• ই-পেপার

পারিবারিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

সামনে দিয়ে বিড়াল হেঁটে যাওয়া কি আসলেই অশুভ? জেনে নিন ইসলাম কী বলে

অনলাইন ডেস্ক
সামনে দিয়ে বিড়াল হেঁটে যাওয়া কি আসলেই অশুভ? জেনে নিন ইসলাম কী বলে
সংগৃহীত ছবি

আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটি কুসংস্কার হলো—কোনো ভালো কাজে বের হওয়ার সময় সামনে দিয়ে বিড়াল হেঁটে গেলে বা রাস্তা পার হলে যাত্রা অশুভ হয়। অনেকেই একে অমঙ্গলের লক্ষণ মনে করে কাজ থেকে বিরত থাকেন কিংবা ভিন্ন পথ ধরেন। কিন্তু ঘরের আশেপাশে ঘুরে বেড়ানো নিরীহ এই প্রাণীটিকে ঘিরে এমন ধারণা পোষণ করার কি আদৌ কোনো ভিত্তি আছে ইসলামে? পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিড়াল পোষা, এর প্রতি মানবিক আচরণ এবং আমাদের সমাজে প্রচলিত এই ‘অশুভ’ ধারণার আসল সত্যটি জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ইসলামে বিড়াল পালনের অনুমতি রয়েছে। অনেক সাহাবীও বিড়াল পালতেন। তবে বিড়াল পোষার শর্ত হলো অবশ্যই বিড়ালের যথাযথ যত্ন নিতে হবে এবং তাকে ঠিকমতো খাবার দিতে হবে। কারণ, শুধুমাত্র একটি বিড়ালের প্রতি অন্যায়ের ফলে হাদিসে এক নারীকে কঠিন শাস্তি দেয়ার কথাও এসেছে।

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- একজন নারীকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। পরে ওই অবস্থায় বিড়ালটি মারা যায়। এজন্য ওই নারীর পরিণতি হয় জাহান্নাম। কারণ, সে বিড়ালটিকে দানা-পানি কিছুই দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যাতে সে নিজ খুশিমতো জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৩৬)

আবার পোষা বিড়ালে উচ্ছিষ্টও ইসলামের দৃষ্টিতে নাপাক নয়। আবু কাতাদর পুত্রবধূ কাবশা বিনত কা’ব ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার আবু কাতাদা (রা.) তার কাছে এলেন এবং তিনি তার অজুর পানি ঢেলে দিলেন। ওই সময় একটি বিড়াল এসে পানি পান করতে শুরু করল। তখন আবু কাতাদা (রা.) বিড়ালটির জন্য পানির পাত্রটি কাত করে ধরলেন। এতে বিড়ালটি পরিতৃপ্ত হয়ে পানি পান করল। ওই সময় আবু কাতাদা (রা.) তাকে আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললেন- হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি এতে বিস্ময় প্রকাশ করছ! পরে হ্যাঁ সূচক জবাব দিলে আবু কাতাদা (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- বিড়ালের উচ্ছিষ্ট নাপাক নয়। কারণ, বিড়াল তো তোমাদের আশপাশেই ঘোরাফেরা করে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ৯২)

তবে বিড়াল পোষার ক্ষেত্রে অনুমতি থাকলেও ইসলামে প্রাণিটি কেনা-বেচায় নিষেধ রয়েছে। আবু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার আমি জাবির (রা.) এর কাছে কুকুর ও বিড়ালের মূল্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি বললেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন (অর্থাৎ, কেনা-বেচায় নিষেধ করেছেন)। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৯০৭)

এ ক্ষেত্রে বাসা-বাড়ির আশপাশে প্রায়সময় বিড়াল ঘুরাফেরা করলেও পোষা এই প্রাণিটিকে ঘিরে একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়। অনেকেই বলে থাকেন, কারও সামনে দিয়ে বিড়াল অতিক্রম করলে বা বিড়াল কারও রাস্তা কাটলে অমঙ্গল হয়। কেউ কেউ এমনও বলে থাকেন যে, বিড়াল সামনে দিয়ে যাওয়া একটি অশুভ লক্ষণ। আবার কেউ কেউ কোনো উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর যদি বিড়াল সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তবে অমঙ্গলের আশঙ্কায় সেই কাজ থেকে বিরতও থাকেন। আসলেই কি ইসলামি শরিয়তে এমন কিছু আছে?

প্রথমত, অশুভ বা কুলক্ষণে বিশ্বাস করা ইসলামে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ (পাপ) শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কুলক্ষণে বিশ্বাস করা শিরকের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এমন কেউই আমাদের মধ্যে নেই যার মনে এর ধারণা আসে না। তবে আল্লাহ তা’আলা তার ওপর (মুমিন লোকের) ভরসার কারণে তা দূর করে দেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ১৬১৪)

আরেকটি হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়য়া (রা.) বলেছেন- আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই কথা বলতে শুনেছি যে, শুভ-অশুভ নির্ণয়ে কোনো লাভ নেই, বরং শুভ লক্ষণ গ্রহণ করা ভালো। ওই সময় সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), শুভ লক্ষণ কি? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন, ভালো বাক্য যা তোমাদের কেউ শুনে থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৩৪৩)

অন্যদিকে পবিত্র কোরআন বা হাদিসের কোথাও বিড়াল সামনে দিয়ে রাস্তা পার হলে তাতে অমঙ্গল হবে বা এটি অশুভ কোনোকিছু এমন কোনো বিষয়ের উল্লেখ নেই। তবে জিন জাতি যে বিড়াল ও সাপসহ বিভিন্ন প্রাণির রূপ ধারণ করতে পারে সে বিষয়ে সহিহ হাদিসে বর্ণনা এসেছে। কিন্তু এই বিষয়টিকে ঘিরে সব বিড়ালকেই জিন ভাবা কিংবা বিড়াল সামনে দিয়ে গেলে কারও অমঙ্গল হবে এমন ধারণা করা মোটেও উচিত নয়।

তবে বিড়াল সামনে দিয়ে গেলে যদি কারও মধ্যে দ্বিধার সৃষ্টি হয় বা অসুবিধাজনক কিছু মনে হয় তবে চাইলে দোয়া পড়া যায়। আহমাদ আল-কুরাশী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একবার শুভ ও অশুভ লক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলে তিনি বলেন- হ্যাঁ, শুভ লক্ষণ হচ্ছে ফা’ল (শুভ চিন্তা)। আর এমন অশুভ কিছু নেই যা মুসলিমকে কোনো কাজে বা কোথাও যাত্রা থেকে বিরত রাখতে পারে। তবে তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অসুবিধাজনক কিছু দেখতে পায়, তাহলে সে যেন বলে-

للَّهُمَّ لَا يَأْتِي بِالْحَسَنَاتِ إِلَّا أَنْتَ، وَلَا يَدْفَعُ السَّيِّئَاتِ إِلَّا أَنْتَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِكَ

বাংলা: আল্লাহুম্মা লা ইয়াতি বিল হাসানাতি ইল্লা আনতা, ওয়ালা ইয়াদফাউস সাইয়িআতি ইল্লা আনতা, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিকা (অথবা ইল্লা বিল্লাহ)।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই তো কল্যাণদাতা এবং আপনিই তো অকল্যাণ দূরকারী। আপনি ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই, শক্তিও নেই। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৩৯১৯)

কোরআনের বাণী

যেদিন অপরাধ স্বীকার কোনো কাজে আসবে না

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যেদিন অপরাধ স্বীকার কোনো কাজে আসবে না
সংগৃহীত ছবি

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

 وَ اقۡتَرَبَ الۡوَعۡدُ الۡحَقُّ فَاِذَا هِیَ شَاخِصَۃٌ اَبۡصَارُ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا ؕ یٰوَیۡلَنَا قَدۡ كُنَّا فِیۡ غَفۡلَۃٍ مِّنۡ هٰذَا بَلۡ كُنَّا ظٰلِمِیۡنَ

সরল অনুবাদ : 
‘চিরসত্য প্রতিশ্রুত সময় যখন ঘনিয়ে আসবে, তখন হঠাৎ কাফিরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। তারা বলবে, ‘হায়, আমাদের দুর্ভোগ! আমরা তো এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম বরং আমরা ছিলাম জালিম ।’ (সুরা : আম্বিয়া : আয়াত : ৯৭)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশের পর যখন কিয়ামতের চিরসত্য প্রতিশ্রুত সময় এসে পড়বে, কিয়ামত অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা দেখে কাফেরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। তারা নিজেদের ভুল-ত্রুটি বুঝতে পেরে এবং কেয়ামতের ভয়াবহ পরিণতি দেখে হতভম্ব হয়ে যাবে। এমনকি তারা তাদের ভুল-ত্রুটিগুলো স্বীকার করতে থাকবে। তারা বলবে, নবীরা এসে আমাদের এ দিনটি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা ছিলাম গাফেল ও উদাসীন। আমরা নবীদের কথা না শুনে বরং তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিলাম। এভাবে তারা নিজেদের অপরাধের স্বীকৃতি দিতে থাকবে, কিন্তু তা তাদের কোন কাজে আসবে না। (ইবন কাসির, তাফসিরে আহসানুল বায়ান, তাফসিরে জাকারিয়া)

শিক্ষা ও বিধান

১. কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী ও চিরসত্য। আল্লাহ তাআলা কিয়ামতকে ‘চিরসত্য প্রতিশ্রুত বিষয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, কিয়ামতের আগমন, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত ও জাহান্নাম—সবই সত্য এবং অবধারিত।

২. কিয়ামত হঠাৎ উপস্থিত হবে। কিয়ামতের ভয়াবহ মুহূর্ত মানুষ হঠাৎই প্রত্যক্ষ করবে। তখন কাফিরদের চোখ বিস্ময়, ভীতি ও আতঙ্কে স্থির হয়ে যাবে।

৩. উদাসীনতা মানুষের বড় ক্ষতির কারণ। কাফিররা স্বীকার করবে যে তারা সত্য সম্পর্কে উদাসীন ও অসচেতন ছিল। এটি শিক্ষা দেয় যে, দ্বীন ও আখিরাতের ব্যাপারে গাফেল থাকা মারাত্মক অপরাধ।

৪. অন্যায় ও পাপের পরিণতি ভয়াবহ। তারা শুধু গাফেলই ছিল না; বরং নিজেদের ওপর জুলুম করেছে। কুফর, শিরক ও পাপাচার মূলত মানুষের নিজের ওপরই জুলুম।

৫. মৃত্যুর পর অনুতাপ কোনো উপকারে আসবে না। কিয়ামতের দিন তারা আফসোস করবে—‘হায়, আমাদের দুর্ভোগ!’ কিন্তু তখন এই অনুতাপ তাদের কোনো উপকার করবে না। তাই তাওবা ও সংশোধনের সুযোগ দুনিয়ার জীবনেই গ্রহণ করতে হবে।

সুতরাং এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কিয়ামত এক অনিবার্য সত্য। তাই গাফেলতি ও পাপাচার ত্যাগ করে ঈমান, নেক আমল, তাওবা ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাই একজন মুমিনের কর্তব্য। কিয়ামতের দিন যেন আফসোস করতে না হয়, সে জন্য আজই নিজেকে সংশোধন করা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে বুঝার তাওফিক দান করুক। আমিন।

শয়তান থেকে সুরক্ষা লাভের দোয়া

মুফতি ওমর বিন নাছির
শয়তান থেকে সুরক্ষা লাভের দোয়া
সংগৃহীত ছবি

শয়তান মানুষের চিরশত্রু। সে যুগে যুগে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করছে। কখনো কুমন্ত্রণা দিয়ে, কখনো পাপকে সুন্দর করে দেখিয়ে, আবার কখনো হতাশা ও সন্দেহ সৃষ্টি করে সে মানুষের ঈমান ও আমলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একজন মুমিনের জন্য শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাইতো মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। তেমনি একটি দোয়া হলো- 

لا إلهَ إلاَّ اللَّه وحْدهُ لاَ شَرِيكَ لهُ، لَهُ المُلْكُ، ولَهُ الحمْدُ، وَهُو عَلَى كُلِّ شَيءٍ قَدِيرٌ 

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু। ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। 

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তারই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তারই জন্য, আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। 

হাদিস : মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দিনে একশ বার এই দোয়া পাঠ করবে,এই দোয়া দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত শয়তান থেকে তার জন্য সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে...। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩২৯৩)

হাদিসের বাণী

গোপনীয়তা রক্ষায় নববী শিক্ষা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
গোপনীয়তা রক্ষায় নববী শিক্ষা
সংগৃহীত ছবি

সাবিত (রহ.) থেকে বর্ণিত, আনাস (রা.) বলেন, একবার মহানবী (সা.) আমার কাছে এলেন, আমি তখন পাড়ার ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করছিলাম। তিনি এসে আমাদের সালাম দিলেন। তিনি আমাকে কোনো একটা প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। ফলে আমার মা আমাকে দীর্ঘক্ষণ দেখতে পান নি। আমি বাড়িতে ফিরলে আমার মা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? আমি বললাম, মহানবী (সা.) আমাকে তাঁর একটা কাজে পাঠিয়েছিলেন। মা বললেন, কোন কাজে? আমি বললাম, সেটা তো মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত বিষয়। তখন মা আমাকে বললেন, মহানবী (সা.)-এর গোপন বিষয় কারও কাছে তুমি প্রকাশ করবে না। তারপর আনাস (রা.) বলেন, ওয়াল্লাহি, (আল্লাহর কসম)  হে সাবিত, আমি যদি এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলতাম, তাহলে তোমাকে বলতাম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৬৩৭৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১২০৬০)

 

শিক্ষা ও বিধান

১. মহানবী (সা.) শিশুদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন। তিনি আনাস (রা.) ও তাঁর সাথীদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সালাম দিয়েছেন। 

২. শিশুদেরও সালাম দেওয়ার মাধ্যমে মহানবী (সা.) উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, সালাম শুধু বড়দের জন্য নয়; ছোট-বড় সকল মুসলমানের মধ্যে সালামের প্রচলন করা সুন্নত।

৩. আনাস (রা.) মহানবী (সা.)-এর গোপন বিষয় প্রকাশ করেননি। এটি প্রমাণ করে যে, কারও ব্যক্তিগত বা আমানতস্বরূপ কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করা বৈধ নয়।

৪. আনাস (রা.)-এর মা তাঁকে জিজ্ঞাসা করার পর যখন জানলেন এটি মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত বিষয়, তখন তিনি তা জানার জন্য চাপ দেননি; বরং গোপনীয়তা রক্ষার শিক্ষা দিয়েছেন। এটি আদর্শ অভিভাবকত্বের দৃষ্টান্ত।

৫. আনাস (রা.) মায়ের কাছে মিথ্যা অজুহাত দেননি; বরং সত্য বলেছেন যে তিনি মহানবী (সা.)-এর কাজে গিয়েছিলেন। একজন মুমিন সর্বদা সত্য কথা বলবে।

৬. আনাস (রা.) বহু বছর পরও সেই গোপন বিষয় প্রকাশ করেননি। এটি সাহাবায়ে কেরামের আমানতদারি, তাকওয়া ও নবী ﷺ-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার পরিচয় বহন করে।

৭. অপ্রয়োজনীয় কৌতূহল পরিহার করা জরুরি। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার জন্য অতিরিক্ত আগ্রহ বা অনুসন্ধান করা ইসলামের আদর্শ নয়। মানুষের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।