• ই-পেপার

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ গরমের কারণ কী

দরজা বন্ধ করা নিয়ে বিতর্ক, চলন্ত ট্রেনে ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
দরজা বন্ধ করা নিয়ে বিতর্ক, চলন্ত ট্রেনে ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

রাতের অন্ধকারে চলছে ট্রেন, এর মধ্যে বাইরে ঝুমবৃষ্টি। এ অবস্থায় চলন্ত ট্রেনের দরজা বন্ধ করা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু করেন দুই ব্যাক্তি। এক পর্যায়ে ২১ বছর বয়সী এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে অন্য জনের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার রাতে ভারতের মুম্বাইয়ে গোরেগাঁও ও কান্দিভালি স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। নিহত যুবকের নাম ময়াঙ্ক লোহার। তিনি ওই ট্রেনের চার্চগেট-নালাসোপারা ফাস্ট লোকাল ট্রেনের প্রথম শ্রেণির বগিতে ভ্রমণ করছিলেন। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে গোরেগাঁও ও কান্দিভালি স্টেশনের মাঝামাঝি সময়ে আরেক যাত্রীর সঙ্গে ট্রেনের দরজা বন্ধ করা নিয়ে তার বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। 

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পরে কালো পোশাক পরা অভিযুক্ত হাতে ছুরি নিয়ে হামলার পর বগির ভেতর দিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছে। ট্রেনের আসনের ওপর রক্তের দাগও দেখা যায়। 

ভিডিওটিতে আতঙ্কিত যাত্রীদের বলতে শোনা যায়, ‘সে তাকে মেরে ফেলেছে।’ এ ঘটনায় অভিযুক্ত রোশন সুবর্ণাকে পরে মুম্বাইয়ের কুরলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।।

পশ্চিম রেলওয়ে পুলিশের তথ্য মতে, তর্ক এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কয়েকজন যাত্রী অভিযুক্তকে মারধর করতে শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রোশন তার ব্যাগ থেকে একটি ছুরি বের করে ময়াঙ্কের ওপর হামলা চালায়।

বোরিভালি রেলওয়ে পুলিশের সিনিয়র পুলিশ পরিদর্শক দত্তা খুপরেকর বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে ট্রেনের দরজা বন্ধ করা নিয়ে দুই যাত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এ সময় অভিযুক্ত ছুরি দিয়ে ভুক্তভোগীকে আঘাত করে এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।’

পুলিশ জানিয়েছে, ময়াঙ্ক ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

ঘটনার পর শোকে ভেঙে পড়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। ময়াঙ্কের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার ছেলে কখনো কারো সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়াত না।

নিহতের বোনও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার সময় এত মানুষ ছিল, কিন্তু কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। আজ যদি শাস্তি না হয়, কাল আবার কেউ এভাবে নিহত হবে।’

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ভারত

নির্মীয়মাণ ভবনের ছাদধসে নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
নির্মীয়মাণ ভবনের ছাদধসে নিহত ৩
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি ভবনের ছাদধসে অন্তত তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরের এ দুর্ঘটনায় অন্তত আরো ৪০ জন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনতলা বিশিষ্ট নির্মীয়মাণ ভবনটির ছাদ হঠাৎ ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল এবং বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন।

দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্যরা যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এখন পর্যন্ত ছয় থেকে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ভবন নির্মাণে কোনো ত্রুটি বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ তদারকিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

খামেনির শেষ বিদায়ে মোদিকে আমন্ত্রণ জানাল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির শেষ বিদায়ে মোদিকে আমন্ত্রণ জানাল ইরান
সংগৃহীত ছবি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় ও জানাজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।

আগামী জুলাই মাসে তেহরান ও মাশহাদে অনুষ্ঠিতব্য বহু-শহরভিত্তিক এই শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিয়েছে। দূতাবাসটি দুই দিন আগে আমন্ত্রণপত্রটি গ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে এই শোকানুষ্ঠান শুরু হবে এবং তা চলবে ৬ জুলাই পর্যন্ত এবং ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শেষ হবে।

প্রসঙ্গত, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় তার দাফন অনুষ্ঠান মার্চ থেকে পিছিয়ে জুলাইয়ে নির্ধারণ করা হয়।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে চীন, রাশিয়া, কাতার, ফ্রান্স, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।

পরিচয় লুকাতে পরা হুডিই ধরিয়ে দিল কেতনের খুনিকে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
পরিচয় লুকাতে পরা হুডিই ধরিয়ে দিল কেতনের খুনিকে
বাঁ থেকে কেতন আগরওয়াল, সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী।

ভারতের পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু সিনেমা না বাস্তব, দ্বন্দ্বে পড়ে যাবেন যে কেউ। বাগদত্তা সিয়া গোয়াল আর তার প্রেমিক চেতন বাবুলাল চৌধুরীর নিখুঁত পরিকল্পনায় কেতনের মৃত্যুর ঘটনা যেন থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে কেতন আগরওয়াল আর সিয়া গোয়ালের বাগদান হয়েছিল। প্রস্তুতি চলছিল জমকালো বিয়ে আয়োজনের। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য জয়পুরে ১৭ কোটি টাকায় একটি রাজপ্রাসাদ ভাড়া করা হয়েছিল, অতিথিদের আনা-নেওয়ার জন্য দুটি বিমানও ভাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু সিয়া গোয়ালের এ বিয়েতে মন ছিল না। তিনি মন দিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী চেতন চৌধুরীকে।

বিয়ের পরিকল্পনা এগিয়ে যেতেই সিয়া আর চেতন মিলে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে সিয়া ভেবেছিলেন দেশের বাইরে কোনো নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে কেতনকে হত্যা করবেন। কিন্তু সিয়া একা এটা করতে সাহস পাননি। ট্র্যাকিং কেতনের খুব পছন্দ ছিল। সেই পছন্দকে কাজে লাগিয়েই সিয়া পাল্টে নেন হত্যা পরিকল্পনা। গত ৩১ মে কেতন আর সিয়া পুনের লোহাগড় দূর্গে ট্র্যাকিং করতে যান। কিন্তু সেবার লোকজনের ভিড়ে সিয়া হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাননি।

গত ৬ জুন তাদের প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বালি যাওয়ার কথা ছিল। সঙ্গে আরো দুই বন্ধু ছিল বলে সিয়া বালি যেতে চাননি। তবে প্রকাশ্যে সেটা বলেনওনি। বালি যেতে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মুম্বাইয়ের একটি রেস্টুরেন্টে নাশতা খেতে থামেন তারা। এক ফাঁকে সিয়া কেতনের ব্যাগ থেকে তার পাসপোর্টটি চুরি করে ছিঁড়ে টয়লেটে ফ্ল্যাশ করে দেন। মুম্বাই এয়ারপোর্টে পৌঁছে কেতন দেখেন তার পাসপোর্ট নেই। ফলে তাদের বালি ট্রিপ বাতিল করতে হয়। বালি যেতে না পারার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ১৪ জুন তারা আবারও লোহাগড় দুর্গে যান। সেদিনও সিয়া কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিজ্ঞ ট্র্যাকার কেতন ঝোপঝাড় ধরে পতন ঠেকান। সন্দেহ থেকে নিজেকে বাঁচাতে সিয়া ‘সাপ সাপ’ বলে চিৎকার করে কেতনকে জড়িয়ে ধরেন। সিয়া বলেন, সাপের হাত থেকে বাঁচাতেই তিনি কেতনকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কেতনেরও সন্দেহ হয়নি।

১৯ জুন ছিল সিয়ার ২০তম জন্মদিন। জন্মদিনকে সামনে রেখে ১৮ জুন আবার তারা লোহাগড় দুর্গে যান। একা একা খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়ে সিয়া এবার আর কোনো ঝুঁকি নেননি। ডেকে নেন তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকেও। তারা দুজন মিলে প্রথমে কেতনকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করেন। তারপর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন ৪০০ ফুট গভীর খাদে।

ভেততে ভেতরে খুনের পরিকল্পনা করলেও ওপরে ওপরে সিয়া দারুণ প্রেমের অভিনয় চালিয়ে যান। তার ইনস্টাগ্রামজুড়ে ছিল হবু বরের প্রতি ভালোবাসার গদগদ প্রকাশ। বিয়ের প্রস্তাব, ফুল উপহার, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে নাচ, ‘অফিশিয়ালি টেকেন’ লেখা ট্যাগ- সিয়ার ইনস্ট্রাগ্রাম অনুসরণ করলে কেউ বুঝতেই পারবেন না, তার মনে কী আছে।

ফেব্রুয়ারিতে বাগদানের ঠিক এক মাস পর, সিয়া ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টে মোমবাতি জ্বালানো কেকের ছবি শেয়ার করে ক্যাপশন দিয়েছিলেন, ‘আমার মন তার ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার এক মাস পূর্তি উদযাপন’, সেই পোস্টে তিনি কেতনকে ট্যাগও করেছিলেন। মে মাসের আরেকটি পোস্টে দেখা যায় কেতন সিয়াকে ফুল দিচ্ছেন, যার ক্যাপশনে সিয়া লিখেছিলেন, ‘পছন্দ হ্যায় তুমহে' (তোমাকে পছন্দ করি)’। এরপর তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসার প্রকাশ দেখান। সিয়া কেতনের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি রিপোস্ট করেছিলেন, যেখানে তাকে (সিয়াকে) দেখানো হয়েছিল, যার ক্যাপশন ছিল ‘দ্যাট স্মাইল’ এবং সঙ্গে ছিল একটি হার্টের ইমোজি।

১৯ মে সিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় তার জন্মদিনের ক্ষণগণনার পোস্ট দেন, যেখানে সিয়া ও কেতনকে একটি রোমান্টিক গানের তালে নাচতে ও ঘুরতে দেখা যায়।

লোহাগড় দুর্গে কেতনের পরে যাওয়াকে প্রথমে দুর্ঘটনা হিসেবে ভাবা হয়েছিল। সিয়া পুলিশ ও কেতনের পরিবারের সবাইকে বলেছিলেন, ছবি তুলতে গিয়ে কেতন পরে গেছেন। কিন্তু পুলিশ ও পরিবার দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে পারছিলেন না কিছুতেই। অনেকগুলো প্রশ্ন দুর্ঘটনাকে আড়াল করে সন্দেহকে সামনে আনে। বালিতে যাওয়ার পথে মূল্যবান সব কিছু রেখে শুধু কেতনের পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া, বারবার তাদের লোহাগড় দুর্গে যাওয়া, কেতনের মতো অভিজ্ঞ ট্র্যাকারের ৪ দিনের মধ্যে দুইবার পরে যাওয়া—এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছিল পুলিশ। চার দিনের মধে দ্বিতীয়বার লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার কারণ হিসেবে সিয়া কেতনের পরিবারকে বুঝিয়েছিলেন, আগামী দিনগুলোতে বিয়ে ও ব্যবসার কাজে তাদের ব্যস্ততা বাড়বে তাই ১৯ জুন তার জন্মদিন উদযাপনের অংশ হিসেবে একটু নিরিবিলিতে সময় কাটাতেই তারা ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে যান। এই যুক্তি অবশ্য সন্তানহারা পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পাারেনি। তারা আরো গভীরভাবে সন্দেহ করতে থাকেন।

সন্দেহ হলেও প্রমাণ ছাড়া কাউকে ধরতে পারছিল না পুলিশ, কোনো সিদ্ধান্তেও আসতে পারছিল না। একটি সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের সন্দেহকে নিশ্চিত করে। লোহাগড় দুর্গে সিয়া আর কেতন যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন ২০-৩০ ফুট পেছন থেকে শর্টস পরা এক যুবক তাদের অনুসরণ করছিলেন। সিয়া একবার পেছন ফিরে সে যুবককে দেখেনও। তখন সে যুবক চট করে বসে পড়েন, যাতে কেতন তাকে দেখতে না পান। সেই যুবক একটি হুডি পরেছিলেন, যাতে তার চেহারা দেখা না যায়। কিন্তু চেহারা আড়াল করতে পরা সে হুডিই খুনির চেহারা সামনে নিয়ে আসে।

৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরমে ট্র্যাকিং ট্রেইলে কেউ হুডি পরে থাকবে কেন, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুলিশ পৌঁছে যায় খুনির কাছে।

সন্দেহকে নিশ্চিত করতে পুলিশ সিয়া ও চেতনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল কল রেকর্ড অনুসন্ধান করে। তখনই পুলিশ বুঝতে পারে, ‘ডালমে কুছ কালা হ্যায়।’ গত নভেম্বরে এক ব্যাবসায়িক বৈঠকে পরিচয়ের পর থেকে সিয়া আর চেতন সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন। তারপর থেকে গত সাত মাসে তারা ২ হাজার ৪টি টেলিফোন কলে ২৩৮ ঘণ্টা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছেন। ২২ বছর বয়সী চেতন শুকনো ফলের ব্যবসা করতেন। পুনের একটি সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান সিয়াও একটি বেকারি চালাতেন। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনার ৫ দিন পর ২৩ জুন সিয়া ও চেতনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর দুজনই পুলিশেরে কাছে তাদের পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

২৪ জুন পুনের একাট আদালত তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। 

কেতন আগরওয়ালের বাবা বিশাল আগরওয়াল পুনের একজন অত্যন্ত সুপরিচিত এবং প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি ও আবাসন ব্যবসায়ী। পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাকসেস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। পড়াশোনা শেষে বিদেশ থেকে ফিরে কেতনও পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিয়েছিলেন। কেতন ছিলেন সাকসেস গ্রুপের পরিচালক ও চিফ মার্কেটিং অফিসার। ২৬ বছর বয়সী ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বিশাল আগরওয়াল এ ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। তার একটাই আফসোস, বিয়ে করতে না চাইলে বললেই হতো। এভাবে কেতনকে মেরে ফেললো কেন?

শুধু কেতনের বাবা নয়, এ প্রশ্ন এখন ভারতের মানুষের মুখে মুখে। বাগদত্তা ও তার প্রেমিকের পরিকল্পনায় কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে মানুষের বিশ্বাসের ভিত।