সংগীত এমন একটি অনন্য সেতুবন্ধ, যা দুই দেশের মানুষকে আরো কাছাকাছি নিয়ে আসে।
ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত

সংগীত এমন একটি অনন্য সেতুবন্ধ, যা দুই দেশের মানুষকে আরো কাছাকাছি নিয়ে আসে।
ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত

জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারে কোনো পরিবর্তন আনেনি সরকার। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সব সঞ্চয় কর্মসূচির বিদ্যমান মুনাফার হার ও শর্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে আগামী ছয় মাসও আগের হারেই মুনাফা পাবেন বিনিয়োগকারীরা। স্কিমভেদে সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১১.৮২ শতাংশ থেকে ১১.৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।
গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সহকারী সচিব ফারহানা জাহান উপমা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন মেয়াদে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোর জন্য যে সুদহার কার্যকর ছিল, জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদেও একই হার ও একই শর্তে তা বহাল থাকবে। সিদ্ধান্তটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বছরে দুই দফায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়। প্রথম দফা ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন এবং দ্বিতীয় দফা ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে সঞ্চয়পত্রের কয়েকটি স্কিমের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মাত্র চার দিনের মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আগের হার পুনর্বহাল করা হয়। এবারও সরকার একই হার বহাল রাখার পথেই হেঁটেছে।
বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এক শ্রেণিতে রয়েছেন সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারী এবং অন্য শ্রেণিতে রয়েছেন এর বেশি বিনিয়োগকারী। প্রথম শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক কিছুটা বেশি মুনাফা পান।
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচে বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৯.৭৪ শতাংশ থেকে শুরু করে পঞ্চম বছরে ১১.৮৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাবেন। একই স্কিমে উচ্চতর বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফার হার প্রথম বছরে ৯.৭২ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৮০ শতাংশ।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে প্রথম শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ১০.৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.২২ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১.৮২ শতাংশ মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ১০.৬০ শতাংশ, ১১.১৬ শতাংশ ও ১১.৭৭ শতাংশ।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে প্রথম শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফার হার প্রথম বছরে ৯.৮৪ শতাংশ থেকে শুরু হয়ে পঞ্চম বছরে ১১.৯৮ শতাংশে পৌঁছাবে। দ্বিতীয় শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ হার ১১.৯৮ শতাংশ থাকছে।
পরিবার সঞ্চয়পত্রে প্রথম শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৯.৮১ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৯৩ শতাংশ মুনাফা পাবেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফার হার প্রথম বছরে ৯.৭২ শতাংশ থেকে পঞ্চম বছরে ১১.৮০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।
এ ছাড়া পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট স্কিমেও আগের হার বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ১০.৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.২২ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১.৮২ শতাংশ মুনাফা পাবেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক আমানতের সুদের হারের তুলনায় সঞ্চয়পত্র এখনো ক্ষুদ্র ও মধ্যম আয়ের মানুষের কাছে একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ মাধ্যম। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, নারী এবং নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সঞ্চয়পত্রের স্থিতিশীল মুনাফা গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করে।
অন্যদিকে সরকারের জন্য সঞ্চয়পত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ ঋণ উৎস হলেও উচ্চ মুনাফা ব্যয় সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করে। ফলে একদিকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং অন্যদিকে সরকারের ঋণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নির্ধারণ করতে হয়।

পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পের প্রয়োজনেই করা হয়েছে এবং এতে সেতুর নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ভায়াডাক্টের নিচে মাটি কাটার বিষয়ে যেভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। মাটি অপসারণের বিষয়টি সত্য হলেও এটি কোনো অপরিকল্পিত বা স্বেচ্ছাচারী কাজ নয়। বরং প্রকল্পের চুক্তি ও নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬.৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য জলাভূমির ওপর অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই ভরাট মাটি অপসারণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা চুক্তিতেই রয়েছে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে ১৬.৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪.৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী ভরাট মাটি অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২.৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। পরিবেশের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ও জলাভূমির ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেই এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি অপসারণের পর মূল প্রাকৃতিক স্তরে পৌঁছা যাবে। আর সেই স্তরেরও সাত থেকে আট ফুট নিচে রয়েছে পাইল ক্যাপ, যার পুরুত্ব ছয় ফুট। এর আরো নিচে প্রায় ২০০ ফুট গভীরে আটটি পাইলের ওপর পুরো ভায়াডাক্ট দাঁড়িয়ে আছে। ফলে মাটি অপসারণের সঙ্গে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞদের নকশা ও তত্ত্বাবধানে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। রেলওয়ের জায়গা রেলওয়ের প্রয়োজনেই ব্যবহৃত হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে যেটুকু মাটি অপসারণ প্রয়োজন, সেটুকু অবশ্যই করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’
ওই সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলসচিব ফাহিমুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ প্রমুখ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থী মুসলিম রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের যেকোনো অপচেষ্টা বা অপপ্রচার কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ইস্যু সহজ করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তৎকালীন সময়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে জনমত ও সমর্থন আদায়ে বলিষ্ঠ ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তিনি তাঁদের বাংলাদেশে আগমন ও পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সহযোগিতা চান।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রদূত আরো অনুরোধ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিক বা শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ভিসার জন্য আবেদন করলে যথাযথ যাচাইয়ের স্বার্থে সেই আবেদনের একটি অনুলিপি যেন ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানো হয়।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে আমরা ফিলিস্তিনকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি ও বিশ্বাস করি। ফিলিস্তিনের নাগরিকদের কল্যাণে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।’
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত তাঁকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানান।