• ই-পেপার

পরিবেশ দিবসে একযোগে ৬৪ জেলায় বৃক্ষরোপণ

পাবনায় ২০০ একর জমিতে নতুন বিসিক শিল্পনগরী হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

পাবনা ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি
পাবনায় ২০০ একর জমিতে নতুন বিসিক শিল্পনগরী হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী
পাবনায় বাংলাদেশ কৃষক সমিতি আয়োজিত ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পাবনায় আরো ২০০ একর জমিতে নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীর জয়নগর মিরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘বাংলাদেশ কৃষক সমিতি’ আয়োজিত ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পায়নের গুরুত্ব উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ঘোষণা দেন, পাবনার বিসিকে (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) বর্তমান স্থানে কোনো জায়গা খালি নেই, তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পাবনায় আরো ২০০ একর জমিতে নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

লিচু সংরক্ষণে কার্যকর সমাধান ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রয়োজনে পাবনায় লিচুর জন্য হিমাগার স্থাপন করা হবে বলে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘পাবনার এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে কৃষির একটি আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে যা অনন্য। এজন্য লিচু সংরক্ষণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনে হিমাগার স্থাপন করা হবে। তবে পেঁয়াজ সংরক্ষণের মতো লিচুর পচন রোধ এবং ফলন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় গবেষণার জন্য লিচুর ক্ষেত্রেও সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ‘হোম গ্রোন সলিউশন’ বা ঘরোয়া সমাধান খুঁজে বের করার জন্য উদ্ভাবক ও কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে।’

দেশের খাদ্য উৎপাদনের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৪ কোটি টন চাল উৎপাদন করে এবং পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ ছাড়া বছরে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টন আলু উৎপাদিত হচ্ছে, তবে যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এর একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব এবং পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে যোগ দিতে জেনেভা যাচ্ছেন শ্রমমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে যোগ দিতে জেনেভা যাচ্ছেন শ্রমমন্ত্রী
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে (আইএলসি) অংশ নিতে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ১ থেকে ১২ জুন অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে বিশ্বের ১৮৭টি দেশের সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনের মূল পর্বে আগামী ৮ জুন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় শ্রমমন্ত্রী দেশের শ্রম পরিস্থিতি, শ্রমিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান এবং শ্রম খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রম বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন। বিশেষ করে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম আইন (সংশোধন) ২০২৬ এবং এর মাধ্যমে শ্রমিক অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়টিও মন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।

জেনেভা সফরকালে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক, ওআইসি লেবার সেন্টারের মহাপরিচালক এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শ্রমমন্ত্রীর মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে শ্রমসচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ মোট ছয়জন অংশ নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএ সভাপতি মো. হাতেমসহ নয়জন।

এ ছাড়া শ্রমিক পক্ষের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক

বাসস
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক সরকার। কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে গিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এ কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে শরণার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তুরস্ক সরকার বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই পাশে থেকে তাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান হবে এবং রোহিঙ্গারা তাদের সম্মান এবং নাগরিকত্বের মর্যাদা নিয়ে তাদের দেশ মায়ানমারে ফিরে যাবে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তুরস্কের সহায়তায় স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোহিঙ্গা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা নিতে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের জীবনযাত্রা ও নানা সমস্যার বিষয়ে অবগত হন।

পরে তিনি ১৬ ও ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত চিকিৎসা ও মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ক্যাম্পগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেন।

বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ছবি : কালের কণ্ঠ

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

শুক্রবার (৫ জুন) উজবেকিস্তানের সমরখন্দ শহরে অনুষ্ঠিত জিইএফ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণের উৎসসমূহ সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীল কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান ও বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জিইএফ-এর লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

সমরখন্দে অনুষ্ঠিত এই জিইএফ সম্মেলনে বিশ্বের ১৮৬টি সদস্য দেশের প্রতিনিধি, পরিবেশবিদ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।