দেশে কর্মসংস্থানের সংকট, আকাশছোঁয়া বেকারত্ব ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে পড়ে অনেকে অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হন। তাঁদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয় না। অনেকে জিম্মিদশার শিকার হন। চলে জুলুম-নির্যাতন। আবার চাইলে বাড়িও ফেরা যায় না। সে ক্ষেত্রেও লাখ লাখ টাকার মামলা। এভাবে বহু পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে।
কালের কণ্ঠের খবরে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কম্বোডিয়ায় গিয়ে হাজারো বাংলাদেশি ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাঁদের চাকরির কথা বলে নিয়ে যাওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের বাধ্য করা হয় প্রতারণার কাজে। এমনই এক ভুক্তভোগী নোয়াখালীর আব্দুল্লাহ আল শাকিল গত ফেব্রুয়ারিতে দালালদের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় যান। তাঁকেও এক স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছ থেকে নিয়ে দুই লাখ টাকা পরিশোধের পর কোনো রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে দেশে ফিরেছেন। আরেক খবরে দেখা গেছে, রাজবাড়ী জেলার আলী হাসান সোহেল অটোরিকশা চালাতেন। জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতে কষ্টের টাকা দিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। কথা ছিল, মাসে ৬০ হাজার রুবলে নির্মাণকাজ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, নামমাত্র ট্রেনিং দিয়ে তাঁকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। ড্রোন হামলায় আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেল। ভিডিও কলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন তিনি। সোহেলের মতো আরো অনেক বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এটি ঠিক যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে যাঁরা বৈধ পথে বিদেশে যান, তাঁরা প্রতারণার শিকার হন না। কিন্তু আমাদের মতো জনবহুল দেশের বাস্তবতা হলো, বহু লোক দালালদের কথা বিশ্বাস করেন বা ভুঁইফোড় এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যান। অনেকে সরকারি দপ্তরের নিয়ম-কানুন বোঝেন না—মূলত দালালরা তাঁদেরই টার্গেট করে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবপাচার ও প্রতারণা প্রতিরোধে কঠোর আইন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে দালালচক্রের বিরুদ্ধে শাস্তির নজির কম। এ কারণেও দালালদের দৌরাত্ম্য কমছে না।
দেশের মানুষ জীবিকার তাগিদে ভিটামাটি বিক্রি করে বিদেশে যেতে চান, তাঁরা যেন প্রতারণার শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য দালালচক্রের অপতৎপরতা বন্ধে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিএমইটির পরিষেবা যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছানো যায়, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সচেতন প্রয়াসও।

