• ই-পেপার

চার দশকের নেতৃত্বের অবসান, প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা লাখো ইরানির

পোল্যান্ড সীমান্তে ৯ বাংলাদেশিসহ ৫৪ অভিবাসী আটক

অনলাইন ডেস্ক
পোল্যান্ড সীমান্তে ৯ বাংলাদেশিসহ ৫৪ অভিবাসী আটক

পোল্যান্ডে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় ৯ বাংলাদেশিসহ ৫৪ জন অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। আটকদের মধ্যে আরো আছেন ১৫ জন আফগান, ৩০ জন পাকিস্তানি নাগরিক।

শুক্রবার (৩ জুলাই) পোলিশ পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

ওই বিবৃতিতে বলা হয় , অভিবাসীরা লিথুয়ানিয়া সীমান্ত হয়ে পোল্যান্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের লিথুয়ানিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশ অভিযানের সময় তোলা কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে, যেখানে আটক অভিবাসীদের একটি ধাতব কনটেইনারের ভেতরে বসে থাকতে দেখা যায়।

ইউরোপজুড়ে অভিবাসন আইন কঠোর করা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি সীমিত হওয়ার পরও এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষ করে আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, নিরাপত্তাহীনতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক তরুণ উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মিত পথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এসব যাত্রায় তাদের অনেকেই মানবপাচার, সহিংসতা, আটক এবং জীবনহানির মতো গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে প্রায় ৮০ লাখ আফগান দেশ ছেড়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে পৌঁছেছেন, যাদের বেশিরভাগই অনিয়মিত অভিবাসন পথ ব্যবহার করেছেন।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে অভিবাসনের পথে অন্তত ৫ হাজার ৪৬ জন আফগান মারা গেছেন।

সূত্র : এএনআই

ইসরায়েলের গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বনেতাদের নীরবতায় ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বনেতাদের নীরবতায় ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রশ্ন
ছবি : রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইসরায়েল যখন প্রকাশ্যে লক্ষ্যবস্তু করে মানুষ হত্যা করছে, তখন বিশ্ব সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের সামিট হলে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনির স্মরণে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীদের কাছ থেকে এই ধরণের হামলা প্রতিরোধের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা না করে উল্টো ইসরায়েলকে রাজনৈতিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সব সংকট ও অস্থিতিশীলতার জন্য ইসরায়েলই দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলো কোনো আগ্রাসন শুরু করেনি।বক্তব্যে তিনি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি নতুন নেতৃত্বের সূচনার কথা উল্লেখ করেন এবং ইসলামী ঐক্য ও সংহতি শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। এর জের ধরে কয়েক সপ্তাহ যুদ্ধ চলার পর, এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শনিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লা মসজিদে হাজার হাজার শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সপ্তাহ জুড়ে রাষ্ট্রপ্রধান ও ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণে এই স্মরণ অনুষ্ঠান চলবে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে মূল জানাজার মিছিল হবে। এরপর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহ কোমে এবং বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের বাগদাদ, নজফ ও কারবালাসহ প্রধান শিয়া তীর্থস্থানগুলোতে নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদের পবিত্র ইমাম আলী রেজা মাজারে চূড়ান্ত জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হবে।

কস্তিয়ানতিনিভকা শহর দখলে রাশিয়ার দাবি অস্বীকার ইউক্রেনের

অনলাইন ডেস্ক
কস্তিয়ানতিনিভকা শহর দখলে রাশিয়ার দাবি অস্বীকার ইউক্রেনের
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। মস্কো শহরটি সম্পূর্ণ দখলের দাবি করলেও, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির জেনারেল স্টাফ তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাশিয়ার আরেকটি প্রোপাগান্ডা। কস্তিয়ানতিনিভকা যদি আসলেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকত, তবে এই যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক উপায় খুঁজতে পুতিনের আমার সাথে সেখানে দেখা করতে কোনো সমস্যা হতো না। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফও নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সামরিক বাহিনী শহরের ভেতর ও প্রবেশপথগুলোতে সফলভাবে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাবকে উপহাস করে বলেন, কস্তিয়ানতিনিভকা ইতিমধ্যেই রাশিয়ার অংশ হয়ে গেছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জেলেনস্কিকে মস্কোতে এসে পুতিনের সাথে দেখা করার পূর্ব আমন্ত্রণ স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শহরটি এখন তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং সেখানে অবশিষ্ট ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তারা শহরে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সোমবার (৬ জুলাই) একটি ৬ ঘণ্টার মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার জন্য ইউক্রেনকে রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর (০৯:০০ জিএমটি) পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

কস্তিয়ানতিনিভকা হলো দোনেৎস্ক অঞ্চলের ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষামূলক ‘দুর্গ বলয়’-এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শহরটি দখল করতে পারলে রুশবাহিনী ওই অঞ্চলের পুরো প্রতিরক্ষা বেষ্টনী ভেঙে আরো উত্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার বড় সুবিধা পাবে।

খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা, কবর প্রস্তুত

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা, কবর প্রস্তুত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানের আড়ালে ইরানি কর্মকর্তারা প্রায় তিন হাজার মানুষের সম্ভাব্য মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

জার্মান সংবাদ মাধ্যম ওয়েল্ট গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওয়েল্টের বরাতে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, রাজধানী তেহরান থেকে নাম গোপন রাখা এক সাংবাদিক একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। 

তিনি বলেছেন, এটি ইরানের রেড ক্রস এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার লেখা একটি গোপন চিঠি। ‘আমরা দয়ালু, খামেনির দাফনের জন্য ইরানকে ছুটি দিয়েছি’

প্রতিবেদনে বলা হয়, চিঠিতে বিশাল জনসমাগমের কারণে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের পাশাপাশি তেহরানের বেহেস্ত-ই জাহরা কবরস্থানে অতিরিক্ত কবর প্রস্তুতের কথাও উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তেহরান পৌরসভার এক কর্মী নতুন কবর প্রস্তুতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য প্রাণহানির সংখ্যা সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির মরদেহ তেহরান থেকে কোম, এরপর ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেওয়ার পর পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদে দাফনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।