যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের সর্ববৃহৎ প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন (এমসিবি) সে দেশের মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোর জন্য হালনাগাদ ‘মসজিদ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নির্দেশিকা’ প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ১৯ জুন ২০১৭ সংঘটিত ভয়াবহ ফিন্সবুরি পার্ক সন্ত্রাসী হামলার নবম বার্ষিকী সামনে রেখে। ২০১৭ সালের ওই হামলায় এক উগ্র ডানপন্থী সন্ত্রাসী ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ভ্যান চালিয়ে লন্ডনের ফিন্সবুরি পার্ক মসজিদ ও মুসলিম ওয়েলফেয়ার হাউসের কাছে অবস্থানরত মুসল্লিদের ওপর তুলে দেয়। এতে ৫১ বছর বয়সী মাকরাম আলী নিহত হন এবং আরো ১২ জন গুরুতর আহত হয়।
সেই মর্মান্তিক ঘটনার ৯ বছর পরও ব্রিটিশ মুসলিমদের জন্য উগ্র ডানপন্থী ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সন্ত্রাসবাদের হুমকি ক্রমবর্ধমান বলে মনে করছে এমসিবি। এই হুমকির মধ্যে শুধু ব্যাপক প্রাণহানির সন্ত্রাসী হামলাই নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলা ভাঙচুর, ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ও ইসলামবিদ্বেষমূলক ঘৃণাজনিত অপরাধও অন্তর্ভুক্ত। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য মুসলিমবিরোধী ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গড়ে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি করে ঘটেছে। এ ধরনের ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হামলাগুলোর বিষয়ে এমসিবি স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ রিডের কাছেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নতুন নির্দেশিকাটি মসজিদের ট্রাস্টি, স্বেচ্ছাসেবক এবং কর্মীদের জন্য বাস্তবধর্মী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের সহায়ক উপকরণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারের ভৌত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আধুনিক ডিজিটাল হুমকির মোকাবেলায় প্রস্তুতি বাড়ানো।
এতে জরুরি যোগাযোগ তালিকা, সরিয়ে নেওয়ার পথ এবং দ্রুত সতর্কতামূলক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা প্রেরণ করার নির্দেশনা রয়েছে, যাতে কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীরা প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে পারেন। এতে আরো আছে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মসজিদ রক্ষা, ক্ষতিকর ডাক বা পার্সেল মোকাবেলা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ঘৃণাজনিত অপরাধের অভিযোগ কিভাবে জানাতে হবে সে সম্পর্কিত নির্দেশনা।
এমসিবির মহাসচিব ড. ওয়াজেদ আখতার বলেন, ১৯ জুন ফিন্সবুরি পার্ক সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চিন্তা ও দোয়া রয়েছে চাচা মাকরাম আলীর পরিবার, হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে। সেই রাতের বিভীষিকা এখনো আমাদের সম্মিলিত স্মৃতিতে অম্লান। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যখন বিষাক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন ইসলামবিদ্বেষ সমাজে ছড়িয়ে পড়তে দেওয়া হয়, তখন তার পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে।
সূত্র : এমসিবি ডটঅর্গ ডটইউকে