• ই-পেপার

ব্যাংকের লভ্যাংশ প্রদানের শর্ত পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন

  • নিরঞ্জন রায়

এক মায়ের করুণ মৃত্যু, আইন এবং মানবিকতা

ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু

এক মায়ের করুণ মৃত্যু, আইন এবং মানবিকতা

পুলিশ সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মিরপুরের এক বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগম নামের এক নারী তথা এক মায়ের মরদেহ উদ্ধার করে। সেই বাসার ভিডিও ফুটেজ থেকে দেখা যায়, ওই নারীর ঘরসহ পুরো ফ্ল্যাটের অবস্থা অত্যন্ত নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর। এককথায়, বাসাটি বসবাসের অনুপযোগী। ফুটেজে দেখা যায়, নূরজাহান বেগমের ডান চোখে সাদা ফাঙ্গাসের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই নারীর মৃত্যু হয়তো আরো কয়েক দিন আগেই হয়েছে এবং মরদেহ উদ্ধারের সময় তাতে পোকার অস্তিত্ব দেখা গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমসূত্রে বলা হয়, ওই নারীর সন্তানদের মধ্যে এক ছেলে সরকারের যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় এক স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ঘরের ভেতরে একজন প্রবীণ নারী তথা তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত এবং সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত সন্তানদের মা যেভাবে মারা গেলেন, তা কি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে? নিশ্চয় না। আর এ ধরনের মৃত্যু কি করুণ এবং অমানবিক মৃত্যু নয়? মেধাবী, উচ্চশিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত হলেই যে কেউ প্রকৃত মানুষ হতে পারে নামিরপুরের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের সমাজকে দেখিয়ে দিল, বুঝিয়ে দিল। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষিত হয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া আর মানুষ হওয়া আলাদা বিষয়। পাশাপাশি এই ঘটনার দ্বারা প্রতীয়মান হয়, আজকাল অনেক মানুষ এতটাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে যে নিজের গর্ভধারিণী মায়ের ভরণ-পোষণ দিতে চায় না, এমনকি খোঁজখবর পর্যন্ত রাখতে চায় না। এর চেয়ে অমানবিক ও দুঃখজনক বিষয় একজন মায়ের জন্য আর কী হতে পারে?

মিরপুরের এই বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক মাধ্যমে অনেককেই ওই নারীর সন্তানদের ছবি ও প্রোফাইল প্রকাশপূর্বক তাঁদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, মৃত ওই মায়ের সন্তানরা উচ্চশিক্ষিত ও সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও তাঁদের বৃদ্ধা মায়ের যথাযথ দেখাশোনা করেননি। আবার অনেকেই ওই মায়ের সন্তানদের চাকরিচ্যুত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন। এদিকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে এরই মধ্যে আদালতে রিট হয়েছে। ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মো. শরীফ সরকার এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন। জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র (১৯৪৮) অনুযায়ী, নূরজাহান বেগমের মৌলিক অধিকার কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে ওই রিটে। আর এই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এ ঘটনায় নূরজাহান বেগমের যে ছেলে সচিব, তাঁকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।  

নূরজাহান বেগম নামের ওই মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারসংক্রান্ত বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এখন আলোচনায় এসেছে মা-বাবার ভরণ-পোষণ সংক্রান্ত আইনটি, যা পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩ নামে পরিচিত, যদিও এই আইনের ব্যবহার আমাদের দেশে খুবই কম দেখা যায়। আইনটির ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তাঁর মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং একাধিক সন্তান থাকলে প্রত্যেককে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ওই আইনে বলা হয়েছে, কোনো সন্তান তাঁর মা-বাবাকে অথবা উভয়কে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদাভাবে বাস করতে বাধ্য করতে পারবেন না। সন্তানরা তাঁদের মা-বাবার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবেন। তা ছাড়া মা-বাবাকে নিয়মিত সঙ্গ প্রদান করার কথাও বলা হয়েছে ওই আইনে। এই আইনে বলা হয়, কোনো সন্তানের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, তাহলে তাঁরাও একই অপরাধে অপরাধী হবেন, তাঁদেরও এই আইনের অধীন শাস্তির আওতায় আনা যাবে। আইনটির ৩(৭) ধারায় বলা হয়, কোনো মা বা বাবা কিংবা উভয়ে সন্তানদের সঙ্গে বসবাস না করে আলাদাভাবে বসবাস করলে ওই মা বা বাবার প্রত্যেক সন্তান তাঁর প্রতিদিনের আয়-রোজগার, মাসিক আয় বা বার্ষিক আয় থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ মা বা বাবা বা ক্ষেত্রমতে দুজনকেই নিয়মিত প্রদান করনেব। কোনো ব্যক্তি মা-বাবার ভরণ-পোষণ আইন অমান্য করলে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচার করা যাবে মা বা বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে। আইনটির ৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো প্রবীণ তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আনেন এবং সেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁরা এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আর যদি কোন মা-বাবার সন্তান বেঁচে না থাকেন বা ভরণ-পোষণের মতো কেউ না থাকেন, সে ক্ষেত্রে মা-বাবা ভরণ-পোষণ কমিটি (সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত) তাঁদের বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি বা বেসরকারি পরিচালিত পরিচর্যাকেন্দ্রে রেখে পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে পারে।

মিরপুরের ওই মা নিশ্চয়ই অন্যান্য মায়ের মতোই অনেক কষ্ট করে, অনেক যত্ন নিয়ে তাঁর সন্তানদের বড় করেছিলেন। সেই সন্তানরা আজ উচ্চশিক্ষিত ও সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। অথচ তাঁরা মায়ের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি, যা দুঃখজনক। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের দূরত্বে অনেকেই একতরফা সন্তানকে দায়ী করেন। দায় যে তাঁদের নেই, সেটি নয়। তবে পরিস্থিতি অনেক সময় সবার অনুকূলে না-ও থাকতে পারে। বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি মানসিক নানা ধরনেরও সমস্যা দেখা দেয় এবং তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই সিজোফ্রেনিয়া রোগীর মতো আচরণ করেন। অনেকেই মা-বাবাকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে চান, আবার অনেকেই মা-বাবাকে কাছে রাখতে চেয়েও তাঁদের নিজের দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা গণ্ডি ছাড়তে চান না, যেখানে সন্তানদেরও কিছু করার থাকে না। তবে এ কথা ধ্রুব সত্য যে পৃথিবীর প্রত্যেক মা-ই নিজে অনেক কষ্ট করে, খেয়ে না খেয়ে সন্তান লালন-পালন করে বড় করেন, শিক্ষিত করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের অনেকেই মানুষের মতো মানুষ হতে পারেন না। বলা বাহুল্য, মা-বাবা বার্ধক্যে পৌঁছলে তাঁদের সেবা-যত্ন ও ভালোভাবে দেখভাল করা প্রত্যেক সন্তানেরই নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন হয় অনেক সময়। আর এটি আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র যে বৃদ্ধ বয়সে অনেক মা-বাবাই অনেক কষ্টে জীবন যাপন করেন। এ ধরনের অমানবিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে শুধু সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলাসহ মা-বাবার ভরণ-পোষণ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং এই অবস্থার সার্বিক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন ধর্মীয়, নৈতিক ও পারিবারিক শিক্ষার প্রসার এবং মানবিকতার বিকাশ ঘটানো; প্রয়োজন আত্মকেন্দ্রিকতা পরিহার করা, মা-বাবার প্রতি সন্তানদের ভালোবাসা বজায় থাকা ও বজায় রাখাসহ তাঁদের দেখাশোনা করার মতো সত্যিকারের মনমানসিকতা বিদ্যমান থাকা অত্যাবশ্যক। সর্বোপরি মা-বাবার দেখভাল ও ভরণ-পোষণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানের উচিত নিজের বিবেক ও নৈতিকবোধকে জাগ্রত করা, মানবিকতার প্রকাশ করা। অন্যথায় মিরপুরের ওই ঘটনার মতো ভবিষ্যতেও যে আরো অনেক ঘটনাই সমাজে ঘটতে থাকবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

লেখক : অধ্যাপক (আইন বিভাগ), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

রিজার্ভে ডলার নয়, সোনা হোক অগ্রাধিকার...

অজেয় রোহিতাশ্ব আল্-কাযী

রিজার্ভে ডলার নয়, সোনা হোক অগ্রাধিকার...

ব্রেটন-উডস ব্যবস্থার অবসানের পর বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা সরাসরি সোনানির্ভর কাঠামো থেকে সরে এসে ফিয়াট মুদ্রা (কাগুজে মুদ্রা), ঋণ সম্প্রসারণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ভর এক ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নমনীয়তা বাড়ালেও একই সঙ্গে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে অধিক জটিল ও আস্থানির্ভর করে তুলেছে। কারণ ফিয়াট মুদ্রা ব্যবস্থার মূলভিত্তি কোনো বাস্তব সম্পদ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা এবং বাজার আস্থার সমন্বয়। কিন্তু ইতিহাস শিক্ষা দেয়, যে ব্যবস্থা শুধু আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে আস্থা নড়ে গেলেই সংকট দেখা দেয়। অন্যদিকে সোনা, সুমেরীয় সভ্যতা থেকে আজ পর্যন্ত আস্থার একটি পরীক্ষিত মানদণ্ড হিসেবে টিকে আছে।

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো এই বাস্তবতা পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করেছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চীন  প্রায় দুই হাজার ৩১৩ টন সোনা মজুদ করেছে এবং পিপলস ব্যাংক অব চায়না ধারাবাহিকভাবে সোনা কিনে চলেছে। রাশিয়া মজুদ করেছে প্রায় দুই হাজার ৩০৫ টন। ডলারনির্ভরতা কমাতে সোনাকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করছে। ফ্রান্স মজুদ করেছে প্রায় দুই হাজার ৪৩৭ টন, যা ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম মজুদ এবং দেশের অভ্যন্তরেই সংরক্ষিত। ভারত মজুদ করেছে প্রায় ৮৮১ টন। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI) নিয়মিত সোনা কিনছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মোট ৮৬৩ টন সোনা কিনেছে, যা বহু দশকের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিমাণ।

ফিয়াট মুদ্রা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূলত অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতার এবং আস্থার ওপর নির্ভরশীল।

দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ সম্প্রসারণ যখন উৎপাদন সক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়, তখন মুদ্রার স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশ্ব অর্থনীতিতে উচ্চ ঋণস্তর, অতিরিক্ত তারল্য ও ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনএই তিনটি উপাদান বর্তমান মুদ্রাব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সে কারণেই  গ্লোবাল রিসেট ধারণাটি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো তার অফিশিয়াল সোনার মূল্য ধরে রেখেছে প্রতি ট্রয় আউন্স মাত্র ৪২.২২ ডলার, যা ১৯৭০-এর দশকের নীতিগত কাঠামোর অংশ। অথচ সোনার বর্তমান বাজারমূল্য (মে ২০২৬) প্রায় চার হাজার ৪৫০ থেকে চার হাজার ৫৩০ ডলার প্রতি ট্রয় আউন্স। যদি কোনো বড় পুনর্মূল্যায়ন করা হয় (যেমনট্রয় আউন্সে ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি), তাহলে খাতা-কলমে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সৃষ্টি হয়ে যাবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র সোনার এই পুনর্মূল্যায়ন করে, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তীব্র অভিঘাত অবশ্যম্ভাবী হয়ে যাবে। ডলারনির্ভর দেশগুলো তখন প্রবল অর্থনৈতিক চাপে পড়বে। সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেযেসব দেশ আগে থেকে সোনার মজুদ বাড়িয়েছে (চীন, রাশিয়া, ভারত ও ফ্রান্স)। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন মানদণ্ড তৈরি হবে। পুনর্বিন্যাসিত হবে বিশ্ব অর্থনীতি।

বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি ও সুযোগ : বাংলাদেশের মতো ডলারনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই সম্ভাব্য পরিবর্তন ভয়াবহ হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট রিজার্ভ প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার (এপ্রিল ২০২৬), যার মধ্যে সোনা মাত্র ১৪.২৮ টন (প্রায় ১ শতাংশের কম০.৬৭ শতাংশ)।

ঝুঁকি : ১. বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের খরচ বৃদ্ধি। ২. জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে মূল্যস্ফীতি। ৩. ডলার দুর্বল হলে রিজার্ভের আন্তর্জাতিক ক্রয়ক্ষমতা কমবে। ৪. ডলার দুর্বল হলে রেমিট্যান্সের প্রকৃত মূল্য হ্রাস পাবে।

সুযোগ : যদি ডলার দুর্বল হয়, তবে পাট, পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের আন্তর্জাতিক দাম বাড়তে পারেঅভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে এর সুফল পাবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অবিলম্বে সোনার মজুদ বাড়ানো উচিত। এটি মুদ্রাস্ফীতি, ডলারের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সংকটের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হেজ হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ব অর্থব্যবস্থায় সোনা শুধু একটি ধাতু নয়, এটি সীমা, শৃঙ্খলা ও বাস্তবতার প্রতীক। এমন এক সম্পদ, যা ইচ্ছামতো ছাপা যায় না বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে রাতারাতি তৈরি করা যায় না। অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত শুধু সংখ্যার খেলা নয়। এটি আস্থা, সংযম ও দায়বদ্ধতার সম্মিলিত ব্যবস্থা। যে রাষ্ট্র এই তিনটিকে উপেক্ষা করে, তাকে একদিন তার ভুলের মূল্য চোকাতে হয়। ুংুুবাংলাদেশ কি সেই ভুলের খেসারত দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর একটি হবে?

লেখক : প্রাবন্ধিক, রাষ্ট্রচিন্তক

শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজন মানসম্পন্ন গবেষণা

মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ

শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজন মানসম্পন্ন গবেষণা

সাম্প্রতিক সময়ে একজন রাজনৈতিক নেতা (মন্ত্রী) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের মধ্যে যে বক্তব্য ও পাল্টাবক্তব্য জনসমক্ষে এসেছে, তা আমাদের সবাইকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। বিষয়টি শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মতপার্থক্যের নয়, বরং এটি আমাদের সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর মান, মূল্যবোধ ও পেশাগত সংস্কৃতি নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে, যেখান থেকে ভবিষ্যতের আমলা, গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হয়। ব্যক্তিগত মন্তব্য বা কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোনটির চেয়ে শ্রেষ্ঠএই বিতর্কে সময় ব্যয় না করে আমাদের আরো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করা উচিতগবেষণা, উদ্ভাবন এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থান কোথায়?

খোলামেলা একটি পর্যবেক্ষণ শেয়ার করতে চাই। বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান, গবেষণা অবকাঠামো এবং উদ্ভাবনব্যবস্থা এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছেনি, যা দেশের বড় বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এর প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই অর্থনীতি, পরিবেশ, জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খাতে গবেষণাভিত্তিক সমাধানের তুলনামূলক স্বল্প উপস্থিতিতে।

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসেগবেষণার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? গবেষণা শুধু একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন, প্রকাশনার সংখ্যা বৃদ্ধি, পদোন্নতি লাভ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং উন্নত করার জন্য হওয়া উচিত নয়। গবেষণার চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন জ্ঞান সৃষ্টি করা, যা বাস্তব সমস্যার সমাধান দেয় এবং জাতীয় উন্নয়নে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অবদান রাখে।

একটি কার্যকর গবেষণা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে পারে, দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারে, জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে পারে এবং শিক্ষার মান উন্নত করতে পারে। আমরা কি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে আমাদের দেশে পরিচালিত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণা জাতীয় পর্যায়ে এসব খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনে দিয়েছে? এই প্রশ্নের সৎ উত্তর খুঁজে বের করা নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সবার দায়িত্ব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং জাতীয় সক্ষমতা উন্নয়নে কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী করেছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে তারা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। এ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু রয়েছে।

