারণেই ফকিহয়ে কেরামগণ বলেছেন, ঋতুবতী নারী বা গোসল ফরজ অবস্থায় থাকা ব্যক্তির ঈদগাহে প্রবেশ বৈধ। কারণ এটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নয়। তবে একই সঙ্গে তারা এ স্থানকে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঈদগাহ মাঠে খেলাধুলার হুকুম
খেলাধুলা মূলত জায়েজ। যদি তাতে জুয়া, অশ্লীলতা, নামাজ নষ্ট হওয়া বা অন্য কোনো হারাম বিষয় না থাকে, তাহলে সাধারণ স্থানে এসব খেলাধুলা বৈধ। কিন্তু ওয়াকফকৃত ঈদগাহ মাঠের বিষয়টি ভিন্ন। কারণ এটি আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্ধারিত ও ধর্মীয় মর্যাদাসম্পন্ন স্থান। খেলাধুলার সময় সাধারণত দৌড়াদৌড়ি, হাসি-তামাশা, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং নানা ধরনের কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে, যা ঈদগাহের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে ফকিহগণ সতর্কতামূলকভাবে বলেছেন, ‘সতর্কতার স্বার্থে ঈদগাহকে সাধারণ স্থানের মতো ব্যবহার না করে মসজিদের মর্যাদার নিকটবর্তী হিসেবে গণ্য করা উচিত।’ (আল-বাহরুর রায়েক, ৫/৪১৭, রাদ্দুল মুহতার, ৬/৫৪৫)

সুতরাং খেলাধুলা নিজে বৈধ হলেও ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা সমীচীন নয়। বিশেষ করে যখন তা ঈদগাহের সম্মান ও পবিত্রতার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়। তাই আল্লাহর দ্বীনের নিদর্শন ও ইবাদতের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোর মর্যাদা সংরক্ষণ করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

অতএব, শারীরিক অনুশীলনমূলক খেলাধুলা ইসলামে জায়েজ আছে। তবে ওয়াকফকৃত ঈদগাহ মাঠ সাধারণ খেলার মাঠ নয়; এটি মুসলমানদের একটি ধর্মীয় ও ইবাদতসংক্রান্ত স্থান। যদিও তা পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মসজিদের সব বিধান প্রযোজ্য হয় না, তবুও এর মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য ফকিহরা সেখানে খেলাধুলা ও অনুরূপ কর্মকাণ্ডকে অনুচিত বলেছেন। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য উত্তম হলো শরীরচর্চা ও খেলাধুলার জন্য অন্য কোনো সাধারণ মাঠ বা উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা এবং ঈদগাহের ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা। কারণ আল্লাহর নিদর্শনের সম্মান রক্ষা করা তাকওয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।

জার্সি পরে নামাজ আদায় কি জায়েজ?

মুফতি ওমর বিন নাছির
জার্সি পরে নামাজ আদায় কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান যুগে জার্সি শুধ খেলোয়াড়দের পোশাক নয়; বরং এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পোশাকেরও একটি জনপ্রিয় অংশ। কেউ জার্সি পরেন আরামদায়ক ও টেকসই পোশাক হিসেবে, আবার কেউ তার প্রিয় দল, ক্লাব বা খেলোয়াড়ের প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য জার্সি সংগ্রহ করেন। বিশ্বকাপ ফুটবল, ক্রিকেট বা বিভিন্ন ক্লাব প্রতিযোগিতার সময় জার্সির ব্যবহার আরো ব্যাপক হয়ে ওঠে। তবে একজন সচেতন মুসলমানের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—জার্সি পরে নামাজ আদায় করা কি বৈধ? জার্সিতে যদি প্রাণীর ছবি থাকে, তাহলে তার হুকুম কী? অনেক জার্সিতে ব্যবহৃত ক্রসচিহ্ন বা খ্রিষ্টীয় প্রতীক সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী? আর এসব জার্সির ব্যবসা করা কি হালাল, নাকি তা পরিহার করাই উত্তম?

নামাজে পোশাকের নীতিমালা
নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য পোশাকের ক্ষেত্রে কয়েকটি মৌলিক শর্ত রয়েছে—
১. পোশাক পাক-পবিত্র হতে হবে।
২. সতর যথাযথভাবে আবৃত থাকতে হবে।
৩. শরিয়ত নিষিদ্ধ কোনো বিষয় পোশাকে থাকা যাবে না।
৪. পোশাক শালীন ও সম্মানজনক হওয়া উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা তোমাদের সৌন্দর্য (পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক) গ্রহণ করো।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, নামাজের জন্য পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব এবং ইসলামী আদবের অংশ।

