• ই-পেপার

ইরানের তেল বিক্রিতে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন আইসিই এজেন্টের গুলিতে মেক্সিকান অভিবাসী নিহত

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন আইসিই এজেন্টের গুলিতে মেক্সিকান অভিবাসী নিহত
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান দেশব্যাপী কঠোর অভিযানের মধ্যে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) এক এজেন্টের গুলিতে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো নামের এক মেক্সিকান নাগরিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে হিউস্টনের পূর্ব প্রান্তে আইসিই-এর একটি অভিযান চলাকালীন এই গুলির ঘটনা ঘটে। তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আইসিই এক বিবৃতিতে জানায়, লরেঞ্জো সালগাদোকে থামানোর চেষ্টা করা হলে তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করেন এবং নিজের গাড়ি দিয়ে আইসিই-র একটি গাড়িতে ধাক্কা দেন। এরপর একজন কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টায় গাড়িটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে আত্মরক্ষার্থে ওই কর্মকর্তা গুলি চালান। তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি সাদা ভ্যানের পাশে রাস্তায় শুয়ে থাকা সালগাদোর ওপর দুজন এজেন্ট ঝুঁকে আছেন এবং ভ্যানের অপর পাশে আরো দুজনকে হাতকড়া পরা অবস্থায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত লরেঞ্জো সালগাদো দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে হিউস্টনের বাসিন্দা ছিলেন এবং ১৯৯৩ সাল থেকে তার টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল। তার ছেলে রোনাল্ডো সালগাদো জানান, ঘটনার সময় তার বাবা ওই এলাকায় কর্মী (দিনমজুর) খুঁজছিলেন।

গত এক বছরে বেশ কয়েকটি ঘটনায় আইসিই-র ‘আক্রমণের শিকার হওয়ার’ প্রাথমিক দাবি পরবর্তী সময়ে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রন্ডা স্মিথ রয়টার্সকে বলেন, ‘লোকটি কঠোর পরিশ্রমী ছিল। খুনি-ধর্ষকদের পেছনে না লেগে একজন পরিশ্রমী মানুষের পেছনে কেন লাগা হলো?’ অন্য এক বাসিন্দা জিনা ড্যানিয়েলসেন সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, ‘শুধু কাগজপত্র না থাকার কারণে একজন মানুষকে মেরে ফেলা হলো, এটা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।’ ঘটনাস্থলে ফুল ও মোমবাতি জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার (৮ জুলাই) রাতে আরো বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং এফবিআই মাঠে নেমেছে। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সিলভিয়া গার্সিয়া এবং ‘লীগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিজেনস’-এর সভাপতি রোমান পালোমারেস একটি স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হিউস্টন পুলিশ জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ একটি ফেডারেল অপারেশন ছিল এবং এর সাথে স্থানীয় পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশজুড়ে বড় আকারের নির্বাসন অভিযান শুরু হয়। বর্তমানে মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিদিন প্রায় ২,০০০ অভিবাসীকে আটক করছেন। এই নতুন অভিযান শুরুর পর থেকে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।

হরমুজে দুই জাহাজে হামলা, সমুদ্রপথে ঝুঁকি ‘গুরুতর’

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে দুই জাহাজে হামলা, সমুদ্রপথে ঝুঁকি ‘গুরুতর’
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালির কাছে মঙ্গলবার কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাংকার এবং একটি সৌদি অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। এতে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকির মাত্রা ‘গুরুতর’ ঘোষণা করেছে। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও প্রায় ছয় শতাংশ বেড়েছে।

এ হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান নাজুক সমঝোতা নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। তিন মাসের যুদ্ধের পর দুই দেশ হরমুজ প্রণালি আবার চালু রাখতে সম্মত হলেও সর্বশেষ ঘটনায় সেই পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় বাধা তৈরি করেছিল। তবে মঙ্গলবার হামলার পরপরই হোয়াইট হাউজ উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে ইরানকে তেল বিক্রির যে বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল, তা বাতিল করে দেয়। জুন মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তির অংশ হিসেবে বহু বছরের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অনুমতি বাতিলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের কর্মকাণ্ড ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’। এর ‘পরিণতি’ হবে।

অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজার্সের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ছোট সিদ্ধান্ত নয়। তার ভাষায়, এই অনুমতিটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। কারণ এর মাধ্যমে ইরান যুক্তি দেখাতে পারত যে, হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ বা ভিত্তি তৈরি হয়েছে। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা ‘উল্লেখযোগ্য’ থেকে বাড়িয়ে ‘গুরুতর’ করেছে। ১৫ জুনের পর এই প্রথম ঝুঁকির মাত্রা এতটা বাড়ানো হলো। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃত শত্রুতামূলক হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সব জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে চলাচল করতে হবে। সংস্থার মতে, নাবিকদের সমুদ্রে নৌবাহিনীর বাড়তি উপস্থিতি, চলাচলের পথে জট এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

গত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে জাহাজ চলাচল মাত্র এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-পঞ্চমাংশ পর্যায়ে রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ১৬টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৪০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।

সাম্প্রতিক হামলার পর যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে- তেলের বাজারের এমন ধারণা দুর্বল হয়ে পড়েছে। লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ছয় শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের সভাপতি বব ম্যাকন্যালি বলেন, ‘গতকাল থেকে তিনটি জাহাজে ইরানের হামলা এবং ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি বাতিল হওয়া দেখাচ্ছে, যুদ্ধবিরতি তেলের বাজার যতটা শক্ত ও স্থায়ী ভেবেছিল, বাস্তবে তা ততটা নয়।’ একটি সূত্র জানায়, কাতারের এলএনজি বহনকারী 'আল রেকাইয়াত' ট্যাংকারটির বাম পাশে আঘাত লাগে। আরেকটি সূত্রের দাবি, হামলার পর ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগায় জাহাজটি বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে পড়ে। তবে জাহাজের নাবিকরা নিরাপদ ছিলেন এবং তাদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলার সম্পূর্ণ আইনি দায় ইরানের। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে দেশটি ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কাতারের কোনো এলএনজি ট্যাংকার হামলার শিকার হলো। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। আল রেকাইয়াতের মালিক নাকিলাত, কাতারএনার্জি, কাতারের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, সৌদি পতাকাবাহী সুপারট্যাংকার 'ওয়েদিয়ান' হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় ওমান উপকূলের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলার জন্য তারা পুরোপুরি ইরানকে দায়ী করছে। জাহাজটি সৌদি জাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠান বাহরির মালিকানাধীন। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যেসব বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করছে না বা জাহাজের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থায় কারসাজি করছে, তারা ঝুঁকিতে পড়ছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ড হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ইরানের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি আরো বলেন, নিজেদের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে ইরান। এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ইরান দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার পরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় আরেকটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়। এতে জাহাজটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্যাংকারে পণ্য পরিবহনের গড় দৈনিক ভাড়া বেড়ে প্রায় তিন লাখ ডলারে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে এই ভাড়া ছিল দুই লাখ ডলারেরও কম। জাহাজ দালাল প্রতিষ্ঠান বিআরএস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বারবার খোলা ও বন্ধ হওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ট্যাংকার বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এতে দুই দিকেই জাহাজ চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। গত সপ্তাহে দুই দেশের নতুন দফার আলোচনা শেষ হলেও কোনো স্থায়ী চুক্তি হয়নি। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, না হলে "কাজ শেষ করবে"। তিনি আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। এর জবাবে মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি অব্যাহত রাখলে কোনো চূড়ান্ত চুক্তির জন্য নতুন আলোচনা শুরু হবে না। 


 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন উত্তেজনায় ঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালি

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন উত্তেজনায় ঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালি
ছবি : রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীর কাছে কাতার ও সৌদি আরবের বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। এই হামলার পর মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) হরমুজে যাতায়াতের হুমকির মাত্রা ‘মারাত্মক’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বোঝাই কাতারি ট্যাংকার ‘আল রেকায়াত’-এর বাম পাশে আঘাত করা হয়েছে। হামলার পর এর ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায় এবং জাহাজটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে পড়ে। তবে নাবিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটল। পাশাপাশি ওমান উপকূলের কাছে সৌদি আরবের পতাকাবাহী ‘ওয়েদিয়ান’ নামের একটি সুপারট্যাঙ্কারও হামলার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ড্রোনের আঘাতে আরেকটি ট্যাংকার সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, ইরানই এই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে গুলি চালিয়েছে। কাতার ও সৌদি আরব এই হামলার জন্য সরাসরি তেহরানকে দায়ী করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এই সংঘাতের ফলে গত জুন মাস থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলা ভঙ্গুর সমঝোতাও ভেস্তে যাওয়ার মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে ইরানকে তেল বিক্রির জন্য দেওয়া বিশেষ লাইসেন্সটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (৬ জুলাই) বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে আসবে, নতুবা সামরিক উপায়ে ‘কাজটা শেষ করে দিবে’। জুন মাসে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত হিসেবে ইরানকে কয়েক দশক পুরোনো নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তেল বিক্রির লাইসেন্স দিয়েছিল হোয়াইট হাউস। কিন্তু মঙ্গলবারের (৭ জুলাই) হামলার পর সেই সুবিধা বাতিল করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই কার্যক্রম ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং এর পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি অব্যাহত থাকলে কোনো ধরনের চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, যেসব বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের সাথে সমন্বয় না করে চলাচল করে অথবা জাহাজের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখে, মূলত তারাই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে সরবরাহ করা হতো। মঙ্গলবারের হামলার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে মাত্র ১৬টিতে নেমে এসেছে, যা গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে দৈনিক ১২৫টি জাহাজ চলাচল করত, তা এখন নেমে এসেছে মাত্র ২৫ থেকে ৪০টিতে। জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ট্যাঙ্কার বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে উপসাগরের অভ্যন্তরে একটি জাহাজে মালামাল বোঝাই করার দৈনিক গড় খরচ গত সপ্তাহের ২ লক্ষ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ৩ লক্ষ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্ব তেল বাজার যেখানে ধারণা করেছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে, সর্বশেষ এই হামলা সেই আশাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ইরানে ‘শক্তিশালী’ সিরিজ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে ‘শক্তিশালী’ সিরিজ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : রয়টার্স

ইরানের বিভিন্ন জায়গায় ‘শক্তিশালী’ সিরিজ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৮ জুলাই) মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক মাধ্যম এক্সে এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

এর আগে, ইরানি বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছিল, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক-এ একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, গতকাল ইরান হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে আজ রাতে তাদের ওপর শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা।

বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলাকে বিপজ্জনক ও যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড। তারা বলেছে, এ ধরনের হামলা অনাকাঙ্ক্ষিত।