• ই-পেপার

পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা

আ. লীগের বিচার নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর

সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই তদন্ত শুরু হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই তদন্ত শুরু হয়েছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনারের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনারের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত অপরাধে দলগতভাবে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা আছে। আর সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে ট্রাইব্যুনালের খবর সংগ্রহকারী কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে গত ৫ জুলাই এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। সাংবাদিকরা তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই তো তদন্ত শুরু হয়েছে। আমাদের তদন্ত টিম কাজ করছে। প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা তো আছেই। তদন্ত সম্পন্ন হওয়া তো সময়ের ব্যাপার।’

প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতার মধ্যে কী আছে, এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্যে দলগত তাদের (আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের) সংশ্লিষ্টতা আছে। আমরা এই অভিযোগের প্রাথমিক একটি সংশ্লিষ্টতার সূত্র ধরেই ইনভেস্টিগেশন করছি। যেহেতু ইনভেস্টিগেশন চলছে, তাই শুধু জুলাই সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন না, সামগ্রিকভাবে আরো কী কী অপরাধের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে, সেটিও দেখা হচ্ছে। যদি দেখা যায় যে শেষ পর্যন্ত দলটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেক্ষেত্রে সংগঠন হিসেবে তার বিচার হবে।’

জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে বিচারের মুখোমুখি করতে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছিলেন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সে সময় নিজেকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।  

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যে অভিযোগটা আমাদের কাছে এসেছে, সে অভিযোগটা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমাদের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি, তদন্তকারী কর্মকর্তারা আছেন। অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে আপাতত জুলাই আন্দোলনে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তদন্তের পর বিচারে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী শাস্তি হতে পারে, এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যদি সাজা হয়, তবে আমাদের আইনে পরিষ্কার বলা আছে ওই সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হতে পারে, সংগঠনের যদি কোনো সম্পদ থাকে সেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে পারে। সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যেতে পারে।’

এর আগে গত বছর ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ শুরু হয়েছে। এরপর আর এ বিষয়ে কোনো আলোচনা ছিল না। গত ৪ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই রাজনৈতিক দলকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই গত ৫ জুলাই আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে জানতে চিফ প্রসিকিউটরের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাংবাদিকরা। এরপর আজ বিষয়টি নিয়ে আবারও তিনি কথা বললেন।

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ

সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
সংগৃহীত ছবি

সময় মিডিয়া লিমিটেডের (সময় টিভি) বিজ্ঞাপন বিল বাবদ ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৩ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. হাসানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে নথি পর্যালোচনার পরে এই আদেশ দেন। সময় টিভির সাবেক পরিচালক আহমেদ জোবায়ের বাদী হয়ে আদালতে এই নালিশি মামলাটি দায়ের করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের ওমেদার অঙ্কন মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

​এর আগে আসামিপক্ষ মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানালেও আদালত তা মঞ্জুর না করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্ত নেন।

​মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য আসামিরা হলেন সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শম্পা রহমান, সাবেক পরিচালক মোর্শেদুল ইসলাম, সাবেক হেড অব মার্কেটিং মো. আহসানুল ইসলাম এবং সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার (মার্কেটিং) আয়েশা সিদ্দিকা।

​মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে ওই মাসের বিজ্ঞাপন বিল মওকুফের নোটিশ দেন। আসামিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা সময় টিভির আগস্ট মাসের বিজ্ঞাপন বিল বাবদ মোট ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৩ টাকা উত্তোলন করে কম্পানির হিসাব বিভাগে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে ই-মেইল মারফত অর্থ ও রসিদ বই ফেরত দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেননি। থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করায় বাদী আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বে সমন জারি করেছিলেন। আজ নির্ধারিত দিনে আসামিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এই আদেশ আসে।

জুলাইয়ের হত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি ইকবাল বাহারসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাইয়ের হত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি ইকবাল বাহারসহ ৩ জন গ্রেপ্তার
সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ইকবাল বাহার। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমন গাজী নামে এক যুবককে হত্যার মামলায় সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ইকবাল বাহার, ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ মুন্না ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশের পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ীর থানায় উপপরিদর্শক এমাদুল করিম। 

আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল বাহারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানার অপর একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো একান্ত প্রয়োজন। 

এ ছাড়া একই মামলায় করা আরেক আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আসামি হারুনুর রশীদ মুন্না ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

আবেদনে বলা হয়, সরাসরি নির্দেশ ও মদদে মো. ইয়াছিন উদ্দিন ওরফে শুটার লিটন ইমন গাজীকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইমন গাজীর মৃত্যু হয় বলে তদন্তে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। হারুনুর রশীদ মুন্না ও কাজী মনিরুল ইসলাম মনু পৃথক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ইমন গাজী। এ ঘটনায় তার ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২৮ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

১৫ বছর আগের শিশু হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ বছর আগের শিশু হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ১৫ বছর আগে শিশু মাহফুজকে (৮) অপহরণের পর হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করে আসামিরা। পরে তারা পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পাওয়ায় প্রায় দেড় মাস আটকের পর ওই বছরের ২০ আগস্ট রাতে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখেন আসামিরা।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ইতালি প্রবাসী ছিলেন এবং আসামিদের সঙ্গে তাদের পূর্বশত্রুতা ছিল।

ঘটনার পর ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নিজাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে আটজন সাফাই সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ মঙ্গলবার তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

এর আগে একই মামলায় দুই নাবালক আসামি মেহেদী ও সাদ্দামকে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছিল।