বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে পুলিশ বাহিনী নানা পর্যায়ে আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, তদন্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে, জরুরি সেবার জন্য ৯৯৯ চালু হয়েছে, সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় বিশেষ সক্ষমতা গড়ে উঠেছে এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরো জোরদার করার চেষ্টা হয়েছে। তবু একটি মৌলিক বাস্তবতা আজও বাকি রয়ে গেছে—দেশের বেশির ভাগ থানা এখনো প্রায় একই ধরনের সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যদিও তাদের জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, অপরাধের ধরন এবং কাজের চাপ একেবারেই এক নয়।
বাংলাদেশে এমন বহু থানা রয়েছে, যেখানে প্রতিদিনের কাজের চাপ একটি ছোট জেলার সমান, আবার কোথাও একটি থানার জনসংখ্যা একটি জেলার জনসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে এমন অনেক থানা রয়েছে, যেখানে মামলার সংখ্যা, অপরাধের প্রকৃতি এবং জননিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কিন্তু জনবল বণ্টন, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে এই বৈষম্যের যথাযথ প্রতিফলন এখনো দৃশ্যমান নয়।
রাজধানীর পাশের কেরানীগঞ্জ, সাভার, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা কিংবা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মতো থানাগুলো এই বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এসব থানায় জনসংখ্যার ঘনত্ব, দ্রুত নগরায়ণ, শিল্প-কারখানার বিস্তার, ব্যবসা-বাণিজ্য, মহাসড়ক, শ্রমিকের চলাচল এবং প্রতিদিনের জনসমাগমের কারণে পুলিশকে বহুমাত্রিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। স্থানীয় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় দীর্ঘদিন ধরে এই ধারণা প্রচলিত যে কেরানীগঞ্জ থানার জনসংখ্যা দেশের কয়েকটি ছোট জেলার সমপর্যায়ের। একইভাবে ফটিকছড়ি থানায় মামলার চাপ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ অনেক জেলার তুলনায় বেশি বলে মাঠ পর্যায়ে আলোচিত হয়। এসব তুলনা সরকারি হালনাগাদ তথ্য দিয়ে যাচাই করা উচিত হলেও বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট করে—সব থানাকে একই কাঠামোতে পরিচালনা করা আর কার্যকর সমাধান নয়।
আজকের বাংলাদেশে অপরাধের ধরনও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় একটি থানার প্রধান কাজ ছিল চুরি, ডাকাতি, মারামারি বা হত্যা মামলার তদন্ত। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে সাইবার প্রতারণা, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, মাদকচক্র, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, সড়ক নিরাপত্তা, শিল্পাঞ্চলের শ্রম অসন্তোষ, ভিআইপি নিরাপত্তা, বড় জনসমাবেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি সেবায় তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার মতো অসংখ্য নতুন দায়িত্ব। একজন পুলিশ সদস্যের পক্ষে একই সঙ্গে এসব বিষয়ে সমান দক্ষতা অর্জন করা বাস্তবসম্মত নয়।
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশেষায়ণ একটি স্বীকৃত নীতি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেমন একজন চিকিৎসক একই সঙ্গে হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্নায়ুরোগ ও শিশু চিকিৎসার বিশেষজ্ঞ হন না, তেমনি পুলিশিংয়েও প্রতিটি সদস্যের কাছ থেকে সব ধরনের কাজে সমান দক্ষতা প্রত্যাশা করা যৌক্তিক নয়। উন্নত বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে তাই থানা বা স্থানীয় পুলিশ ইউনিটের ভেতরেই তদন্ত, সাইবার অপরাধ, জনশৃঙ্খলা, গোয়েন্দা তথ্য, ভিকটিম সাপোর্ট এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার জন্য পৃথক বিশেষায়িত দল গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই বাস্তবতা এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
কেন জনসংখ্যাভিত্তিক পুলিশ ইউনিট গঠন এখন সময়ের দাবি : একটি থানার দায়িত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু ভৌগোলিক আয়তন বিবেচনা করলেই চলবে না। অন্তত পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে—(১) জনসংখ্যা, (২) দৈনিক জনসমাগম বা ভাসমান জনগোষ্ঠী, (৩) অপরাধের ধরন ও সংখ্যা, (৪) শিল্প-কারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং (৫) গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যোগাযোগব্যবস্থা। এই পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে থানার জনবল, যানবাহন, প্রযুক্তি, তদন্ত সক্ষমতা এবং নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হলে পুলিশি সেবা আরো কার্যকর হবে।
ধরা যাক, একটি থানায় ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ বসবাস করে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থল, বাজার, আদালত, শিল্পাঞ্চল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। সেখানে প্রতিদিন শত শত সাধারণ ডায়েরি (জিডি), বহু অভিযোগ, অসংখ্য ট্রাফিক সমস্যা, পারিবারিক বিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ, সাইবার প্রতারণা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং বিভিন্ন ধরনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে একটি ছোট জেলায় বা কম জনসংখ্যার থানায় একই মাত্রার চাপ না-ও থাকতে পারে। কিন্তু যদি উভয় থানাকে প্রায় একই প্রশাসনিক কাঠামো ও সীমিত জনবল দিয়ে পরিচালনা করা হয়, তাহলে বড় থানার জনগণ স্বাভাবিকভাবেই কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অপরাধের প্রকৃতি বদলে গেছে। বর্তমানে পুলিশের কাজ শুধু মামলা নেওয়া বা তদন্ত করা নয়। একটি থানাকে একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, অনলাইন প্রতারণা শনাক্ত, নারী ও শিশু সুরক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, বড় জনসমাবেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং জরুরি সেবায় তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে হয়। এত ভিন্নধর্মী দায়িত্ব একই কর্মকর্তা বা একই টিমের ওপর অর্পণ করলে দক্ষতা ও জবাবদিহি—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে জন্য এখন সময় এসেছে প্রতিটি থানায় দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন করার।
জনসংখ্যাভিত্তিক পুলিশ ইউনিট গঠন এবং অপরাধভিত্তিক কর্মবিভাজন শুধু প্রশাসনিক সংস্কার নয়, এটি জনগণের সাংবিধানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। কারণ আধুনিক রাষ্ট্রে কার্যকর পুলিশিং মানেই শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং মানুষের কাছে দ্রুত, দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং বিশেষায়িত সেবা পৌঁছে দেওয়া। এর পরের অংশে আমি প্রতিটি থানায় কী ধরনের বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে, কতজন সদস্য থাকবে এবং কেন বড় থানাগুলোকে এসপি বা অতিরিক্ত ডিআইজির নেতৃত্বে ‘মিনি মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলা উচিত—এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
থানায় বিশেষায়িত ইউনিট গঠন ও আধুনিক পুলিশিংয়ের অপরিহার্য রূপরেখা : বর্তমান সময়ে একটি থানার কাজ শুধু মামলা নেওয়া বা আসামি গ্রেপ্তার করা নয়। একটি থানা এখন একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধ তদন্ত, সাইবার অপরাধ মোকাবেলা, নারী ও শিশু সুরক্ষা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ভিআইপি নিরাপত্তা, দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রম এবং জনগণের জরুরি সেবার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। বিশ্বের উন্নত পুলিশ বাহিনীগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, থানার ভেতরেই পৃথক ইউনিট গঠন করে প্রতিটি ইউনিটকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে একজন কর্মকর্তা বছরের পর বছর একই বিষয়ে কাজ করতে করতে সেই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশেও সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা গেলে তদন্তের মান যেমন বাড়বে, তেমনি জনগণও দ্রুত ও উন্নত সেবা পাবে।
১. পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট ইউনিট : এটি হবে থানার সবচেয়ে বড় ইউনিট। রাজনৈতিক কর্মসূচি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ঈদ, পূজা, নির্বাচন, শ্রমিক আন্দোলন, বড় জনসমাবেশ, সড়ক অবরোধ, ভিআইপি সফর, আকস্মিক সংঘর্ষ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই ইউনিট মাঠে কাজ করবে। সাধারণ থানায় এই ইউনিটে ৮০ থেকে ১৫০ জন সদস্য থাকতে পারেন।
২. মামলা তদন্ত ও ফরেনসিক ইউনিট : বাংলাদেশে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার অন্যতম কারণ তদন্তের ওপর অতিরিক্ত চাপ। একজন তদন্ত কর্মকর্তাকে একই সঙ্গে মামলা তদন্ত, আদালতে হাজিরা, আসামি গ্রেপ্তার, ভিআইপি ডিউটি এবং প্রশাসনিক কাজ করতে হয়। ফলে তদন্তের গতি কমে যায়। প্রতিটি থানায় একটি স্বতন্ত্র তদন্ত ইউনিট গঠন করা উচিত, যেখানে থানার আকার অনুযায়ী ২০ থেকে ৬০ জন তদন্ত কর্মকর্তা থাকবেন।
৩. সাইবার ক্রাইম ও ডিজিটাল ফরেনসিক ইউনিট : বর্তমানে প্রতারণার বড় অংশই অনলাইনে সংঘটিত হচ্ছে। বিকাশ, নগদ, ব্যাংকিং জালিয়াতি, ফেসবুক হ্যাকিং, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, ডিজিটাল প্রতারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপরাধ দ্রুত বাড়ছে। তাই প্রতিটি থানায় কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচজন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়ে একটি সাইবার ইউনিট থাকতে হবে।
৪. জরুরি সাড়া ও ৯৯৯ রেসপন্স ইউনিট : অনেক সময় দেখা যায়, জরুরি ফোন পাওয়ার পরও ঘটনাস্থলে পৌঁছতে অনেক দেরি হয়। কারণ নির্দিষ্ট রেসপন্স টিম থাকে না। প্রতিটি থানায় ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত একটি রেসপন্স ইউনিট থাকতে হবে, যেখানে ১৫ থেকে ৩০ জন সদস্য পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন।
৫. কমিউনিটি পুলিশিং ও ভিকটিম সাপোর্ট ইউনিট : অপরাধ দমন শুধু গ্রেপ্তার করলেই হয় না, অপরাধ প্রতিরোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অপরিহার্য। এই ইউনিটে ১০ থেকে ২০ জন সদস্য থাকবেন। তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, মসজিদ, মন্দির, শিল্প-কারখানা, নারী সংগঠন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করবেন। নারী ও শিশু নির্যাতনের ভুক্তভোগীদের আইনি ও মানবিক সহায়তাও দেবেন।
৬. গোয়েন্দা ও অপরাধ বিশ্লেষণ ইউনিট : অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে অপরাধ ঘটার আগেই তথ্য সংগ্রহ করা বেশি কার্যকর। প্রতিটি থানায় ১০ থেকে ১৫ জন সদস্যের একটি গোয়েন্দা ও ক্রাইম অ্যানালিসিস ইউনিট থাকতে হবে। তারা অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করবে, কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ চক্র এবং সংঘবদ্ধ অপরাধীদের তথ্য বিশ্লেষণ করবে।
বড় থানাগুলোকে কেন মিনি মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটে রূপান্তর করতে হবে : বাংলাদেশের অনেক থানার কাজের চাপ এরই মধ্যে একটি জেলার সমান বা তারও বেশি। কিন্তু প্রশাসনিক কাঠামো এখনো একটি সাধারণ থানার মতো। এর ফলে একজন পুলিশ সুপারকে পুরো জেলার পাশাপাশি এমন একটি বিশাল থানার দিকেও সমানভাবে নজর দিতে হয়, যা বাস্তবে কঠিন। এ কারণে কেরানীগঞ্জ, সাভার, ফতুল্লা, ফটিকছড়ি, আশুলিয়া, সীতাকুণ্ড, রূপগঞ্জ, টঙ্গীসহ উচ্চ জনসংখ্যা ও উচ্চ অপরাধপ্রবণ থানাগুলোকে মিনি মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। যেসব থানার জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি, বছরে হাজার হাজার মামলা রুজু হয়, গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল রয়েছে এবং নিয়মিত বড় জনসমাগম ঘটে, সেসব ইউনিটের নেতৃত্বে একজন পুলিশ সুপার (এসপি) থাকা উচিত।
এ ধরনের সংস্কারের ফলে একদিকে জেলার পুলিশ সুপার পুরো জেলার সার্বিক তদারকিতে মনোযোগ দিতে পারবেন, অন্যদিকে বড় থানাগুলোও নিজেদের বাস্তবতা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব ও পর্যাপ্ত জনবল পাবে। এতে মামলা তদন্তের মান উন্নত হবে, জনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা আরো দক্ষ হবে, জরুরি সেবায় সাড়া দেওয়ার সময় কমবে, পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন ঘটবে।
বাংলাদেশে কেন এই পরিবর্তন জরুরি : বাংলাদেশ আজ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রো রেল, এক্সপ্রেসওয়ে, অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পাঞ্চল এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে মানুষের চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু পুলিশের অনেক থানার সাংগঠনিক কাঠামো এখনো বহু বছর আগের বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে পরিচালিত হচ্ছে।
কেন এই সংস্কার অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ : আইন-শৃঙ্খলা শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। যেখানে মামলা দ্রুত তদন্ত হয়, অপরাধ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুলিশ দ্রুত সাড়া দেয়, সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত হয়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ পুলিশ প্রশাসনের আধুনিকায়ন শুধু পুলিশের স্বার্থে নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই বাংলাদেশ পুলিশের আগামী দিনের সংস্কার শুধু নতুন পদ সৃষ্টি বা জনবল বৃদ্ধি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। প্রকৃত সংস্কার হবে তখনই, যখন জনসংখ্যা, অপরাধের ধরন, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং প্রযুক্তিগত বাস্তবতাকে ভিত্তি করে প্রতিটি থানার জন্য পৃথক সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। সেই সংস্কারের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব বাংলাদেশ পুলিশ।
লেখক : অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি




ফুটবল গড়াচ্ছে তার ইচ্ছা-মর্জি মাফিক। খেলা দেখতে বসে কখনো কখনো এই ফুটবলকে অপরিচিত মনে হয়। এতে বাড়ে অস্থিরতা আর উৎকণ্ঠা। সমর্থিত দল লড়াই থেকে বিদায় নেওয়ায় কেউ কেউ দল বদল করেছে। না, এই দলবদলের সঙ্গে রাজনীতির নেতা ও কর্মীদের দলবদলের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি নেহাত ফুটবল বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জন্য। ফুটবলের আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। পরিচিত মহলে আমার বন্ধু জার্মানির বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলা আর দেখছেন না। এটি তাঁর আবেগ।