• ই-পেপার

রামিসা হত্যা : আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় আপিলের শুনানি ১ সেপ্টেম্বর

অনলাইন ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় আপিলের শুনানি ১ সেপ্টেম্বর

সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর আগে ৯ জুন সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ। গত ২১ মে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।

ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে প্রণীত শৃঙ্খলাবিধিও বাতিল করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন।

রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

একই অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সংযোজন করা হয়।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১-এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানই বিদ্যমান রয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ

নানক-তাপসের বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৪ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নানক-তাপসের বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৪ জুন
জাহাঙ্গীর কবির নানক ও শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি : সংগৃহীত।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে বিচার শুরু হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৪ জুন দিন ধার্য করেন। আদালতে সূচনা বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে গত ১০ মে এ মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়। এ মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে লড়ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান। আর গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে আছেন আইনজীবী সিফাত হাসান, গাজী ফয়সাল ও মো. আসাদুজ্জামান।

মামলার ২৮ আসামির মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা হলেন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। গতকাল কারাগার থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

নানক-তাপস ছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনূছ আলী আকন্দ।

আজ সোমবার এই রিট করা হয় জানিয়ে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আগামী রবিবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে।” আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, এই রিটের সঙ্গে আদ্দ্বী-ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।

এর আগে ৬ নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর দায়ে গত ১১ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী ডা. শেখ মহিউদ্দিনকে সম্বোধন করে লাইসেন্স বাতিলের চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ মে ৬ নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পাঠানো জবাব ও ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ১৯৮২ সালের দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেজুলেশন) অর্ডিনেন্স-এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী  আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো।

অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুসারে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। এই চিঠি চ্যালেঞ্জ করেই আজ রিট করেন আইনজীবী ইউনূছ আলী আকন্দ।

মানবতাবিরোধী অপরাধ

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলার রায় ২৮ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলার রায় ২৮ জুন
সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মীয়মাণ ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরো দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ২৮ জুন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার রায়ের এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এ মামলার আসামি ৫ জন। এর মধ্যে পলাতক ৪ জন হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে। আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রিসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। এরপর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনায় চঞ্চল সরকারের মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে মামলার অভিযোগ থেকে তাঁর অব্যাহতি চান তিনি। তবে পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এর আগে গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন চঞ্চল চন্দ্র সরকার। পুনর্সাক্ষ্যে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ আনেন তিনি। চলতি বছর ১৩ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এই আসামি।

উল্লেখ্য, আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে গুলি; শিশু বাসিত খান মুসার (৭) মাথা ভেদ করে ওর দাদি মায়া ইসলামের মৃত্যু এবং মো. নাদিম নামের আরো এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি।