• ই-পেপার

একই ব্যবহারে কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুতের বিল, দিশাহারা গ্রাহক

  • দেশজুড়ে অভিযোগ
  • তদন্তের নির্দেশ

আজকের খেলা

আজকের খেলা

পর্তুগাল-স্পেন (রাত ১টা)

যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম (কাল সকাল ৬টা)

মায়ের ‘ধর্ষক’কে গলা কেটে হত্যা করল চার ভাই

৬ জেলায় ৪ খুন, ২ লাশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
মায়ের ‘ধর্ষক’কে গলা কেটে হত্যা করল চার ভাই

ময়মনসিংহে মাকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর চার ছেলে গলা কেটে হত্যা করেছে অভিযুক্ত যুবককে। নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ গেছে এক যুবকের। চট্টগ্রামে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মারা গেছেন আরেক যুবক। বগুড়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে সন্ত্রাসীদের হামলায় জামায়াত নেতার মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকায় মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ময়মনসিংহ : নগরীতে এক নারীকে ধর্ষণের পর অভিযুক্ত যুবককে তাঁর বাসায় ঢুকে গলা কেটে হত্যা করেছে ভুক্তভোগী নারীর চার ছেলে। এই অভিযোগ ওঠার পর ভাইদের দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

গতকাল সকালে নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোড সংলগ্ন ৩৬ বাড়ি কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজিব আহমেদ রুবেল (৩৫) আর কে মিশন রোডের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেল আকুয়া ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি বাসাভাড়া নিয়ে বন্ধুদের নিয়ে থাকত। বন্ধুরা সবাই আপন ভাই। গত শুক্রবার বন্ধুদের মাকে ধর্ষণ করে রাজিব। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীর চার ছেলে মিলে রাজিবকে হত্যা করে। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেছি। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ (সিটি) : ফতুল্লায় ছিনতাইকারী সন্দেহে বাসা থেকে ধরে নেওয়ার পর এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিজান (২৫) ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এলাকার একটি মসজিদের ইমাম কাওসার আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য রাতে সিজানকে তাঁর বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে অভিযুক্ত ইমাম কাওসার আহমেদ দাবি করেন, সিজানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। তাঁকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে ডেকে বুঝিয়ে বলা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে মারধর করে।

এদিকে সিজানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর বড় ভাই বাবুর নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের উপস্থিতিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, মরদেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

চট্টগ্রাম : হাটহাজারীতে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে বেলাল হোসেন (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বেলালের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় থাকতেন।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, একজনের চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি বেলালের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁকে মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বগুড়া : দুপচাঁচিয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে আপন চাচার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতা মারা গেছেন। শনিবার রাতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি ছিলেন। এর আগে গত ১ জুলাই রাতে মামলার প্রধান আসামি চাচা আব্দুল করিম আকন্দ ও তাঁর স্ত্রীকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকা : হাতিরঝিল থানার মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। নিহত তাহমিদুল ইসলাম (১০) আল-ফুরকান মসজিদ মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল। সে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কাজীপুর গ্রামের শাহিন রেজার ছেলে।

হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া বলেন, শনিবার রাতে মাদরাসার ভেতরে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে সহপাঠীসহ অন্যরা। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

টাঙ্গাইল : সদর উপজেলায় মাসুদ মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকালে খবর পেয়ে মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ী এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

সদর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

হামে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট ৭৩৮

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট ৭৩৮

হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৯২৫ জন। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১০৬ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গতকাল সাত শিশুর মধ্যে চারটিরই ঢাকায় এবং সিলেটে এক, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৩৮ শিশুর। এর মধ্যে হাম শনাক্ত ৯৩ শিশুর ও উপসর্গ নিয়ে ৬৪৫ শিশুর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে এক লাখ পাঁচ হাজার ৬১৮ শিশু। এ এ সময় হাম শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৬৩২ শিশুর। মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ২৫০ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৭৮ জন। এ নিয়ে রোগটিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮ হাজার ৮৪৪ জন। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৫ হাজার ১২২ জন।

এ বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ৩৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ৪২৩ জন। এটি মোট মৃত্যুর ৪৫.৩৯ শতাংশ ও আক্রান্তের ৪০.৯৪ শতাংশ।

এর আগে গত প্রায় সাত বছরে হামে ৪০০-এর বেশি সংক্রমণ হয়নি কোনো বছর। আর মৃত্যু হয়েছে হাতে গোনা কয়েকজনের। এর কারণ ছিল নিয়মিত টিকাদান। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা দিতে চরম অবহেলা করা হয়। এ কারণেই এবার হামে এত সংক্রমণ ও মৃত্যু। হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের মুখে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ৩০ স্থানে হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়। আর দেশজুড়ে টিকা দেওয়া শুরু হয় ১৫ এপ্রিল থেকে। এর পরও হামের প্রকোপ যেমন কমেনি, তেমনি কমেনি শিশুর মৃত্যু। প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে হামকে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার দাবি ওঠে জনস্বাস্থ্যবিদদের পক্ষ থেকে। তবে সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

সরকারের সাম্প্রতিক ভিটামিন প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় যত শিশু পৌঁছেছিল, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত তার তুলনায় প্রায় ৪০ লাখ কম শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ঘাটতি দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকার একটি কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ কিছুটা কমলেও তা প্রত্যাশিত হারে কমছে না। রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা আইসোলেশনে রাখতে হয়, যা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বাড়তি জটিলতা তৈরি করছে।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক হামের টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়েছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। এই বড় জনগোষ্ঠী টিকার বাইরে থাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে টিকাদান কর্মসূচির আওতা আরো বাড়ানো জরুরি।

 

চিফ প্রসিকিউটর

তদন্ত সাপেক্ষে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
তদন্ত সাপেক্ষে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
মো. আমিনুল ইসলাম

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দল হিসেবে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

গতকাল রবিবার নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন। ঠিক ১০ মাস আগে গত বছর ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত ৪ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই রাজনৈতিক দলকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। গতকাল ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জানতে চান আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে কি না?

জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান ব্যক্তি চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগটি আমরা যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে তদন্ত সংস্থা আছে, সেই সংস্থায় আমরা প্রেরণ করেছি। সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচার হবে কি হবে না, সেই বিষয়ে আমাদের সংস্থা তদন্ত করছে। তদন্ত করার পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, আমার কাছে যদি রিপোর্ট দাখিল করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। আপাতত অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, এই বিষয়ে আমাদের তদন্ত সংস্থায় তদন্ত চলমান আছে।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের পাশাপাশি ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও আওয়ামী লীগের অপরাধের তদন্ত করার সুযোগ আছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে গত বছর ৮ মে রাতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একদল নেতাকর্মী। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন এনসিপি মুখ্য সংগঠক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। পরদিন এই অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানায় জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এদিন এনসিপির নেতাকর্মীরা মিন্টো রোডের প্রবেশ মুখে মঞ্চ বানিয়ে সমাবেশও করেন। পরে মিন্টো রোড থেকে সরে এসে তাঁরা শাহবাগে অবস্থান নেন। ১০ মে বিকেলে সেখানে গণজমায়েত করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় দাবি মেনে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এর কিছু সময় পরই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলার মধ্যে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগ থেকে সরে এসে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়ে অবস্থান নেন। রাত ১০টার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেছিলেন ওই সময়ের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছিলেন, সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনীর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রাজনৈতিক দল, দলের অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।