জার্সি পরে নামাজ আদায়ের বিধান
জার্সি নিজে কোনো নিষিদ্ধ পোশাক নয়। তাই সাধারণ জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু অনেক সময় জার্সিতে বাঘ, সিংহ, ঈগল বা অন্য প্রাণীর ছবি বা প্রতীক থাকে। আবার কিছু জার্সিতে মানুষের ছবিও থাকে। যদি পোশাকে এমন প্রাণীর ছবি থাকে যার মুখমণ্ডল ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়, তাহলে তা পরিধান করা মাকরূহ এবং তা পরে নামাজ আদায় করাও মাকরূহ। তবে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না; নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়। (খোলাসাতুল ফতোয়া, ১/৫৮, আল-মুহিতুল বুরহানি, ২/১৩৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২২৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২১০৬)
এ কারণে মুসলমানের জন্য ছবি-মুক্ত পোশাক নির্বাচন করা অধিক উত্তম ও সতর্কতাপূর্ণ।

বিশেষ সতর্কতা
বর্তমানে অনেক আন্তর্জাতিক ক্লাব, জাতীয় দল কিংবা ব্র্যান্ডের লোগোতে ক্রসচিহ্ন দেখা যায়। ক্রস মূলত খ্রিষ্টধর্মের একটি সুপরিচিত ধর্মীয় প্রতীক। রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্রসচিহ্নের প্রতি বিশেষ বিরাগ পোষণ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর ঘরে কোনো ক্রসচিহ্নযুক্ত বস্তু দেখলে তা অপসারণ করে দিতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৫২)

এ কারণে সুস্পষ্ট ক্রসচিহ্নযুক্ত জার্সি পরিধান করা এবং তা পরে নামাজ আদায় করা অপছন্দনীয়। বিশেষত যদি তা খ্রিষ্টীয় ক্রসচিহ্নযুক্ত প্রতীকসহ হয়, তাহলে তা আরো গুরুতর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

জার্সি বিক্রি করা কি বৈধ?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্যণীয়। অনেক ফকিহের মতে, ছবিযুক্ত কাপড় বা ক্রসযুক্ত পোশাক বিক্রি করা সরাসরি হারাম না হলেও মাকরূহ। কারণ এর মাধ্যমে এমন বস্তুর প্রচলন ঘটে যা শরয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়। ফিকহের বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, ‘যে বস্তু নিজে বৈধ কিন্তু কখনো কখনো গুনাহের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, তার বিক্রয় মূলত বৈধ; তবে যদি তা বিশেষভাবে গুনাহের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হয়, তাহলে তা নিন্দনীয় ও গুনাহের সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ২)
সুতরাং ছবিযুক্ত বা ক্রসযুক্ত জার্সি বিক্রি করার মধ্যে সরাসরি হারাম বলা না গেলেও তা নিঃসন্দেহে একটি মাকরূহ ও অনুৎসাহিত ব্যবসার আওতাভুক্ত হতে পারে। (রাদ্দুল মুহতার, ৯/৫৬২, মাজমাউল আনহার, ৪/১৮৮)

তাই যদি ব্যবসার অধিকাংশ জার্সি হয়—ছবি-মুক্ত, ক্রস-মুক্ত, অশ্লীল স্লোগানবিহীন, এবং ইসলামবিরোধী প্রতীকবিহীন, তাহলে এ ব্যবসা মূলত হালাল ব্যবসা। অন্যথায় ব্যবসা মাকরূহ ও শরয়ি দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য করণীয় হলো, শুধু লাভের কথা চিন্তা না করে উপার্জনের হালাল-হারামের প্রতিও সচেতন দৃষ্টি রাখা। তাই যদি সম্ভব হয়—ছবি-মুক্ত জার্সি, সাধারণ স্পোর্টস জার্সি, কাস্টম ডিজাইনের জার্সি, ক্রস ও আপত্তিকর প্রতীকবিহীন পোশাক নিয়ে ব্যবসা করাই অধিক নিরাপদ, উত্তম এবং তাকওয়ার দাবি। এতে ব্যবসাও হবে, আবার সন্দেহজনক বিষয় থেকেও দূরে থাকা যাবে। (রাদ্দুল মুহতার, ৯/৫৬১)

জার্সি পরিধান করা অবৈধ নয়। জার্সি পরে নামাজও শুদ্ধ হয়ে যায়, যদি নামাজের মৌলিক শর্তগুলো পূরণ হয়। তবে প্রাণীর স্পষ্ট ছবি, মানুষের প্রতিকৃতি কিংবা ক্রসচিহ্নযুক্ত জার্সি পরিধান ও তা পরে নামাজ আদায় করা শরিয়াহ পরিপন্থী। একই ভাবে এসব জার্সির ব্যবসা সরাসরি হারাম না হলেও ফোকাহায়ে কেরাম তা মাকরূহ তথা অপছন্দনীয় বলেছেন এবং অনুৎসাহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উত্তম আমল ও হালাল উপার্জন গ্রহণ করার এবং সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকার এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাদিসের বাণী

আল্লাহর ক্ষমার কোনো সীমা নেই

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আল্লাহর ক্ষমার কোনো সীমা নেই
সংগৃহীত ছবি

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, হে বনি আদম, যদি তুমি আমাকে ডাকো ও আমার কাছে ক্ষমার আশা করো, তাহলে আমি তোমার সব অপরাধ ক্ষমা করে দেব। আমি কোনো পরওয়া করব না। হে বনি আদম, তোমার পাপসমূহ যদি আকাশ পরিমাণ হয়ে যায়, আর তুমি যদি আমার নিকটে মাফ চাও, তাহলে আমি তোমাকে মাফ করে দেব। এতে আমি কোনো পরওয়া করব না। হে বনি আদম, তুমি যদি পৃথিবী সমপরিমাণ অপরাধ নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হও, আর যদি তুমি আমার সঙ্গে কাউকে শরিক না করো, তাহলে আমি এক পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার নিকট উপস্থিত হব। (তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৫৪০, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১২৪০৫)


শিক্ষা ও বিধান
১. মানুষের পাপ যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা তার চেয়েও অনেক বড়।
২. বান্দা যখন আন্তরিকভাবে আল্লাহকে ডাকে, তখন তিনি তার ডাকে সাড়া দেন এবং রহমত বর্ষণ করেন।
৩. কোনো পাপের কারণেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া বৈধ নয়।
৪. সত্যিকার অনুতাপের সঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ গুনাহ মাফ করে দেন।
৫. পাপ যত বেশি হোক, তাওবার দরজা খোলা থাকে। আকাশসম পাপও আন্তরিক ইস্তিগফারের মাধ্যমে ক্ষমা হতে পারে।
৬. আল্লাহ ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তিনি বান্দার তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনাকে অত্যন্ত পছন্দ করেন।
৭. তাওহিদের মর্যাদা অপরিসীম। তাই শিরকমুক্ত ঈমান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মূল্যবান আমল।
৮. মুমিনের অন্তরে আশা ও ভয়ের ভারসাম্য থাকা উচিত। পাপের কারণে ভীত থাকবে, তবে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবে না।

অতএব, এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, একজন বান্দা যত বড় পাপীই হোক না কেন, যদি সে আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাওহিদের ওপর অটল থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও রহমতের দরজা তার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত। তাই কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে তাওবা, ইস্তিগফার ও নেক আমলের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

মৃত্যুপথযাত্রী মুমূর্ষ ব্যক্তির জন্য পঠিতব্য দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মৃত্যুপথযাত্রী মুমূর্ষ ব্যক্তির জন্য পঠিতব্য দোয়া
সংগৃহীত ছবি

একজন মুমিন সুস্থতা, দীর্ঘজীবন ও নেক আমলের তাওফিক কামনা করেন। তবে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন মানুষ মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয় এবং দুনিয়ার সব সম্পর্ক, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ব্যস্ততা তার কাছে ম্লান হয়ে যায়। সেই সংকটময় সময়ে একজন ঈমানদার বান্দার সবচেয়ে বড় চাওয়া হয়ে ওঠে আল্লাহর ক্ষমা, রহমত এবং তাঁর নৈকট্য লাভ। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তে পঠিতব্য হৃদয়স্পর্শী এমন দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যেখানে দুনিয়ার প্রতি মোহ নয়; বরং মহান রবের সান্নিধ্য ও আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তা হলো—

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَالْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়া আলহিক্বনী বির রফিক্কিল আলা।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমাকে সর্বোচ্চ বন্ধুর সঙ্গ পাইয়ে দিন।’

হাদিস : উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুল (সা.)-কে মুমূর্ষু অবস্থায় এই দোয়া পড়তে শুনেছি। তখন তিনি আমার ওপর ভর করে ছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৭৪)

অন্য হাদিসে আরেকটি দোয়ার কথা এসেছে। তা হলো— 

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।


অর্থ : ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তাঁর জন্য সব ক্ষমতা এবং তার জন্য সব প্রশংসা। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। 


হাদিস : আবু সায়িদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বলে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান) তখন মহান রব তার কথা সত্যায়ন করে বলেন, ‘আমি ছাড়া উপাস্য নেই এবং আমিই মহান।’

অতঃপর যখন সে বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ (একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) তখন আল্লাহ বলেন, ‘একমাত্র আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।’

যখন সে বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ (একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও তাঁর কোনো অংশীদার নেই) তখন আল্লাহ বলেন, ‘একমাত্র আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও আমার কোনো অংশীদার নেই।’

আর সে যখন বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ (তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর জন্য সব ক্ষমতা, তাঁর জন্য সব প্রশংসা) তখন আল্লাহ বলেন, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমার জন্য সব ক্ষমতা ও প্রশংসা।

সে যখন বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই) তখন আল্লাহ বলেন, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি ছাড়া কারো কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় এ দোয়াটি পড়বে অতঃপর মারা যাবে তাকে জাহান্নাম স্পর্শ করবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩৪৩০)