সুতরাং মূল আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত নয় কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোনটির চেয়ে ভালো। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলোকিভাবে আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি, যা একই সঙ্গে দেশের বাস্তব প্রয়োজন ও জাতীয় অগ্রাধিকারের প্রতি সংবেদনশীল থাকবে। প্রতিটি গবেষণা প্রকল্পকে শুধু একাডেমিক মানদণ্ডে নয়, বরং সমাজ ও দেশের উন্নয়নে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অবদানের ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

আজ যখন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি, রোবটিকস, সাইবার নিরাপত্তা, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু সহনশীলতা, বায়োটেকনোলজি এবং মহাকাশসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও উদ্ভাবনের অগ্রভাগে অবস্থান নিতে হবে।

গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে ভবিষ্যতের জাতীয় চাহিদা এবং উদীয়মান বৈশ্বিক প্রযুক্তির আলোকে। একই সঙ্গে স্থানীয় সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করাও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত। বাংলাদেশে মেধাবী শিক্ষার্থী, দক্ষ শিক্ষক, প্রতিশ্রুতিশীল গবেষক এবং বিপুল বুদ্ধিবৃত্তিক সম্ভাবনার কোনো অভাব নেই। প্রয়োজন একটি শক্তিশালী গবেষণা পরিবেশ, যেখানে থাকবে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার, শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক অংশীদারি, মেধাভিত্তিক গবেষণা প্রণোদনা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় গবেষণা ভিশন।

সব শেষে আমাদের উচিত কোন বিশ্ববিদ্যালয় সেরাএই বিতর্ক থেকে বেরিয়ে এসে কিভাবে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত মূল্যায়ন তার ঐতিহ্য বা খ্যাতির মাধ্যমে নয়, বরং তার গবেষণা, উদ্ভাবন এবং গ্র্যাজুয়েটরা দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, পরিবেশ ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কতটুকু অবদান রাখছে, তার মাধ্যমে হওয়া উচিত। যেদিন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন গবেষণা সৃষ্টি করবে, যা জাতীয় সমস্যার সমাধান করবে, নতুন শিল্প গড়ে তুলবে, নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে, পরিবেশ রক্ষা করবে, শিক্ষার মান উন্নত করবে এবং মানুষের জীবনকে আরো সমৃদ্ধ করবেসেদিন কোন বিশ্ববিদ্যালয় বড় বা ছোট, সেই বিতর্ক নিজে থেকেই গুরুত্ব হারাবে। কারণ তখন যুক্তি নয়, ফলাফলই সবচেয়ে জোরালো ভাষায় কথা বলবে।

লেখক : অ্যাজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই বিশ্ববিদ্যালয় ও বিইউপি

জাপান : সমৃদ্ধির আড়ালে কি এক নীরব শূন্যতা

সোহেল আহমেদ

জাপান : সমৃদ্ধির আড়ালে কি এক নীরব শূন্যতা

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে জাপান সফরের আগে আমি দেশটি সম্পর্কে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বই পড়েছি, ইউটিউব ডকুমেন্টারি দেখেছি, ওয়েবসাইট ঘেঁটেছি এবং জাপানফেরত বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছি। ফলে জাপানে পৌঁছানোর আগে আমার মনে একটি বিশেষ চিত্র তৈরি হয়েছিলউন্নত প্রযুক্তি, উচ্চশিক্ষার হার, সুশৃঙ্খল নাগরিক জীবন এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এক অনন্য দেশ।

