• ই-পেপার

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

৪ মোবাইল অপারেটরের কাছে বকেয়া রাজস্ব ১৩১৪৪ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
৪ মোবাইল অপারেটরের কাছে বকেয়া রাজস্ব ১৩১৪৪ কোটি টাকা

দেশের চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে সরকারের মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে বেসরকারি অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেডের কাছে, আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড।

আজ বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অপারেটরগুলোর বকেয়ার বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন।

সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি, প্রশাসনিক জরিমানা, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) এবং নিরীক্ষা (অডিট) আপত্তিজনিত দাবির কারণে অপারেটরগুলোর কাছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওনা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের বকেয়া সবচেয়ে বেশি, যার পরিমাণ ৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা। ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি এবং ভ্যাট-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই পাওনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এই সংক্রান্ত মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে বকেয়ার পরিমাণ ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি ও অন্যান্য খাতে এই পাওনা আদায়ের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।

বেসরকারি অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কাছে সরকারের পাওনা ৬১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অডিট আপত্তিজনিত দাবি এবং রেভিনিউ শেয়ারিং-সংক্রান্ত পাওনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই পাওনা আদায়ের বিষয়টিও বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

এছাড়া বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের কাছে সরকারের বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৪৭৩ কোটি টাকা। অডিট আপত্তি ও রেভিনিউ শেয়ারিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির কারণে এই অর্থ পাওনা হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।
 

আগামীতে বিদেশি ঋণ পরিশোধের দায় বাড়বে : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আগামীতে বিদেশি ঋণ পরিশোধের দায় বাড়বে : অর্থমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

গত মার্চ মাসে বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮২২৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিপুল এই ঋণের কারণে আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় বাড়বে।’ বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য জানান মন্ত্রী।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আরো জানান, মোট ঋণের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল বা সহজ শর্তের ঋণ আর ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল ঋণ।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনার বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ হতে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের ফলে আমাদের বৈদেশিক ঋণের কনসেশনালিটি ধীরে ধীরে কমে আসছে। পাশাপাশি একই সময় থেকে সরকারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ও বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সামনের বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় বৃদ্ধি পাবে।”  

অর্থমন্ত্রী জানান, এসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে তার সরকার বেশ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, “নতুন বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ঋণ প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প প্রস্তাব নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে যাতে উচ্চ সুদের বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে কোনো অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত না হয়। যেসব প্রকল্পের উচ্চ ইকোনমিক রিটার্ন রয়েছে শুধু সেসব প্রকল্পের জন্যই বৈদেশিক ঋণ বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সময় বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা প্রকল্পের নিবিড় তদারকি শুরু করেছি। আমরা সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতি (মিডিয়াম টার্ম ডেট ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি) হালনাগাদ করার কাজ করছি। ঋণ ব্যবস্থাপনাকে টেকসই ও সহনশীল করার লক্ষ্যে আমরা ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস (ডিএসএ) করছি। সব শেষে, সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার সার্বিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য আমরা শিগিরই প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি।”  

অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনেছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনেছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

ডিজিটাল বেটিং ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধ দমনে সরকার ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’-এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (২৪ জুন) সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জারি করা ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’-এর ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনের আওতায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি বা পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণ করা, এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান, জুয়ার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রচার বা বিপণন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে বলে তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর বিএফআইইউ অনলাইন জুয়া বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ২০২৬ সালের মে মাসে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে জমা দেয়।

এরই মধ্যে সিআইডি এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ওপর বিএফআইইউ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আরো গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।

তিনি আরো জানান, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৮ মে দেশের সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছিল।

সেই নির্দেশনায় এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো মার্চেন্ট বা গ্রাহক এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে অবহিত করার কথাও বলা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষ অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।

ডা. জাহেদ প্রসঙ্গে ভারতের ব্যাখ্যা অসন্তোষজনক : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

অনলাইন ডেস্ক
ডা. জাহেদ প্রসঙ্গে ভারতের ব্যাখ্যা অসন্তোষজনক : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা প্রসঙ্গে ভারতের ব্যাখ্যাকে অসন্তোষজনক আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে ঢাকা।

আজ বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্যের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এ মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে ভারতীয় পক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়।’

মুখপাত্র বলেন, ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) একটি বৈঠকে ডা. জাহেদ উর রহমান যে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন, সে বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আগেই যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে (ডা. জাহেদ) নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।’

চলতি মাসের শুরুতে আইওআরএর একটি বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে প্রবেশকালে দিল্লি বিমানবন্দরে ডা. জাহেদ উর রহমানকে বাধা দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি মন্তব্য সংক্রান্ত অন্য প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে প্রতিটি রাষ্ট্রেরই তার ভূখণ্ডে বসবাসকারী সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ সব নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।