• ই-পেপার

কয়লার ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ

  • খনি থেকে কয়লা উত্তোলন এবং সেটি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদনের ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরিবেশদূষণ এড়িয়ে সরাসরি কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপায় আবিষ্কার করে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন চীনের শেনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। কয়লা থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে লিখেছেন এস এম তাহমিদ

দেশজুড়ে চলছে জিপিফাইয়ের ক্যাম্পেইন

টেকবিশ্ব ডেস্ক
দেশজুড়ে চলছে জিপিফাইয়ের ক্যাম্পেইন

গ্রামীণফোনের ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড সলিউশন ‘জিপিফাই’-এর নতুন ক্যাম্পেইন ‘ওয়াই-ফাই একটাই, সারা দেশে জিপিফাই’। প্রথাগত ব্রডব্যান্ডের বিকল্প হিসেবে কাজ করে জিপিফাই-এর ওয়্যারলেস সেটআপ। তার টানা বা দেয়াল ফুটো করার কোনো ঝামেলা নেই, বাসা বদলের সময় সংযোগ বদলানোর প্রয়োজন হয় না। সারা দেশে বিনামূল্যে হোম ডেলিভারি এবং ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নির্বিঘ্নে সংযুক্ত হয়ে নির্ভরযোগ্য হোম ওয়াই-ফাই উপভোগ করতে পারবে। জিপিফাই একই সঙ্গে একাধিক ডিভাইসে ব্যবহার করা সম্ভব। পরিবার, রিমোট ওয়ার্কার ও ছোট টিমের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম এই সেবা। অফারটিতে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস রয়েছে, যার মধ্যে বিল্ট-ইন ব্যাটারি ব্যাকআপ সমৃদ্ধ মডেলও অন্তর্ভুক্ত। এটি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও তিন ঘণ্টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করে। ফলে লোডশেডিংয়ের সময়ও কোনো অসুবিধা হবে না। জিপিফাইয়ের আনলিমিটেড ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্যে কোনো হিডেন এফইউপি (ফেয়ার ইউজেস পলিসি) নেই। সেই সঙ্গে যেকোনো প্রয়োজনে থাকছে ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্ট হটলাইনের সুবিধা। ব্যবহারকারীরা বিকাশের ‘পে বিল’, মাইজিপি এবং দেশব্যাপী রিটেইল পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে সহজেই বিল পরিশোধ করতে পারবে। শুধু ইন্টারনেট সংযোগই নয়, ফ্রি ডেডিকেটেড রিয়েল আইপি এবং ‘বায়োস্কোপ+’-এর মাধ্যমে ১০টি পর্যন্ত ওটিটি সাবস্ক্রিপশন উপভোগ করার সুযোগ পাবে ব্যবহারকারীরা, যা বিনোদনের অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করবে। ব্যবহারকারীরা ২০ এমবিপিএস থেকে ১০০ এমবিপিএস পর্যন্ত বিভিন্ন সুবিধাজনক মাসিক প্ল্যান বেছে নিতে পারবে। এই প্যাকেজগুলো শুরু হচ্ছে মাত্র ৮৫০ টাকা থেকে।

 

         

একনজরে

চ্যাটজিপিটির নতুন মডেল জিপিটি ৫.৫

চ্যাটজিপিটির নতুন মডেল জিপিটি ৫.৫
জিপিটি ৫.৫-এর উত্তরগুলো কতটা সংক্ষিপ্ত সেটি বুঝাতে ওপেনএআইয়ের করা পোস্ট। ছবি : সংগৃহীত

জেমিনি বা ক্লডের মতো সংক্ষেপে দ্রুত উত্তর দেওয়ার ফিচার নিয়ে ২৩ এপ্রিল বাজারে এসেছে জিপিটি ৫.৫। নতুন মডেলে লেখা সম্পাদনা ও সফটওয়্যার কোডের বাগ বের করায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনও আর নেই, জটিল কাজের দায়িত্ব দেওয়া হলে কী করতে হবে তা নিজ থেকেই বুঝতে সক্ষম জিপিটি ৫.৫। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন, নতুন ইমেজ জেনারেশন অ্যালগরিদম আর অপ্রয়োজনীয় শব্দচয়ন ছাড়াই উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সেফটি গার্ডরেইলস, যাতে ব্যবহারকারীরা জিপিটি কাজে লাগিয়ে সহিংস বা অবৈধ কাজের পরিকল্পনা করতে না পারে। ওপেনএআই জানিয়েছে, জিপিটি ৫.৫ কম টোকেন ব্যবহার করে তাই টোকেনের পেছনে ব্যবহারকারীদের খরচ অনেকটাই কমে যাবে। নতুন মডেলটি আপাতত শুধু পেইড সাবস্ক্রাইবারদের জন্য উন্মোচন করা হয়েছে, ফ্রি অ্যাকাউন্টেও শিগগিরই ব্যবহার করা যাবে।

 

মার্কোপোলো এআই

ঢাকা থেকে সিলিকন ভ্যালি

টেকবিশ্ব ডেস্ক
ঢাকা থেকে সিলিকন ভ্যালি
টিম মার্কোপোলো এআই। ছবি : সংগৃহীত

ই-কমার্স এবং ডিরেক্ট-টু-কাস্টমার (ডিটুসি) ব্যবসায়ীদের জন্য ক্রেতা হারানো বড় এক সমস্যা। কার্টে পণ্য যোগ করার পরও অনেক ক্রেতা অর্ডার সম্পন্ন করে না বা একবার অর্ডার করার পর পুনরায় অর্ডারে উৎসাহ দেখায় না। কী কারণে ক্রেতারা অর্ডার করতে নিরুৎসাহিত হয়, সেটি বের করে মার্কোপোলো এআই।

২০২১ সালে বিশ্ব যখন মহামারির কবলে, ঠিক তখনই তাসফিয়া তাসবিন এবং রুবাইয়াত ফারহান ঠিক করেন মার্কোপোলো এআই নিয়ে কাজ শুরু করবেন। এআই নিয়ে কাজ করায় তাসফিয়ার অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। এর আগে সিঙ্গাপুর এবং বাংলাদেশভিত্তিক এআই স্টার্টআপ ‘গেইজ এআই’-তে কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়াও দায়িত্ব পালন করেছেন জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের জাতীয় ডিজিটাল উদ্ভাবন কর্মসূচির উপদেষ্টা হিসেবে। অন্য সহপ্রতিষ্ঠাতা রুবাইয়াত ফারহান পড়াশোনা করেছেন বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে। তাঁর তৈরি ‘ওয়ানথ্রেড’ নামক সফটওয়্যার বিশ্ববাজারে বেশ সমাদৃত। দুজনের কর্ম অভিজ্ঞতা মিলিয়ে এআইচালিত মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা, যা আজ মার্কোপোলো এআইয়ে পরিণত হয়েছে।

বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এআই বা স্টার্টআপ প্রতিযোগিতায় সম্মাননা পেয়ে এগিয়ে যেতে থাকে মার্কোপোলো। সৌদি আরবের প্রযুক্তি সম্মেলন ‘লিপ ২০২৪’ এর ‘এআই ওয়েসিস হ্যাকাথন’ জয় করে ৪০ হাজার ডলারের অনুদান লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি, পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ‘কে-স্টার্টআপ গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জ’-এ শীর্ষ ১০-এও জায়গা করে নেয়। ২০২৩-এ ফোর্বসের ‘৩০ অনূর্ধ্ব ৩০ এশিয়া’ তালিকায় ঠাঁই পায় এই দুই তরুণের নাম। এতে বিশ্ব প্রযুক্তিবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এগিয়ে যায় আরো একধাপ।

বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবস্থান তৈরির সুযোগ করে দিয়েছিল সান ফ্রান্সিসকোর এইচএফজিরো রেসিডেন্সি। প্রতিবছর বিশ্বের হাজারও আবেদনকারীর মধ্যে ১০টিরও কম প্রতিযোগীকে এইচএফজিরোতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এখানে কাজ করার সময় নিজেদের প্ল্যাটফর্মকে ই-কমার্সের জন্য ‘প্রেডিক্টিভ এআই’ হিসেবে তৈরির সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সিইও এবং সহপ্রতিষ্ঠাতা তাসফিয়া তাসবিন বলেন, ‘আমরা চাই মার্কোপোলো এআই বিশ্বের প্রতিটি অনলাইন স্টোরকে সাহায্য করুক।’

মার্কোপোলো এআইয়ের অনন্য উদ্ভাবন ‘অ্যাথেনা’। এটি একপ্রকার প্রেডিক্টিভ এআই,  যা ক্রেতার ইচ্ছা আগেভাগেই বুঝে নেয়। অনলাইন স্টোরে প্রবেশ করে গ্রাহক কী করছে—সেটি বিশ্লেষণ করে অ্যাথেনা অনুমান করতে পারে আগামী ১০ থেকে ৩০ সেকেন্ড পর ক্রেতা কী করবে। কার্টে থাকা পণ্যের অর্ডার সম্পন্ন না করে ক্রেতা চলে যাবে কি না সেটি বুঝে নিয়ে অর্ডার সম্পন্ন করায় উৎসাহিত করে অ্যাথেনা। ফলে ক্রেতাদের কেনাকাটার হার বাড়ে প্রায় দ্বিগুণ। মার্কোপোলো এআই ইংরেজি ও বাংলার পাশপাশি আরো অনেক ভাষা বুঝতে সক্ষম। ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অত্যন্ত সাবলীলভাবে কথা বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনে অ্যাথেনা।

এইচএফজিরো, ট্রান্সপোজ ভিসি, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড, অ্যাকসেলারেটিং এশিয়া, আইডিয়া, জোয়া ক্যাপিটাল এবং তাকাদাম-এর মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মার্কোপোলো এআই এখন বাংলাদেশ, সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ই-কমার্স ও ডিটুসি ব্যবসাগুলোর হারানো ১০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা পুনরুদ্ধার করায় কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান।

 

 

ঘন ঘন স্মার্টফোন বদল নয়

নিত্যনতুন স্মার্টফোন কিনতে চায় সবাই। এ কারণে যেমন পরিবেশের ওপর পড়ছে বাড়তি চাপ, তেমনি অপচয় হচ্ছে অর্থ, বাড়ছে ডিজিটাল আসক্তি। স্মার্টফোন কেন অন্তত তিন বছর ব্যবহার করা উচিত—জানাচ্ছেন শাহরিয়ার মোস্তফা

ঘন ঘন স্মার্টফোন বদল নয়
ঘন ঘন স্মার্টফোন বদলের ফলে প্রতিবছর তৈরি হয় কয়েক হাজার টন ই-বর্জ্য। ছবি : সংগৃহীত

নতুন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ফিচার উপভোগ করতে প্রতিবছর নতুন স্মার্টফোন কেনে অনেকেই। তবে প্রযুক্তিপণ্যের বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, ফোন বদলানো উচিত দুই-তিন বছর পর পর। এতে পরিবেশদূষণ এবং অর্থ অপচয়—দুটোই কমবে।

 

কেন স্মার্টফোন বদলের প্রবণতা

অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের তুলনায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্মার্টফোন বদলের প্রবণতা অনেক বেশি। এর কারণ বোঝার জন্য ফিরে যেতে হবে ১৯ বছর আগে। ২০০৭ সালে প্রথম বাজারে আসে আইফোন। দেড় বছর পর ২০০৮ সালের মাঝামাঝি গুগল শুরু করে অ্যানড্রয়েড স্মার্টফোন বিক্রি। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এটাই স্মার্টফোন যুগের শুরু। এর আগেও স্মার্টফোন ঘরানার কিছু ডিভাইস বাজারে ছিল। এগুলোর ব্যবহারকারী ছিল খুব কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডিভাইসগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সরবরাহ করা হতো। ই-মেইল আদান-প্রদান, ক্যালেন্ডার ও কন্ট্যাক্টস সেভ করা, অল্পবিস্তর ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং অফিস ডকুমেন্ট পড়ার ফিচার থাকাই ছিল যথেষ্ট।

আইফোন বা অ্যানড্রয়েড যখন বাজারে আসে, ঠিক সেই সময় প্রসার ঘটে থ্রিজি নেটওয়ার্কের। পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বহনযোগ্য ডিভাইসে ভিডিও দেখা ও গান শুনতেও অভ্যস্ত হয়ে ওঠে ব্যবহারকারীরা। ফলে স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরন বদলে যায়। এটি হয়ে ওঠে চলার পথে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ও বিনোদোনের মাধ্যম। ছবি তোলা, একাধিক অ্যাপ চালনা, গেমিং, ওয়েব ব্রাউজিং, ভিডিও ধারণ ও অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া কাজের জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠে স্মার্টফোন। ব্যবহারকারীদের মধ্যে তৈরি হয় শক্তিশালী প্রসেসর, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ, উচ্চমানের ক্যামেরা ও ডিসপ্লে এবং নতুন ফিচারে ভরপুর অপারেটিং সিস্টেমের চাহিদা। ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারে বড় আপডেট নিয়ে হাজির হয়েছে নির্মাতারা। দেখা গেছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে স্মার্টফোনের প্রসেসিং ক্ষমতা, স্টোরেজ, ব্যাটারি লাইফ হয়ে গেছে দ্বিগুণ। ফলে অনেক ব্যবহারকারীর মধ্যে তৈরি হয় প্রতিবছর স্মার্টফোন বদলের প্রবণতা। বেশির ভাগ ব্যবহারকারী ফোন আপডেট করত দেড় বছরের মধ্যে।

 

বদলেছে স্মার্টফোন বাজার

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো প্রতিবছর বাজারে আনছে নতুন মডেলের স্মার্টফোন। তবে হার্ডওয়্যারে তফাত সামান্যই। যেমন—গুগল পিক্সেল ৯এ এবং ১০এ মডেলগুলোর মধ্যে তফাত এতই কম যে হাতে নিয়েও অনেক ব্যবহারকারীর পক্ষে হার্ডওয়্যারের আপডেটগুলো বুঝে নেওয়া অসম্ভব। আইফোন ১৬ ও ১৭ সিরিজের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে। আইওএস ১৮ ও ২৬-এর মধ্যে ইন্টারফেস ডিজাইন ছাড়া ফিচারের আপডেট সামান্যই, অ্যানড্রয়েড ১৩ এর পর তেমন বড় আপডেট দেখা যায়নি। স্মার্টফোন নির্মাতারা নতুন সফটওয়্যার ফিচার আনেনি এমন নয়, তবে সেগুলো আলাদা অ্যাপের মাধ্যমে পুরনো অপারেটিং সিস্টেমেও পৌঁছে দিয়েছে তারা। প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষকদের দাবি, ফ্ল্যাগশিপ বা মাঝারি মূল্যের স্মার্টফোনগুলো এখন তিন বছর পর্যন্ত অনায়াসে ব্যবহার করা যায়, ব্যাটারি হেলথ ঠিক থাকলে চার-পাঁচ বছরও আরামসে ব্যবহার করা সম্ভব। ফোনকে পুরনোও মনে হবে না, কারণ নতুন মডেলগুলোর সঙ্গে তেমন বড় কোনো তফাত নেই।

 

পরিবেশ বাঁচানো জরুরি

২২ এপ্রিল পৃথিবী দিবসে ই-বর্জ্য কমানো নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বহু পরিবেশ বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মতে, স্মার্টফোন কেনার প্রবণতা কমানোর মাধ্যমে ই-বর্জ্য ও পরিবেশদূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একটি স্মার্টফোন তৈরিতে প্রয়োজন ৭০টিরও বেশি মৌল। এর মধ্যে ইন্ডিয়াম, লিথিয়াম, নিকেল ও ম্যাগনেসিয়াম অন্যতম। এগুলোর আকর উত্তোলন, পরিশোধন ও পরিবহনের ফলে পরিবেশ দূষিত হয়। লিথিয়ামের জোগান দেয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর মতো দেশগুলো, যেখানে মানবেতর পরিবেশে দাসপ্রথার মাধ্যমে খনি থেকে আকর সংগৃহীত হয়। কোবাল্টের মতো বিষাক্ত ধাতুও কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই শ্রমিকরা উত্তোলন করেন। স্মার্টফোনের চাহিদা কমলে এ ধরনের খনিজের চাহিদা কমবে। এসব খনির মালিকরা বাধ্য হবে ব্যবসা গোটাতে। পরিবেশদূষণের হারও কমে আসবে। প্রতিবছর ফোন কেনা বন্ধ করলে ফোন নির্মাতারাও প্রোডাকশন কমাতে বাধ্য হবে। এতে পরোক্ষভাবেও পরিবেশের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

