• ই-পেপার

আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি : মিসরের কোচ

কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনাকে পেল সুইজারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনাকে পেল সুইজারল্যান্ড

নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও গোল এল না কলম্বিয়া সুইজারল্যান্ড ম্যাচে। দুই দলই বেশকিছু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ফিনিশিং এর দুর্বলতায়। তাই টাইব্রেকারেই গড়ায় ম্যাচের ভাগ্য। সেখানে কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টারের টিকিট কেটেছে সুইজারল্যান্ড। 

এই মহাকাব্যিক জয়ে দীর্ঘ ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ আটে পা রাখল সুইজারল্যান্ড। এর আগে সর্বশেষ ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা। আর এই জয়ে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে সুইসরা। আগামী রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শেষ চারের টিকিট কাটার মহাযুদ্ধে মাঠে নামবে এই দুই দল। এর আগে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার নিশ্চিত করে রেখেছে আলবিসেলেস্তেরা।

ভ্যানকুভারে ম্যাচজুড়েই দুই দলের ফরোয়ার্ডদের হতাশ করেছেন দুই গোলরক্ষক। ম্যাচের ২১ মিনিটে প্রথম নিশ্চিত গোলের সুযোগ পায় কলম্বিয়া। বক্সের সামনে ডান দিকের উপরের কোণা থেকে বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নিচ্ছিলেন গুস্তাভো পুয়ের্তা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাজপাখির মতো লাফিয়ে বল বাইরে ঠেলে দেন সুইস গোলকিপার গ্রেগর কোবেল।

প্রথমার্ধের পানি পানের বিরতির পর গুছিয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। ৩১ মিনিটে কামিলো ভারগাসের ‘সুপার সেভে’ গোলবঞ্চিত হয় তারা। সুবিধাজনক স্থানে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাম দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন সুইস উইঙ্গার ফ্যাবিয়ান রাইডার। কলম্বিয়ান গোলরক্ষক ভারগাসের সঙ্গে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে শট নিলেও তা দারুণভাবে প্রতিহত করেন ভারগাস।

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫১ মিনিটে আবারও সুযোগ হারায় সুইজারল্যান্ড। ২০ গজ দূরে রাইডার সানচেজের ট্যাকলে পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়িয়ে জোরাল শট নেন, কিন্তু বল সাইড-নেটে লাগলে উল্লাসে মাতা হয়নি সুইসদের। পিছিয়ে ছিল না কলম্বিয়াও। ৬৩ মিনিটে কাছের পোস্ট ফাঁকা পেয়েও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে (৯১ মিনিটে) ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন সুইজারল্যান্ডের ড্যান এনডয়ে। ম্যানুয়েল আকানজির থ্রু বল ধরে তার নেওয়া শটটি গোলপোস্টের একদম সামনে দিয়ে বাইরে চলে যায়।

ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ১০১ মিনিটে কলম্বিয়ার কাম্পাজের নিচু শট ভলিবলের মতো ঘুষি মেরে ঠেকান কোবেল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে স্নায়ু ধরে রেখে শেষ আটের টিকিট কেটে মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড।

আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে কী বললেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে কী বললেন মেসি

ম্যাচের ২১ মিনিটে যখন তার বাঁ পায়ের পেনাল্টি শটটি মিশরীয় গোলরক্ষক রুখে দিলেন, তখন গ্যালারিজুড়ে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের বুকে যেন একরাশ মেঘ জমেছিল। তবে যার নাম লিওনেল মেসি, তিনি তো আর এমনি এমনি মহাজাগতিক ফুটবলার নন! প্রথমার্ধের সেই পেনাল্টি মিসের প্রায়শ্চিত্ত দ্বিতীয়ার্ধে সুদে-আসলে উসুল করলেন এই জাদুকর। প্রথমে রক্ষণ ভেঙে এক জাদুকরি অ্যাসিস্ট, আর এরপর নিজেই গোল করে দলকে ফেরালেন সমতায়। শেষ পর্যন্ত এনজো ফার্নান্দেজের ইনজুরি টাইমের গোলে ৩-২ ব্যবধানের এক মহাকাব্যিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির দল।

মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর মিক্সড জোনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন স্বস্তির হাসি হাসা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে এলএমটেন বলেন, ‘আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পেরেছি এবং যেভাবে বুক চিতিয়ে লড়ে গেলাম, তা নিয়ে আমি ভীষণ খুশি। ম্যাচটি যখন ২-০ হয়ে গিয়েছিল, তখন পরিস্থিতি আমাদের জন্য সত্যিই খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেখান থেকে আবারও এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোটা ছিল অবিশ্বাস্য রকমের আবেগপূর্ণ। আমাদের আজ অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু এটাই তো বিশ্বকাপ! এখানকার প্রতিটি ম্যাচই এমন কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।’

ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়া এই জাদুকর দলের সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসাতেও ভুললেন না। সতীর্থদের লড়াকু মানসিকতার কথা উল্লেখ করে মেসি বলেন, ‘ম্যাচটি যেভাবে শেষ হয়েছে, তাতে আমাদের সবার জন্যই এটি ছিল একটি বড় স্বস্তি। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ জেতা কখনোই সহজ নয়। কিন্তু এই দলটি কখনো হাল ছাড়তে জানে না। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম যে কুতির (ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো) গোলটি আমরা খুব দ্রুত পেয়ে গিয়েছিলাম। আর ওই গোলটিই আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় এনে দিয়েছিল। আজ এই দল যা করেছে তা ছিল এককথায় অবিশ্বাস্য। আমি খুব আনন্দিত যে আমাদের সমর্থকেরা এই রোমাঞ্চকর যাত্রা ও আমাদের পারফরম্যান্স উপভোগ করে যেতে পারবে।’

‘রেফারি জালেম, আর্জেন্টিনার জন্য কাপ ঠিক করা’—বললেন মিশরের স্ট্রাইকার

ক্রীড়া ডেস্ক
‘রেফারি জালেম, আর্জেন্টিনার জন্য কাপ ঠিক করা’—বললেন মিশরের স্ট্রাইকার

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই যেন আকাশ ভেঙে পড়ল মিশরের ডাগআউটে। মাঠের ভেতরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের শিকার হওয়া মিশরীয় স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো। ম্যাচ শেষে লাইভ টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেওয়া এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ রেফারিকে সরাসরি ‘জালেম’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

কান্নাভেজা কণ্ঠে পবিত্র কোরআনের আয়াত ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক) তিলওয়াত করে জিকো বলেন, ‘রেফারি আমাদের সাথে চরম অন্যায় করেছেন... তিনি আজ একটি পুরো জাতির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আর পরিশ্রমকে এক ফুঁৎকারে ধূলিসাৎ করে দিলেন।’

টেলিভিশন সম্প্রচার হুট করে কেটে দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার দিকে ইঙ্গিত করে এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন এই মিশরীয় তারকা। ক্ষুব্ধ জিকো বলেন, ‘এই বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনাকে দেওয়ার জন্যই সবকিছু আগে থেকে ঠিক করা।’

যে কারণে বাতিল হয় মিশরের অসাধারণ গোলটি

ক্রীড়া ডেস্ক
যে কারণে বাতিল হয় মিশরের অসাধারণ গোলটি

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এক পাল্টা আক্রমণের সাক্ষী হতে পারত ফুটবল বিশ্ব। মাঝমাঠ থেকে বিদ্যুদ্বেগে বল নিয়ে আক্রমণে ওঠা, ডান প্রান্ত দিয়ে হাসানের সেই চোখের পলকে ডিফেন্ডারদের ছিটকে দেওয়া দৌড়, বক্সে থাকা মোহাম্মদ সালাহর দিকে নিখুঁত পাস আর বাম দিক থেকে চিতার গতিতে ছুটে এসে জিকোর সেই মারণাঘাতসব মিলিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার রক্ষণকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে দিয়ে জালের খোঁজ পেয়েছিল মিশর।

গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতেছিল ফারাওরা। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিল না আধুনিক ফুটবলের প্রযুক্তি ‘ভিএআর’। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির চাদরে ঢাকা পড়ে গেল মিশরের মহাকাব্যিক গোল।

 

গোল উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই রেফারিকে ভিএআর মনিটরের দিকে যাওয়ার ইশারা করতে দেখা যায়। আর তাতেই মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় মিশরের ডাগআউট, অন্যদিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আলবিসেলেস্তেরা।

ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের সূচনালগ্নে মিশরের নিজেদের অর্ধে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে অন্যায়ভাবে টেনে ধরেছিলেন মারওয়ান আতিয়া। ঘটনাটি রেফারি ফাউল হিসেবে বিবেচনা করেন। ভিএআরের নিখুঁত পর্যালোচনার পর মাঠের রেফারি আগের সিদ্ধান্ত বদলে আর্জেন্টিনাকে ফ্রি-কিক দেন এবং মিশরের গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন।

ফিফার আইন অনুযায়ী রেফারির এই সিদ্ধান্তটি শতভাগ আইনসম্মত হলেও, এমন চোখধাঁধানো এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আসা গোল বাতিল হওয়াটা নিশ্চিতভাবেই মিশরের জন্য ছিল এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা।