• ই-পেপার

মার্কোপোলো এআই

ঢাকা থেকে সিলিকন ভ্যালি

দেশজুড়ে চলছে জিপিফাইয়ের ক্যাম্পেইন

টেকবিশ্ব ডেস্ক
দেশজুড়ে চলছে জিপিফাইয়ের ক্যাম্পেইন

গ্রামীণফোনের ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড সলিউশন ‘জিপিফাই’-এর নতুন ক্যাম্পেইন ‘ওয়াই-ফাই একটাই, সারা দেশে জিপিফাই’। প্রথাগত ব্রডব্যান্ডের বিকল্প হিসেবে কাজ করে জিপিফাই-এর ওয়্যারলেস সেটআপ। তার টানা বা দেয়াল ফুটো করার কোনো ঝামেলা নেই, বাসা বদলের সময় সংযোগ বদলানোর প্রয়োজন হয় না। সারা দেশে বিনামূল্যে হোম ডেলিভারি এবং ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নির্বিঘ্নে সংযুক্ত হয়ে নির্ভরযোগ্য হোম ওয়াই-ফাই উপভোগ করতে পারবে। জিপিফাই একই সঙ্গে একাধিক ডিভাইসে ব্যবহার করা সম্ভব। পরিবার, রিমোট ওয়ার্কার ও ছোট টিমের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম এই সেবা। অফারটিতে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস রয়েছে, যার মধ্যে বিল্ট-ইন ব্যাটারি ব্যাকআপ সমৃদ্ধ মডেলও অন্তর্ভুক্ত। এটি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও তিন ঘণ্টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করে। ফলে লোডশেডিংয়ের সময়ও কোনো অসুবিধা হবে না। জিপিফাইয়ের আনলিমিটেড ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্যে কোনো হিডেন এফইউপি (ফেয়ার ইউজেস পলিসি) নেই। সেই সঙ্গে যেকোনো প্রয়োজনে থাকছে ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্ট হটলাইনের সুবিধা। ব্যবহারকারীরা বিকাশের ‘পে বিল’, মাইজিপি এবং দেশব্যাপী রিটেইল পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে সহজেই বিল পরিশোধ করতে পারবে। শুধু ইন্টারনেট সংযোগই নয়, ফ্রি ডেডিকেটেড রিয়েল আইপি এবং ‘বায়োস্কোপ+’-এর মাধ্যমে ১০টি পর্যন্ত ওটিটি সাবস্ক্রিপশন উপভোগ করার সুযোগ পাবে ব্যবহারকারীরা, যা বিনোদনের অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করবে। ব্যবহারকারীরা ২০ এমবিপিএস থেকে ১০০ এমবিপিএস পর্যন্ত বিভিন্ন সুবিধাজনক মাসিক প্ল্যান বেছে নিতে পারবে। এই প্যাকেজগুলো শুরু হচ্ছে মাত্র ৮৫০ টাকা থেকে।

 

         

একনজরে

চ্যাটজিপিটির নতুন মডেল জিপিটি ৫.৫

চ্যাটজিপিটির নতুন মডেল জিপিটি ৫.৫
জিপিটি ৫.৫-এর উত্তরগুলো কতটা সংক্ষিপ্ত সেটি বুঝাতে ওপেনএআইয়ের করা পোস্ট। ছবি : সংগৃহীত

জেমিনি বা ক্লডের মতো সংক্ষেপে দ্রুত উত্তর দেওয়ার ফিচার নিয়ে ২৩ এপ্রিল বাজারে এসেছে জিপিটি ৫.৫। নতুন মডেলে লেখা সম্পাদনা ও সফটওয়্যার কোডের বাগ বের করায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনও আর নেই, জটিল কাজের দায়িত্ব দেওয়া হলে কী করতে হবে তা নিজ থেকেই বুঝতে সক্ষম জিপিটি ৫.৫। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন, নতুন ইমেজ জেনারেশন অ্যালগরিদম আর অপ্রয়োজনীয় শব্দচয়ন ছাড়াই উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সেফটি গার্ডরেইলস, যাতে ব্যবহারকারীরা জিপিটি কাজে লাগিয়ে সহিংস বা অবৈধ কাজের পরিকল্পনা করতে না পারে। ওপেনএআই জানিয়েছে, জিপিটি ৫.৫ কম টোকেন ব্যবহার করে তাই টোকেনের পেছনে ব্যবহারকারীদের খরচ অনেকটাই কমে যাবে। নতুন মডেলটি আপাতত শুধু পেইড সাবস্ক্রাইবারদের জন্য উন্মোচন করা হয়েছে, ফ্রি অ্যাকাউন্টেও শিগগিরই ব্যবহার করা যাবে।

 

কয়লার ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ

খনি থেকে কয়লা উত্তোলন এবং সেটি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদনের ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরিবেশদূষণ এড়িয়ে সরাসরি কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপায় আবিষ্কার করে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন চীনের শেনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। কয়লা থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে লিখেছেন এস এম তাহমিদ

কয়লার ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ
এআই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ফুয়েল সেল। ছবি : সংগৃহীত

কয়লাচালিত পাওয়ার স্টেশন বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধোঁয়ার কুণ্ডলি আর পরিবেশদূষণের বীভৎস চিত্র। বিশ্বের বড় বড় সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে টনকে টন কয়লা পুড়িয়ে তৈরি হয় বাষ্প, যা ব্যবহার করে ঘোরানো হয় টারবাইন, তৈরি হয় বিদ্যুৎ। এ উপায়ে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলেও পরিবেশদূষণের কারণে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়।

সম্প্রতি চীনের একদল গবেষক কয়লা কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ তৈরির নতুন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। তাঁদের উদ্ভাবিত উপায়ে বিদ্যুৎ তৈরিতে আর কয়লা পোড়ানোর প্রয়োজন হবে না। সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কয়লা থেকে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ, কোনো বাড়তি পরিবেশদূষণ ছাড়াই।

এই অসাধ্যটি সাধন করেছেন শেনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝি হেপিং ও তাঁর গবেষকদল। তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিরো কার্বন এমিশন ডাইরেক্ট কোল ফুয়েল সেল’ বা জেডসি-ডিসিএফসি (ZC-DCFC)। এর মাধ্যমে দূষণ ছাড়াই কয়লা ব্যবহার করে চলমান জ্বালানিসংকট মেটানো যাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

 

কিভাবে কাজ করে

বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় কয়লা। প্রথম ধাপে কয়লা পুড়িয়ে পানি থেকে বাষ্প উৎপন্ন করা হয়। এতে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত ধোঁয়া নির্গত হয়। এরপর উচ্চচাপের বাষ্প কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘোরানো হয়, যার ঘুর্ণনশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে জেনারেটর। এভাবে অলটারনেটিং কারেন্ট (এসি) ঘরানার বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।

কিন্তু নতুন এই পদ্ধতিতে কয়লাকে পোড়ানো হয় না, এর বদলে কয়লা কাজে লাগিয়ে তৈরি হয় ফুয়েল সেল। প্রথমে কয়লা গুঁড়া করে শুকিয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর সেটি ব্যবহার করে ফুয়েল সেলের ধনাত্মক চেম্বার (অ্যানোড) পূর্ণ করা হয়। অ্যানোডের অন্য পাশে থাকে ঋণাত্মক (ক্যাথোড) চেম্বার, দুটি চেম্বারের মধ্যে দেয়াল হিসেবে থাকে অক্সাইডের পর্দা (মেমব্রেন)। ক্যাথোড চেম্বারে অক্সিজেন গ্যাস প্রবেশ করানো হয়। অক্সাইড পর্দার উপস্থিতিতে কয়লার গুঁড়া ও অক্সিজেনের মধ্যে তড়িৎ-রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। ঠিক যেভাবে স্মার্টফোনের ব্যাটারি কাজ করে, অনেকটা সেভাবেই কয়লা থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। কোনো তাপ, ধোঁয়া বা ভয়ংকর রাসায়নিক তৈরি হয় না।

 

কার্বন নির্গমন নেই

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ তৈরির সময় নির্গত হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস। তবে উত্তপ্ত ধোঁয়া হিসেবে নয়, বরং ঠাণ্ডা গ্যাসের প্রবাহ হিসেবে সেটি বেরিয়ে আসে। তাই বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়ার বদলে সেটিকে পরিশোধন করা যায়। সেই কার্বন থেকে পরবর্তী সময়ে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট বা অন্যান্য দরকারি খনিজ উপাদান তৈরি করা সম্ভব। এ পদ্ধতি ব্যবহারে বায়ুমণ্ডলে কোনো প্রকার বিষাক্ত গ্যাস মেশে না। তাই এটিকে ‘জিরো কার্বন’ প্রক্রিয়া বলা যায়।

 

নেই শক্তির অপচয়

তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লার শক্তির মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়। বাকি শক্তি অপচয় হয় তাপ ও মেকানিক্যাল লস হিসেবে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘কার্নো সাইকল’-এর সীমাবদ্ধতা বলা হয়। কিন্তু চীনের এই নতুন ফুয়েল সেলে কোনো দহন বা পোড়ানোর ব্যাপার নেই। এখানে কোনো টারবাইন ঘোরানোর প্রয়োজন পড়ে না, ফলে যান্ত্রিক ঘর্ষণে শক্তির অপচয়ও হয় না। তাই এর এফিশিয়েন্সি বর্তমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। সহজ কথায়, অল্প কয়লায় মিলবে অনেক বেশি বিদ্যুৎ।

 

কয়লা উত্তোলনের প্রয়োজন নেই

এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে গভীর ভূগর্ভস্থ কয়লা উত্তোলন না করেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে। গবেষকরা অনুমান করছেন,  ভূপৃষ্ঠের প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরেও ফুয়েল সেল বসিয়ে সেখানে অবস্থিত কয়লা কাজে লাগানো যাবে। ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া চীনের একটি বড় প্রকল্পের অধীনে এই গভীর ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ উৎপাদন সিস্টেমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

 

বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরুর জন্য অনেকটা পথ এখনো বাকি। গবেষণাগারে এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে বড় পরিসরে এ প্রযুক্তি কিভাবে কাজে লাগানো হবে সে বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন। এইচবিআইএস গ্রুপের বিশেষজ্ঞ ওয়েই ঝিজিয়াং মনে করেন, এই প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের নাগালে আসতে বা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হতে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফুয়েল সেলের স্থায়িত্ব নিয়েও এখনো সংশয় রয়েছে। কত সময় পর্যন্ত সেগুলো কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে, সেটিও দেখার বিষয়।

 

ঘন ঘন স্মার্টফোন বদল নয়

নিত্যনতুন স্মার্টফোন কিনতে চায় সবাই। এ কারণে যেমন পরিবেশের ওপর পড়ছে বাড়তি চাপ, তেমনি অপচয় হচ্ছে অর্থ, বাড়ছে ডিজিটাল আসক্তি। স্মার্টফোন কেন অন্তত তিন বছর ব্যবহার করা উচিত—জানাচ্ছেন শাহরিয়ার মোস্তফা

ঘন ঘন স্মার্টফোন বদল নয়
ঘন ঘন স্মার্টফোন বদলের ফলে প্রতিবছর তৈরি হয় কয়েক হাজার টন ই-বর্জ্য। ছবি : সংগৃহীত

নতুন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ফিচার উপভোগ করতে প্রতিবছর নতুন স্মার্টফোন কেনে অনেকেই। তবে প্রযুক্তিপণ্যের বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, ফোন বদলানো উচিত দুই-তিন বছর পর পর। এতে পরিবেশদূষণ এবং অর্থ অপচয়—দুটোই কমবে।

 

কেন স্মার্টফোন বদলের প্রবণতা

অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের তুলনায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্মার্টফোন বদলের প্রবণতা অনেক বেশি। এর কারণ বোঝার জন্য ফিরে যেতে হবে ১৯ বছর আগে। ২০০৭ সালে প্রথম বাজারে আসে আইফোন। দেড় বছর পর ২০০৮ সালের মাঝামাঝি গুগল শুরু করে অ্যানড্রয়েড স্মার্টফোন বিক্রি। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এটাই স্মার্টফোন যুগের শুরু। এর আগেও স্মার্টফোন ঘরানার কিছু ডিভাইস বাজারে ছিল। এগুলোর ব্যবহারকারী ছিল খুব কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডিভাইসগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সরবরাহ করা হতো। ই-মেইল আদান-প্রদান, ক্যালেন্ডার ও কন্ট্যাক্টস সেভ করা, অল্পবিস্তর ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং অফিস ডকুমেন্ট পড়ার ফিচার থাকাই ছিল যথেষ্ট।