বাস্তবে গিয়ে আমি এসবের প্রায় সবই দেখেছি। পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সময়ানুবর্তী ট্রেন, কর্মনিষ্ঠ মানুষ, উন্নত অবকাঠামো এবং সামাজিক শৃঙ্খলা সত্যি প্রশংসনীয়। কিন্তু এর পাশাপাশি এমন একটি অনুভূতি আমাকে তাড়া করেছে, যা হয়তো অনেক পর্যটকের চোখ এড়িয়ে যায়। আমার মনে হয়েছে, জাপানের বহু মানুষের মধ্যে যেন এক ধরনের নীরব ক্লান্তি, চাপা একাকিত্ব এবং অদৃশ্য শূন্যতা কাজ করছে।

টোকিওর ট্রেনে আমি দেখেছি অফিসগামী নারী-পুরুষ। অনেকে ট্রেনে বসেই সাজগোজ করছেন, কেউ মোবাইলে ব্যস্ত, কেউ চোখ বন্ধ করে বসে আছেন। তাঁদের মুখে হাসি কম, কথাবার্তা কম। একজন বাংলাদেশি হিসেবে, যেখানে মানুষ সহজে কথা বলে, হাসে এবং সম্পর্ক গড়ে তোলে, সেখানে এই দৃশ্য আমার কাছে কিছুটা যান্ত্রিক মনে হয়েছে।

এক রবিবার টোকিওর একটি উন্মুক্ত বাজারে গিয়ে আমি আরো অবাক হয়েছি। শহরের শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত নাগরিকরা ছোট ছোট স্টল বসিয়ে নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রি করছেনকেউ কাঠের তৈরি চশমা, কেউ হাতে বানানো স্টিকার, কেউ নিজস্ব রেসিপির খাবার, কেউ শিল্পকর্ম। প্রথমে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছিলএটি কি অতিরিক্ত আয়ের প্রয়োজন, নাকি জীবনের অর্থ খোঁজার একটি প্রচেষ্টা? তবে বিষয়টি একপক্ষীয় নয়। জাপান বিশ্বের অন্যতম উচ্চ সাক্ষরতার দেশ। তাদের সাহিত্যচর্চার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। হাইকু কবিতা, উপন্যাস, নাটক, শিল্পকলা এবং সংগীত আজও জাপানি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাপান থেকে নোবেলজয়ী সাহিত্যিকও এসেছে। স্কুলে সাহিত্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং বই পড়ার সংস্কৃতি এখনো বিদ্যমান।

তাহলে আমি যে অনুভূতি পেয়েছি, সেটি কী? আমার মনে হয়, সেটি অর্থনৈতিক দারিদ্র্য নয়, বরং আধুনিক নগরজীবনের একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, প্রতিযোগিতা, কম জন্মহার, একাকী জীবন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা অনেক মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলতে পারে। প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নতি মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে, কিন্তু সব সময় মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে পারে না।

আমি বিশ্বাস করি, একজন প্রকৌশলী, স্থপতি, চিকিৎসক বা প্রশাসকযে-ই হোন না কেন, তাঁর সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় থাকা জরুরি। প্রযুক্তি মানুষকে দক্ষ করে, কিন্তু সাহিত্য মানুষকে মানুষ করে। গণিত মস্তিষ্ককে শাণিত করে, কিন্তু কবিতা হৃদয়কে জাগ্রত করে। উন্নত সমাজ গঠনের জন্য উভয়েরই প্রয়োজন।

তাই জাপান সফর শেষে আমার উপলব্ধি হলো, শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি নয়, মানুষের অন্তর্জগতের বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি জাতি তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি তার মানুষের মনও সমৃদ্ধ হয়। তবে ন্যায়সংগতভাবে বলতে হয়, একজন বিদেশি পর্যটকের কয়েক দিনের অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরো জাপানি সমাজকে বিচার করা যায় না। আমি যা দেখেছি, তা আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। অন্য কেউ হয়তো একই জাপানে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। কিন্তু ভ্রমণের সৌন্দর্য এখানেইএটি শুধু নতুন দেশ দেখায় না, আমাদের নিজেদের সমাজ ও মূল্যবোধকেও নতুন করে ভাবতে শেখায়।

লেখক : আলোকচিত্রী ও গণমাধ্যমকর্মী