• ই-পেপার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

চীনের হোহাই ইউনিভার্সিটি থেকে রুবাইয়াত শবনম অনিকার কৃতিত্বপূর্ণ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
চীনের হোহাই ইউনিভার্সিটি থেকে রুবাইয়াত শবনম অনিকার কৃতিত্বপূর্ণ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন

চীনের ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত হোহাই ইউনিভার্সিটি (Hohai University) থেকে সফলতার সঙ্গে ‘মাস্টার অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’ (ইকোনমিক্স ফোকাস) ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশের কৃতি শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শবনম অনিকা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমকালো এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়। রুবাইয়াত শবনম অনিকার এই গৌরবময় অর্জনে তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।

শিক্ষাজীবনে মেধার স্বাক্ষর রাখা অনিকার একাডেমিক প্রজেক্ট ও গবেষণার ক্ষেত্রটি ছিল চমৎকার ও যুগোপযোগী। তার থিসিসের মূল বিষয় ছিল— ‘রিসার্চ অন দ্য ইমপ্যাক্ট অব বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) অন বাংলাদেশ ট্রেড’ (Research on the Impact of Belt and Road Initiative (BRI) on Bangladesh Trade)।

গবেষণায় তিনি দক্ষতার সঙ্গে ডেটা অ্যানালাইসিস (উপাত্ত বিশ্লেষণ) পদ্ধতি ব্যবহার করে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য বৃদ্ধির মূল নিয়ামক বা চালিকাশক্তিগুলো চিহ্নিত করেছেন। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ধারা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং এর নীতিনির্ধারণী প্রভাব (Policy Implications) নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন তার গবেষণায়। তার এই কাজ একাডেমিক মহলেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক এই বিদ্যাপীঠে পড়তে যাওয়ার আগে রুবাইয়াত শবনম অনিকা রাজধানী ঢাকার স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে বিবিএ (BBA) সম্পন্ন করেন। সেখানেও তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। মেয়ের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ও গর্বিত অনিকার পরিবার।

উল্লেখ্য, অনিকার বাবা বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ও লেখক হুমায়ূন কবীর ঢালী এবং মা বিশিষ্ট প্রকাশক গুলশান আরা বাবলী।

মেয়ের এই সাফল্যে অনিকার বাবা-মা বলেন, আজ আমাদের জীবনের অন্যতম একটি আনন্দের এবং গর্বের দিন। অনিকার এই কঠোর পরিশ্রম এবং সাফল্যের জন্য আমাদের পরিবার অত্যন্ত গর্বিত। আমরা ওর ভবিষ্যতের নতুন পথচলার জন্য সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনা প্রত্যাশা করছি।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জন করে রুবাইয়াত শবনম অনিকা আগামী দিনে বাংলাদেশ তথা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপসচিব পদে শিক্ষা ক্যাডারের ৩৫৫ জনের আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
উপসচিব পদে শিক্ষা ক্যাডারের ৩৫৫ জনের আবেদন

শিক্ষা ক্যাডারের ৩৫৫ জন কর্মকর্তা শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে প্রশাসন ক্যাডারে উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের পর এসব কর্মকর্তা আবেদন করেন।

আবেদনকারীদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনের আলোকে শিক্ষা ক্যাডারের নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসন ক্যাডারে পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হওয়ায় আগ্রহী কর্মকর্তারা আবেদন জমা দিতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মোট ৩৫৫ জন কর্মকর্তা উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন।

আবেদনকারীদের তালিকায় একদিকে যেমন বিভিন্ন সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন, তেমনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ডসহ শিক্ষা প্রশাসনের নানা স্তরে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তাদের একটি অংশও এই পদোন্নতির দৌড়ে যুক্ত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক দায়িত্বে কাজ করলেও তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন কাঠামো নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ছিল। নতুন এই সুযোগকে অনেকে ক্যারিয়ার অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। তবে শিক্ষা ক্যাডার থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তার প্রশাসন ক্যাডারে যেতে আগ্রহ দেখানোয় শিক্ষা প্রশাসন ও উচ্চশিক্ষা খাতের জনবল ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে বহিরাগত অতিথিদের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

বুধবার (২৪ জুন) প্রক্টরের দপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ খেলা চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলো—শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, বার্ন ইউনিট, শিববাড়ী ক্রসিং, ফুলার রোড, পলাশী মোড় ও নীলক্ষেত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি এবং জরুরি সেবার যানবাহন ব্যতীত অন্য যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। জরুরি সেবার আওতায় রয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স, ডাক্তার, রোগী, সাংবাদিক, রাইড শেয়ার, খাবার গাড়ি, অনলাইন শপিং বাহন ও অন্যান্য সরকারি গাড়ি। তবে গণপরিবহন এবং ভারী যানবাহনের প্রবেশ সব সময়ই নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অংশীজনদের মতামত, পরামর্শ এবং বাস্তব অবস্থার ভিত্তিতে উপরোক্ত সিদ্ধান্ত সময়ে সময়ে পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে।

মেক্সট স্কলারশিপে জাপানে মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন খুবি ছাত্র নাঈম

খুবি প্রতিনিধি
মেক্সট স্কলারশিপে জাপানে মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন খুবি ছাত্র নাঈম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী এস এম নাঈম।

জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ মেক্সট স্কলারশিপে মাস্টার্সে অধ্যয়নের জন্য সুযোগ পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) ডিসিপ্লিনের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী এস এম নাঈম। বিশ্ববিদ্যালয় সুপারিশ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়ে তিনি জাপানের ইয়ামানাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন।

জানা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাডভান্সড এআই অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস প্রায়োরিটি প্রোগ্রামের আওতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন। তার গবেষণার বিষয় হবে স্মার্ট কৃষিতে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর)-এর প্রয়োগ। তিনি মাও অ্যান্ড ঝু ল্যাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ স্কলারশিপের আওতায় তিনি শতভাগ টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা, যাতায়াতের বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্যবীমা এবং গবেষণা সহায়তা পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নাঈম একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তি ও নেতৃত্বমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবনী কার্যক্রম ও গবেষণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ ছাড়া তিনি আই-ট্রিপল-ই খুলনা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট শাখা ও  বিশ্ববিদ্যালয়ের রাউটার ক্লাবের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে গ্রামীনফোণ লিমিটেডে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেইনি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাঈম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার স্বপ্ন নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করেছে। দীর্ঘ প্রস্তুতি, অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের দিকনির্দেশনার ফল হিসেবে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন।’ ভবিষ্যতে জাপানে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি খাতে অবদান রাখতে কাজে লাগাতে চান তিনি।