আইফোন বা অ্যানড্রয়েড যখন বাজারে আসে, ঠিক সেই সময় প্রসার ঘটে থ্রিজি নেটওয়ার্কের। পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বহনযোগ্য ডিভাইসে ভিডিও দেখা ও গান শুনতেও অভ্যস্ত হয়ে ওঠে ব্যবহারকারীরা। ফলে স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরন বদলে যায়। এটি হয়ে ওঠে চলার পথে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ও বিনোদোনের মাধ্যম। ছবি তোলা, একাধিক অ্যাপ চালনা, গেমিং, ওয়েব ব্রাউজিং, ভিডিও ধারণ ও অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া কাজের জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠে স্মার্টফোন। ব্যবহারকারীদের মধ্যে তৈরি হয় শক্তিশালী প্রসেসর, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ, উচ্চমানের ক্যামেরা ও ডিসপ্লে এবং নতুন ফিচারে ভরপুর অপারেটিং সিস্টেমের চাহিদা। ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারে বড় আপডেট নিয়ে হাজির হয়েছে নির্মাতারা। দেখা গেছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে স্মার্টফোনের প্রসেসিং ক্ষমতা, স্টোরেজ, ব্যাটারি লাইফ হয়ে গেছে দ্বিগুণ। ফলে অনেক ব্যবহারকারীর মধ্যে তৈরি হয় প্রতিবছর স্মার্টফোন বদলের প্রবণতা। বেশির ভাগ ব্যবহারকারী ফোন আপডেট করত দেড় বছরের মধ্যে।

 

বদলেছে স্মার্টফোন বাজার

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো প্রতিবছর বাজারে আনছে নতুন মডেলের স্মার্টফোন। তবে হার্ডওয়্যারে তফাত সামান্যই। যেমন—গুগল পিক্সেল ৯এ এবং ১০এ মডেলগুলোর মধ্যে তফাত এতই কম যে হাতে নিয়েও অনেক ব্যবহারকারীর পক্ষে হার্ডওয়্যারের আপডেটগুলো বুঝে নেওয়া অসম্ভব। আইফোন ১৬ ও ১৭ সিরিজের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে। আইওএস ১৮ ও ২৬-এর মধ্যে ইন্টারফেস ডিজাইন ছাড়া ফিচারের আপডেট সামান্যই, অ্যানড্রয়েড ১৩ এর পর তেমন বড় আপডেট দেখা যায়নি। স্মার্টফোন নির্মাতারা নতুন সফটওয়্যার ফিচার আনেনি এমন নয়, তবে সেগুলো আলাদা অ্যাপের মাধ্যমে পুরনো অপারেটিং সিস্টেমেও পৌঁছে দিয়েছে তারা। প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষকদের দাবি, ফ্ল্যাগশিপ বা মাঝারি মূল্যের স্মার্টফোনগুলো এখন তিন বছর পর্যন্ত অনায়াসে ব্যবহার করা যায়, ব্যাটারি হেলথ ঠিক থাকলে চার-পাঁচ বছরও আরামসে ব্যবহার করা সম্ভব। ফোনকে পুরনোও মনে হবে না, কারণ নতুন মডেলগুলোর সঙ্গে তেমন বড় কোনো তফাত নেই।

 

পরিবেশ বাঁচানো জরুরি

২২ এপ্রিল পৃথিবী দিবসে ই-বর্জ্য কমানো নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বহু পরিবেশ বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মতে, স্মার্টফোন কেনার প্রবণতা কমানোর মাধ্যমে ই-বর্জ্য ও পরিবেশদূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একটি স্মার্টফোন তৈরিতে প্রয়োজন ৭০টিরও বেশি মৌল। এর মধ্যে ইন্ডিয়াম, লিথিয়াম, নিকেল ও ম্যাগনেসিয়াম অন্যতম। এগুলোর আকর উত্তোলন, পরিশোধন ও পরিবহনের ফলে পরিবেশ দূষিত হয়। লিথিয়ামের জোগান দেয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর মতো দেশগুলো, যেখানে মানবেতর পরিবেশে দাসপ্রথার মাধ্যমে খনি থেকে আকর সংগৃহীত হয়। কোবাল্টের মতো বিষাক্ত ধাতুও কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই শ্রমিকরা উত্তোলন করেন। স্মার্টফোনের চাহিদা কমলে এ ধরনের খনিজের চাহিদা কমবে। এসব খনির মালিকরা বাধ্য হবে ব্যবসা গোটাতে। পরিবেশদূষণের হারও কমে আসবে। প্রতিবছর ফোন কেনা বন্ধ করলে ফোন নির্মাতারাও প্রোডাকশন কমাতে বাধ্য হবে। এতে পরোক্ষভাবেও পরিবেশের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

বাতিল স্মার্টফোন পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। স্মার্টফোন রিসাইক্লিং করে মাত্র ৩৯ শতাংশ ব্যবহারকারী। বাংলাদেশে এ সংখ্যাটি আরো অনেক কম। বেশির ভাগ নষ্ট বা বাতিল স্মার্টফোনের শেষ ঠিকানা হয় আবর্জনার স্তূপ। এর মধ্যে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক ধীরে ধীরে মাটি ও পানিতে মিশে যায়। ২০২২ সালে চালানো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণা অনুযায়ী প্রতিবছর শুধু স্মার্টফোনজনিত ই-বর্জ্য থেকেই ছয় কোটি ২০ লাখ টনেরও বেশি দূষিত পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশ বাঁচাতে তাই ফোন কেনার প্রবণতা কমানোর পাশাপাশি গড়তে হবে রিসাইকল করার অভ্যাস।

 

অভ্যাস পরিবর্তন

ডিজিটাল আসক্তি কমানো অত্যন্ত জরুরি। মানব মস্তিষ্ক সব সময় নতুন অভিজ্ঞতা খুঁজে বেড়ায়, একই জিনিস বারবার দেখলে এ সময় সেটির প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। একই ফোন দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কারণে-অকারণে ফোন হাতে নেওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য স্মার্টফোন নির্মাতারা প্রতিনিয়ত নতুন সব ফিচার যোগ করে থাকে। এখন চলছে নানাবিধ এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ও চ্যাটবট ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার চল। যে কাজের জন্য হয়তো অ্যাপ খুলে দুটি ট্যাপ করাই যথেষ্ট, সেটার জন্যও এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথন চালানোকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, এতে দীর্ঘ সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছে ব্যবহারকারীরা। পুরনো ফোন ব্যবহার করলে এসব চটকদার ফিচার এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, তরুণরাই প্রতিবছর স্মার্টফোন পরিবর্তন করে বেশি। তারা মনে করে, পুরনো ফোন ব্যবহার করলে সামাজিক মর্যাদা কমে যাবে। হাতের স্মার্টফোনটিকে আত্মমর্যাদার অংশ গণ্য করা উচিত নয়। অনেকেই এ জন্য বছরের পর বছর ক্রেডিট কার্ড বিলের চক্করে আটকে থাকে। ব্যয় কমানো এবং অর্থের সঠিক ব্যবহারের জন্যও ঘন ঘন স্মার্টফোন বদলানোর অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত। 

 

কেমন স্মার্টফোন কেনা উচিত

অন্তত ৬-৮ জিবি র‌্যাম, ১২৮-২৫৬ জিবি স্টোরেজ এবং অন্তত ৪৫০০-৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারির স্মার্টফোন কিনলে বহুদিন পর্যন্ত সেটি পারফরম্যান্স ধরে রাখবে। এ জন্য বাজেট হতে হবে কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এমন একটি ডিভাইস অন্তত তিন-চার বছর ব্যবহারযোগ্য থাকবে। বাজেট কম হলেও ৪ জিবি র‌্যাম, ৬৪ জিবি স্টোরেজ এবং ৩ হাজার এমএএইচের কম ধারণক্ষমতার ব্যাটারির ফোন কেনা উচিত নয়। কারণ সময়ের সঙ্গে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কমবে, ফোনের স্টোরেজও ভরে যাবে। পর পর দুই বছর স্মার্টফোন কেনায় সর্বনিম্ন ১০ হাজার করে ২০ হাজার টাকা খরচ না করে একবারে ২০ হাজার টাকার স্মার্টফোন কিনে তিন বছর ব্যবহার করলে সাশ্রয় হবে ১০ হাজার টাকা।