বাতিল স্মার্টফোন পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। স্মার্টফোন রিসাইক্লিং করে মাত্র ৩৯ শতাংশ ব্যবহারকারী। বাংলাদেশে এ সংখ্যাটি আরো অনেক কম। বেশির ভাগ নষ্ট বা বাতিল স্মার্টফোনের শেষ ঠিকানা হয় আবর্জনার স্তূপ। এর মধ্যে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক ধীরে ধীরে মাটি ও পানিতে মিশে যায়। ২০২২ সালে চালানো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণা অনুযায়ী প্রতিবছর শুধু স্মার্টফোনজনিত ই-বর্জ্য থেকেই ছয় কোটি ২০ লাখ টনেরও বেশি দূষিত পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশ বাঁচাতে তাই ফোন কেনার প্রবণতা কমানোর পাশাপাশি গড়তে হবে রিসাইকল করার অভ্যাস।

 

অভ্যাস পরিবর্তন

ডিজিটাল আসক্তি কমানো অত্যন্ত জরুরি। মানব মস্তিষ্ক সব সময় নতুন অভিজ্ঞতা খুঁজে বেড়ায়, একই জিনিস বারবার দেখলে এ সময় সেটির প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। একই ফোন দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কারণে-অকারণে ফোন হাতে নেওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য স্মার্টফোন নির্মাতারা প্রতিনিয়ত নতুন সব ফিচার যোগ করে থাকে। এখন চলছে নানাবিধ এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ও চ্যাটবট ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার চল। যে কাজের জন্য হয়তো অ্যাপ খুলে দুটি ট্যাপ করাই যথেষ্ট, সেটার জন্যও এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথন চালানোকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, এতে দীর্ঘ সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছে ব্যবহারকারীরা। পুরনো ফোন ব্যবহার করলে এসব চটকদার ফিচার এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, তরুণরাই প্রতিবছর স্মার্টফোন পরিবর্তন করে বেশি। তারা মনে করে, পুরনো ফোন ব্যবহার করলে সামাজিক মর্যাদা কমে যাবে। হাতের স্মার্টফোনটিকে আত্মমর্যাদার অংশ গণ্য করা উচিত নয়। অনেকেই এ জন্য বছরের পর বছর ক্রেডিট কার্ড বিলের চক্করে আটকে থাকে। ব্যয় কমানো এবং অর্থের সঠিক ব্যবহারের জন্যও ঘন ঘন স্মার্টফোন বদলানোর অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত। 

 

কেমন স্মার্টফোন কেনা উচিত

অন্তত ৬-৮ জিবি র‌্যাম, ১২৮-২৫৬ জিবি স্টোরেজ এবং অন্তত ৪৫০০-৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারির স্মার্টফোন কিনলে বহুদিন পর্যন্ত সেটি পারফরম্যান্স ধরে রাখবে। এ জন্য বাজেট হতে হবে কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এমন একটি ডিভাইস অন্তত তিন-চার বছর ব্যবহারযোগ্য থাকবে। বাজেট কম হলেও ৪ জিবি র‌্যাম, ৬৪ জিবি স্টোরেজ এবং ৩ হাজার এমএএইচের কম ধারণক্ষমতার ব্যাটারির ফোন কেনা উচিত নয়। কারণ সময়ের সঙ্গে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কমবে, ফোনের স্টোরেজও ভরে যাবে। পর পর দুই বছর স্মার্টফোন কেনায় সর্বনিম্ন ১০ হাজার করে ২০ হাজার টাকা খরচ না করে একবারে ২০ হাজার টাকার স্মার্টফোন কিনে তিন বছর ব্যবহার করলে সাশ্রয় হবে ১০ হাজার টাকা।