• ই-পেপার

একাধিক বিয়ে হওয়া নারী জান্নাতে কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন?

ঈমানের সুরক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

মুফতি উবায়দুল হক খান
ঈমানের সুরক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

ঈমান মানবজীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। দুনিয়ার সব ধন-সম্পদ, ক্ষমতা ও সম্মান একদিকে আর ঈমান অন্যদিকে- তুলনায় ঈমানই অমূল্য। ঈমান ছাড়া মানুষের সব আমল নিষ্ফল, সব কৃতিত্ব অর্থহীন। একজন মুমিনের পরিচয়, মর্যাদা ও পরকালীন মুক্তির মূল চাবিকাঠি হলো ঈমান।

কিন্তু এই ঈমান অতি সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল; কখনো তা বৃদ্ধি পায়, আবার কখনো দুর্বল হয়ে যায়। তাই ইসলাম শুধু ঈমান অর্জনের নির্দেশ দেয়নি, বরং ঈমান সংরক্ষণ, রক্ষা ও সুদৃঢ় করার জন্য সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনাও প্রদান করেছে।

আধুনিক যুগে শিরক, কুফর, বিদআত, নাস্তিকতা, ভোগবাদ, নৈতিক অবক্ষয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তির যে স্রোত, তাতে ঈমান রক্ষা করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন। এ প্রেক্ষাপটে ইসলামের নির্দেশনাগুলো জানা ও বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশুদ্ধ আকিদা ঈমান রক্ষার প্রথম শর্ত

ঈমানের ভিত্তি হলো সঠিক আকিদা। আকিদা যদি বিশুদ্ধ না হয়, তবে আমলের কোনো মূল্য নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৭২)।

ইসলাম তাওহিদের আকিদাকে ঈমানের কেন্দ্রবিন্দু করেছে। আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি, ইবাদত ও কর্তৃত্বে কাউকে শরিক না করা- এটাই ঈমানের মূল কথা। কবর পূজা, তাবিজ-কবচে বিশ্বাস, জ্যোতিষী বিদ্যা, ভাগ্য গণনা- এসব ঈমান ধ্বংসকারী বা দুর্বলকারী বিষয়। তাই ঈমান রক্ষায় প্রথম নির্দেশনা হলো শিরক থেকে পূর্ণ বিরত থাকা এবং সহিহ আকিদা শেখা ও ধারণ করা।

কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক

কোরআন হলো ঈমানের প্রাণ, সুন্নাহ হলো তার বাস্তব রূপ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথ নির্দেশ করে, যা সর্বাধিক সঠিক।’ (সুরা : ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৯)।

যে ব্যক্তি নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করে, অর্থ বুঝে পড়ে, চিন্তা-গবেষণা করে এবং জীবনে বাস্তবায়ন করে- তার ঈমান দৃঢ় হয়। একইভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ ঈমান রক্ষার ঢালস্বরূপ। বিদআত ও মনগড়া আমল থেকে দূরে থাকাও ঈমান সুরক্ষার অন্যতম উপায়।

ফরজ ইবাদতে যত্নশীলতা

ইবাদত ঈমানকে শক্তিশালী করে আর গুনাহ ঈমানকে দুর্বল করে। নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ- এসব ফরজ ইবাদত ঈমানের প্রহরী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘বান্দা ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম)।

নামাজ ত্যাগ করলে ঈমান মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। নিয়মিত নামাজ, বিশেষ করে জামাতে নামাজ ঈমানকে জীবন্ত রাখে। রোজা আত্মসংযম শেখায়, জাকাত সম্পদের মোহ কাটায়, হজ তাওহিদের বাস্তব প্রশিক্ষণ দেয়- সব মিলিয়ে ফরজ ইবাদত ঈমান রক্ষার অপরিহার্য উপাদান।

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা

গুনাহ ঈমানের বিষ। ছোট গুনাহ জমে বড় গুনাহে পরিণত হয় আর বড় গুনাহ ঈমান নিভিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুমিন গুনাহ করলে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে।’ (তিরমিজি)।

চোখের গুনাহ, জিহ্বার গুনাহ, হারাম উপার্জন, সুদ, ঘুষ, ব্যভিচার, মিথ্যা- এসব ঈমান ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। তাই ইসলাম ঈমান রক্ষার জন্য হারাম থেকে কঠোরভাবে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

তাওবা ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব

মানুষ ভুল করে, গুনাহ হয়- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাওবা না করা মারাত্মক বিপদ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)।

নিয়মিত ইস্তিগফার ঈমানকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে। তাওবা ঈমানকে পুনরুজ্জীবিত করে, হৃদয়কে নরম করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করে।

সৎ সঙ্গ বেছে নেওয়া

মানুষ তার বন্ধুর দ্বিনের ওপর থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের উচিত দেখা- সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে।’ (আবু দাউদ)।

দ্বিনদার, তাকওয়াবান, আলেম ও সৎ লোকদের সঙ্গ ঈমান বাড়ায়। আর নাস্তিক, গুনাহগার ও ভ্রান্ত লোকদের সঙ্গ ঈমান ধ্বংস করে। তাই ঈমান রক্ষায় সৎ সঙ্গ বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দুনিয়াপ্রীতি ও ভোগবাদ থেকে সতর্কতা

অতিরিক্ত দুনিয়াপ্রীতি ঈমানের সবচেয়ে বড় শত্রু। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘দুনিয়ার জীবন ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২০)।

সম্পদ, পদ, খ্যাতি যদি অন্তরে আসন গেড়ে বসে- তবে ঈমান দুর্বল হয়। ইসলাম দুনিয়া ত্যাগ করতে বলেনি, কিন্তু দুনিয়াকে অন্তরে জায়গা দিতে নিষেধ করেছে।

ইলম অর্জন ও অজ্ঞতা দূর করা

অজ্ঞতা ঈমানের শত্রু। সহিহ ইলম ছাড়া মানুষ শিরক, বিদআত ও বিভ্রান্তিতে পড়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।’ (ইবনে মাজাহ)। কোরআন-হাদিসের সহিহ জ্ঞান ঈমান রক্ষার শক্ত ভিত তৈরি করে।

আল্লাহর ওপর ভরসা ও দোয়ার গুরুত্ব

তাওয়াক্কুল ঈমানের অংশ। দোয়া মুমিনের অস্ত্র। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ৬০)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও দোয়া করতেন, ‘হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বিনের ওপর স্থির রাখ।’ (তিরমিজি)।

ঈমানের নিরাপত্তা

ঈমান একবার অর্জন করলেই নিরাপদ- এমন নয়। ঈমান আজীবন পাহারা দিতে হয়। ইসলামের নির্দেশনাগুলো মূলত ঈমানকে রক্ষা করার জন্যই। বিশুদ্ধ আকিদা, ইবাদত, গুনাহ থেকে বাঁচা, তাওবা, ইলম, সৎ সঙ্গ ও আল্লাহর স্মরণ- এসবের সমন্বয়েই ঈমান সুরক্ষিত থাকে। আজকের ফিতনাপূর্ণ যুগে ঈমান রক্ষা করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। প্রয়োজন শুধু আন্তরিকতা, সচেতনতা ও আল্লাহর সাহায্য কামনা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের সঙ্গে জীবন ও ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু দান করুন। আমিন।

লেখক : মুহতামিম, জহিরুল উলুম মহিলা মাদরাসা, গাজীপুর।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৫ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৫ জুন ২০২৬

আজ সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৮ জিলহজ ১৪৪৭।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০২ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৩৮ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫১ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৭ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৪৬ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৭ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১১ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

বিশ্বখ্যাত ইসলামী অর্থনীতিবিদ ড. উমর চাপড়ার ইন্তেকাল

ইসলামী জীবন ডেস্ক
বিশ্বখ্যাত ইসলামী অর্থনীতিবিদ ড. উমর চাপড়ার ইন্তেকাল

আধুনিক যুগের ইসলামী অর্থনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ উমর চাপরা ইন্তেকাল করেছেন। তিনি গত কয়েক দশক ধরে ইসলামী অর্থনীতি ও অর্থায়নে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন। 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মক্কায় তিনি ইন্তেকাল করেন। আজ রবিবার ফজর নামাজের পর মক্কার মসজিদুল হারামে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে জান্নাতুল মুয়াল্লায় দাফন করা হয়। ড. মুহাম্মদ উমর চাপরার ছেলে ড. আনাস চাপরা আরব নিউজকে এ কথা জানিয়েছেন। 

ড. উমর চাপরা জেদ্দায় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামী অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সে বহুবিধ অবদানের জন্য তিনি ১৯৮৯ সালে ‘ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক পুরস্কার’ অর্জন করেন। পরে ইসলামী শিক্ষায় ইসলামিক ফাইন্যান্স বিষয়ক বিশেষ অবদান রাখায় ১৯৯০ সালে কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন।

ড. উমর চাপরা ১৯৩৩ সালে অবিভক্ত ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৬ সালে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমার্স বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৯৬১ সালে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ড. চাপরা মিনেসোটায় গবেষণা সহকারী এবং উইসকনসিন ও কেন্টাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। 

ড. উমর চাপরা পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকনোমিকস-এর সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ও পাকিস্তান ডেভেলপমেন্ট রিভিউ-এর সহযোগী সম্পাদক ছিলেন। পরে পাকিস্তান সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক রিসার্চ-এ রিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৬টি এবং প্রবন্ধ সংখ্যা শতাধিক। তিনি ইসলামি অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সের ওপর ব্যাপক লেখালেখি করেছেন। তাঁর অন্যতম গ্রন্থগুলো হচ্ছে- ‘টুয়ার্ডস এ জাস্ট মনিটারি সিস্টেম (১৯৮৫)’, ‘ইসলাম এন্ড ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট (১৯৮৮)’, ‘ইসলাম এন্ড দি ইকনোমিক চ্যালেঞ্জ (১৯৯২)’, ‘দা ফিউচার অব ইকোনোমিকস: এন ইসলামিক পারসপেকটিভ (২০০০)’ এবং ‘মুসলিম সিভিলাইজেশন: দ্য কজেজ অব ডিক্লাইন এন্ড দ্য নিড ফর রিফর্ম (২০০৭)’ এবং ‘মোরালিটি অ্যান্ড জাস্টিস ইন ইসলামিক ইকনোমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্স’ (২০১৪)। 

ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা কি জায়েজ?

মুফতি ওমর বিন নাছির
ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে যেমন ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি সুস্থ দেহ গঠনের জন্য বৈধ খেলাধুলা ও শরীরচর্চারও অনুমোদন রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও দৌড় প্রতিযোগিতা, তীরন্দাজি ও ঘোড়দৌড়ের মতো বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলনকে উৎসাহিত করেছেন। তবে ইসলামে প্রতিটি কাজের জন্য উপযুক্ত স্থান ও পরিবেশ নির্ধারিত রয়েছে। কোনো স্থানের ধর্মীয় মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টিও শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তাই অনেক সময় কোনো কাজ নিজে বৈধ হলেও বিশেষ কোনো স্থানে তা করা অনুচিত বা নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে। ঈদগাহ মাঠে খেলাধুলার বিষয়টিও এ ধরনের একটি আলোচ্য বিষয়।

ইসলামে পবিত্র স্থানসমূহের মর্যাদা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান করে, নিশ্চয়ই তা অন্তরের তাকওয়ার পরিচায়ক।’ (সুরা : হাজ, আয়াত : ৩২)

ঈদগাহ এমন একটি স্থান, যেখানে মুসলমানরা বছরে দুইবার বৃহৎ জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তাই এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিদর্শন (শাআইরে ইসলাম)-এর অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে এর মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষা করা মুসলমানদের কর্তব্য। ফিকহের কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়াকফকৃত ঈদগাহ সম্পূর্ণরূপে মসজিদ না হলেও কিছু বিধানের ক্ষেত্রে মসজিদের হুকুম প্রযোজ্য হয়। হানাফি ফকিহগণ লিখেছেন যে, ‘ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মত হলো, ইমামের অনুসরণে ঈদের নামাজ আদায় বৈধ হওয়ার দিক থেকে ঈদগাহকে মসজিদের হুকুম দেওয়া হবে। তবে এর নির্মাতা মূলত একে মসজিদ হিসেবে নির্মাণ করেননি। তাই এটিকে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ না বললেও এর মর্যাদা নষ্ট হয় না।’ (রাদ্দুল মুহতার, ২/৪৩০, আল-বাহরুর রায়েক, ২/৬৫, আন-নাহরুল ফায়েক, ১/২৮৮)

এ কারণেই ফকিহয়ে কেরামগণ বলেছেন, ঋতুবতী নারী বা গোসল ফরজ অবস্থায় থাকা ব্যক্তির ঈদগাহে প্রবেশ বৈধ। কারণ এটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নয়। তবে একই সঙ্গে তারা এ স্থানকে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঈদগাহ মাঠে খেলাধুলার হুকুম
খেলাধুলা মূলত জায়েজ। যদি তাতে জুয়া, অশ্লীলতা, নামাজ নষ্ট হওয়া বা অন্য কোনো হারাম বিষয় না থাকে, তাহলে সাধারণ স্থানে এসব খেলাধুলা বৈধ। কিন্তু ওয়াকফকৃত ঈদগাহ মাঠের বিষয়টি ভিন্ন। কারণ এটি আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্ধারিত ও ধর্মীয় মর্যাদাসম্পন্ন স্থান। খেলাধুলার সময় সাধারণত দৌড়াদৌড়ি, হাসি-তামাশা, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং নানা ধরনের কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে, যা ঈদগাহের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে ফকিহগণ সতর্কতামূলকভাবে বলেছেন, ‘সতর্কতার স্বার্থে ঈদগাহকে সাধারণ স্থানের মতো ব্যবহার না করে মসজিদের মর্যাদার নিকটবর্তী হিসেবে গণ্য করা উচিত।’ (আল-বাহরুর রায়েক, ৫/৪১৭, রাদ্দুল মুহতার, ৬/৫৪৫)

সুতরাং খেলাধুলা নিজে বৈধ হলেও ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা সমীচীন নয়। বিশেষ করে যখন তা ঈদগাহের সম্মান ও পবিত্রতার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়। তাই আল্লাহর দ্বীনের নিদর্শন ও ইবাদতের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোর মর্যাদা সংরক্ষণ করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

অতএব, শারীরিক অনুশীলনমূলক খেলাধুলা ইসলামে জায়েজ আছে। তবে ওয়াকফকৃত ঈদগাহ মাঠ সাধারণ খেলার মাঠ নয়; এটি মুসলমানদের একটি ধর্মীয় ও ইবাদতসংক্রান্ত স্থান। যদিও তা পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মসজিদের সব বিধান প্রযোজ্য হয় না, তবুও এর মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য ফকিহরা সেখানে খেলাধুলা ও অনুরূপ কর্মকাণ্ডকে অনুচিত বলেছেন। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য উত্তম হলো শরীরচর্চা ও খেলাধুলার জন্য অন্য কোনো সাধারণ মাঠ বা উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা এবং ঈদগাহের ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা। কারণ আল্লাহর নিদর্শনের সম্মান রক্ষা করা তাকওয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।