• ই-পেপার

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ

সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আ. লীগের বিচার নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর

সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই তদন্ত শুরু হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই তদন্ত শুরু হয়েছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনারের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনারের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত অপরাধে দলগতভাবে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা আছে। আর সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে ট্রাইব্যুনালের খবর সংগ্রহকারী কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে গত ৫ জুলাই এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। সাংবাদিকরা তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই তো তদন্ত শুরু হয়েছে। আমাদের তদন্ত টিম কাজ করছে। প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা তো আছেই। তদন্ত সম্পন্ন হওয়া তো সময়ের ব্যাপার।’

প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতার মধ্যে কী আছে, এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্যে দলগত তাদের (আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের) সংশ্লিষ্টতা আছে। আমরা এই অভিযোগের প্রাথমিক একটি সংশ্লিষ্টতার সূত্র ধরেই ইনভেস্টিগেশন করছি। যেহেতু ইনভেস্টিগেশন চলছে, তাই শুধু জুলাই সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন না, সামগ্রিকভাবে আরো কী কী অপরাধের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে, সেটিও দেখা হচ্ছে। যদি দেখা যায় যে শেষ পর্যন্ত দলটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেক্ষেত্রে সংগঠন হিসেবে তার বিচার হবে।’

জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে বিচারের মুখোমুখি করতে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছিলেন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সে সময় নিজেকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।  

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যে অভিযোগটা আমাদের কাছে এসেছে, সে অভিযোগটা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমাদের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি, তদন্তকারী কর্মকর্তারা আছেন। অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে আপাতত জুলাই আন্দোলনে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তদন্তের পর বিচারে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী শাস্তি হতে পারে, এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যদি সাজা হয়, তবে আমাদের আইনে পরিষ্কার বলা আছে ওই সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হতে পারে, সংগঠনের যদি কোনো সম্পদ থাকে সেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে পারে। সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যেতে পারে।’

এর আগে গত বছর ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ শুরু হয়েছে। এরপর আর এ বিষয়ে কোনো আলোচনা ছিল না। গত ৪ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই রাজনৈতিক দলকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই গত ৫ জুলাই আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে জানতে চিফ প্রসিকিউটরের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাংবাদিকরা। এরপর আজ বিষয়টি নিয়ে আবারও তিনি কথা বললেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা
সংগৃহীত ছবি

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি চলছে। গতকাল সোমবার শুনানির পর আজ মঙ্গলবারও প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানি হয়। শুনানি করেন রিটকারী পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. শরীফ ভূঁইয়া। তাঁর শুনানির পর শুনানি করেন জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সংবিধান সংক্রান্ত মামলাটি কাল (বুধবার) ফের শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার শুনানির পর দুই আইনজীবীই এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন।

৯৬, ১০২ অনুচ্ছেদ ছাড়া পুরো সংশোধনী বাতিল করা উচিত : শরীফ ভূঁইয়া

আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত এবং অপসারণের ক্ষমতা সংক্রান্ত ৯৬ অনুচ্ছেদের ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’, জনস্বার্থসহ কিছু বিষয়ে আদেশ-নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা সংক্রান্ত সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদকে সুরক্ষা দিয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংধোনী পুরোটা অসাংবিধানিক বা বাতিল করার আরজি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতাসংক্রান্ত ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরত থাকার আরজি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

শরীফ ভূঁইয়া বলেন, ‘পঞ্চাদ সংশোধনী পুরোটাই বাতিল হওয়া উচিত দুটো কারণে। প্রথমটি হচ্ছে, এটা খুবই অস্বচ্ছ একটা প্রক্রিয়ায় পাস করা হয়েছে এবং এটা একটা ব্যাপক সংশোধনী, যেটা সংবিধানের একটা পুনর্লিখনের মত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এটা সংবিধানের সাথে এক ধরনের প্রতারণা।’

মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক অংশটুকুতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত : শিশির মনির

আইনজীবী শিশির মনির জানিয়েছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিসহ নীতিনির্ধারণী বিষয় এবং সংসদের ক্ষমতা বা দয়িত্বে হস্তক্ষেপ না করে পঞ্চদশ সংশোধনীর যেসব বিষয় সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেই সব বিষয়ে যেন সর্বোচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত দেন।

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে একটা বিশাল পরিবর্তনের সূচনা করা হয়েছিল উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, ‘এটিকে শুধুমাত্র একটা সংশোধনী বললে ভুল হবে। এটি মূলত সংবিধানকে পুনর্লিখনই করা হয়েছে।’

সংবিধানের ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, ‘এগুলো মূলত নীতি নির্ধারণী ব্যাপার। আমরা বলেছি নীতিনির্ধারণী ব্যাপার যেগুলো, সেগুলো মূলত সংসদের দায়িত্ব। একটা প্রপার বিতর্ক করে সাংবিধানিক বিলের মাধ্যমে কোনটা একসেপ্ট করবে কোনটা একসেপ্ট করবে না এই দায় দায়িত্ব পার্লামেন্টের। আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আদালত যদি হস্তক্ষেপ করেন তাহলে সংসদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়। সেই জন্য ওই অংশটুকু পার্লামেন্টের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। আর বাকি অংশটুকু যেটা বেসিক স্ট্রাকচার সঙ্গে সাংঘর্ষিক সেই অংশটুকুতে শুধু আদালতের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ‘পঞ্চদশ সংশোধনী আইন’ নামে পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তাতে অনুমোদন দেন। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ ৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি। এই রিটে প্রাথমিক শুনানির পর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১ কেন অসাংবিধানিক এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। চূড়ান্ত শুনানির পর রুল নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয় রায়ে।

গত বছর ৩ নভেম্বর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভটু আপিল) করেন চার রিট আবেদনকারী। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও লিভ টু আপিল করেন। গত বছর ১৩ নভেম্বর এসব লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে তাঁদের আপিল করার অনুমিত দেন সর্বাচ্চ আদালত। এরপর শুরু হয় শুনানি। আপিলে শুনানি চলার মধ্যে গত ২ ডিসেম্বর বিএনিপির পক্ষে এসব আপিলে পক্ষভুক্ত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত বছর ৭ ডিসেম্বর রিটকারীদের পক্ষে শুনানি শেষ করেছিলেন আইনজীবী মো. শরীফ ভূইয়া। এরপর শুনানি শুরু করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। গত বছর ১১ মে এই আইনজীবীর আরজিতেই শুনানি মুলতবি করেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

এরপর বিভিন্ন সময় মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে। এরপর গত সোমবার থেকে মামলাটিতে শুনানি শুরু হয়।

জুলাইয়ের হত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি ইকবাল বাহারসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাইয়ের হত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি ইকবাল বাহারসহ ৩ জন গ্রেপ্তার
সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ইকবাল বাহার। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমন গাজী নামে এক যুবককে হত্যার মামলায় সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ইকবাল বাহার, ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ মুন্না ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশের পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ীর থানায় উপপরিদর্শক এমাদুল করিম। 

আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল বাহারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানার অপর একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো একান্ত প্রয়োজন। 

এ ছাড়া একই মামলায় করা আরেক আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আসামি হারুনুর রশীদ মুন্না ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

আবেদনে বলা হয়, সরাসরি নির্দেশ ও মদদে মো. ইয়াছিন উদ্দিন ওরফে শুটার লিটন ইমন গাজীকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইমন গাজীর মৃত্যু হয় বলে তদন্তে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। হারুনুর রশীদ মুন্না ও কাজী মনিরুল ইসলাম মনু পৃথক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ইমন গাজী। এ ঘটনায় তার ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২৮ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

১৫ বছর আগের শিশু হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ বছর আগের শিশু হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ১৫ বছর আগে শিশু মাহফুজকে (৮) অপহরণের পর হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করে আসামিরা। পরে তারা পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পাওয়ায় প্রায় দেড় মাস আটকের পর ওই বছরের ২০ আগস্ট রাতে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখেন আসামিরা।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ইতালি প্রবাসী ছিলেন এবং আসামিদের সঙ্গে তাদের পূর্বশত্রুতা ছিল।

ঘটনার পর ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নিজাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে আটজন সাফাই সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ মঙ্গলবার তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

এর আগে একই মামলায় দুই নাবালক আসামি মেহেদী ও সাদ্দামকে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছিল।